শ্রোতা সহায়িকা নোট সিরিজে আজকের রাগ – রাগ ভৈরবী। এই আর্টিকেলটির উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। আপডেট পেতে আবারো আসার আমন্ত্রণ রইলো।
ভৈরবী রাগ সম্ভবত আমাদের এই ভূখণ্ডের সবচেয়ে পরিচিত, মাঠে ময়দানে ছড়িয়ে থাকা রাগ। বাউলের গান থেকে শুরু করে নানা রকম কম্পোজিশন আছে ভৈরবী রাগে। ‘সকরুণ বেণু বাজায়ে কে যায়’… রবীন্দ্রসংগীতটি ভৈরবী রাগের একটি আদর্শ উদাহরণ হতে পারে।

রাগ ভৈরবী
ভৈরবী রাগটি শাস্ত্রমতেও সকালেরই রাগ হিসাবে চিহিৃত। সকাল, কিন্তু ভোর নয়। সূর্যের উজ্জ্বল, সাদা আলোয় চারিদিক উদ্ভাসিত হয়েছে কিন্তু রোদ তখনো প্রখর হয়ে ওঠেনি – সেটাই হলো ভৈরবীর রূপ। কিন্তু তবু এটাই তার একমাত্র রূপ নয়। যে যেমন একটি আনন্দালোকিত সকালের রূপকেও প্রকাশ করে, তেমনি তার আরেক রূপে প্রকাশিত হয় হৃদয় বিদারক বিষণ্নতার ছবি।

ভৈরবী রাগ উত্তর ভারতীয় সঙ্গীত শাস্ত্রে বর্ণিত ঠাট ও রাগ বিশেষ। ভৈরবী ঠাটের জনক রাগ ভৈরবী।
আরোহণ: স ঋ জ্ঞ ম প দ ণ র্স
অবরোহণ : র্স ণ দ প ম জ্ঞ ঋ স
ঠাট : ভৈরবী
জাতি : সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ
বাদীস্বর : ম (মতান্তরে প)
সমবাদী স্বর : স
অঙ্গ : পূর্বাঙ্গ।
সময় : সকালবেলা/যে কোন সময়
পকড় : ঋ ণ্ দ্ স, জ্ঞ, স ঋ স ণ্ স
আধুনিক গানে রাগ ভৈরবী :
রাগ ভৈরবী বাংলা আধুনিক গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। বিরহ, আকুতি কিংবা শাশ্বত প্রেমের সুর ফুটিয়ে তুলতে সুরকাররা বারবার এই রাগের আশ্রয় নিয়েছেন। নিচে আপনার উল্লেখ করা গানগুলোর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:
- তুমি নিজের মুখেই বললে যেদিন – এই গানটি মান্না দের কণ্ঠে এক বিষণ্ণ প্রেমের আখ্যান। ভৈরবী রাগের কোমল স্বরগুলো এখানে হৃদয়ের রক্তক্ষরণকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। শিল্পী: মান্না দে, সুরকার: প্রভাস দে, গীতিকার: পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়
- কতকাল দেখিনি তোমায় – ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত এই গানটি প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে এক কালজয়ী সৃষ্টি। প্রিয়জনকে দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ভৈরবীর সুরে এখানে মূর্ত হয়ে উঠেছে। শিল্পী: প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুরকার: হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, গীতিকার: পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশকাল: ১৯৭৪
- আশায় আশায় বসে আছি : বাংলা ব্যান্ড মিউজিকের ইতিহাসে রাগ ভৈরবীর এক অনন্য ও আধুনিক প্রয়োগ দেখা যায় এই গানে। মহীনের ঘোড়াগুলি ব্যান্ড প্রথাগত ভৈরবীকে নাগরিক জীবনের প্রেক্ষাপটে নতুন রূপ দিয়েছে। ব্যান্ড: মহীনের ঘোড়াগুলি, অ্যালবাম: মায়া (১৯৯৭), কথা ও সুর: গৌতম চট্টোপাধ্যায়
আধুনিক গানে রাগ ভৈরবী :
১. যারে বলছ মাগি মাগি (লালন সাঁই)
নজরুল সঙ্গীতে রাগ ভৈরবী :
নজরুলের ৬০ টির বেশি গান রয়েছে ভৈরবী রাগে। তার কয়েকটি তুলে দিলাম।
- মোরা এক বৃন্তে দু’টি কুসুম (হিন্দু-মুসলমান)
- আল্লাহ্ আমার প্রভু, আমার নাহি নাহি ভয়
- নিশীথ নিঝুম ঘুমে ঝিমায়
- না মিটিতে সাধ মোর নিশি পোহায়
- এ কুঞ্জে পথ ভুলি কোন বুলবুলি আজ গাইতে এলে গান
- তিমির বিদারী অলখ-বিহারী কৃষ্ণ মুরারি আগত ঐ
- ইসলামের ঐ সওদা লয়ে এলো নবীন
- ঈদজ্জোহার চাঁদ হাসে ঐ
- তুমি চ’লে যাবে দূরে লায়লী
- নাচে সুনীল দরিয়া আজি
- জাগো জাগো রে মুসাফির
- বকুল ছায়ে ছিনু ঘুমায়ে
- মহাবিদ্যা আদ্যাশক্তি পরমেশ্বরী কালিকা

সিরিজের বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল সূচি:
