ডাশা গ্রামটি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের অন্তর্গত কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ১০ নং পান্টি ইউনিয়নের একটি অত্যন্ত সুপরিচিত ও শান্ত-স্নিগ্ধ গ্রামীণ জনপদ। এই ডাশা গ্রামের মোট জনসংখ্যা ১,৫৭৯ জন (১৫৭৯ জন)। অত্যন্ত সুষম এই জনমিতিতে পুরুষের সংখ্যা ৭৬২ জন এবং নারীর সংখ্যা ৮১৭ জন। গ্রামীণ সৌহার্দ্য ও সহজ-সরল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত এই গ্রামটির মানুষের মাঝে সামাজিক বন্ধন অত্যন্ত দৃঢ়।
ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে পান্টি ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রামের মতো ডাশা গ্রামের মানুষেরও আয়ের প্রধান উৎস হলো কৃষি। এখানকার উর্বর জমিতে ধান, পাট, পেঁয়াজ, রসুন এবং বিভিন্ন রকমের মৌসুমি শাকসবজি ও রবিশস্য প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়। কৃষিকাজের পাশাপাশি এই ডাশা গ্রামের অনেক মানুষ স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষকতা, সরকারি-বেসরকারি চাকরি এবং প্রবাসে কর্মরত আছেন। পান্টি ইউনিয়নের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র পান্টি বাজারের সাথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই গ্রামের মানুষ সহজেই তাঁদের উৎপাদিত পণ্য কেনাবেচা এবং দৈনন্দিন সেবা গ্রহণের সুযোগ পান।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ডাশা গ্রামটি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সাক্ষী। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এই ডাশা এবং এর পাশ্ববর্তী সান্দিয়ারা ও বসিগ্রাম এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে স্থানীয় মুক্তিকামী মানুষের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল। এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের একটি শক্ত ঘাঁটি ছিল এবং তৎকালীন ‘চাষি ক্লাব যুদ্ধ’ বা ডাশা অঞ্চলের সম্মুখ সমরে স্থানীয় বীর সন্তানরা বীরত্বের সাথে লড়াই করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের এই স্মৃতিবিজড়িত ইতিহাস ডাশা গ্রামটিকে কুমারখালী উপজেলার ইতিহাসে এক অনন্য মর্যাদার আসনে বসিয়েছে। বর্তমানে আধুনিক শিক্ষার প্রসারে গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যা নতুন প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছে।
ডাশা গ্রাম
ডাশা গ্রামে সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এর নানা কর্মকান্ড তুলে ধরা হলো।
আরও দেখুন: