ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিশাল সাম্রাজ্যে ‘ঘরানা’ সংস্কৃতির ধারণার জন্ম এবং বিকাশ যার হাত ধরে হয়েছিল, তা হলো গোয়ালিয়র ঘরানা। খেয়াল গায়কির জগতে এই ঘরানাকে সকল ঘরানার ‘মা’ বা আদি উৎস (গঙ্গোত্রী) বলে গণ্য করা হয়। আগ্রা, কিরানা, পাতিয়ালা বা জয়পুর-আত্রৌলি ঘরানার মতো পরবর্তীকালের প্রায় প্রতিটি বিখ্যাত খেয়াল ঘরানাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গোয়ালিয়র ঘরানার প্রাচীন ঐতিহ্যের কাছে ঋণী। গোয়ালিয়র ঘরানার মূল সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে এর অনাড়ম্বর সারল্য, ঋজুতা এবং আভিজাত্যের মধ্যে। আধুনিক চপলতা বর্জন করে এই ঘরানা চিরকাল সুরের ধ্রুপদী গাম্ভীর্য এবং বিশুদ্ধ ব্যাকরণকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। সুরের এই আদিম এবং রাজকীয় রূপটিই শত শত বছর ধরে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের শ্রোতাদের মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে।
খেয়ালে গোয়ালিয়র ঘরানা

উৎপত্তি এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
গোয়ালিয়র ঘরানার ঐতিহাসিক শেকড় লুকিয়ে আছে প্রাচীন ভারতের ধ্রুপদ ঐতিহ্যের গভীরে। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র শহরটি সবসময়ই সঙ্গীতসাধকদের এক পরম তীর্থভূমি ছিল। মুঘল সম্রাট আকবরের সভাগায়ক মিঞা তানসেন নিজে গোয়ালিয়র থেকে এসেছিলেন। পরবর্তীতে অষ্টাদশ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন ধ্রুপদের একচ্ছত্র আধিপত্য কমতে শুরু করে এবং খেয়াল গানের চল শুরু হয়, তখন গোয়ালিয়র রাজদরবারের ছত্রছায়ায় এই ঘরানা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়।
এই ঘরানার প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উস্তাদ নাথান পীর বখশ এবং উস্তাদ কাদির বখশ-এর নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। তবে গোয়ালিয়র ঘরানাকে ইতিহাসের স্বর্ণশিখরে নিয়ে যান উস্তাদ নাথান পীর বখশ-এর দুই পৌত্র—উস্তাদ হদ্দু খাঁ এবং উস্তাদ হস্সু খাঁ। তৎকালীন গোয়ালিয়রের মহারাজা জিয়াজীরাও সিন্ধিয়ার রাজদরবারে এই দুই ভাই এমন এক জাদুকরী গায়কির প্রবর্তন করেন, যা সারা ভারতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তাঁদের সাথে তৃতীয় ভাই উস্তাদ নথ্থু খাঁ-ও এই ঘরানাকে সমৃদ্ধ করেন। মূলত লখনউয়ের কাওয়াল ঐতিহ্য এবং গোয়ালিয়রের নিজস্ব ধ্রুপদী মেজাজ—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে জন্ম নেয় আজকের গোয়ালিয়র ঘরানার বিশুদ্ধ খেয়াল গায়কি। রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং ওস্তাদদের আজীবন সাধনার ফলে গোয়ালিয়র হয়ে ওঠে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রাজধানী।

খেয়াল গায়নে গোয়ালিয়র ঘরানার ভূমিকা
খেয়াল গানকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের মূল ধারায় প্রতিষ্ঠা করার পেছনে সবচেয়ে বড় এবং ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে গোয়ালিয়র ঘরানা। প্রাচীনকালে ধ্রুপদ সঙ্গীত ছিল অত্যন্ত কঠিন এবং নিয়মনিষ্ঠ, যা সাধারণ মানুষের কাছে অনেক সময় দুর্বোধ্য মনে হতো। গোয়ালিয়র ঘরানার ওস্তাদরাই প্রথম ধ্রুপদের সেই রাজকীয় আভিজাত্য এবং ব্যাকরণ ঠিক রেখে তার সাথে খেয়ালের স্বাধীনতা ও নান্দনিক চমৎকারিত্ব যুক্ত করেন। তাঁরাই প্রমাণ করেন যে খেয়াল গান কেবল লঘু বা চপল সুরের খেলা নয়, বরং এটি ধ্রুপদের মতোই অত্যন্ত গম্ভীর এবং শাস্ত্রীয় গভীরতাসম্পন্ন হতে পারে।
পরবর্তী সময়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যে খেয়াল ঘরানাগুলো তৈরি হয়েছে, তার মূল কাঠামোটি এসেছে গোয়ালিয়র থেকে। উস্তাদ হদ্দু-হস্সু খাঁ সাহেবদের শিষ্য-পরম্পরা ভারতবর্ষের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সঙ্গীতপিপাসুদের মাঝে বিশুদ্ধ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রস আস্বাদন করায়। খেয়াল গানের বন্দিশ রচনা, তানের বৈচিত্র্য এবং তালের সুষম প্রয়োগের যে প্রমিত রূপ আজ আমরা দেখতে পাই, তার মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল এই গোয়ালিয়র ঘরানা।

গায়নশৈলীর প্রধান কারিগরি বৈশিষ্ট্যসমূহ:
গোয়ালিয়র ঘরানার গায়কি অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ, ধ্রুপদী এবং স্থাপত্যের মতো নিখুঁত। অন্য ঘরানার মতো এখানে কোনো চপলতা বা অকারণ সুরের কারসাজি থাকে না। এই ঘরানার গায়কিকে বলা হয় ‘অষ্ট অঙ্গ’ গায়কি। অর্থাৎ খেয়াল গানের আটটি মূল অঙ্গ—আলাপ, বোল-আলাপ, তান, বোল-তান, বহলাওয়া, গমক, মীড় এবং জামজামা—এই সবগুলোর সুষম ও পরিমিত প্রকাশ ঘটে গোয়ালিয়র ঘরানায়। নিচে গোয়ালিয়র গায়কির প্রতিটি কারিগরি অঙ্গের বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. খেয়ালের প্রারম্ভিক আলাপ ও স্বর প্রক্ষেপণ
গোয়ালিয়র ঘরানায় খেয়াল গানের শুরুতেই ধ্রুপদের মতো গম্ভীর এবং বিস্তৃত আলাপ করা হয়। তবে এই আলাপ নোম-তোম তালের বাইরে সাধারণত বন্দিশের তালের ভেতরেই (লয়বদ্ধ হয়ে) করা হয়। স্বর প্রক্ষেপণ বা কণ্ঠস্বর লাগানোর ক্ষেত্রে গোয়ালিয়র ঘরানা সবসময় ‘খোলা গলা’ (Open voice) ব্যবহার করে। গায়কের মুখমণ্ডল স্বাভাবিক রেখে পেট বা নাভি থেকে গম্ভীর আওয়াজ বের করা হয়, যা শ্রোতার বুকে গিয়ে আঘাত করে। এখানে মিহি বা কৃত্রিম অনুনাসিক কণ্ঠস্বর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রতিটি স্বর তার নিজস্ব স্থানে সোজা এবং নিখুঁতভাবে লাগানো হয়। স্বরের এই ঋজুতা ও গাম্ভীর্যই গোয়ালিয়র ঘরানার প্রথম পরিচয়।
২. বন্দিশের সুসংহত রূপ ও বাণী
গোয়ালিয়র ঘরানার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এদের বন্দিশ বা গানের বাণী। এই ঘরানায় বন্দিশকে রাগের জীবন্ত প্রতিমূর্তি মনে করা হয়। অন্য ঘরানায় যেখানে বন্দিশের সাহিত্যকে উপেক্ষা করে কেবল স্বরের বিস্তার করা হয়, গোয়ালিয়র সেখানে বন্দিশের প্রতিটি শব্দের উচ্চারণ এবং তার ভাবকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। বন্দিশের স্থায়ী এবং অন্তরা—উভয় অংশই অত্যন্ত যত্ন সহকারে গাওয়া হয়। বন্দিশের লয় সাধারণত মধ্য-লয় বা মাঝারি গতির হয় (বিলম্বিত লয় খুব বেশি ধীর হয় না)। বন্দিশের বাণী এবং তার ছন্দকে আঁকড়ে ধরে গায়ক রাগের রূপ ফুটিয়ে তোলেন।
৩. তানের বৈচিত্র্য ও কারিগরি প্রয়োগ (সাপাট, কূট ও গমক তান)
গোয়ালিয়র ঘরানার তান অত্যন্ত ওজস্বী এবং বৈচিত্র্যময়। এই ঘরানার তানে কোনো দুর্বলতা বা অস্পষ্টতা থাকে না। তানের প্রধান প্রকারভেদগুলো নিচে দেওয়া হলো:
সাপাট তান: সা রে গা পা ধা নী র্সা এভাবে সরল রেখায় নিচ থেকে উপরে এবং উপর থেকে নিচে দ্রুত গতিতে নেমে আসাকে সাপাট তান বলে। এটি গোয়ালিয়রের অন্যতম প্রধান শক্তি।
কূট তান: স্বরগুলোকে সোজা না নিয়ে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে (যেমন- সা গা রে মা গা পা) জটিল বিন্যাসে গাওয়াকে কূট তান বলে।
গমক তান ও হলক তান: গলার ভেতরের পেশি এবং পেট থেকে এক ধরনের কম্পন বা গুমরানি তৈরি করে যে তান গাওয়া হয়, তাকে গমক তান বলে। হলক তান হলো কণ্ঠনালীর সূক্ষ্ম কম্পন। গোয়ালিয়রের তানে এই গমক ও হলকের নিখুঁত ভারসাম্য থাকে।
৪. তাল ও লয়ের শাসন
গোয়ালিয়র ঘরানায় তালের প্রয়োগ অত্যন্ত কড়া ও ব্যাকরণসম্মত। এই ঘরানায় মূলত একতাল, ঝুমরা, তিলওয়াড়া এবং ত্রিতাল (১৬ মাত্রা)-এর ব্যবহার বেশি দেখা যায়। অন্যান্য আধুনিক ঘরানার মতো অতি-বিলম্বিত লয় (যা শুনতে অত্যন্ত ধীর লাগে) গোয়ালিয়রে গাওয়া হয় না। এখানে মধ্য-বিলম্বিত লয়ে গান গাওয়া হয়, যাতে শ্রোতা তালের ছন্দ বা ঠ্যাকা সহজেই বুঝতে পারেন। সমে (তালের প্রথম মাত্রা) আসার প্রক্রিয়াটি গোয়ালিয়র ঘরানায় অত্যন্ত নান্দনিক। বন্দিশের যে বোল বা বাণী দিয়ে সমে আসা হয়, তাকে এমনভাবে সাজানো হয় যে শ্রোতারা আগে থেকেই সমের আগমন টের পান এবং সমে পৌঁছানোর পর এক ধরনের মানসিক তৃপ্তি লাভ করেন।

গোয়ালিয়র ঘরানার শিক্ষণপদ্ধতি (Technical Pedagogical Details)
গোয়ালিয়র ঘরানার শিক্ষণপদ্ধতি অত্যন্ত কঠোর, বিজ্ঞানসম্মত এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ। প্রাচীন গুরু-শিষ্য পরম্পরার সবথেকে খাঁটি রূপটি এই ঘরানায় বজায় রাখা হয়। একজন শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে গোয়ালিয়র ঘরানায় নিচের কারিগরি ধাপগুলো অনুসরণ করা হয়:
১. কণ্ঠ তৈরি এবং খোলা গলার রেওয়াজ (Voice Culture)
শিক্ষার একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীকে কোনো রাগ বা গান শেখানো হয় না। প্রথম কয়েক বছর কেবল ‘খরাজ’-এর রেওয়াজ বা মন্দ্র সপ্তকের (খাদের স্বর) সাধনা করানো হয়। ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে সা ($S$) স্বরটিকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা এবং বুক ও নাভি থেকে আওয়াজ বের করার কৌশল শেখানো হয়। গোয়ালিয়র বিশ্বাস করে—কণ্ঠ যদি মুক্ত ও প্রাকৃতিক না হয়, তবে রাগের বিশুদ্ধতা প্রকাশ পাবে না। মুখ বাঁকিয়ে বা নাক দিয়ে গান গাওয়া এখানে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
২. অলংকার ও পল্টাবৃত রেওয়াজ
কণ্ঠ তৈরি হওয়ার পর শুরু হয় অলংকারের রেওয়াজ। সা-রে-গা-মা ($S-R-G-M$) থেকে শুরু করে অত্যন্ত জটিল স্বরবিন্যাস বা পল্টার চর্চা করানো হয়। এই পল্টাগুলো পরবর্তীতে দ্রুত গতিতে তান গাইতে সাহায্য করে। গলার সাবলীলতা (Flexibility) এবং স্বরস্থান নিখুঁত করার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে এই কারিগরি ব্যায়ামগুলো করানো হয়।
৩. রাগ ও বন্দিশের ব্যাকরণ
শিক্ষার্থীকে যখন কোনো রাগ শেখানো হয়, তখন প্রথমে সেই রাগের চলন এবং আরোহ-অবরোহ কণ্ঠস্থ করানো হয়। এরপর শেখানো হয় ঐতিহ্যবাহী বন্দিশ। গোয়ালিয়র ঘরানায় বন্দিশ মুখস্থ করার চেয়েও বড় বিষয় হলো বন্দিশের ছন্দ ও বাণীকে অক্ষুণ্ণ রাখা। বন্দিশের প্রতিটি শব্দের উচ্চারণ যাতে স্পষ্ট হয় এবং সমে আসার সময় যাতে ছন্দপতন না ঘটে, তার নিখুঁত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
৪. উপজ এবং বিস্তার করার স্বাধীনতা
একবার বন্দিশ আয়ত্তে চলে এলে গুরু শিষ্যকে নিজের বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতা প্রয়োগ করে রাগের বিস্তার বা ‘উপজ’ করার অনুমতি দেন। গুরু কেবল ব্যাকরণ ঠিক করে দেন, কিন্তু শিষ্যের নিজস্ব কল্পনার প্রকাশকে বাধা দেন না। এই পদ্ধতির কারণেই গোয়ালিয়র ঘরানা থেকে যুগে যুগে এত মৌলিক ও সৃষ্টিশীল গুণী শিল্পীর জন্ম হয়েছে।

গোয়ালিয়র ঘরানার অতীত ও বর্তমানের বিখ্যাত শিল্পীরা
গোয়ালিয়র ঘরানার শিল্পী-পরম্পরা ভারতবর্ষের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে এক বিশাল স্বর্ণালী অধ্যায়। নিচে এই ঘরানার দিকপালদের তালিকা দেওয়া হলো:
অতীতের কিংবদন্তি শিল্পীরা:
- উস্তাদ হদ্দু খাঁ, উস্তাদ হস্সু খাঁ এবং উস্তাদ নথ্থু খাঁ: এই ঘরানার প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ও যুগস্রষ্টা।
- পণ্ডিত বালকৃষ্ণবুয়া ইচলকরঞ্জিকর: তিনি গোয়ালিয়রের ঐতিহ্যকে মহারাষ্ট্রে নিয়ে যান এবং আধুনিক মারাঠি মার্গ সঙ্গীতের ভিত গড়ে তোলেন।
- পণ্ডিত বিষ্ণু দিগম্বর পলুস্কর: ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কারিগর এবং ‘গন্ধর্ব মহাবিদ্যালয়’-এর প্রতিষ্ঠাতা।
- পণ্ডিত ওঙ্কারনাথ ঠাকুর: তাঁর অসম্ভব আবেগঘন এবং ওজস্বী গায়কির জন্য তিনি বিশ্বখ্যাত ছিলেন।
- পণ্ডিত বিনায়করাও পটবর্ধন ও পণ্ডিত নারায়ণরাও ব্যাস: গোয়ালিয়র গায়কির বিশুদ্ধ রূপটিকে আজীবন ধারণ করেছিলেন।
- উস্তাদ নিসার হুসেন খাঁ ও উস্তাদ রহমত খাঁ: এই ঘরানার তান ও গায়কিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।
সমসাময়িক ও আধুনিককালের শিল্পীরা:
- পণ্ডিত ডি. ভি. পলুস্কর: স্বল্পায়ু জীবনেই গোয়ালিয়র গায়কির এক অমর প্রতিমূর্তি হয়ে উঠেছিলেন।
- পণ্ডিত কৃষ্ণরাও শঙ্কর পণ্ডিত ও পণ্ডিত শরচ্চন্দ্র আড়োলকর: বিশুদ্ধ গোয়ালিয়র গায়কির পরম আচার্য ছিলেন।
- পণ্ডিত উল্লাস কশলকর: বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী, যিনি গোয়ালিয়র, জয়পুর এবং আগ্রা—তিনটি ঘরানার মেলবন্ধনে গান পরিবেশন করেন।
- বিদুষী মালিনী রাজুরকর, বিদুষী মীতা পণ্ডিত, পণ্ডিত শশাঙ্ক মক্তেদার: বর্তমান সময়ে গোয়ালিয়র ঘরানার দীপশিখা জ্বালিয়ে রেখেছেন।

খেয়ালে গোয়ালিয়র ঘরানা কেবল সুরের একটি বিশেষ শৈলী নয়, এটি ভারতীয় মার্গ সঙ্গীতের এক জীবন্ত দর্শন। ধ্রুপদের গম্ভীর রাজকীয়তা এবং খেয়ালের নান্দনিক স্বাধীনতা—এই দুইয়ের সার্থক মেলবন্ধন ঘটেছে গোয়ালিয়রের বুকে। শত শত বছর ধরে সুরের বিশুদ্ধতা, শব্দের মর্যাদা এবং খোলা গলার আভিজাত্যকে আঁকড়ে ধরে এই ঘরানা প্রমাণ করেছে যে প্রকৃত সঙ্গীত কোনো সাময়িক চমক নয়, বরং তা এক শাশ্বত সাধনা। আজ ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের যত আধুনিক খেয়াল ঘরানা আমরা দেখতে পাই, তার শিকড় কোনো না কোনোভাবে এই গোয়ালিয়রের আদি গঙ্গোত্রীর গভীরেই প্রোথিত রয়েছে।
আরও দেখুন:
