হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মানচিত্রে ‘কিরানা ঘরানা’ এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় নাম। যেখানে অন্যান্য অনেক ঘরানা তালের বৈচিত্র্য, তানের ক্ষিপ্রতা বা গায়কীর বীরত্বব্যঞ্জক মেজাজের ওপর জোর দেয়, সেখানে কিরানা ঘরানা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে সুরের পরম বিশুদ্ধতা এবং স্বরের নিখুঁত প্রয়োগের ওপর। এই ঘরানার প্রধান লক্ষ্য হলো শ্রোতার হৃদয়ে এক গভীর প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি জাগ্রত করা। কিরানা ঘরানার গায়কীকে বলা হয় ‘স্বর-প্রধান’ গায়কী, অর্থাৎ এখানে প্রতিটি স্বরকে অত্যন্ত মমতায় এবং নিখুঁত শ্রুতি অনুযায়ী লাগানো হয়। আধুনিক খেয়াল সঙ্গীতের জনপ্রিয়তার পেছনে এবং সাধারণ মানুষের কানে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতকে প্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে এই ঘরানার অবদান অনস্বীকার্য। পণ্ডিত ভীমসেন জোশী বা গঙ্গুবাঈ হাঙ্গলের মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের কণ্ঠের জাদুতে এই ঘরানা আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
খেয়ালে কিরানা ঘরানা

উৎপত্তি এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
কিরানা ঘরানার নামকরণ হয়েছে উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগর জেলার অন্তর্গত ‘কিরানা’ নামক একটি ছোট্ট জনপদ থেকে। এই ঘরানার ঐতিহাসিক শেকড় অত্যন্ত গভীর এবং এর যোগসূত্র রয়েছে সরাসরি মিঞা তানসেনের বংশধরদের সাথে। লোকগাথা অনুযায়ী, এই ঘরানার আদি পুরুষ ছিলেন বিখ্যাত বিণকার ওস্তাদ গোপাল নায়েক। তবে আধুনিককালে আমরা যে কিরানা ঘরানার রূপটি দেখি, তার প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রাণপুরুষ হলেন ওস্তাদ আব্দুল করিম খাঁ (Ustad Abdul Karim Khan) এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র ওস্তাদ ওয়াহিদ খাঁ (Ustad Abdul Wahid Khan)।
উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এই দুই মহান শিল্পী কিরানা ঘরানাকে এক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করেন। ওস্তাদ আব্দুল করিম খাঁ সাহেব ছিলেন মূলত বিণকার (বীণা বাদক) পরিবারের সন্তান, তাই তাঁর গায়কীতে বীণার সেই দীর্ঘায়িত সুর এবং মীড়ের কাজ গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল। তিনি কর্ণাটকী সঙ্গীতের (দক্ষিণ ভারতীয় সঙ্গীত) সংস্পর্শে এসে সেখান থেকে স্বর-বিস্তারের কিছু অনন্য কৌশল গ্রহণ করেন এবং তা উত্তর ভারতীয় খেয়ালের সাথে যুক্ত করেন। অন্যদিকে ওস্তাদ ওয়াহিদ খাঁ সাহেব প্রবর্তন করেন ‘বিলম্বিত’ লয়ের এক নতুন ধারা, যেখানে একটি রাগকে অত্যন্ত ধীর গতিতে প্রতিটি স্বরের সূক্ষ্ম কাজ দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়। এই দুই ওস্তাদের সাধনার ফলে কিরানা ঘরানা কেবল একটি ভৌগোলিক নাম থেকে ভারতের শ্রেষ্ঠতম সঙ্গীত ঐতিহ্যে পরিণত হয়।

খেয়াল গায়নে কিরানা ঘরানার ভূমিকা
খেয়াল গানের বিবর্তনে কিরানা ঘরানা এক বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করেছে। প্রাচীনকালে খেয়াল গান অনেক সময় তালের জটিলতা বা শব্দের কারুকার্যে আটকে থাকত। কিরানা ঘরানা প্রথম দেখিয়েছিল যে, তালের বাঁধন ছাপিয়ে কীভাবে সুরের মাধুর্যকে প্রধান করে তোলা যায়। এই ঘরানাই প্রথম ‘বিলম্বিত খেয়াল’-কে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়, যেখানে গায়ক প্রতিটি স্বরের ওপর দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে রাগের আসল রূপটি ফুটিয়ে তোলেন।
কিরানা ঘরানার শিল্পীরাই প্রথম উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে ‘ভাব’ বা আবেগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁদের গায়কী কেবল ব্যাকরণ রক্ষা করে না, বরং তা শ্রোতার সাথে এক অদৃশ্য আধ্যাত্মিক সংযোগ স্থাপন করে। এছাড়া এই ঘরানা হিন্দুস্তানি সঙ্গীতের সাথে কর্ণাটকী সঙ্গীতের সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে এক উদার ও সমৃদ্ধ ধারা তৈরি করেছে। খেয়াল গায়নের পাশাপাশি এই ঘরানার শিল্পীরা ঠুমরি এবং ভজনেও এক নতুন ও স্নিগ্ধ শৈলী প্রবর্তন করেছেন, যা আজও মার্গ সঙ্গীতের আসরে অপরিহার্য।

গায়নশৈলীর প্রধান কারিগরি বৈশিষ্ট্যসমূহ (Technical Details)
কিরানা ঘরানার গায়নশৈলী মূলত ‘স্বর-প্রধান’ বা ‘সুর-প্রধান’। যেখানে অন্যান্য ঘরানায় তালের জটিলতা বা তানের ক্ষিপ্রতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, সেখানে কিরানা ঘরানা প্রতিটি স্বরের শুদ্ধতা এবং তার আধ্যাত্মিক গভীরতার ওপর জোর দেয়। এই ঘরানার গায়কিতে বীণা বা বিণকার ঐতিহ্যের প্রভাব সুস্পষ্ট। নিচে এই ঘরানার কারিগরি অঙ্গগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. স্বর-লগাও এবং নিখুঁত শ্রুতি (Intonation and Shruti)
কিরানা ঘরানার সবচেয়ে বড় কারিগরি বৈশিষ্ট্য হলো স্বরের সঠিক স্থানে অবস্থান বা ‘স্বর-লগাও’। ওস্তাদ আব্দুল করিম খাঁ সাহেব বিশ্বাস করতেন যে, একটি স্বর কেবল একটি বিন্দু নয়, বরং তার ভেতরে অনেক সূক্ষ্ম স্তর বা ‘শ্রুতি’ থাকে। কিরানা ঘরানার শিল্পীরা একটি স্বর (যেমন—গা বা নী) লাগানোর সময় তাকে সরাসরি না ছুঁয়ে খুব ধীর লয়ে মীড়ের সাহায্যে নিচ থেকে উপরে বা উপর থেকে নিচে নিয়ে আসেন। একে বলা হয় ‘স্বরের ওপর ধ্যান করা’। এই পদ্ধতিতে গলার কাজ এতটাই সূক্ষ্ম হয় যে, শ্রোতা প্রতিটি স্বরের স্পন্দন অনুভব করতে পারেন। স্বরের এই বিশুদ্ধতাই কিরানা ঘরানাকে অন্য সব ঘরানা থেকে আলাদা করে।
২. অতি-বিলম্বিত আলাপ ও বাড়ত (Slow Progression)
খেয়াল গায়নে ‘বিলম্বিত’ লয়ের চূড়ান্ত উৎকর্ষ সাধন করেছে কিরানা ঘরানা। এই ঘরানায় রাগের বিস্তার বা ‘বাড়ত’ করা হয় অত্যন্ত ধীর গতিতে। ওস্তাদ ওয়াহিদ খাঁ সাহেব এই পদ্ধতির প্রবর্তক ছিলেন। এখানে একটি স্বর থেকে অন্য স্বরের দূরত্ব অতিক্রম করতে অনেক সময় নেওয়া হয়। সা ($S$) থেকে শুরু করে রে ($R$), গা ($G$)—এভাবে ধাপে ধাপে রাগের একেকটি স্বরকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। এই আলাপ সাধারণত ‘বোল-আলাপ’ নয়, বরং ‘আকার’ (কণ্ঠ খুলে ‘আ’ শব্দে) দিয়ে করা হয়। এই ধীরগতির বিস্তারের ফলে রাগের শান্ত ও গম্ভীর রসটি পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, যা শ্রোতাকে এক ধরনের ধ্যানের জগতে নিয়ে যায়।
৩. তানের বৈচিত্র্য ও সারগাম (Tan and Sargam)
কিরানা ঘরানার তানের কাজ অন্য ঘরানার মতো পেশিবহুল বা ওজস্বী নয়, বরং তা অনেকটা ঝরনার ধারার মতো প্রবহমান এবং সুমধুর। এই ঘরানার তানের কিছু বিশেষত্ব হলো:
- সারগাম তান: কিরানা ঘরানাই প্রথম খেয়াল গানে ‘সারগাম’ বা স্বরের নাম (সা রে গা মা) বলে দ্রুত তান গাওয়ার পদ্ধতিটিকে জনপ্রিয় করে তোলে। ওস্তাদ আব্দুল করিম খাঁ সাহেব কর্ণাটকী সঙ্গীত থেকে এই অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।
- ছন্দময় তান: তানের গতিবেগ বাড়লেও কিরানা ঘরানার শিল্পীরা স্বরের মাধুর্য হারান না। তাঁদের তানগুলো সাধারণত খুব বেশি জটিল বা ‘কূট’ হয় না, বরং তা সহজবোধ্য এবং শ্রুতিমধুর হয়।
- জমজমা ও মীড়যুক্ত তান: তানের মধ্যে ছোট ছোট স্বরের কম্পন (জমজমা) এবং একটি স্বর থেকে অন্য স্বরের মসৃণ সংযোগ (মীড়) এই ঘরানার তানের প্রধান কারিগরি অলংকার।
৪. তাল ও বন্দিশের ভূমিকা
কিরানা ঘরানায় তালকে দেখা হয় সুরের একটি পটভূমি হিসেবে। এই ঘরানার শিল্পীরা সাধারণত ‘একতাল’ বা ‘ঝুমরা’ তালের অতি-বিলম্বিত লয় ব্যবহার করেন। তালের মাত্রাগুলোর ভেতরে সুরের যে বিশাল ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, গায়ক তাঁর স্বরের জাদু দিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করেন। মজার বিষয় হলো, কিরানা ঘরানায় বন্দিশের বাণীর চেয়ে সুরের গুরুত্ব বেশি। অনেক সময় দেখা যায়, শিল্পীরা বন্দিশের শব্দগুলোকে ছাপিয়ে স্বরের আলাপে বেশি মগ্ন থাকেন। কারণ তাঁদের কাছে সুরই হলো ঈশ্বরের আরাধনা, আর শব্দ সেখানে গৌণ।

কিরানা ঘরানার শিক্ষণপদ্ধতি (Technical Pedagogical Details)
কিরানা ঘরানার শিক্ষাদান পদ্ধতি অন্যান্য ঘরানা থেকে কিছুটা ভিন্ন এবং অত্যন্ত ধৈর্যসাপেক্ষ। এখানে একজন শিক্ষার্থীকে কেবল গায়ক নয়, বরং একজন ‘সুর-সাধক’ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়। নিচে এই ঘরানার বিশেষ কারিগরি শিক্ষণ ধাপগুলো দেওয়া হলো:
১. শ্রুতি ও স্বর-স্থানের সূক্ষ্ম জ্ঞান (Ear Training)
কিরানা ঘরানার শিক্ষার প্রথম ও প্রধান ধাপ হলো ‘কান তৈরি করা’। গুরু তাঁর শিষ্যকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেবল তম্বুরার সুর শুনতে বলেন। শিক্ষার্থীকে শেখানো হয় কীভাবে তম্বুরার জাওয়ারি বা অনুরণনের সাথে নিজের কণ্ঠকে একীভূত করতে হয়। প্রতিটি স্বরের ভেতরে যে সূক্ষ্ম ‘শ্রুতি’ বা মাইক্রোটোন থাকে, তা চেনার জন্য শিক্ষার্থীকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। গলার আওয়াজ যাতে কর্কশ না হয় এবং প্রতিটি স্বর যাতে স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ হয়, তার জন্য বিশেষ ‘আকার’ সাধনা করানো হয়।
২. মীন ও ঘষীটের প্রয়োগ (Glissando Techniques)
কিরানা গায়কিতে একটি স্বর থেকে অন্য স্বরে যাওয়ার সময় মাঝখানের সংযোগস্থলকে শূন্য রাখা হয় না। গুরু শিষ্যকে শেখান কীভাবে একটি স্বর থেকে অন্য স্বরে ‘মীড়’ বা ‘ঘষীট’-এর মাধ্যমে মসৃণভাবে গড়িয়ে যেতে হয়। এই কৌশলটি মূলত বীণা বা রুদ্রবীণা বাজানোর পদ্ধতি থেকে এসেছে। স্বরের এই নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ বা ‘কন্টিনিউটি’ বজায় রাখাই কিরানা ঘরানার শিক্ষার অন্যতম কঠিন পরীক্ষা।
৩. সারগাম ও তালের অভ্যন্তরীণ বিন্যাস
এই ঘরানায় সারগাম (সা-রে-গা-মা-পা-ধা-নী) গাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিষ্যকে শেখানো হয় কীভাবে দ্রুত গতিতে সারগাম বলার সময়ও প্রতিটি স্বরের মিষ্টতা বজায় রাখা যায়। এছাড়া তালের অতি-বিলম্বিত লয়ের ভেতরে কীভাবে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে দীর্ঘ আলাপ চালিয়ে যেতে হয়, তার কারিগরি কৌশল গুরু অত্যন্ত যত্ন সহকারে শিখিয়ে দেন।
কিরানা ঘরানার অতীত ও বর্তমানের বিখ্যাত শিল্পীরা
কিরানা ঘরানা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে এমন কিছু রত্ন উপহার দিয়েছে, যাঁদের ছাড়া হিন্দুস্তানি সঙ্গীতের ইতিহাস অপূর্ণ থেকে যেত।
অতীতের কিংবদন্তি শিল্পীরা:
- ওস্তাদ আব্দুল করিম খাঁ: আধুনিক কিরানা ঘরানার প্রধান পুরুষ। তাঁর করুণ ও মিষ্টতা মাখা কণ্ঠস্বর এই ঘরানাকে অমরত্ব দিয়েছে।
- ওস্তাদ ওয়াহিদ খাঁ: বিলম্বিত লয়ের সার্থক রূপকার এবং পণ্ডিত ভীমসেন জোশীর অন্যতম পথপ্রদর্শক।
- পণ্ডিত সওয়াই গন্ধর্ব: ওস্তাদ আব্দুল করিম খাঁর প্রধান শিষ্য, যিনি মহারাষ্ট্রে কিরানা গায়কিকে জনপ্রিয় করেছিলেন।
- পণ্ডিত ভীমসেন জোশী: কিরানা ঘরানার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম নক্ষত্র। তিনি এই ঘরানার ধীরস্থির গায়কির সাথে গোয়ালিয়র ও জয়পুরের কিছু তেজস্বী তান যুক্ত করে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। তাকে ‘ভারতরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।
- বিদুষী গঙ্গুবাঈ হাঙ্গল: তাঁর গম্ভীর ও দরাজ কণ্ঠস্বর কিরানা ঘরানাকে এক অনন্য পুরুষালি আভিজাত্য দিয়েছিল।
- পণ্ডিত ফিরোজ দস্তুর: কিরানা ঘরানার অতি বিশুদ্ধ রূপটি তাঁর গায়কিতে ফুটে উঠত।
সমসাময়িক ও আধুনিককালের শিল্পীরা:
- পণ্ডিত প্রভাস আত্রে: বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রবীণ ও বিদগ্ধ শিল্পী, যিনি কিরানা ঘরানার দর্শনকে আধুনিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
- পণ্ডিত কৈবল্য কুমার গুরুভ: তাঁর সুরেলা ও গতিশীল গায়কি বর্তমান প্রজন্মের কাছে কিরানাকে জনপ্রিয় রেখেছে।
- পণ্ডিত জয়তীর্থ মেউন্ডি: ওস্তাদ আব্দুল করিম খাঁ ও ভীমসেন জোশীর গায়কির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ তাঁর কণ্ঠে লক্ষ্য করা যায়।

কিরানা ঘরানা হলো সুরের সেই পবিত্র প্রবাহ, যা আত্মার গভীরে গিয়ে আঘাত করে। এই ঘরানা আমাদের শিখিয়েছে যে সঙ্গীত কেবল তালের কসরত বা গলার ব্যায়াম নয়, বরং এটি হলো প্রতিটি স্বরের মাধ্যমে ঈশ্বরের চরণে আত্মসমর্পণ। ওস্তাদ আব্দুল করিম খাঁ সাহেবের সেই আর্তনাদ মাখা কণ্ঠ কিংবা পণ্ডিত ভীমসেন জোশীর সেই প্রলয়ঙ্করী স্বর-বিস্তার—সবই কিরানা ঘরানাকে ভারতের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছে। যান্ত্রিকতার এই যুগে কিরানা ঘরানার সেই ‘অতি-বিলম্বিত’ শান্তি ও স্বরের বিশুদ্ধতা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সুরই হলো পরম সত্য।
