পান্টিতে বিজয় দিবসের অনুষ্টানে সুফি ফারুক ইবনে আবুবকরের অংশগ্রহণ

মহান বিজয় দিবস ২০১০ উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পান্টি বাজারে আয়োজিত বর্ণাঢ্য উৎসবে যোগ দিয়েছেন সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন জাফরের বিশেষ আমন্ত্রণে তিনি উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তুষার আলী, মনির হাসান রিন্টুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন জাফর তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বলেন:

“আমরা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে এবং যেখানে সব ধর্ম ও মতের মানুষের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেই স্বপ্ন বিপথে চালিত হয়। বাংলাদেশ চলে গিয়েছিল সাম্প্রদায়িক মোল্লা ও সামরিক জান্তার দখলে। আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে সেই জঞ্জাল কিছুটা পরিষ্কার করেছিলেন। বর্তমানে তিনি পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছেন। আমরা আশা করছি, এবার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ বিরোধীদের বিচার সুনিশ্চিত হবে এবং তাদের সব চক্রান্ত রুখে দেওয়া হবে।”

অনুষ্ঠানের সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তাঁর বক্তব্যে নতুন প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন:

“আমাদের পূর্ব প্রজন্ম দীর্ঘ ২৩ বছরের নিরন্তর সংগ্রাম শেষে ৩০ লক্ষ শহীদ এবং ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের এই বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। আজ জাফর চাচাদের মতো মানুষেরা যদি সেদিন বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে না যেতেন, তবে এই মানচিত্র আমরা পেতাম না। এমনকি আজ বাঙালিদের কেউ হয়তো প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধান, প্রধান বিচারপতি কিংবা রাষ্ট্রপতির মতো শীর্ষ পদগুলোতে আসীন হতে পারতেন না; আমাদের সর্বোচ্চ দৌড় হয়তো হতো বড়জোড় যুগ্ম সচিব পর্যন্ত। তাই যাদের আত্মত্যাগে এই দেশ, তাদের অবদান আমাদের কখনোই ভুলে যাওয়া চলবে না।”

তিনি আরও যোগ করেন:

“আজকের বাংলাদেশে আর প্রাণ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং আজ প্রতিটি প্রাণের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণ-তরুণী হবে সুশিক্ষিত, দক্ষ, কর্মঠ, রুচিশীল এবং মানবিক। আমরা যদি নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারি, তবেই মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের ঋণ শোধ করা সম্ভব হবে এবং একটি সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়ে উঠবে।”

আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। যেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সেই সব কালজয়ী গান— যা রণক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল, একে একে মঞ্চস্থ হয়। শিল্পীদের কণ্ঠে “জয় বাংলা বাংলার জয়”, “মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি” এবং “এক সাগর রক্তের বিনিময়ে” গানগুলো পরিবেশনার সময় অনুষ্ঠানস্থলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত দর্শকরা করতালি আর দেশাত্মবোধক স্লোগানে শিল্পীদের অভিনন্দন জানান। মূলত সংস্কৃতির এই মেলবন্ধনের মাধ্যমেই ২০১০ সালের বিজয় দিবসের এই বিশেষ আয়োজনের সফল সমাপ্তি ঘটে।

ছবি: