বানিয়াপাড়া গ্রামে সুফি ফারুকের ‘মা-বোনদের বিশেষ পরামর্শ সভা’ অনুষ্ঠিত

২০৪১ সালের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৃণমূলের নারীদের প্রস্তুত করতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ— ‘মা-বোনদের বিশেষ পরামর্শ সভা’। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ আগস্ট ২০১৮ তারিখে ১ নং কয়া ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের অশোক গলিতে এই বিশেষ সভা ও স্বাস্থ্য ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

 

বানিয়াপাড়া গ্রামে সুফি ফারুকের ‘মা-বোনদের বিশেষ পরামর্শ সভা’ অনুষ্ঠিত। কুষ্টিয়া জেলার, কুমারখালী উপজেলার, কয়া ইউনিয়নের, বানিয়াপাড়া গ্রাম

 

কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

এই বিশেষ কর্মসূচির প্রবক্তা, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং গুরুকুল বাংলাদেশের প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। সভায় তিনি বলেন, “আমাদের গ্রামীণ খেটে-খাওয়া মানুষ সামান্য সচেতনতার অভাবে বাৎসরিক সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করে ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে তারা ঋণে জর্জরিত হয়। অথচ একটু সচেতনতা এবং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সিংহভাগ রোগবালাই এড়ানো সম্ভব।”

তিনি আরও যোগ করেন, “২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পরিবার নামের নিউক্লিয়াসের মূল চালিকাশক্তি অর্থাৎ মায়েদের মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। সন্তানের শিক্ষা, ক্যারিয়ার এবং পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মায়েদের ভূমিকা অপরিসীম।”

 

SufiFaruq.com Logo 252x68 3 বানিয়াপাড়া গ্রামে সুফি ফারুকের ‘মা-বোনদের বিশেষ পরামর্শ সভা’ অনুষ্ঠিত

 

 

আলোচনার প্রধান চারটি স্তম্ভ

বানিয়াপাড়ার এই সভায় অংশগ্রহণকারী মা-বোনদের সাথে প্রধানত চারটি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পরামর্শ দেওয়া হয়:

১. মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি: শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব।

২. রোগ প্রতিরোধ: পরিবারকে সুস্থ রাখতে আগাম সতর্কতা ও পরিচ্ছন্নতা।

৩. আদর্শ সন্তান গঠন: সন্তানকে সুশিক্ষিত, দক্ষ, রুচিশীল ও মানবিক করে গড়ে তুলতে মায়ের দায়িত্ব।

৪. আর্থিক নিরাপত্তা: প্রতিটি নারীর নিজস্ব সঞ্চয় ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা।

 

বানিয়াপাড়া গ্রামে সুফি ফারুকের ‘মা-বোনদের বিশেষ পরামর্শ সভা’ অনুষ্ঠিত। কুষ্টিয়া জেলার, কুমারখালী উপজেলার, কয়া ইউনিয়নের, বানিয়াপাড়া গ্রাম
কুষ্টিয়া জেলার, কুমারখালী উপজেলার, কয়া ইউনিয়নের, বানিয়াপাড়া গ্রাম

 

বিশেষায়িত পরামর্শ ও মাদকবিরোধী সচেতনতা

মৌলিক আলোচনার পাশাপাশি মায়েদের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে— প্রসূতি মা ও শিশুর যত্ন, পুষ্টিসম্মত খাদ্যভ্যাস, এবং বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি। বিশেষ করে, সন্তান যাতে মাদকাসক্ত না হয় এবং মাদকের ভয়াবহতা থেকে পরিবারকে রক্ষা করার কৌশল নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করা হয়।

বিশেষজ্ঞ ও নেতৃবৃন্দের বক্তব্য

কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সুভাষ দত্ত বলেন, “সুফি ফারুক ভাইয়ের এটি একটি সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ। দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম তৈরির এটি প্রাথমিক ধাপ।” শিলাইদহ মহিলা কলেজের প্রভাষক আব্দুস সালাম মনে করেন, এই উদ্যোগের ফলে গ্রামের নারীরা স্বাস্থ্যের পাশাপাশি আর্থিকভাবেও সচেতন হচ্ছেন।

অভিজ্ঞ সমাজকর্মী আলেফা খাতুন বলেন, “সুফি ফারুক ভাইয়ের দেওয়া গাইডলাইন অনুযায়ী আমরা প্রতিটি গ্রামে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। সামাজিক কুসংস্কার কাটিয়ে নারীরা এখন নিজে থেকেই তাদের সমস্যার কথা আমাদের জানাচ্ছেন এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণে যুক্ত হচ্ছেন।”

পেশাদার নার্স গুলশান আফরোজ জুঁই মা-বোনদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বলেন, “আমাদের দেশের নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে মোটেও সচেতন নন। ক্যালসিয়ামের ঘাটতি, হরমোনজনিত সমস্যা বা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাবে তারা জরায়ু ইনফেকশনসহ নানা জটিল রোগে ভোগেন। গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি এবং শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা তাদের সরাসরি পরামর্শ দিচ্ছি।”

উপস্থিতি ও সামাজিক প্রভাব

সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার কয়েকশ মা-বোন অংশগ্রহণ করেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বানিয়াপাড়া সহ কুমারখালী-খোকসা অঞ্চলের নারী সমাজে এক ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ের এই সচেতনতা কার্যক্রম আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আরও দেখুন: