কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ৮ নং যদুবয়রা ইউনিয়নের অন্তর্গত একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম হলো চাঁদপুর (সরকারি নথিতে যা উত্তর চাঁদপুর নামেও পরিচিত)। গ্রামটির অবস্থান, জনসংখ্যা ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিচিতি:
গ্রামটি কুমারখালী উপজেলার ৮ নং যদুবয়রা ইউনিয়নে অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এটি চাঁদপুর নামে পরিচিত হলেও সরকারি গেজেট ও ইউনিয়ন পরিষদের তালিকায় এটি ‘উত্তর চাঁদপুর’ (Uttar Chandpur) হিসেবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। গ্রামটির পাশেই ভবানীপুর ও যদুবয়রা গ্রাম অবস্থিত।
জনসংখ্যা:
ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য (জনশুমারি ২০১১ ও পরবর্তী আপডেট) অনুযায়ী, গ্রামটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ১,৫০০ জন (পুরুষ প্রায় ৭৮০ জন এবং নারী ৭২০ জন)। তবে বর্তমান সময়ে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি একটি মাঝারি আকারের জনবসতিপূর্ণ গ্রাম।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:
গ্রামটিতে শিক্ষার প্রসারে একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
উত্তর চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: গ্রামের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র।
উত্তর চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়: মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অর্থনীতি ও পেশা:
কুমারখালী উপজেলার অন্যান্য গ্রামের মতো এই গ্রামের মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। এখানে ধান, গম, ভুট্টা এবং বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়। এছাড়া কুমারখালী অঞ্চলটি তাঁত শিল্পের জন্য বিখ্যাত হওয়ায়, এই গ্রামের অনেক পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাঁত ও বস্ত্র বয়ন শিল্পের সাথে জড়িত।
উন্নয়ন ও অবকাঠামো:
গ্রামটির যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এলজিএসপি (LGSP) প্রকল্পের আওতায় উত্তর চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশের রাস্তাসহ গ্রামের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রাস্তা পাকা ও সলিং করা হয়েছে। এছাড়া গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা রয়েছে।
চাঁদপুর গ্রামে সুফি ফারুকের কার্যক্রম:
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ৮নং যদুবয়রা ইউনিয়নের চাঁদপুর হালদার পাড়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে তিনি মণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে সুফি ফারুক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের শারদীয় শুভেচ্ছা ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সব সময় অঙ্গীকারবদ্ধ যেন এই মাটিতে সব ধর্মের মানুষ নির্ভয়ে, শান্তির সাথে এবং স্বস্তিতে নিজ নিজ ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন।”
এ সময় তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পূজা উদযাপন কমিটির হাতে শুভেচ্ছা স্বরূপ নগদ অর্থ সহায়তা (টোকেন) তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অজিত হালদার (০১৯১২-৭৮৯৮৮২) এবং সাধারণ সম্পাদক গৌতম কুমার কুন্ডু (০১৭১৮-০১৯৬০৩) সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুল সংখ্যক ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও এ সময় তাদের নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন।
চাঁদপুর হালদার পাড়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়
ছবি গ্যালারী :
আরও দেখুন:
















