ফ্লাইট ল্যাফটেন্যান্ট নাইমা হক এবং ফ্লাইং অফিসার তামান্না-ই-লুতফি কে অভিনন্দন !!

বাংলাদেশের সামরিক ও নারী জাগরণের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল ও অবিস্মরণীয় অধ্যায় রচিত হলো বিজয়ের এই মাসে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সামরিক হেলিকপ্টারের একক উড্ডয়ন (Solo Flying) সম্পন্ন করে ইতিহাস গড়েছেন বিমান বাহিনীর দুই অকুতোভয় নারী কর্মকর্তা—ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাইমা হক এবং ফ্লাইং অফিসার তামান্না-ই-লুতফি। বিজয়ের এই আনন্দক্ষণে লাল-সবুজের আকাশে ডানা মেলার এই দুঃসাহসিক কীর্তির জন্য তোমাদের দুজনকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন!

যেকোনো দেশের সামরিক বাহিনীতে কমব্যাট পাইলট (Combat Pilot) হওয়া অত্যন্ত কঠিন ও কঠোর নিয়মানুবর্তিতার বিষয়। নাইমা এবং তামান্না কেবল নারী হিসেবে নয়, বরং চৌকস সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে এই গৌরব অর্জন করেছেন।

তাঁরা বিমান বাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ১ নং স্কোয়াড্রনের (1 Squadron) অংশ হয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। যশোর বিমান ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানে অবস্থিত হেলিকপ্টার ট্রেইনিং স্কুলে (HTS) তাঁরা অত্যন্ত সফলতার সাথে সামরিক হেলিকপ্টার উড্ডয়নের কঠিন গ্রাউন্ড কোর্স এবং উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ শেষ করেন।

তাঁরা বিমান বাহিনীর বিশেষ সামরিক হেলিকপ্টার বেল-২১২ (Bell-212) নিয়ে আকাশে একক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ কিংবা আকাশ প্রতিরক্ষায় এই হেলিকপ্টারের ব্যবহার অপরিসীম। পুরুষ সহকর্মীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই কঠিন যানে আকাশে উড়ার সাহস দেখিয়ে তাঁরা প্রমাণ করেছেন—মেধা ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে বাঙালি নারীরা যেকোনো চ্যালেঞ্জ জয় করতে পারেন।

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর আমরা পেয়েছিলাম আমাদের ভৌগোলিক স্বাধীনতা। আর বিজয়ের এই মাসে নাইমা হক ও তামান্না-ই-লুতফি আমাদের এনে দিলেন লৈঙ্গিক সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের এক নতুন আকাশছোঁয়া স্বাধীনতা। এই অর্জন কেবল বিমান বাহিনীর নয়, এটি সমগ্র বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের গর্ব।

তোমাদের এই দুঃসাহসিক অভিযাত্রা চিরকাল বাংলার কোটি তরুণীকে স্বপ্ন দেখাবে, আত্মবিশ্বাসী করবে এবং প্রতিকূলতা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগাবে। আগামী দিনে দেশমাতৃকার সেবায় এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় তোমরা অনন্য নজির স্থাপন করবে—এই বিশ্বাস আমাদের আছে।

তোমাদের দুজনের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দেশসেবায় সর্বোচ্চ আত্মনিয়োগ কামনা করি। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

জয় বাংলা!

Leave a Comment