শহরের বড় বড় কাঁচঘেরা অফিস, স্মার্টলি কথা বলা কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব আর আধুনিক পরিবেশ দেখে মফস্বলের অনেক মেধাবী তরুণের মনে এক ধরণের অজানা ভয় কাজ করে। সুফি ফারুক এই মানসিক অবস্থাকেই বলছেন “গ্লাসডোর ফোবিয়া” (Glass-door Phobia)। এটি কোনো অক্ষমতা নয়, বরং একটি অমূলক সংকোচ।
গ্লাসডোর ফোবিয়া কী?
সহজ কথায়, কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের কাঁচের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে নিজের অধিকার বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রে যে জড়তা কাজ করে, তাকেই গ্লাসডোর ফোবিয়া বলা যায়। অনেক যোগ্য ছেলেমেয়ে কেবল এই ভয়ের কারণে বড় বড় কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে যায় না বা নেটওয়ার্কিং করতে ভয় পায়।
কেন এই অমূলক ভয়?
সুফি ফারুকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ভয়ের মূল কারণগুলো হলো:
পরিবেশগত পার্থক্য: মফস্বলের সাদাসিধে পরিবেশ থেকে এসে হঠাৎ কর্পোরেট চাকচিক্য দেখে ঘাবড়ে যাওয়া।
ভাষাগত জড়তা: শুদ্ধভাবে কথা বলা বা ইংরেজি ভীতি।
হীনম্মন্যতা: নিজেকে অন্যদের চেয়ে কম যোগ্য মনে করা (Inferiority Complex)।
গ্লাসডোর ফোবিয়া জয়ের ৫টি কার্যকরী উপায়
সুফি ফারুক তার বিভিন্ন সেশনে এই ভয় কাটিয়ে ওঠার জন্য বাস্তবসম্মত কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:
১. দক্ষতা অর্জনই আসল শক্তি
আপনার যদি কাজের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে, তবে আপনার আত্মবিশ্বাস এমনিতেই বেড়ে যাবে। মনে রাখবেন, অফিসটি কাঁচের হোক বা ইটের—সেখানে মানুষ নিয়োগ দেওয়া হয় কাজ করার জন্য, সাজগোজ করার জন্য নয়।
২. এক্সপোজার বাড়ানো
কাঁচের দেয়াল দেখে দূরে সরে না থেকে বরং সেগুলোতে প্রবেশ করার চেষ্টা করুন। বিভিন্ন সেমিনার, ওয়ার্কশপ বা ক্যারিয়ার ফেয়ারে অংশ নিন। যত বেশি মানুষের সাথে মিশবেন, তত বেশি ভয় কাটবে।
৩. কমিউনিকেশন স্কিল ঝালিয়ে নেওয়া
মানুষের সাথে কথা বলার জড়তা কাটান। প্রমিত বাংলায় কথা বলা এবং পেশাদার ইংরেজিতে প্রাথমিক দক্ষতা অর্জন করলে যে কোনো পরিবেশে কথা বলতে আপনার বুক কাঁপবে না।
৪. মেন্টরশিপ গ্রহণ
যারা মফস্বল থেকে এসে বর্তমানে বড় বড় অবস্থানে আছেন, তাদের কথা শুনুন বা তাদের অনুসরণ করুন। সুফি ফারুকের মতো অভিজ্ঞ মেন্টরদের ভিডিও গাইডলাইন আপনাকে বোঝাবে যে বাধাটা কেবল আপনার মনে, বাস্তবে নয়।
৫. “ব্যর্থ হলে কী হবে?”—এই চিন্তা ত্যাগ করা
বেশি হলে কী হবে? আপনার চাকরিটা হবে না। এর বাইরে আর কোনো ক্ষতি নেই। এই সত্যটি মেনে নিলে যে কোনো বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা সহজ হয়।
ভিডিওতে বিস্তারিত আলোচনাটি শুনুন:
