ইতিহাস ও রাজনীতি সিরিজ

হেফাজত নিয়ে বিএনপির মিথ্যা কল্পকাহিনী ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব | ইতিহাস ও রাজনীতি সিরিজ

বিএনপি'র মিথ্যা কল্পকাহিনী [ বাংলাদেশের রাজনীতি ]

গত ২০১৩ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার দোষ পুরোপুরি দেওয়া যায় না। শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে বিএনপি-জামাত চক্র যেভাবে ‘গণহত্যা’র অলীক রূপকথা প্রচার করেছিল, তা ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট প্রতারণা। “কয়েক হাজার খুন”, “ভারতে লাশ পাচার”, “পিলখানায় লাশ পুঁতে ফেলা” কিংবা “গোপন গণকবর”— একের পর এক আজব গল্প ফেঁদে তারা দেশজুড়ে এক বিভ্রান্তিকর আবহ তৈরি করেছিল। অধিকারের মতো মানবাধিকার সংস্থা আর আল জাজিরার মনগড়া তথ্যকে ঢাল বানিয়ে কেসটা সাজানো হয়েছিল বেশ পরিপাটি করে।

কিন্তু সত্য কখনো চেপে রাখা যায় না। বিএনপি-জামাতের হাঁকডাক দেওয়া সেই ২৫০০ লাশের হিসাব যখন আনুষ্ঠানিকভাবে চাওয়া হলো, এক ধাক্কায় তারা সংখ্যা নামিয়ে আনল ৫০০-তে। এরপর সেই ৫০০ লাশের সুনির্দিষ্ট তালিকা ও পরিচয় চাইতে গিয়ে দেখা গেল তা ঠেকেছে সাকুল্যে ষাট-পয়ষট্টিতে। আর কিছুদিন পর ফাঁস হলো আরও অবিশ্বাস্য বাস্তবতা— ‘লাশ’ হয়ে যাওয়া কথিত বহু মুজাহিদ ও মাদ্রাসাছাত্র অর্থাভাবে আস্তানা ছেড়ে একে একে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে আসতে শুরু করল! গণমাধ্যমগুলো সচিত্র প্রতিবেদন ছেপে প্রমাণ করে দিল, কীভাবে খাতায়-কলমে ‘মৃত’ ব্যক্তিরা দিব্যি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছে, কাজ করছে এবং সাক্ষাৎকার দিচ্ছে।

সত্য জানার জন্য জনগণকে খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। শাপলা চত্বরের কল্পকাহিনীর অন্তরালে বিএনপির ধর্মরক্ষা ও মানুষ রক্ষার বিষাক্ত রাজনীতি আজ সবার সামনে উন্মোচিত। তথাকথিত ইসলাম রক্ষাকারী হুজুরদের ইমান ও বুলির আসল মেধা এবং তাদের ধর্ম বেচে দেওয়ার মূল্যতালিকাও আজ স্পষ্ট।

কিন্তু ততদিনে মিথ্যার রাজনীতি তার সাময়িক উদ্দেশ্য হাসিল করে নিয়েছিল। ২০১৩ সালের নির্বাচনে এই সাজানো গুজাবে বিভ্রান্ত হয়ে জনগণ বিএনপির প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছিল। অপপ্রচার ছড়িয়ে রাজনীতির সেই বিষাক্ত ফসল তারা ঠিকই ঘরে তুলেছিল।

আজ সেই প্রতারণার পূর্ণাঙ্গ জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। মিথ্যা কল্পকাহিনী দিয়ে সাময়িক ভোট পেলেও জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার সাজা এখনো বাকি। একই সাথে যুক্ত হয়েছে আন্দোলনের নামে পেট্রোল বোমায় নিরীহ মানুষ পুড়িয়ে মারার দায় এবং সেই তাণ্ডব নিয়ে একের পর এক চরম মিথ্যাচারের জবাব। অপপ্রচার আর অগ্নিসন্ত্রাসের এই নোংরা খেলা বন্ধ করে বিএনপিকে আজ জনগণের কাঠগড়াতেই জবাবদিহি করতে হবে।

শেয়ার করুন: Facebook X WhatsApp LinkedIn

প্রেস ডেস্ক, সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এর অফিস

কুমারখালী, কুষ্টিয়ার মানুষের পাশে থেকে ইতিহাস, রাজনীতি, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন নিয়ে লেখালেখি।

Leave a Reply

সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ। ইতিহাস, রাজনীতি, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন নিয়ে লেখালেখি।

যোগাযোগ

কুমারখালী, কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ
+৮৮০ ১XXX-XXXXXX
info@sufifaruq.com

© ২০২৬ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।