১. প্রতিষ্ঠা ও ঐতিহাসিক পটভূমি
উনিশ শতকের মধ্যভাগে বাংলায় যখন রেনেসাঁ বা নবজাগরণের হাওয়া বইছিল, ঠিক সেই সময়ে কুমারখালীর প্রজ্ঞাবান ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের যৌথ উদ্যোগে ১৮৫৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।
কুমারখালীর মাটি সাহিত্য ও সংস্কৃতির উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে সমাদৃত। মহাত্মা লালন সাঁই, সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন এবং লোকসাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের স্মৃতিবিজড়িত এই জনপদে আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রসারে বিদ্যালয়টি অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। তৎকালীন সময়ে গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার ও অজ্ঞতা দূর করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইংরেজি ও আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করাই ছিল এই বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য।
২. পরিচিতি ও ক্যাম্পাসের পরিবেশ
- অবকাঠামো: প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের সাথে আধুনিক ভবন সমন্বয় করে গড়ে তোলা হয়েছে বিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস।
- খেলার মাঠ: শিক্ষার্থীদের শারীরিক বিকাশ ও খেলাধুলার জন্য বিদ্যালয়ের রয়েছে সুপরিসর নিজস্ব খেলার মাঠ।
- শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ: শান্ত ও অনুকূল পরিবেশের কারণে এটি শুরু থেকেই এ অঞ্চলের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দের অন্যতম বিদ্যাপীঠ।
৩. শিক্ষাক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম
ক) একাডেমিক বিভাগসমূহ
- বিজ্ঞান শাখা
- মানবিক শাখা
- ব্যবসায় শিক্ষা শাখা
খ) আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণাগার
- কম্পিউটার ও মাল্টিমিডিয়া ল্যাব: তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও কম্পিউটার ল্যাবের ব্যবস্থা রয়েছে।
- বিজ্ঞানাগার: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য পৃথক ও সুসজ্জিত ল্যাব রয়েছে।
- পাঠাগার: সমৃদ্ধ লাইব্রেরিতে দেশি-বিদেশি সাহিত্যের বই, বিশ্বকোষ ও সহায়ক গ্রন্থ রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাসে উদ্বুদ্ধ করে।
৪. সহশিক্ষা কার্যক্রম ও সামাজিক ভূমিকা
- স্কাউটিং ও রেড ক্রিসেন্ট: নিয়মিত বাংলাদেশ স্কাউটস ও রেড ক্রিসেন্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সেবামূলক মনোভঙ্গি ও নেতৃত্বগুণ শেখানো হয়।
- ক্রীড়া ও সংস্কৃতি: বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আন্তঃস্কুল ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা এবং আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে।
- জাতীয় দিবস উদযাপন: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও জাতীয় শোক দিবসসহ নানা জাতীয় ও বৈশ্বিক দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়।
৫. গৌরবোজ্জ্বল অবদান
দীর্ঘ দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় অতিক্রম করে আসা এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠ থেকে উত্তীর্ণ অগণিত শিক্ষার্থী পরবর্তীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা, সাহিত্য, রাজনীতি, প্রশাসন, চিকিৎসা ও প্রকৌশল অঙ্গনে এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তনীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক বহন করে কুমারখালী জে এন মাধ্যমিক বিদ্যালয় আজও কুষ্টিয়া তথা সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষা মানচিত্রে এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে বিদ্যমান।
কুমারখালী জে এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী পৌরসভার একটি বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ে সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এর কর্মসূচির বিস্তারিত নিচে দেয়া হল:
কুমারখালী জে এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড় মুজিব কর্মসূচির অনুষ্ঠান :
মফস্বলের শিশু-কিশোরদের বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে, ‘টিম সুফি ফারুক’ -এর উদ্যোগে কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্কুলে চলছে ‘পড় মুজিব’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। এই আয়োজনটি কুষ্টিয়াতে শুরু করার পর সামাজিক গণমাধ্যমের কল্যাণে সারা দেশে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। এখন দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন হচ্ছে।
তারই অংশ হিসাবে এবার কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার কুমারখালী জে এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড় মুজিব কর্মসূচি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পড় মুজিব কর্মসূচি মূলত বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অবলম্বনে তৈরি মুজিব গ্রাফিক নভেল এর সাথে পরিচিতি অনুষ্ঠান। বঙ্গবন্ধুর ৯৫তম জন্মবার্ষিকীতে তার দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক’র উদ্যোগে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) প্রকাশ করেছিল এই বইটি। ২৪ পাতার এই বইয়ের শিরোনাম ‘মুজিব’। এটিকে দেশের প্রথম জীবনী ভিত্তিক ‘গ্রাফিক নভেল’ বলা যায়।
‘পড় মুজিব’ অনুষ্ঠানে প্রথমে শিক্ষার্থীদের নভেলটি পড়ে শোনানো বা প্রজেক্টরে দেখানো হয়। এরপর বই এর মধ্যে থেকে কুইজ আকারে প্রশ্ন করা হয়। কুইজের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে, উপহার হিসেবে তুলে দেয়া হয় ‘মুজিব গ্রাফিক নভেল’ এর কপি।
শিক্ষকদের আন্তরিকতা আর শিক্ষার্থীদের উৎসাহে প্রতিটি অনুষ্ঠান হয় দারুণ প্রাণবন্ত। এসব অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। টিম সুফি ফারুক এর পক্ষ থেকে আয়োজনে উৎসাহ দেয়া হয় এবং উপহার দেবার জন্য গ্রাফিক নভেল সরবরাহ করে।
কুমারখালী জে এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হিসেবে কাজ করেছিলো। তাই তাকে না জেনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করা সম্ভব নয়। বর্তমান প্রজন্মের সকলকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জানতে আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে এই বইটি সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি। আর এমন একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে আমি গর্ব অনুভব করছি।
পড় মুজিব কর্মসূচি সম্পর্কে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরামের সভাপতি সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর জানান, পড় মুজিব কর্মসূচি মূলতঃ মফস্বলের শিশু-কিশোরসহ সারা দেশের মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ তুলে ধরা। যাতে করে বর্তমান প্রজন্মের শিশু কিশোররা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলেবেলা সম্পর্কে জানতে পারে। শুধু শিশু কিশোর নয় বর্তমান প্রজন্মের সকলেরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ সম্পর্কে জানা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। তাই এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। ‘টিম সুফি ফারুক’ এ কর্মসূচিকে সফল করতে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

[ কুমারখালী জে এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড় মুজিব কর্মসূচির অনুষ্ঠান ]
আরও পড়ুন:
