নোট

মওদুদীর দেখানো পথে আযমী । জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি

মওদুদীর দেখানো পথে আযমী

মওদুদীর দেখানো পথে আযমী : জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আবু আ’লা মওদুদী পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরোধী ছিল। দেশবিভাগের পরে যখন দেখে স্বাধীন ভারতে খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না তখন পাকিস্তানের পাড়ি জমায়। যেদেশের জন্মে বিরোধী ছিল সেদেশে সহজে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া তার জন্য অনেক কঠিন হয়ে যায়। নানা ইস্যু নিয়ে নিয়ে অনেক চেষ্টার পরে মওদুদী ১৯৫৩ সালে ‘কাদিয়ানী সমস্যা’ নামে একটি বই লিখে কাদিয়ানী বা আহমদিয়া সম্প্রদায়কে অমুসলিম প্রমাণ করেন। ফলে ইতিহাসখ্যাত বড় রকমের কাদিয়ানী বিরোধী হাঙ্গামার সৃষ্টি হয়। জামায়াত কর্মীরা ওই দাঙ্গায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে।

মওদুদীর দেখানো পথে আযমী

মওদুদীর দেখানো পথে আযমী

মওদুদী তার বিভিন্ন লেখা ও বিবৃতির মাধ্যমে দাঙ্গার আগুন আরও বাড়িয়ে দেন। অনেক মানুষ ঐ সময় সংঘর্ষে মারা যায়,ফলে সামরিক শাসন জারী হয় এরপর পাকিস্তান সামরিক আদালত মওদুদীকে উসকানির অভিযোগে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল। মওদুদী সৌদি বাদশার চাপে মুক্তি পায়। সেই সাথে পেয়ে যায় পাকিস্তানের উগ্রসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা।

মওদুদীর সেই দেখানো পথে ৬২ বছর পরে হাঁটছে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের চতুর্থ ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আযমী। আজমী বেছে নিয়েছে বাঙালির প্রাণের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। গোলামপুত্র আযমী তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রথম শাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতা করে। উস্কে দেয় সাম্প্রদায়িকতাকে। এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতা করে লেখা লিফলেট বিতরণ করতে গিয়ে আজ ধরা পড়েছে ৯জন কট্টরপন্থী। লিফলেটে লেখা ছিল ‘সাবধান! সিরাজগঞ্জ জেলার উপর আল্লাহর গযব নামার আগেই সতর্ক হোন।’ আগামী ৮ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রবীন্দ্রনাথের নামে প্রস্তাবিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করার কথা রয়েছে।

SufiFaruq.com Logo 252x68 2 মওদুদীর দেখানো পথে আযমী । জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি

১৯৬৭ সালের জুনে পাক-পবিত্র পাকিস্তানের তৎকালীন তথ্য ও বেতার মন্ত্রী আইন করে রেডিও ও টেলিভিশনে রবীন্দ্র সংগীত প্রচার নিষিদ্ধ করেছিল। তারপরেও এ দেশের মাটি থেকে রবীন্দ্রনাথকে নির্বাসন দেওয়া যায়নি। সামরিক সরকারকে বুড়োআঙুল দেখিয়ে চলেছে এ দেশে রবীন্দ্র চর্চা।

যারা বাঙালির রাজনৈতিক চরিত্র সম্পর্কে টুকটাক খোঁজ খবর রাখে তারা খুব ভালো করেই রবীন্দ্র নাথের বিরোধিতা করা মানেই সাম্প্রদায়িক শক্তির চোখের মনি হয়ে যাওয়া যায়। এই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে জামাত পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে, ব্যারিস্টার রাজ্জাককে আমীর আর আযমীকে সেক্রেটারি জেনারেল করে দলের পূর্ণগঠনকে এগিয়ে নিবে। আযমীর সাম্প্রদায়িক উসকানির আগুন ফেসবুকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে মন্দ হত না। কিন্তু তা আজ ছড়িয়েছে লিফলেট পর্যন্ত। মওদুদী’র উগ্রসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য রক্ত ঝরেছে সহস্র কাদিয়ানী বা আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের। জানি না আযমীর জন্য কি হবে?

SufiFaruq.com Logo 252x68 3 মওদুদীর দেখানো পথে আযমী । জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি

তবে আশার কথা, পাকিস্তানে যা সম্ভব হয়েছে বা হবে বাংলাদেশে তা সম্ভব না। গত ৬২ বছরে উগ্রসাম্পদায়ীকতার বিষে পাকিস্তান পুরো ব্যর্থরাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দেশ বাংলাদেশ আর্থসামাজিক খাতে বিস্ময়কর ভাবে এগিয়ে গেছে। তারপরেও এরকম সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক প্রচেষ্টা শুরুতেই প্রতিহত করা জরুরী।

শেয়ার করুন: Facebook X WhatsApp LinkedIn

প্রেস ডেস্ক, সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এর অফিস

সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এর নিজের সকল লেখা, শুভেচ্ছা, স্মরণ ইত্যাদি এই ডেস্ক থেকে প্রকাশিত হয়।

Leave a Reply

সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ। ইতিহাস, রাজনীতি, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন নিয়ে লেখালেখি।

যোগাযোগ

কুমারখালী বাস স্ট্যান্ড, দুর্গাপুর, কুমারখালী।
+৮৮০ (১৭) ৬৩০৩৮,৬৩০৩৯।contact@sufifaruq.com

© ২০২৬ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।