নোট

অভিনন্দন কৃষ্ণা দেবনাথ !

অভিনন্দন কৃষ্ণা দেবনাথ !

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রায় পঞ্চান্ন বছরের ইতিহাসে যুক্ত হয়েছিল এক গৌরবময় ও অভূতপূর্ব অধ্যায়। প্রথম কোনো সনাতন হিন্দু নারী হিসেবে বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ আসনেই (সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ) নিযুক্ত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট বিভাগ) অত্যন্ত সুনাম, সততা ও প্রজ্ঞার সাথে বিচারকার্য পরিচালনা করার পর তিনি বিচার বিভাগের এই শীর্ষ পদে অভিষিক্ত হন।

বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ কেবল একটি পদের নাম নন; তিনি বাংলার লাখো-কোটি নারীর অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর মেধা ও অপ্রতিরোধ্য সামর্থ্যের এক জীবন্ত প্রতীক। তিনি প্রমাণ করেছেন যে যোগ্যতার কোনো বিকল্প নেই। তাঁর এই ঐতিহাসিক অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়া প্রতিজন নারীর অধিকার ও আত্মমর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

 

অভিনন্দন কৃষ্ণা দেবনাথ !

 

একটি রাষ্ট্র তখনই প্রকৃত ‘ফাংশনাল ডেমোক্রেসি’ (Functional Democracy) বা কার্যকর গণতন্ত্র হিসেবে গড়ে ওঠে, যখন সেখানে ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ কিংবা জাত-পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল মানুষের মেধা, নিষ্ঠা ও যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন হয়।সংকীর্ণতা ও বৈষম্যের দেয়াল ভেঙে বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের শীর্ষ বিচারালয়ে এই পদার্পণ সেই সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও মেধাভিত্তিক সমাজেরই এক অনন্য প্রতিফলন। রাষ্ট্র যখন কোনো নাগরিককে তাঁর লিঙ্গ বা ধর্মীয় পরিচয়ে না দেখে কেবল মেধার যোগ্যতায় মূল্যায়ন করে, তখনই গণতন্ত্র লাভ করে পূর্ণাঙ্গ রূপ।

 

 

অভিনন্দন কৃষ্ণা দেবনাথ

বাঙালি নারীর প্রকৃত সামর্থ্য ও যোগ্যতাকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার পেছনে দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রতিকূল সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং নানা চড়াই-উৎরাই পার হয়ে দেশে নারী ক্ষমতায়নের যে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়েছে, তার ফলেই আজ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদে নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি দেখা যায়।
একসময় যেসব পেশা বা পদকে নারীর জন্য অসম্ভব ভাবা হতো, সময়ের ব্যবধানে সেই চিন্তাধারায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। আজ বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে—
  • স্পিকার ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব,
  • সুপ্রিম কোর্টের উচ্চ ও আপিল বিভাগের বিচারপতি,
  • সেনাবাহিনীতে নারী জেনারেল ও সামরিক নেতৃত্ব,
  • বিমান বাহিনীতে ফাইটার পাইলট, এবং
  • সিভিল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ নীতি-নির্ধারণী পদ।
চারপাশের নানা পশ্চাৎপদতা ও সামাজিক বাধা-বিপত্তির মাঝেও এটি প্রমাণ করে যে সুযোগ ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশের নারী সমাজ যেকোনো চ্যালেঞ্জ জয় করতে সক্ষম।
অভিনন্দন কৃষ্ণা দেবনাথ !
বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের এই ঐতিহাসিক পথচলা দেশের কোটি তরুণী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এক আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে। তিনি দেখিয়েছেন যে একাগ্রতা ও সততা থাকলে সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।
বাংলাদেশের প্রতিজন নারীর সুপ্ত সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটুক। ধর্মান্ধতা, বৈষম্য ও সামাজিক শৃঙ্খল ভেঙে যোগ্যতার জোরে প্রতিটি নারী পৌঁছে যাক সফলতার সর্বোচ্চ চূড়ায়।
অভিনন্দন ও বিনম্র শ্রদ্ধা বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ!

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

 

#বিচারপতিকৃষ্ণাদে
#শেখহাসিনা

শেয়ার করুন: Facebook X WhatsApp LinkedIn

প্রেস ডেস্ক, সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এর অফিস

সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এর নিজের সকল লেখা, শুভেচ্ছা, স্মরণ ইত্যাদি এই ডেস্ক থেকে প্রকাশিত হয়।

Leave a Reply

সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ। ইতিহাস, রাজনীতি, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন নিয়ে লেখালেখি।

যোগাযোগ

কুমারখালী বাস স্ট্যান্ড, দুর্গাপুর, কুমারখালী।
+৮৮০ (১৭) ৬৩০৩৮,৬৩০৩৯।contact@sufifaruq.com

© ২০২৬ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।