পটের বিবি থেকে POT এর বিবি– শচীন ভৌমিক

[ পটের বিবি থেকে POT এর বিবি ] : ছাত্র বয়সে কোলকাতার ফুটপাথ থেকে পুরনো ‘লাইফ’ পত্রিকা কিনে ‘মোনা লিসার’ ছবি কেটে বাঁধিয়েছিলাম। স্বর্গীয় হাসি নিয়ে মেয়েটির অপূর্ব ছবি শুধু দা ভিঞ্চির নয় পশ্চিমী সংস্কৃতির নিদর্শন ধরে নিয়েছিলাম। সে মোনা লিসা তখন সদ্য যৌবনা প্রতিটি মেয়েতে খুঁজেছি,জীবনানন্দ দাশ মেরে একটি মেয়েকে চাটুকারিতায় অন্ধ হয়ে লিখেওছিলাম।
‘চুল তব কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা
হাসি তব দাভিঞ্চির মৃত্যুঞ্জয়ী মোনা লিসা’

পটের বিবি থেকে POT এর বিবি– শচীন ভৌমিক - ফর এডাল্টস্ ওনলি - শচিন ভৌমিক | For Adults Only - by Sachin Bhowmik
ফর এডাল্টস্ ওনলি – শচিন ভৌমিক

ভাবুন ছবিটা আমাকে কি রকম অভিভূত করেছিল। ‘মোনা লিসা’ ছিল আমার মানসপ্রতিমা, আমার পটের বিবি। আর আজ? মে জুন মাসে ইউরোপ ও আমেরিকার সফর শেষ করে ফিরেছি। সঙ্গে এনেছি ওদেশের জনপ্রিয়. (লক্ষাধিক বিক্রি) একটি বিরাটাকার পোস্টারচিত্র। ছবিটি হল একটি মেয়ে নগ্ন অবস্থায় কমোডে বসে তার প্রতঃকৃত সারছে। হ্যাঁ স্যার, মোনা লিসা ছিল একটি মেয়ে হাসছে, আর এ ছবি হল একটি মেয়ে হাগছে! পশ্চিমী সভ্যতা সংস্কৃতির ১৯৭৫-এর চুড়ান্ত নিদর্শন। ‘কমোড’কে ‘পট’ও বলা হয় Pot।চালু ভাষায় মেয়েটি Pot-এ বসে তার দৈনন্দিন অতি প্রয়োজনীয় কর্মটি নির্লজ্জভাবে করছে।

এ যুগধর্মের প্রতীক হল আজকের এই Pot-এর বিবি? হাসবেন না। পশ্চিমী সভ্যতার অধঃপতনের ইতিহাস এক লাইনে হল এই –পটের বিবি থেকে Pot-এর বিবিতে অবতরণ, স্বর্গ থেকে নরকে অবতরণ, অমল শুভ্রের সুষমা থেকে মলমূত্রের গ্লানিমায় অবতরণ, চাঁদ থেকে ক্লেদে অবতরণ। ইউরোপের ও আমেরিকার বড় বড় শহরে প্রচুর পোস্টার দেখেছি নানা ভঙ্গীমায় মলমূত্র ত্যাগে ব্যস্ত মেয়েরা, ছেলেদের সঙ্গে এক প্রস্রাবাগারে দণ্ডায়মান পুরুষদের সঙ্গে, মূত্রত্যাগ করছে।

দণ্ডায়মানা এক সুন্দরী নারী (নীচে লেখা-WOMANS LIB মানে নারী স্বাধীনতা প্রতীক!) সর্বত্র নানাবিধ রূপে দেহজ অপচয় নিষ্কাষণে ব্যস্ত মেয়েদের বিভিন্ন ছবির ঢের লেগে আছে ও অনুসন্ধানে জেনেছি এগুলোর বিক্রি আকাশচুম্বী, কেননা যুগের ‘টেস্ট’ নাকি এখন এই সব ছবি। লেটেস্ট ফ্যাড্! তার মানে পশ্চিমী যুগের মানসপ্রতিমা হল এই Pot-এর বিবি। যে যুগে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন-

‘পশ্চিম আজি খুলিয়াছে দ্বার
সেথা হতে সব আনো উপহার।’

সে যুগ আর নেই। বুদ্ধির ও হৃদয়ের খোলাদ্বার থেকে তখন অনেক উপহারই আমাদের গ্রহণ করতে হয়েছে, করে ধন্য হয়েছি। আমাদের জীবনকে উন্নত করেছে, বুদ্ধিকে প্রকাশিত করেছে, মনকে জাগ্রত করেছে। আর এখন ? বলা উচিত-

পশ্চিমী আজি খুলিয়াছে বাথরুম দ্বার।
সেথা হতে সব আনো নোংরা পোস্টার।

ভাবুন ওরাই আমাদের স্যানিটরী বিজ্ঞান শিখিয়েছে,ওরাই অতি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর অপচয় বর্জন ক্ষেত্রকে সভ্য ও রুচিসম্মত নামকরণ করেছে Toilet, Rest Room, Gents ও Ladis, Bathroom ইত্যাদি। আর আজকাল স্থুলভাবে তার প্রদর্শনী করে চলেছে। আজকাল অনেক নাইটক্লাবে স্থুল নামকরণও করেছে ওরা এই বর্জন-কুঠুরীর। যেমন HE PEE ROOM, SHE PEE ROOM,, THOSE WHO DOES IT STANDING ও THOSE WHO DOES IT SITTING আর, দুটো জায়গায়-ছেলেমেয়েদের একটাই বাথরুম নাম LOO FOR BOTH SEXES। সবচেয়ে সর্বজনীন কৌতুককর নাম হল, POTTY-BAREIT AND SHARE IT এসব সব হল নারীপুরুষ ভেদাভেদ হীনতার চুড়ান্ত উদাহরণ। সত্যি এরপর আর কোন নরকে নামবে ওরা বলতে পারেন?

পর্নোগ্রাফী আইনসিদ্ধ করেছে ওরা অনেকদিন। ডেনমার্ক থেকে শুরু করে সারা ইউরোপে আমেরিকায় কোথাও এখন অশ্লীল ছবি ও সাহিত্য নিষিদ্ধ নয়। আমাদের প্রাচীন সংস্কৃতিতেও বাস্যায়ন যৌনবিজ্ঞানের অনেক চর্চা করেছেন, খজুরাহো কোনারকে মিথুনকর্মের নানা ভঙ্গির প্রস্তুরশিল্প রয়েছে (ফেলাশিও, কানিলিংগাস, সোডোমি কিছুই বাদ নেই তাতে) এ সবকিছুই শিল্পসম্মত মানতে রাজী আছি-এ রসের নাম আদিরস। কিন্তু বলুন তো শিল্পসাহিত্যে কোথাও আপনি কি মলমূত্র ত্যাগের কোন নজির দেখেছেন?

বর্জনপ্রক্রিয়াও কি কোন রসের অন্তর্গত? মোটেই না। ঐ এক বস্তু এখনও আমাদের একমাত্র লজ্জাকর ও গোপনীয় বস্তু। নায্য কারনেই, শিশু ও ডাক্তার ছাড়া এ নিয়ে আমরা আলোচনা করি না। কেননা এ বস্তু স্বাস্থ্যকর নিশ্চয়ই তবে রুচিকর নয়। প্রয়োজনীয় বটে, তবে প্রচার যোগ্য নয়। বাঙালী মেয়েদের সংস্কৃতি এত ভালো যে ব্লাডার ফেটে গেলেও সে মুখ ফুটে বলবে না যে তার কোন গোপনীয় প্রয়োজন রয়েছে। এটাইতো কালচার। ছোটবেলায় মেয়েবহুল পরিবারে মানুষ হয়ে কোনদিন আমি জানতেই পারতাম না যে কখন ওরা ছোট বাথরুম বা বড় বাথরুম করতে যেতো বা কবে ওদের ঋতু হতো।

সেজন্য আজ আমি গর্বিত বোধ করছি। এটাই রুচিসম্মত, এটাই সভ্য। ছোট বেলায় অতিরোমান্তিকতায় নারী মাত্রই মনে হতো দেবী। আর দেবীরা কখনও কি সাধারণ মানুষদের মতো মলমূত্র ত্যাগ করতে পারেন? ছিঃ ভাবতেই পারতাম না। স্বপ্নসুন্দরীরা, স্বর্গের দেবীরা এসবের উর্ধ্বে, ওরা পবিত্রতার গঙ্গাওদের এইসব স্থুল মানবিক প্রয়োজনীয়তা থাকতেই পারে না, এই ছিল আমার বদ্ধমূল ধারণা। আজকের পশ্চিমী সভ্যতা এইসব সুন্দর পবিত্র বয়ঃসন্ধিত রোমান্তিকতায় মূলে কুঠারাঘাত করেছে। ওরা শৈশব কৈশোর সব হারিয়েছে। দেহসর্বস্ব সুখের ক্লিনিক্যাল বস্তুতান্ত্রিকতায় অনুভুতির সৌকুমার্ষকে হত্যা করা হয়েছে।

শরীর সুখী সভ্যতা আজ শরীরের সুখ খুঁজতে খুঁজতে বেডরুম হয়ে বাথরুম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। রিয়ালিটি শিল্প নয়। জীবন সাহিত্য নয়। শিল্প হচ্ছে সুন্দরতার চয়ন, জীবনের ত্রিস্তর দর্পণ নয়। শতদলের পরিচয় তার পঙ্কিল জন্মস্থান নয়, তার প্রস্ফুটিত রূপলাবণ্যে, তার নির্মল নৈবেদ্য।

আসলে ওরা সুখই খুঁজেছে, সুখের খোঁজে অন্ধের মতো ওরা অসুখের কলুষতাকেই আঁকড়ে ধরতে চাইছে। কারণ ওরা জীবনকে দ্রুতলয়ে বেঁধে ফেলেছে। দ্রুত আনন্দের মোহে ওরা আজ দিশেহারা। রবিশংকর একবার বলেছিলেন আমেরিকানদের পক্ষে গভীর কোন শিল্প আয়ত্ত করা শক্ত। কেননা Instant coffeeর মতো ওরা সবক্ছিু Instent পেতে চায়। সেতার শিখতে এসে ভাবে ছ’দিনে শিখে ফেলবে। যখন বোঝে তা সম্ভব নয় তখন ধৈর্য হারায়। অধ্যবসায় নেই ওদের। ফলে সব জিনিস fad ওদের কাছে। দীর্ঘ-স্থায়ী নয়। সত্যি কথা। দ্রুতগামী যুগে জীবন কাটানো যায়, উপভোগ করা যায় না।

সুখটা জীবনের বড় কথা নয়। সুখের চেয়ে শান্তি অনেক বড়। আর শান্তি হল একটা state of mind, শান্তি বাজারে ডলার পাউণ্ড ফ্রাঁ দিয়ে কিনতে পাওয়া যায় না। কথায় আছে আপনি টাকায় দামী পালংক কিনতে পারেন কিন্তু ঘুম কিনতে পারেন না। টাকা দিয়ে রেকর্ড ক্যাসেড ষ্টিরিও কিনতে পারেন, আনন্দ কিনতে পারেন না। টাকা দিয়ে তিলোত্তমা নারী কিনতে পারেন কিন্তু প্রেম পারেন না। টাকা দিয়ে চর্ব-চোষ্য লেহ্য পেয় কিনতে পারেন, কিন্তু ক্ষিধে কিনতে পারেন না। মানে অর্থ দিয়ে সুখ কিনতে পারেন, শান্তি কিনতে পারেন না। অর্থ দিয়ে পরমার্থ কেনা যায় না।

মনের বিকাশ থেকে অধ্যাত্ম জগতে যে উত্তরণ, যে উচ্চমার্গে সচ্চিদানন্দের সাক্ষাৎ পাওয়া যায় সে ঐতিহ্য শুধু ভারতবর্ষের নন্দনতত্ত্বে রয়েছে। আজকে পশ্চিমকে তাই এদেশে খুঁজতে হবে সেই সম্পদের জন্য, সেই ঐশ্বর্যের জন্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নরকাগ্নি দেখে রবীন্দ্রনাথ সে কথা বলেছিলেন। উনি বলেছিলেন পূর্ব দিগন্তে সূর্য ওঠে, সেই সূর্যোদয়ের দেশ থেকেই শান্তির বার্তা গ্রহণ করতে হবে অস্তগামী সূর্যের দেশ পশ্চিমকে। ত্রিস্টোফার ইশারউড, আলডুস হ্যাক্সলী, রোমাঁ রলাঁ, ম্যাক্সমূলার এই সব মনীষীরা অনেক আগেই এ তথ্য বুঝতে পেরেছিলেন। ম্যাক্স-মূলারের বিখ্যাত সে লাইন ক’টি অমর হয়ে আছে।

উনি বলেছিলেন –If I were asked under what sky the human mind has most fully developed some of its choicest gifts, has most deeply pondered on the greatest problems of life and has found solutions of some of them which will deserve attention even of those who havestudied plato and kant-I should point to India.

মুগ্ধ হয়ে যেতে হয় একথা ভেবে যে আজ থেকে তিরানব্বুই বছর আগে প্রখ্যাত জার্মান মনীষী এ কথা বলেছিলেন। উনি ভারতের মর্মবাণী বুঝে পশ্চিম জগতের জন্য খুবই মহৎকর্ম করে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে ছেলেকে লেখা চিঠিতে উনি লিখেছিলেন –I have laid foundation that will last, and though people dont see the blocks buried in a river, it is on these unseen blocks that bridge rests, সেতুবন্ধন করেছিলেন দুই সংস্কৃতির মধ্যে। ভারতের অন্তরাত্মা ভারতের দর্শনের উচ্চমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে নিয়েছিলেন।

আজ Pot-এর বিবি সভ্যতার বেনোজলে ওরা শান্তির গঙ্গা খুঁজে পাচ্ছে না। রিপুর খাঁচায় কোনদিন শান্তির পাখিকে ধরা যায় না। অসহায় হয়ে কিছু কিছু লোক পূব দিকে তাকাতে শুরু করেছে। শরীরের অপচয়ে শান্তির উপচার যে নেই সে কথা কিছু লোক বুঝতে পারছে। তবে দুঃখের বিষয় সে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এদেশের অনেক ভক্তরা সাধু, মহারাজ, গুরু সেজে ওদেশে গিয়ে ভগবানের ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। অতীন্দ্রিয় শান্তির নামে এঁরা ওখানে গিয়ে ত্বরিৎ শান্তি বিতরণের দোকান খুলে বসেছে এইসব ঠগদের জন্য ভারতবর্ষের গৌরবময় মানস প্রতিমা কলঙ্কিত হচ্ছে।

যুগধর্মের এই corruption বন্ধ করা সম্ভব হলে করা উচিত। ঐতিহ্য ও সভ্যতার অবমাননা সহ্য করার মানে হয় না। Pot-এর বিবির রুগ্ন সভ্যতার আরোগ্য এইসব কপট ‘বাবা’দের হাতে নয়। দেহতীত শান্তির ঠিকান দেওয়া ভুয়ো ব্যবসায়ী ভক্তদের সাধ্যাতীত। কিন্তু সর্বপ্রথমে আমাদের ঘর আগে ঠিক করতে হবে। পশ্চিম থেকে জিনিস স্মাগলিং বন্ধ করলেই হবে না। বিজ্ঞান ওদের কাছ থেকে গ্রহণ করতে রাজি আছি, কিন্তু অজ্ঞান নয়। আমাদের ঐতিহ্যময় মহৎ সাংস্কৃতিক শক্তিকে নতুন করে জানতে হবে আমাদের, চিনতে হবে, শিখতে হবে।

আত্মার মোক্ষ যে জ্ঞানে, যা আমাদের পরমার্থ, যা আমাদের বিধাতা তাকে চিনতে হবে। ওদের বিজ্ঞান আমাদের বিধাতা এই দুয়ের সঙ্গমের যে প্রয়োগ, সে প্রয়াগে অবগাহন করতে পারলেই আজ বিশ্বমানব-সমাজের গ্লানি মুক্ত হওয়া সম্ভব? সেই মুক্তি স্নানেই বিশ্বের পাপ-মুক্তি সম্ভব। এ প্রয়াগেই রয়েছে মানবমনের শান্তির জল, মানব-জীবনের সার্থকতার মূল্যায়ন। সেজন্যে আমাদের নিজেদের প্রার্থনা হওয়া উচিত রবীন্দ্রনাথের ভাষায়—

চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,
জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর

আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী
বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি,

যেথা বাক্য হৃদয়ের উৎসমুখ হতে
উচ্ছ্বসিয়া উঠে, যেথা নির্বারিত স্রোতে

দেশে দেশে দিশে দিশে কর্মধারা ধায়
অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়,

যেথা তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশি
বিচারের স্রোতঃপথ ফেলে নাই গ্রাসি,

পৌরুষেরে করে নি শতধা, নিত্য যেথা
তুমি সর্ব কর্ম চিন্তা আনন্দের নেতা,

নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি, পিতঃ;
ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত॥

ভারতকে সেই স্বর্গ হতে হবে। তখন পশ্চিম ওদের নরক থেকে এই স্বর্গের দিকে হাত বাড়াব। কামনা করি উদয় দিগন্তের মতো এবার আমাদের হৃদয় দিগন্তে সূর্য উঠুক। সে সূর্য পশ্চিম দিগন্তকেও আলোকিত করে তুলুক। পৃথিবীতে আজ অমাবস্যার গহন রাত্রি। আলোর বড় প্রযোজন। সূর্য উঠুক, রাত কাটুক। Lead kindly light পূর্বকে আজ অভূতপূর্ব হতে হবে। পূর্বকে আজ গর্ব হয়ে উঠতে হবে। জাগতে হবে, আর জাগাতে হবে। ‘সকল দেশের সেরা আমার জন্মভুমি’-একথা প্রমাণ করতে হবে। প্রচার করতে হবে।

[ পটের বিবি থেকে POT এর বিবি– শচীন ভৌমিক ]

শচীন ভৌমিক কে আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন