সঙ্গীতের বিশাল ভুবনে সুরের যে বুনন, তার মূল ভিত্তি হলো সপ্তক। সহজ কথায়, ‘সপ্তক’ শব্দের অর্থ সাত। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পরিভাষায়, নির্দিষ্ট সাতটি শুদ্ধ স্বরের সমষ্টিকেই সপ্তক বলা হয়। তবে এই সাতটি মূল স্বরের আড়ালে লুকিয়ে থাকে আরও পাঁচটি স্বর, যা সপ্তককে পূর্ণতা দেয়।

সপ্তকের গঠন ও স্বর বিন্যাস
একটি সপ্তক মূলত সাতটি শুদ্ধ স্বর (সা, রে, গা, মা, পা, ধা, নি) নিয়ে গঠিত। কিন্তু সঙ্গীতের গাণিতিক হিসেবে এই সাতটি স্বরের আশেপাশে আরও ৫টি স্বর থাকে:
৪টি কোমল স্বর: রে, গা, ধা, নি
১টি কড়ি স্বর: মা
সুতরাং, ৭টি শুদ্ধ এবং ৫টি বিকৃত (কোমল ও কড়ি) স্বর মিলিয়ে মোট ১২টি স্বরের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সপ্তক গঠিত হয়। পশ্চিমা সঙ্গীতে একেই ‘Octave’ বলা হয়।
সপ্তকের প্রকারভেদ
সাধারণত প্রচলিত গান-বাজনায় বা হারমোনিয়ামে আমরা ৩টি সপ্তকের ব্যবহার দেখতে পাই। স্বরের উচ্চতা বা গাম্ভীর্যের ওপর ভিত্তি করে এগুলোকে ভাগ করা হয়েছে:
১. মন্দ্র সপ্তক (Lower Octave): এটি সপ্তকের সবচেয়ে নিচের বা খাদের অংশ। এর স্বরগুলো অত্যন্ত গম্ভীর এবং ভারী হয়। স্বরলিপিতে চেনার উপায় হলো স্বরের নিচে একটি বিন্দু (যেমন: স়)।
২. মধ্য সপ্তক (Middle Octave): এটি সাধারণ গায়কী বা বাজনার প্রধান ক্ষেত্র। এর স্বরগুলো স্বাভাবিক উচ্চতায় থাকে। স্বরলিপিতে এর কোনো বাড়তি চিহ্ন থাকে না।
৩. তার সপ্তক (Upper Octave): এটি উচ্চগ্রামের বা চড়া সপ্তক। এর স্বরগুলো তীক্ষ্ণ এবং চঞ্চল হয়। স্বরলিপিতে স্বরের উপরে একটি বিন্দু দিয়ে এটি বোঝানো হয় (যেমন: সঁ)।
অতিরিক্ত সপ্তক
উন্নত মানের বা বড় আকারের বাদ্যযন্ত্রে (যেমন: সেতার, সরোদ বা পিয়ানো) এই ৩টি সপ্তকের বাইরে আরও দুটি সপ্তকের উপস্থিতি পাওয়া যায়:
অতি-মন্দ্র সপ্তক: মন্দ্র সপ্তকের চাইতেও নিচু বা গম্ভীর সুর।
অতি-তার সপ্তক: তার সপ্তকের চাইতেও চড়া বা তীক্ষ্ণ সুর।
তবে সাধারণ কণ্ঠসঙ্গীত বা প্রচলিত বাদ্যযন্ত্রে এই দুটি সপ্তকের প্রয়োগ খুবই সীমিত।
একনজরে সপ্তকের হিসাব
| সপ্তকের নাম | স্বরের প্রকৃতি | স্বরলিপিতে চিহ্ন |
| মন্দ্র | গম্ভীর ও ভারী | স্বরের নিচে বিন্দু ( . ) |
| মধ্য | স্বাভাবিক ও স্থিত | কোনো চিহ্ন নেই |
| তার | চড়া ও তীক্ষ্ণ | স্বরের উপরে বিন্দু ( ˙ ) |
সপ্তক বিষয়ে আরও পড়ুন:
