পেশা পরামর্শ উদ্যোগ

৭নং বাগুলাট ইউনিয়নের “শেখ পাড়া গ্রাম”, কুমারখালী উপজেলা, কুষ্টিয়া

শেখ পাড়া গ্রাম, বাগুলাট ইউনিয়ন, কুমারখালী, কুষ্টিয়া

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গড়াই নদীর পলিসমৃদ্ধ অববাহিকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জেলা কুষ্টিয়া। কুষ্টিয়া জেলার ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে গড়ে উঠেছে কুমারখালী উপজেলা, আর এই কুমারখালীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও কৃষিপ্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র হলো ৭নং বাগুলাট ইউনিয়ন। বাগুলাট ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামের মধ্যে শেখ পাড়া গ্রামটি অন্যতম এক জনপদ। সবুজ-শ্যামল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কৃষিভিত্তিক জীবনধারা এবং সুদৃঢ় সামাজিক মেলবন্ধনের এক অনন্য মিলনস্থল হলো এই গ্রাম।

শেখ পাড়া গ্রাম

ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা

শেখ পাড়া গ্রামটি প্রশাসনিকভাবে বাগুলাট ইউনিয়নের একটি স্বাধীন মৌজা ও গ্রাম হিসেবে পরিচিত। গ্রামটি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলে অবস্থান করছে।
  • প্রশাসনিক পরিচিতি: গ্রাম—শেখ পাড়া, মৌজা—শেখ পাড়া মৌজা, ইউনিয়ন—৭নং বাগুলাট, উপজেলা—কুমারখালী, জেলা—কুষ্টিয়া, বিভাগ—খুলনা।
  • ভৌগোলিক পরিবেশ: গড়াই নদীর অববাহিকায় পলিগঠিত সমতল ভূমিতে গ্রামটির অবস্থান। গ্রামটির চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে বাগুলাট ইউনিয়নের অন্যান্য প্রতিবেশী গ্রাম—যেমন নাতুড়িয়া, উদয় নাতুড়িয়া, ভড়ুয়াপাড়া, দক্ষিণ মনোহরপুর এবং মধুপুর। গ্রামের ভেতরের আঁকাবাঁকা মেঠোপথ, ছায়াঘেরা বাঁশঝাড়, আম-কাঁঠালের বাগান এবং বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ গ্রামটিকে এক অপরূপ রূপ দান করেছে।

জনসংখ্যা ও সামাজিক পরিবেশ

শেখ পাড়া গ্রামীণ পরিবেশের একটি নিবিড় সামাজিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয় তথ্য ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্কলন অনুযায়ী শেখ পাড়া গ্রামে প্রায় দেড় হাজারের বেশি মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
গ্রামের অধিবাসীদের মূল ধর্মীয় পরিচয় ইসলাম ও হিন্দু ধর্মের সম্প্রীতিভিত্তিক সহাবস্থান। এখানকার মানুষ পরম সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে একে অপরের সামাজিক উৎসব ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে থাকেন। প্রথাগত গ্রামীণ সমাজব্যবস্থার মতোই এখানে ‘পাড়া’ বা ‘মহল্লা’ ভিত্তিক সামাজিক বন্ধন অত্যন্ত সুদৃঢ়। শালিস-বৈঠক, পারস্পরিক সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতা এখানকার অধিবাসীদের প্রতিদিনের অভ্যাসের অংশ।

অর্থনীতি ও প্রধান পেশা

বাগুলাট ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রামের মতো শেখ পাড়ার বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকার মূল চালিকাশক্তি হলো কৃষি। পলিমাটি সমৃদ্ধ হওয়ায় এখানকার জমি অত্যন্ত উর্বর এবং বহুফসলি।
  • কৃষি উৎপাদন: ধান (আমন, বোরো), পাট, গম, আখ এবং বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন শাকসবজি এখানকার প্রধান উৎপাদিত ফসল। এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা, ড্রাগন ফ্রুট এবং ফলমূলের বাগান তৈরি করে স্থানীয় তরুণেরা আত্মকর্মসংস্থানের পথ বেছে নিচ্ছেন।
  • অন্যান্য পেশা: কৃষির বাইরে শেখ পাড়া গ্রামের একটি উল্লেখযোগ অংশ ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র কুটির শিল্প, ভ্যান ও থ্রি-উইলার পরিবহন পরিচালনা এবং গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি খামার ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত। এছাড়া গ্রামের নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ সরকারি-বেসরকারি চাকরি এবং দূরপ্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মরত থেকে রেমিট্যান্স প্রেরণের মাধ্যমে গ্রামের অর্থনৈতিক সচলতা বৃদ্ধি করছেন।
  • নারী উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থান: স্থানীয় সামাজিক উদ্যোগ ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির আওতায় শেখ পাড়া গ্রামে হস্তশিল্প, দর্জি প্রশিক্ষণ এবং হাঁস-মুরগি পালন ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী করার নানা প্রয়াস পরিচালিত হচ্ছে, যা পরিবারগুলোতে বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করছে।

শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

শেখ পাড়া গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়ানোর ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
  • প্রাথমিক শিক্ষা: শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার সুদৃঢ় ভিত তৈরির জন্য গ্রামে রয়েছে শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটি গ্রামের শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রথম পাঠশালা।
  • মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা: গ্রামে প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকলেও পাশের বাগুলাট, মধুপুর ও দুর্বাচারা এলাকার মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য যাতায়াত করে থাকেন।
  • ধর্মীয় শিক্ষা: ধর্মীয় নৈতিকতা ও প্রাথমিক আরবি শিক্ষার জন্য গ্রামে রয়েছে স্থানীয় জামে মসজিদ ও তৎসংলগ্ন ফোরকানিয়া মাদ্রাসা।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো

গত এক দশকে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে শেখ পাড়া গ্রামের সাথে উপজেলা সদর এবং জেলা শহরের যোগাযোগব্যবস্থা অনেকটাই সহজ ও উন্নত হয়েছে।
  • সড়ক পথ: গ্রামটি পাকা ও আধাপাকা গ্রামীণ সড়কের মাধ্যমে বাগুলাট ইউনিয়ন পরিষদ এবং কুমারখালী-কুষ্টিয়া প্রধান সংযোগ সড়কের সাথে যুক্ত। ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল এখানকার প্রধান অভ্যন্তরীণ বাহন।
  • বিদ্যুতায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি: গ্রামটির শতভাগ পরিবার বর্তমানে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের আওতাভুক্ত। স্মার্টফোন ও ফাইবার অপটিক/মোবাইল ইন্টারনেটের বিস্তারের ফলে গ্রামের নতুন প্রজন্ম ডিজিটাল সুবিধা গ্রহণ করতে পারছে এবং ফ্রিল্যান্সিংসহ তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগাচ্ছে।
কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ৭নং বাগুলাট ইউনিয়নের শেখ পাড়া গ্রামটি কেবল একটি সাধারণ ভৌগোলিক জনপদ নয়; এটি গ্রামীণ বাংলার শান্তি, সম্প্রীতি এবং উদীয়মান সম্ভাবনার এক প্রতিচ্ছবি। স্থানীয় কৃষিভিত্তিক সক্ষমতা, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রসারের আগ্রহ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানমুখী উদ্যোগের ওপর ভর করে শেখ পাড়া গ্রামটি একটি আধুনিক, সচ্ছল ও আদর্শ গ্রাম হিসেবে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।

 

শেখ পাড়া গ্রামে সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এর কার্যক্রম:

বাগুলাট ইউনিয়নের, শেখ পাড়া গ্রামে – সুফি ফারুক এর “পেশা পরামর্শ সভা”র আওতায় “ফ্রি দর্জি প্রশিক্ষণ” এর আরও একটি ব্যাচ উদ্বোধন।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সুফি ফারুক ইবনে আবুবকরের উদ্যোগে পরিচালিত “পেশা পরামর্শ সভা” কর্মসূচির আওতায় চলছে ফ্রি দর্জি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। এর ধারাবাহিকতায় কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামে নতুন করে আরেকটি প্রশিক্ষণ ব্যাচের উদ্বোধন করা হয়েছে।

সুফি ফারুকের বক্তব্য

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং কর্মসূচির উদ্যোক্তা সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন—

“আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং আমার মায়ের উৎসাহে এ উদ্যোগে হাত দিয়েছি। ক্ষুদ্র সামর্থ্যের মধ্যে নিজ উদ্যোগে এ কাজ করছি। তবে এরকম বহু কাজ করছে আমাদের সরকার। শেখ হাসিনার সরকার নারী বান্ধব নীতিতে বিশ্বাসী। তাই নারীদের স্বাবলম্বী করতে প্রকল্পভিত্তিক নানা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে সরকার। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে তবে একদিন নারীদের আর কারও মুখাপেক্ষী হতে হবে না।”

তিনি আরও বলেন,

“জননেত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূলের নারীদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। জনগণের ভালোবাসা পেতে হলে উন্নয়নমূলক কাজে এগিয়ে আসতে হবে। দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না—এটাই শেখ হাসিনার রাজনীতি। আওয়ামী লীগ জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে না; বরং জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের রাজনীতিই করে। তাই উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।”

প্রশিক্ষকের অভিজ্ঞতা

প্রশিক্ষক আশরাফুন্নাহার শিল্পী জানান—

“আমরা ইতিমধ্যেই বহু টিমের প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করেছি। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা শুধু পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে নয়, বরং নিজের আয়-রোজগারের উপায় হিসেবেও এই দক্ষতা কাজে লাগাতে পারবে। ১ থেকে ৩ মাসের প্রশিক্ষণে তারা কাপড়ের মাপ নেওয়া, প্যাটার্ন কাটিং, সেলাই ইত্যাদি শিখে প্রায় ২৫টি আইটেম তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে। সুফি ফারুক ভাইয়ের এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর মা-বোনদের স্বাবলম্বী হওয়ার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।”

কৃতজ্ঞতা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীরা এমন উদ্যোগ নেয়ার জন্য কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং পেশা পরামর্শ সভার পৃষ্ঠপোষক সুফি ফারুক ইবনে আবুবকরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

 

বাগুলাট ইউনিয়নের [ Bagulat Union ] শেখ পাড়া গ্রামে [ Sheikh Para Village ] সুফি ফারুক-এর পেশা পরামর্শ সভার ফ্রি দর্জি প্রশিক্ষণের আরও একটি ব্যাচ উদ্বোধন
বাগুলাট ইউনিয়নের শেখ পাড়া গ্রামে সুফি ফারুক-এর পেশা পরামর্শ সভার ফ্রি দর্জি প্রশিক্ষণের আরও একটি ব্যাচ উদ্বোধন

 

 

শেয়ার করুন: Facebook X WhatsApp LinkedIn

কর্মসংস্থান পরামর্শ ডেস্ক, সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এর অফিস

কুমারখালী, কুষ্টিয়ার মানুষের পাশে থেকে ইতিহাস, রাজনীতি, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন নিয়ে লেখালেখি।

সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ। ইতিহাস, রাজনীতি, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন নিয়ে লেখালেখি।

যোগাযোগ

কুমারখালী বাস স্ট্যান্ড, দুর্গাপুর, কুমারখালী।
+৮৮০ (১৭) ৬৩০৩৮,৬৩০৩৯।contact@sufifaruq.com

© ২০২৬ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।