অনেক সময় আমরা মুসলিম নামের শেষে (রা. / রহ. / হা. / দা.বা. / মা.জি.আ.) ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করতে দেখি। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এগুলো আসলে কী? এগুলো কি কোনো টাইটেল বা ডিগ্রি? শুধু আলেমে দ্বীনের জন্য কি প্রযোজ্য? নাকি সাধারণ মুসলমানদের নামের সাথেও ব্যবহার করা যাবে?
এগুলো কোনো পদবি, ডিগ্রি বা উপাধি নয়। এগুলো প্রতিটিই এক একটি দুয়া (প্রার্থনা)। এই দুয়াগুলো কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য খাস নয়, বরং যেকোনো মুসলিমের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায়। নিচে এগুলোর বিস্তারিত অর্থ ও ব্যবহারবিধি দেওয়া হলো:
১. মৃত মুসলিমদের জন্য ব্যবহৃত দুয়া
যখন কোনো ব্যক্তি ইন্তেকাল করেন, তখন তার নামের শেষে এই শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়:
রহ. / রহমা. (رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ – রাহমাতুল্লাহি আলাইহি):
অর্থ: তার উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
রাহিমাহুল্লাহ (رَحِمَهُ الله):
অর্থ: আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন।
দ্রষ্টব্য: এটি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মৃত যেকোনো মুসলিমের জন্য ব্যবহার করা যায়। তবে নারীদের ক্ষেত্রে ‘রাহিমাহাল্লাহ’ (رَحِمَهَا الله) বলা ব্যাকরণগতভাবে বেশি শুদ্ধ।
২. জীবিত ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহৃত দুয়া
জীবিত থাকা অবস্থায় সম্মান ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়:
হা. / হাফি. (حَفِظَهُ الله – হাফিজাহুল্লাহ):
অর্থ: আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন বা রক্ষা করুন।
দা.বা. (دَامَتْ بَرَكَاتُهُمْ – দামাত বারাকাতুহুম):
অর্থ: তাঁর বরকত বা কল্যাণ স্থায়ী হোক।
মা.জি.আ. (مَدَّ ظِلُّهُ الْعَالِي – মাদ্দা জিল্লুহুল আলি):
অর্থ: তাঁর মহান ছায়া (আশ্রয় বা নেতৃত্ব) দীর্ঘজীবী হোক।
মু. আ. (مُدَّ ظِلُّهُ – মুদ্দা জিল্লুহু):
অর্থ: তাঁর ছায়া দীর্ঘ হোক।
ব্যবহ্বারের ক্ষেত্রে কিছু প্রচলিত বিভ্রান্তি ও বাস্তবতা
অনেকে মনে করেন এই শব্দগুলো ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট স্তর আছে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এর সঠিক রূপ হলো:
| বিষয় | ভ্রান্ত ধারণা | সঠিক ধারণা |
| প্রয়োজনীয়তা | এটি একটি অর্জিত ডিগ্রি। | এটি কেবল একটি অন্তরঙ্গ দুয়া। |
| প্রাপ্যতা | কেবল বড় আলেমদের জন্য। | যেকোনো নেককার মুসলিমের জন্য। |
| উদ্দেশ্য | ব্যক্তিত্বের অতিরিক্ত গুণগান। | আল্লাহর কাছে তার নিরাপত্তা বা মাগফিরাত চাওয়া। |
কেন আমরা এগুলো ব্যবহার করব?
১. দুয়া বিনিময়: ইসলামে একে অপরের জন্য দুয়া করা ইবাদতের অংশ। নামের সাথে এই শব্দগুলো যোগ করলে অজান্তেই সেই ব্যক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে দুয়া পৌঁছে যায়।
২. ভক্তির ভারসাম্য: কাউকে ‘পীর’, ‘গাউস’ বা অতিপ্রাকৃত কোনো উপাধি দেওয়ার চেয়ে এই ধরণের শব্দ ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ। এতে ব্যক্তিকে সম্মানও দেওয়া হয়, আবার তাকে কেবল আল্লাহর একজন মুখাপেক্ষী বান্দা হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়। ফলে শিরক বা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির ঝুঁকি কমে যায়।
৩. ভ্রাতৃত্ববোধ: আপনার বন্ধু, পরিচিত জন বা আত্মীয়ের নামের শেষে ‘হাফিজাহুল্লাহ’ (আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন) লেখা বা বলা মানে তার প্রতি আপনার অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
সুতরাং, এই শব্দগুলোকে কেবল মাদ্রাসার আলেম বা নির্দিষ্ট ঘরানার মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক নয়। আপনার বাবা, মা, শিক্ষক বা যেকোনো প্রিয় মুসলিমের নামের সাথে এগুলো ব্যবহার করার অভ্যাস করুন। এটি আমাদের সামাজিক পরিবেশে একটি আধ্যাত্মিক ও কল্যাণকর আবহ তৈরি করে।
মহান আল্লাহ আমাদের একে অপরের জন্য কল্যাণ কামনা করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
![মুসলিম নামের সঙ্গে মুসলিম নামের সঙ্গে - ( রা. / হ. / হা / দা.বা. /মা.জি.আ. ) - ইত্যাদি শব্দ মানে কি? [ ইসলাম ও মুসলিম ] 1 মুসলিম নামের সঙ্গে – ( রা. / হ. / হা / দা.বা. /মা.জি.আ. ) – ইত্যাদি শব্দ মানে কি? [ ইসলাম ও মুসলিম ]](https://sufifaruq.com/wp-content/uploads/2021/05/মুসলিম-নামের-সঙ্গে.jpg)