আমাদের টাইগারদের একমাত্র জাত বাংলাদেশি

ফেসবুকে আর কিছু টুইয়েন্টিফোর সাইটে সৌম্য সরকারের ধর্মীয় পরিচয় তুলে কিছু তৃতীয় শ্রেণীর ইতর ইতরামিতে নেমেছে। এই সব টাউটরা জানেই না জাতীয় দলে ঢোকার আগেই মৌসুমে সব ধরনের ক্রিকেটে কি অসাধারণ পারফর্মেন্স দেখিয়ে ছেলেটা। সৌম্য এখন বাংলাদেশ স্কোয়াডের একমাত্র স্পেশালিষ্ট পেস বোলিং অলরাউন্ডার।

অবাক করা বিষয় হল, এ দেশে পেঁয়াজ থেকে শুরু করে কোম্পানির সিইওটা পর্যন্ত ভারত থেকে আনলেও ওদের কাছে থেকে শিখতে পারেনি দেশের সেরা সন্তানকে কিভাবে সম্মান জানাতে হয়, ভালবাসতে হয় !
সিকে নাইডু থেকে শুরু করে বিরাট কোহলি পর্যন্ত ৩২ জন ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেট দলের নেতৃত্ব দিয়েছে। এই তালিকায় থাকা ইফতিখার আলী খান পতৌদি, গোলাম আহমেদ, মনসুর আলী খান পতৌদি (টাইগার পাতৌদি) এবং মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের গ্রেট ক্রিকেটার পরিচয় বাদ দিয়ে ধর্ম পরিচয় নিয়ে মাতামাতি দেখা যায়নি। ১৯৮৩ সালের ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী দলের উইকেটকিপার ছিলেন সৈয়দ কিরমানি। ২০১১ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলে ছিল পেসার জহির খান আর অলরাউন্ডার ইউসুফ পাঠান। আর বর্তমান টিমে আছে ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ শমী। অথচ এই নামগুলোর সাথে ‘সৃজনশীল পদ্ধতি’তে নেতিবাচক কত কি জুড়া যেত। যেমন ইফতিখার আলি খান পতৌদির ভাতিজা এবং মনসুর আলি খান পতৌদির চাচাতো ভাই জেনারেল ইসফান্দিয়ার আলী খান পাতৌদিই আইএসআইয়ের উপ-মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিল। গোলাম আহমেদের ভাগিনা পাকিস্তানি ক্রিকেটার আসিফ ইকবাল। তারপরেও ভারতীয় সেরা অধিনায়কের তকমাটা টাইগার পাতৌদির। অবসরের পরে গোলাম আহমেদ দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করে বিসিসিআই’য়ের জেনারেল সেক্রেটারি হিসাবে। সৈয়দ কিরমানি হয় ভারতীয় দলের নির্বাচক। মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন এমপি হিসাবে যায় লোকসভা’য় (ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ)। নরেন্দ মোদীর গুজরাট রাজ্যসরকার ইউসুফ পাঠানকে দেয় একলব্য পুরস্কার। শুধু ভারতেই এমন নয়, যে দেশের সমাজ এখনো বর্ণবাদে অভিশাপে জর্জরিত, সেই দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলের স্কিপার হাশিম আমলা। নাক উঁচু ইংলিশরা জাত অভিমান ভুলে মেনে নেয় আইরিশ ইয়ন মর্গ্যানকে অধিনায়কের ভূমিকায়।

ধর্ম-জাতের পরিচয়ে তুলে – কোন দেশের গুপ্তচর হওয়া, ইচ্ছে করে খারাপ খেলা, টাকা নিয়ে ম্যাচ ছেড়ে দেওয়া, প্রতিবেশী দেশের সরকারের চাপে পড়ে নিজের দেশের সরকারের ‘হুকুমে’ হেরে যাওয়ার মতো যুক্তি, পিতৃপরিচয়হীন পাকি খানদানীরা দেখায়, টাইগারদের সমর্থকরা না।

আমাদের টাইগারদের একমাত্র জাত বাংলাদেশি।
তারা জয় বাংলা বলে আগে বাড়বেই।

Read Previous

‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০১৫’ এর উপর মতামত দিয়েছেন কি?

Read Next

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী