• ২২/১০/২০২০

Breaking News :

খন্দকার মোশতাক ও বঙ্গবন্ধুর কোরবানির গল্প

গল্পটা আমার শোনা। ভুল ভ্রান্তি হলে ক্ষমা ঘেন্না করে দেবেন।

একবার বঙ্গবন্ধু কিছু বিদেশি অতিথি নিয়ে নদী ভ্রমণে বেরিয়েছেন। সম্ভবত অতিথিদের কোন প্রকল্প দেখাবার জন্যে। সাথে খন্দকার মোশতাক সহ কয়েকজন আমলা। বেশিরভাগ লোক কাছাকাছি দাড়িয়ে-বসে পরস্পরের সাথে কথা বলছে। এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু খেয়াল করলেন মোশতাক বিভিন্ন লোকের সাথে কোনায় দাড়িয়ে একা বলার চেষ্টা করছে। হাত কচলে হাসছে (মানে তেল দিচ্ছে)। কানে কানে কথা বলছে। যাকে ঘুঁটো করা বলে আর কি।

খাবারের সময় সবাই একসাথে হল। অতিথিদের কাছ থেকে সরে এসে হঠাৎ বঙ্গবন্ধু একটু উঁচু গলায় সবাইকে ডাকলেন। গম্ভীর কণ্ঠে বলা শুরু করলেন – তোমাদেরকে একটা কথা বলতে চাচ্ছি। বলব কি বলব না, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছিল। আমি গত রাত্রে একটা স্বপ্ন দেখেছি। স্বপ্নে একজন একজন মুরুব্বী আমাকে বলছেন – তোর দুনিয়ার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটা কোরবানি করে দে। স্বপ্ন দেখেই ঘুম ভেঙ্গে গেল। অনেক্ষন ভাবলাম। দেখলাম এই দুনিয়ায় আমার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু হল – মোশতাক। তাকে ছাড়া আমি কখনো থাকতে পারি না। তারপরেও তাকে আমার স্ত্রী বড় ভাই মানে। কিন্তু স্বপ্নে যেহেতু আমাকে বার্তা দেয়া হল, কিছু একটা ব্যাবস্থা তো নিতেই হয়। তোমরা বলতো দেখি কি করা যায়?

আমলাদের উদ্দেশ্য করে বললেন – তবে আমি দেখলাম তোমাদের সবার সাথে মোশতাকের ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তোমরা কি নিরপেক্ষ মতামত দিতে পারবে?

খন্দকার মোশতাক বিব্রত মুখে সবার মাঝে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকল। এরপর হেঁ হেঁ টাইপ হেসে পরিবেশটা হালকা করতে চাইলো। মুক্তি দেল একজন আমলা এসে । সে খন্দকার মোশতাককে বলল – আপনি একটা জানের সাদগা দিয়ে দেন। তাহলেই হয়ত হবে। এর পরেও বঙ্গবন্ধু যদি আবার স্বপ্ন দেখেন তখন দেখা যাবে।

এর পর কি হয়েছিল সে গল্প আর জানি না।

***
* এই গল্পের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নাই। তিনি শুধুমাত্র মোশতাককে লজ্জা দিতেই হয়ত গল্পটা করেছিলেন।
* বঙ্গবন্ধু মোশতাককে আপনি করে বলতেন, নিজেও বড় ভাই মানতেন – সে ক্ষেত্রে হয়ত গল্পটা একটু বেমানান। তবে তিনি যেরকম রসিক লোক ছিলেন তাতে এরকম ঠাট্টা করতে পারা স্বাভাবিক।

Read Previous

আমরা তো মানুষ নই-গো বাবু

Read Next

ফরিদা পারভিন (১৯৫৪-)