যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বের বিস্ময় শেখ হাসিনার বাংলাদেশ

যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বের বিস্ময় শেখ হাসিনার বাংলাদেশ : দীর্ঘ ৯ মাসের স্বাধীনতা সংগ্রামে ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময় নয় শুধু, সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সম্পূর্ণ দেশ পরিণত হয়েছিল এক ধ্বংসস্তুপে। রাষ্ট্র হিসেবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মত কিছুই ছিল না বাংলাদেশের। এমনকি জাতির সূর্যসন্তানদ বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বিশ্বসেরা ব্যক্তিবর্গকে পর্যন্ত বেছে বেছে হত্যা করে পরাজিত পাকিস্থান পিছিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে হাজার বছর।

যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বের বিস্ময় শেখ হাসিনার বাংলাদেশ
যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বের বিস্ময় শেখ হাসিনার বাংলাদেশ

যুদ্ধবিধ্বস্ত সেই বিরান জনপদ থেকে গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ দেখিয়েছে চমক। ঘুরে দাঁড়িয়েছে অবিশ্বাস্যভাবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে অনেকদূর। অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন পৌঁছে গেছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও।

গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে টানা ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়েও। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশেরে শুধুমাত্র উন্নয়ন হয়নি, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশকে এখন উন্নয়নের রোল মডেলই নয় শুধু, বিভিন্ন সূচকে অন্য অনেক দেশের চেয়েও ওপরে থাকা একটি দেশ হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশের প্রতি মনোভাবটাই বদলে গেছে বিভিন্ন উন্নত দেশের। আগে বাংলাদেশ বলতে দারিদ্র পীড়িত দুর্বল অবকাঠামোর দেশ বলে মনে করা হতো।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতি হিসেবে আত্মমর্যাদা বাড়ানোর লক্ষ্যে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন, জোট, উন্নয়ন সংস্থাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বলিষ্ঠ নেতৃত্বগুণে নিজেকে একজন আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ‘শেখ হাসিনা’ আজ একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।

এই পরিবর্তন একদিনে হয়নি। অন্য দেশের খবরদারি, চোখ রাঙানি এড়িয়ে নিজেদের সক্ষমতার সর্বোচ্চটুকু প্রয়োগ করে আজ এই পর্যায়ে এসেছে। শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সারাবিশ্বের চোখ কপালে তুলে দিয়েছে বিগত এক যুগে।

নিজস্ব অর্থায়নের নির্মিত পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, নদীর তলদেশে টানেলসহ নানা চলমান নানা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হবার পর পাল্টে যাবে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্কটময় অতীত। গল্পটা এখন এমনই।
কে কবে ভেবেছিল, বালু মাটির এই দেশেও একদিন আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা, কিংবা জার্মানির মতো চলবে মেট্রোরেল! সেই স্বপ্নও এবার পূরণ হতে চলেছে।

যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বের বিস্ময় শেখ হাসিনার বাংলাদেশ
যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বের বিস্ময় শেখ হাসিনার বাংলাদেশ

শুধু কি তাই, বিশ্বের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী পদ্মাকে বশ মানিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে গর্বের পদ্মা সেতু। যা যুক্ত করেছে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিশাঞ্চলকে। যে সেতু আজ বিশ্বের স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইতিহাসে এক দৃষ্টান্ত। অথচ ৫০ বছর আগে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের পুঁজি ছিলো শূন্য। ৯ মাসের যুদ্ধে বিধ্বস্ত হয় সব সড়ক, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবন। ব্যাংকের সব টাকা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।

রপ্তানিযোগ্য পণ্য ছিলো শুন্যের কোঠায়। অথচ বিশ্ব মোড়লদের তাচ্ছিল্যোর সেই ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়। উন্নয়নের রোল মডেল। ঋণের ভারে জর্জরিত নয়, বরং দাতা দেশ হিসেবে আজ বাংলাদেশকে চেনে বিশ্ববাসী।

ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন সড়ক পাল্টে দিয়েছে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী ইন্টারসেকশন থেকে মাওয়া পর্যন্ত মহাসড়ক, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ, পাল্টে দিয়েছে যোগাযোগের বাধা।

বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি, পায়রা নদীর ওপর পায়রা সেতু, ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেন্ট, ক্রস-বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট তো বটেই; আরও আছে এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেন, ঢাকা রংপুর-চারলেন। এতসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এক অন্য বাংলাদেশের ছবি দেখবে বিশ্ব।

তবে নগরকেন্দ্রিক পরিকল্পনার পাশপাশি প্রান্তিক মানুষদেরও এসব উন্নয়নের আওতায় আনার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। তাহলেই উন্নয়নের সুফল পৌছাবো সবার কাছে। দূর হবে বৈষম্য।
স্বাধীনতার ৫০ বছরে অনেক অর্জনই হয়তো এখনও অধরা। তবে নীতি পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা থাকলে ২০৪১ সালেই উন্নত বিশ্বের মর্জাদা পাবে বাংলাদেশ।

[ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বের বিস্ময় শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ]

#SheikhHasina #ForBetterLives
#FansOfSheikhHasina #Bangladesh 🇧🇩