ইমাম আত্মহত্যা ও আমার চিন্তা

এই রমজানে চাকরি হারিয়ে একজন ইমাম আত্মহত্যা করেছেন!

মুন্সিগঞ্জ গজারিয়া উপজেলার একটি মসজিদের ১৫ বছর ইমাম ছিলেন তিনি।

 

একবার ভাবেন তো?

আমরা আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ, কোটি টাকার দালান, মসজিদ করতে পারি।

আর সেই মসজিদের ইমামের এ্যজমাজনিত শ্বাসকষ্ট বাড়লে, কৌশলে ছুটিতে পাঠিয়ে চাকরীচ্যুত করি।

১৫ বছরে যার পিছনে নামাজ পড়েছি, ইমাম মেনেছি। সেই মানুষটাকে সম্মানজনক ভাবে বিদায় করতে পারি না।

 

আমরা এরকম মুসলিম। এই নিয়ে আবার আমাদের গর্বের শেষ নেই।

 

নিজে মসজিদের সাথে জড়িত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি।

সবার আগ্রহ বিরাট মসজিদ, বহুতল অট্টালিকা, এসি আর অবকাঠামোতে।

কিন্তু এসব কমিয়ে – ইমামের বেতন বৃদ্ধি, তার পরিবারের কিছু সুবিধা বৃদ্ধি, বাচ্চার লেখাপড়া, তাদের একটা বিমা – এসব কথা বললে, কেউ খুশি হন না। তাড়াতাড়ি মিটিং শেষ করতে চান। অবিবাহিত ইমাম বিয়ে করে বউ নিয়ে কিভাবে সংসার শুরু করবে, অনেক কিছু লাগবে সেই ভাবনার কথা বললে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকেন।

আবার তারাবির সময় ওই ইমামের ছয় মাসের বেতনের সমান টাকা দিকে নতুন ইমাম হায়ার করতে আনতে চান। সব কিছুর পিছনে হয় নিজের আর্থিক লাভ, অথবা লোক দেখানো।

 

আপনারা সবাই জানেন আমি ধর্মকে পেশা করার পক্ষে না। আমাদের আদর্শ রাষ্ট্রে ইমামতি পেইড সার্ভিস নয়, ভলান্টারি কাজ। কিন্তু যতদিন এটা পেশা আছে, ততদিন সেই পেশাটার সম্মান কেন করবেন না?

ধর্ম পালনের জন্য টাকা নেয়া হারাম কি হালাল বাদ দেন সেই বিতর্ক। একবার ভেবে দেখুন – একজন মানুষ আপনার কমিউনিটির একটা সার্ভিস করে, দিনের প্রায় ১৬ ঘণ্টা সময় এই কাজে সে জড়িত থাকে। সেই লোকটা কি একটু অসুস্থতাজনিত ছুটি পাবে না?

 

বড় হতভাগা আমরা।

ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম নামধারী এমন লোকের বসবাস, যারা আল্লাহর আইনের ফাঁক দিয়ে, আল্লাহকে ফাঁকি দিতে চায়। আল্লাহর দেয়া সংবিধানের উপরে ভিত্তি করে তৈরি করা আইন এর আলোকে তৈরি করা প্রবিধান দিয়ে সংবিধানকেই টপল করতে চায়।

 

ধাপ্পাবাজ, অমানবিক, প্রদর্শন সর্বস্ব ধর্মাচার আমাদের।

 

মনে রাখবেন মাওলানা আব্দুর রহিম পাটোয়ারী চলে গেছেন।

যাবার সময় আমাদের মুখে থুথু দিয়ে গেছেন।

আমি আমার মুখে অনুভব করছি। আপনি নিজেরটা অনুভব করুন।

 

মহান আল্লাহ মাওলানা আব্দুর রহিম পাটোয়ারীর গোনাহখাতা মাফ করে বেহেস্ত নসিব করুন।

 

বহুদিন ধরে এই বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলাম। এর একটা স্থায়ী সমাধান দরকার। দুটো জিনিস অবশ্যই দরকার।

 

১/

যেমন মসজিদের একটি ইসলামিক সন্চয় এফডিআর লাগবে। যেসব মসজিদ আছে তাদের সেই এফডিয়ার করতে হবে। সরকার সার্ভে করে পরিমানটা ঠিক করবে। যেমন গুলশান আজাদ মসজিদের জন্য এই পরিমান ৫ কোটি টাকা কোন সমস্যা নয়। কিন্তু গ্রামের মসজিদ হলেও ১০ লাখ টাকার এফডিআর লাগবে। নতুন মসজিদ করতে হলে এই টাকা সন্চয় করে কাজে হাত দিতে হবে। সেই এফডিয়ারের মুনাফা থেকে প্রতি মাসে কর্মচারীর বেতনের একটি অংশ আসবে। এফডিআর থেকে ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে সরাসরি দিতে হবে। কমিটি হাতে টাকা তুলে রাখতে পারবে না। এই অংশটির ব্যবস্থাপনা ইসলামি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে করা যেতে পারে।

 

২/

প্রতিটি এলাকায় বসবাসরত ব্যক্তির আয়ের সোর্স থেকে একটি অংশ কাটা হবে। চাকুরিজিবী, ঠিকাদার, ব্যবসায়ের ট্রেড লাইসেন্সের উপর থেকে, রিক্সা-ভ্যান চালকের পৌরসভার লাইসেন্সের উপরে, ঠিকাদারীর ক্ষেত্রে বিলি থেকে – এভাবেই সম্ভব্য প্রতিটি সরকারি সেবা নেয়ার জায়গাতে। এভাবে আয়ের মেজরিটি অংশ কলেকশন হবে। এটার ব্যবস্থাপনা করবে উপজেলা প্রশাসন।

 

৩/

প্রতিটি মসজিদে ইমাম এর বেতন নুন্যতম ২৫ হাজার টাকা করতে হবে। মুয়াজ্জিনের বেতন ১৫ হাজার টাকার কম হবে না। দুই ঈদে দুটি বোনাস।

 

উপরের ব্যবস্থাপনা করতে পারলে এটুকু নিশ্চিত করা সম্ভব। চিল্লিয়ে ওঠার কিছু নেই, অনেক উন্নত দেশেই এমন করা হয়। তবে ধর্মের বিষয়ে যেহেতু চাপাচাপি চলে না, তাই কেউ যদি লিখিতভাবে না করেন, তাহলে তার কাছ থেকে আদায় করা হবে না। আয়ডিয়াটা রিফাইন করার জন্য কথা বলা যায়। কথাটা শুরু হতে হবে।