শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের যৌক্তিক দাবির প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এই নিষ্পাপ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাইছে। তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম নিয়ে কিংবা ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের অপব্যাখ্যা দিয়ে কোমলমতি শিশুদের উত্তেজিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
আসুন, ইতিহাসের আয়নায় একবার নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করি:
বঙ্গবন্ধু কি অহমিকার রাজনীতি করতেন? বঙ্গবন্ধু কি দাবির যৌক্তিক সমাধান পাওয়ার পরও গোঁয়ার্তুমি করে কর্মসূচি চালিয়ে যেতেন? কখনোই নয়। তাঁর পুরো রাজনৈতিক জীবন ছিল নিয়মতান্ত্রিক। তিনি জনমত তৈরি, নিয়মতান্ত্রিক দাবি পেশ, গণ-আন্দোলন এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি সিস্টেম্যাটিক প্রসেসে (Systematic Process) দাবি আদায় করতেন।
গুজবের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবস্থান: বঙ্গবন্ধু কি কোনোদিন নিজের আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করার জন্য সস্তা গুজবের আশ্রয় নিয়েছেন, কিংবা কোনো গুজবকে সমর্থন করেছেন? তাঁর রাজনীতি ছিল সত্য, সততা ও সাহসের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
শিশুদের রাজনৈতিক ক্ষমতার ঢাল বানানো: বঙ্গবন্ধু কি কোনোদিন জাতীয় দাবি আদায়ের দোহাই দিয়ে শিশুদের উত্তেজিত করে, তাঁদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার নীলনকশা করেছেন?
ওদের সরল মনকে নিজেদের লোভের পাপ দিয়ে কলুষিত করবেন না!
শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপদ সড়কের দাবিটি অত্যন্ত পবিত্র ও ন্যায়সঙ্গত। কিন্তু যখন দেখা যায় এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে পেছনের সারিতে থেকে কুচক্রী মহল গুজব ছড়াচ্ছে, রাষ্ট্র ও সমাজকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে—তখন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের চুপ থাকা অপরাধ।
দয়া করে নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষুদ্র স্বার্থ কিংবা ক্ষমতার লোভ চরিতার্থ করার জন্য এই অবুঝ শিশুদের মনকে কলুষিত করবেন না। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার লড়াইয়ে আসুন নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কাজ করি, গুজবের চাষাবাদ বন্ধ করি।

#নিরাপদ_সড়ক_চাই
