কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত খোকসা সরকারি কলেজ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি অত্র অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা বিস্তারে এক অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে।
গৌরবময় ইতিহাস ও সরকারিকরণ
খোকসা সরকারি কলেজটি স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং উচ্চশিক্ষার প্রসারে এলাকাবাসীর আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ছিল এই কলেজটি। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে তৎকালীন সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারি কলেজে রূপান্তর করে। বর্তমানে এটি খোকসা উপজেলার একমাত্র পূর্ণাঙ্গ সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠ্য বিষয়সমূহ
কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক থেকে শুরু করে স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত বিস্তৃত পাঠদান কার্যক্রম চালু রয়েছে। এর শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হয়।
ক) উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়:
এখানে উচ্চ মাধ্যমিকে প্রধান তিনটি বিভাগ বা শাখা চালু রয়েছে:
বিজ্ঞান শাখা
মানবিক শাখা
ব্যবসায় শিক্ষা শাখা
খ) ডিগ্রি (পাস) কোর্স:
স্নাতক (পাস) পর্যায়ে এখানে ৪টি ভিন্ন ভিন্ন কোর্সে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারেন:
বি.এ (Bachelor of Arts)
বি.এস.এস (Bachelor of Social Science)
বি.বি.এস (Bachelor of Business Studies)
বি.এস.সি (Bachelor of Science)
গ) অনার্স (স্নাতক সম্মান) পর্যায়:
উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে বর্তমানে কলেজটিতে ০৯টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। বিষয়গুলো হলো:
বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, দর্শন এবং ভূগোল ও পরিবেশ। (বিষয়গুলো চাহিদার ভিত্তিতে বিন্যস্ত)।
ভৌত অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা
খোকসা সরকারি কলেজ কেবল পাঠদানেই নয়, অবকাঠামোগত দিক থেকেও বেশ সমৃদ্ধ।
ক্যাম্পাস: একটি শান্ত ও মনোরম পরিবেশে কলেজ ক্যাম্পাসটি অবস্থিত, যা পড়াশোনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
লাইব্রেরি ও ল্যাব: শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি এবং বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ল্যাবরেটরি সুবিধা।
সহ-শিক্ষা কার্যক্রম: পড়াশোনার পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউট এবং বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কলেজের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত অংশ নেয়।
খোকসা ও পার্শ্ববর্তী পাংশা বা কুমারখালী উপজেলার একাংশের শিক্ষার্থীদের জন্য এই কলেজটি আস্থার প্রতীক। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য অল্প খরচে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে খোকসা সরকারি কলেজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ২০১৭ সালে কলেজটি সরকারি হওয়ায় সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দক্ষ জনবল ও নতুন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে।
১৯৭২ সালে যে স্বপ্নের বীজ বপন করা হয়েছিল, আজ তা এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। খোকসা সরকারি কলেজ কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি কুষ্টিয়ার শিক্ষা বিপ্লবের এক জীবন্ত ইতিহাস। দক্ষ ও শিক্ষিত সমাজ গড়তে এই কলেজটি আগামী দিনে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে সকলের প্রত্যাশা।
এই কলেজে সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এর কর্মসূচির বিস্তারিত নিচে দেয়া হল:
খোকসা সরকারি কলেজে গ্রামীণ যুবকদের ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং:
যথেষ্ট মেধা এবং দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে এখনকার তরুন-তরণীদের অনেকের ক্যারিয়ার হয় অন্ধকারচ্ছন্ন।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনেকে নিজের মেধা এবং দক্ষতা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে উপনীত হয়। বস্তুত নিজের উপর যথেষ্ট অনাস্থা থেকেই এ ধরনের দ্বিধাদ্বন্দের সৃষ্টি।ক্যারিয়ার সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলায় খোকসা সরকারি কলেজে আওয়ামীলীগের কুষ্টিয়া জেলা শাখার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক সুফি ফারুক ইবনে আবুবকরের উদ্যোগে পেশা পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
খোকসা সরকারি কলেজে গ্রামীণ যুবকদের ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং
বিভিন্ন খাতের সফল পেশাজীবী ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষকদের দিয়ে পরিচালিত হবে এসব কর্মশালা। সকল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যই মূলত এই আয়োজন হচ্ছে। এছাড়া যারা বর্তমানে লেখাপড়া শেষ করে কর্মহীন রয়েছেন তারাও অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
আজ বুধবার খোকসা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দিনব্যাপী “পেশা পরার্মশ সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া গুরুকুলের লিগ্যাল এন্ড এডমিন শামীম রানা, তানভির আহমেদ,খাইরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার খোকসা সরকারি কলেজে বেলা ১১ ঘটিকায় ‘পেশা পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয় ।এ অনুষ্ঠানে মতবিনিময়কালে কুষ্টিয়া জেলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর বলেন,’খোকসা কুমারখালী কে একটি দক্ষ,রুচিশীল,উন্নত,প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এ জন্যে তোমরা যারা তরুন সমাজ আছ তোমাদের সহযোগিতা একান্ত ভাবে প্রয়োজন।পরিবর্তনটা আসবেই তোমাদের হাত দিয়ে আমরা শুধু পথ দেখিয়ে যাব।’
সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর আরও বলেন,’সফল ক্যারিয়ার গড়তে পারিপার্শ্বিক অবস্থা কিংবা বিভিন্ন পেশা সম্পর্কে যে ধরনের জ্ঞান থাকা দরকার, তা অনেকের মধ্যেই অনুপস্থিত। পারিবারিক চাহিদা এবং গোড়ামিও কারও কারও ক্ষেত্রে ঋনাত্বক ভুমিকা পালন করে। তাই আত্বসচেতনতা সৃষ্টি করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজনের পারদর্শিতা কিংবা আগ্রহের ব্যাপারে সে নিজেই সবচেয়ে বেশি ওয়াকেবহাল। সেজন্য অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নয়, অন্যের পরামর্শ গ্রহন করে উচিত নিজের সিদ্ধান্তটা নিজেই গ্রহন করা।’
সুফি ফারুক আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরিকল্পিত জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার উপযোগী করে আমাদের ছেলেমেয়েদের তৈরি করতেই এই উদ্যোগ।’
তিনি বলেন ‘দেশকে পরিবর্তন করতে হলে তরুণ প্রজন্মের অগ্রণী ভূমিকা পালন ছাড়া কোন বিকল্প নেই। পেশা পরামর্শ সভা কর্মসূচির উদ্দেশ্য হল, তরুণদের বিভিন্ন সমস্যাসমুহ নিয়ে সমাধান সহ এই অসম্ভব প্রতিযোগিতামুলক সময়ে জীবনযুদ্ধে তারা কিভাবে নিজেদেরকে উপযুক্ত করে তুলবে ও দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে তারা কিভাবে ভূমিকা রাখতে পারে সে সমস্ত বিষয়ে দিক নির্দেশনা প্রদান করা।’
এ ‘পেশা পরামর্শ সভা’ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ তরুণ ও যুবকদেরকে সময়পোযোগী করে গড়ে তোলা।এছাড়া কুমারখালী খোকসার তরুণ-যুবকদের ভবিষ্যৎ পেশা বাছাই, নিজেকে পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলা, সিভি বানানো, ইন্টার্ভিউ দেয়া সহ সফল হবার জন্য দরকারি বিভিন্ন বিষয়ে হাতে কলমে পেশাদারি প্রশিক্ষকরা প্রশিক্ষণ দেবেন এবং সাথে থাকবেন “স্কিল এসেসমেন্ট”।
আয়োজনটি করা হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কুষ্টিয়া জেলা শাখার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তর থেকে। কুষ্টিয়া জেলার সকল সহযোগী-ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকার শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনে সহায়তা করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।