ডিসেম্বর মাস গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডার বা খ্রিস্টীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের দ্বাদশ ও শেষ মাস। এই মাসে মোট ৩১ দিন।
ডিসেম্বর মাস বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে আনন্দদায়ক এবং বিজয়ের মাস। ১৬ই ডিসেম্বর দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাঙালি জাতি চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। নিচে ডিসেম্বর মাসের একটি বিস্তারিত দিনপঞ্জি দেওয়া হলো:
দিনপঞ্জি : ডিসেম্বর
০১/১২/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে পন্ডিত রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনের ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর চলচ্চিত্র মুক্তি পায়।
০২/১২/১৯৭১: মুক্তিবাহিনীর গেরিলা হামলায় সারা দেশে পাকিস্তানি বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
০৩/১২/১৯৭১: ভারত-পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরু হয় এবং ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি যুক্ত হয়।
০৪/১২/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে ভারত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করে।
০৫/১২/১৯৬৯: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন যে, এ দেশের নাম হবে শুধুই ‘বাংলাদেশ’।
০৬/১২/১৯৭১: ভারত ও ভুটান স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান করে।
০৭/১২/১৯৭০: পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
০৮/১২/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত হয়।
০৯/১২/১৮৮০: নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্মবার্ষিকী (বেগম রোকেয়া দিবস)।
১০/১২/১৯৭১: মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রচণ্ড চাপে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পলায়ন শুরু করে।
১১/১২/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে টাঙ্গাইল ও কুষ্টিয়া জেলা শত্রুমুক্ত হয়।
১২/১২/২০১৮: বাংলাদেশ সরকার ১২ই ডিসেম্বরকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস’ (বর্তমানে স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস) হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়।
১৩/১২/১৯৭১: পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা চূড়ান্ত করে।
১৪/১২/১৯৭১: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস; বিজয়ের দুই দিন আগে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
১৫/১২/১৯৭১: পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।
১৬/১২/১৯৭১: মহান বিজয় দিবস; ৯৩ হাজার সৈন্যসহ পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়।
১৭/১২/১৯৭১: বিজয়ের পরদিন সারা দেশে আনন্দ মিছিল ও মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেয় বাঙালি জাতি।
১৮/১২/১৯৭১: স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সচিবালয় ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়।
১৯/১২/১৯৭১: ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের মধ্যে মৈত্রী ও সংহতির বিশেষ বার্তা বিনিময়।
২০/১২/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালি কারাগারের নির্জন সেল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
২১/১২/১৯৭১: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
২২/১২/১৯৭১: প্রবাসী মুজিবনগর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা প্রত্যাবর্তন করে।
২৩/১২/১৯৭২: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের নকশা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার বিশেষ মুহূর্ত।
২৪/১২/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে মিত্রবাহিনী দেশের নিরাপত্তা সুসংহত করতে বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করে।
২৫/১২/১৮৭৬: পাকিস্তানের স্থপতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর জন্মবার্ষিকী।
২৬/১২/১৯৭১: যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনার বিশেষ দিন।
২৭/১২/১৯৭১: স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু হওয়ার ঘোষণা আসে।
২৮/১২/১৯১১: কবি ও দার্শনিক কায়কোবাদের মৃত্যুবার্ষিকী (স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব)।
২৯/১২/২০০৮: নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়ী হয়।
৩০/১২/১৯৭১: সারা দেশে রাজাকার ও আল-বদর সদস্যদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান জোরদার করা হয়।
৩১/১২/১৮৮৮: ভাষাবিদ ও পণ্ডিত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ শিক্ষা দিবস।
ডিসেম্বর মাসের ঘটনাবলি নিয়ে পড়ুন:
