প্রিয় অনুজ ও প্রিয় প্রজন্ম,
নিরাপদ সড়কের দাবিতে তোমাদের রাজপথে নেমে আসা এবং চোখে আঙুল দিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ছিল এক অভাবনীয় প্রাপ্তি। কিন্তু যৌক্তিক দাবি আদায় হবার পরেও, যারা তোমাদের এখনও মাঠে থাকার কু-পরামর্শ দিচ্ছে বা উসকানি দিচ্ছে—একটু গভীরভাবে খেয়াল করে দেখো তো, এখন তারা আসলে কী চাইছে?
তোমাদের এই পবিত্র আবেগকে ব্যবহারের সময় কিন্তু প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। আর মাত্র কয়েকটি দিন! এরপর তোমাদের এই সুন্দর আন্দোলনের সুন্দর ছবিগুলো ছাড়া তাদের আর কিছুই দরকার হবে না। আর যদি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তোমাদের মধ্য থেকে ২/১ টা লাশ ফেলে দেওয়া যায়, তবে তো কথাই নেই! তাদের উদ্দেশ্য আরও সহজে ও দ্রুত সফল হবে।
নিয়মতান্ত্রিক সমাধান ও সরকারের সদিচ্ছা
যেখানে খোদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তোমাদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে, সেগুলোকে সংযোজিত করে মন্ত্রিসভায় (Cabinet) নতুন ও কঠোর ‘সড়ক পরিবহন আইন’ পাস করেছেন, সেখানে ভেবে দেখো—এখনও রাজপথে আটকে থাকা কতটা যৌক্তিক?
যেকোনো আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকে দাবি আদায়। যখন নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে দাবিটি লিখিতভাবে আইন হিসেবে গৃহীত হয়, তখন আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়াই প্রকৃত বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ এরপরও মাঠে থাকা মানে আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাত থেকে হারিয়ে অদৃশ্য তৃতীয় পক্ষের হাতে তুলে দেওয়া।
তারুণ্যের আবেগ বনাম দূরদর্শিতা
তারুণ্য মানেই সাহসের সময়, বন্ধুত্বের সময়। বন্ধুর জন্য জান কোরবান করার মতো অদম্য স্পৃহা তরুণদের বুকেই থাকে। কিন্তু সাহসের সাথে সাথে এবার একটু দূরদর্শিতার সাথে ভাবার সময় এসেছে:
- আপনার সেই ‘কথিত’ বন্ধুরা আসলে শেষ পর্যন্ত কী চায়?
- আপনার এই অমূল্য জীবনটি শেষ পর্যন্ত কার স্বার্থে লাগছে?
- এটি কি সত্যিকারের নিরাপদ সড়কের জন্য দেশের কাজে লাগছে?
- নাকি স্রেফ ষড়যন্ত্রের সিঁড়ি বেয়ে অন্য কাউকে ক্ষমতার মসনদে বসানোর সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে?
নিজেদের আবেগকে সস্তা রাজনীতির দাবার ঘুঁটি হতে দিও না। দাবির বিজয় অর্জিত হয়েছে, এবার বিজয়ীর বেশে ক্লাসরুমে ফিরে যাওয়ার সময়। দেশকে নিরাপদ করার কারিগর তো তোমরাই, তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখাও তোমাদেরই দায়িত্ব।

