কুষ্টিয়া অঞ্চলের তরুণদের মাঝে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার এবং আত্মকর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হলো প্রযুক্তিতে কুষ্টিয়া উৎসব। এই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল তরুণ ও নবীন উদ্যোক্তাদের নিয়ে আয়োজিত প্রাণবন্ত “উদ্যোক্তা সমাবেশ”।
প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নতুনদের মাঝে উদ্যোক্তা সুলভ মানসিকতা ছড়িয়ে দিতে এই সমাবেশটি এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
উদ্যোক্তা সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সফল নবীন উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা তাঁদের শূন্য থেকে শুরু করা ব্যবসার গল্প, স্ট্রাগল এবং সফলতার পেছনের রহস্য তুলে ধরেন উপস্থিত দর্শকদের সামনে। কীভাবে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা সম্ভব, সে বিষয়ে চমৎকার বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন বক্তারা।
এই আয়োজন কেবল সফলতার গল্পেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং যাঁরা নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন—তাঁদেরকে সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রবল উৎসাহ-উদ্দীপনা জোগাতে সমাবেশটি বড় ভূমিকা পালন করে।
‘প্রযুক্তিতে কুষ্টিয়া’-র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর-এর সভাপতিত্বে দুটি পৃথক সেশনে এই উদ্যোক্তা সমাবেশ সম্পন্ন হয়।
প্রথম সেশন: স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের পরিচিতি এবং তাঁদের যাত্রার গল্প।
দ্বিতীয় সেশন: প্রশ্নোত্তর পর্ব ও মেন্টরিং—যেখানে তরুণরা সরাসরি সফল উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার উপায় সম্পর্কে জানতে পারেন।
সভাপতির বক্তব্যে সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর কুষ্টিয়ার তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং ও তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি আইটি-উদ্যোক্তা (IT Entrepreneur) হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির সঠিক মেলবন্ধনে কুষ্টিয়ার তরুণরাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে।
কুষ্টিয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী জেলাগুলোতে যখন তরুণ সমাজ প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে, তখন এই ধরনের উদ্যোক্তা সমাবেশ তাঁদের ফ্রিল্যান্সিংয়ের গণ্ডি পেরিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসা দাঁড় করানোর সাহস জোগায়। নবীনদের নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ তৈরি এবং সরাসরি সফল মেন্টরদের সান্নিধ্য পাওয়াই ছিল এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

