রাগ পুরিয়া । অসুরের সুরলোকযাত্রা সিরিজ

শ্রোতা সহায়িকা নোট সিরিজে আজকের রাগ – রাগ পুরিয়া।  এই আর্টিকেলটির উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। আপডেট পেতে আবারো আসার আমন্ত্রণ রইলো।

SufiFaruq.com Logo 252x68 2 রাগ পুরিয়া । অসুরের সুরলোকযাত্রা সিরিজ

রাগ পুরিয়া

রাগ পুরিয়া হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের মারওয়া ঠাটের একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং গম্ভীর রাগ। এর সুরবিন্যাস শ্রোতার মনে এক ধরণের গভীর দার্শনিক চিন্তা ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তি তৈরি করে। এই রাগে কোমল ঋষভ, তীব্র মধ্যম আর বাকি চারটি শুদ্ধ স্বর ব্যবহার হয়। পঞ্চমের ব্যবহার নেই।

রাগ পুরিয়া: পরিচয় ও বিশেষত্ব

রাগ পুরিয়া (Puriya) মারওয়া ঠাটের একটি অতি প্রাচীন এবং মৌলিক রাগ। এটি মূলত সূর্যাস্তকালীন সন্ধিপ্রকাশ রাগ (দিন ও রাত্রির মিলনক্ষণ)। এই রাগের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর গাম্ভীর্য এবং মন্দ্র সপ্তকে (নিচু স্বরে) এর বিস্তার। পুরিয়া রাগে শিল্পী মূলত স্বরগুলোকে ধীরগতিতে এবং মিড়ের সাহায্যে উপস্থাপন করেন, যা এক ধরণের গভীর ধ্যানের পরিবেশ সৃষ্টি করে।

বিশেষত্বের দিক থেকে পুরিয়া এবং মারওয়া রাগের স্বর একই হলেও এদের চলন সম্পূর্ণ আলাদা। পুরিয়া রাগে গান্ধার (গ) এবং নিষাদ (নি) স্বরের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। এই রাগে ‘সা’ স্বরটিকে খুব বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় না, বরং নিষাদ ও গান্ধারের মাধ্যমে রাগটিকে ফুটিয়ে তোলা হয়। এটি মূলত বৈরাগ্য এবং শান্তি রসের রাগ।

রাগের শাস্ত্র

রাগ পুরিয়ার শাস্ত্রীয় নিয়ম ও গঠন নিচে দেওয়া হলো:

  • অন্যান্য নাম: পুরিয়া কল্যাণ (কিছু ঘরানায় মিশ্র রূপে), শুদ্ধ পুরিয়া।
  • ঠাট: মারওয়া।
  • জাতি: ষাড়ব-ষাড়ব (আরোহে ৬টি এবং অবরোহে ৬টি স্বর ব্যবহৃত হয়)।
  • আরোহ: নি দ রে গা ম ধ নি রেঁ সঁ (নোটেশন: নি় ধ় রে্গ ম্ ধ নি রেঁ সঁ — এখানে রে কোমল এবং ম কড়ি)।
  • অবরোহ: সঁ নি ধ ম গা রে সা (নোটেশন: সঁ নি ধ ম্ গ রে সা — এখানে রে কোমল এবং ম কড়ি)।
  • বাদী স্বর: গান্ধার (গ)।
  • সমবাদী স্বর: নিষাদ (নি)।
  • বর্জিত স্বর: আরোহ ও অবরোহ উভয় ক্ষেত্রেই পঞ্চম (প) স্বরটি সম্পূর্ণ বর্জিত।
  • ব্যবহৃত স্বর: ঋষভ (রে) হলো কোমল; মধ্যম (ম) হলো কড়ি বা তীব্র; এবং গান্ধার (গ), ধৈবত (ধ) ও নিষাদ (নি) হলো শুদ্ধ
  • সময়: দিন ও রাত্রির সন্ধিক্ষণ (বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা)।
  • প্রকৃতি: অত্যন্ত গম্ভীর, শান্ত এবং আধ্যাত্মিক।

 

সম্পর্কিত রাগের তালিকা

পুরিয়া রাগের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বা সম্পর্কিত রাগগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

  • রাগ মারওয়া: পুরিয়া ও মারওয়ার স্বর একই, তবে মারওয়ার বাদী স্বর ঋষভ (রে) এবং এটি মধ্য সপ্তকে বেশি গাওয়া হয়।
  • রাগ সোহিনী: সোহিনীতে পুরিয়ার মতো স্বর ব্যবহৃত হলেও এটি উচ্চ স্বরে (তার সপ্তক) গাওয়া হয় এবং এটি শেষ রাত্রির রাগ।
  • রাগ পুরিয়া ধনশ্রী: এতে পঞ্চম (প) এবং কোমল ধৈবত ব্যবহৃত হয়, যা পুরিয়া থেকে একে সম্পূর্ণ আলাদা মেজাজ দান করে।
  • রাগ ললিত: কিছু স্বরগত মিল থাকলেও ললিত রাগে শুদ্ধ ও কড়ি—উভয় মধ্যমের ব্যবহার একে পুরিয়া থেকে পৃথক করে।

রাগ পুরিয়া তার ধীরস্থির চলন এবং মন্দ্র সপ্তকের বিস্তারের মাধ্যমে মানুষের অন্তরাত্মাকে স্পর্শ করে। যারা সংগীতের গভীরতা এবং আধ্যাত্মিক দিকটি অন্বেষণ করতে চান, তাদের জন্য পুরিয়া এক আদর্শ রাগ। ‘সা’ স্বরকে প্রাধান্য না দিয়েও কীভাবে একটি রাগের পূর্ণ রূপ ফুটিয়ে তোলা যায়, পুরিয়া তার অনন্য উদাহরণ। সূর্যাস্তের ম্লান আলোয় এই রাগের আলাপ শ্রোতাকে এক ধরণের অপার্থিব প্রশান্তির জগতে নিয়ে যায়।

 

SufiFaruq.com Logo 252x68 3 রাগ পুরিয়া । অসুরের সুরলোকযাত্রা সিরিজ

 

 

 

SufiFaruq.com Logo 252x68 1 রাগ পুরিয়া । অসুরের সুরলোকযাত্রা সিরিজ

 

সিরিজের বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল সূচি: