রামচন্দ্রপুর জামে মসজিদের ওজুখানা নির্মাণে সুফি ফারুক ইবনে আবুবকরের সহায়তা: শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত গ্রাম

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে একটি ধর্মীয় উদ্যোগে সহায়তা দিয়েছেন তরুণ সমাজসেবক সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। আজ শুক্রবার (১৬ মার্চ, ২০০৭) জুমার নামাজের পর তিনি রামচন্দ্রপুর জামে মসজিদের ওজুখানা নির্মাণের লক্ষ্যে ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং গ্রামবাসীর সাথে মতবিনিময় করেন।

শৈশবের স্মৃতি ও নাড়ির টান

রামচন্দ্রপুর গ্রামটির সাথে সুফি ফারুকের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তিনি শৈশবে এখানে অসংখ্যবার এসেছেন এবং দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। তাঁর বড় ফুফা, প্রখ্যাত শিক্ষক ও ধার্মিক ব্যক্তিত্ব তোফাজ্জল হোসেন মাস্টারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি এই উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত হন। ফুফুর বাড়িতে কাটানো সেই দিনগুলোর স্মৃতি সুফি ফারুকের মনে এই গ্রামের প্রতি এক বিশেষ মমত্ববোধ তৈরি করেছে।

গ্রামবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান:

ওজুখানা নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর ও আলোচনা সভায় সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই গ্রামটি আমার কাছে নিজের গ্রামের মতোই। ছোটবেলায় এখানকার ধুলোবালিতে খেলেছি, বড় ফুফুর আদরে বড় হয়েছি এবং এখানকার স্কুলগুলোতে বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়িয়েছি। তাই স্মৃতিবিজড়িত এই গ্রামের যেকোনো উন্নয়নে অংশ নিতে পারা আমার জন্য পরম আনন্দের ও প্রশান্তির।”

তিনি আরও যোগ করেন, “মসজিদ আল্লাহর ঘর। এর ওজুখানা নির্মাণের মাধ্যমে মুসল্লিদের কষ্ট লাঘব হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষুদ্র প্রয়াস চালিয়েছি, তবে আপনাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই কাজকে পূর্ণতা দিতে পারে।” তিনি স্থানীয় বিত্তবান ও সাধারণ গ্রামবাসীকেও এই নির্মাণকাজে সাধ্যমতো সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া:

তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার ও মসজিদের মুসল্লিরা সুফি ফারুকের এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, বর্তমান প্রজন্মের একজন তরুণ হয়েও নিজের শেকড়কে ভুলে না যাওয়া এবং ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে এগিয়ে আসা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

অনুষ্ঠানে মসজিদের ইমাম সাহেব, পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মোনাজাতের মাধ্যমে ওজুখানা নির্মাণের শুভ সূচনা এবং দেশ ও দশের মঙ্গল কামনা করা হয়।

আরও দেখুন: