শুভ জন্মদিন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ রেহানা

শেখ রেহানা—বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা। বাবা যখন সদ্য স্বাধীন একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, তখনও এই কন্যার অতি সাধারণ চালচলন দেখে তা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। বাবার পতাকাবাহী সরকারি গাড়িতে চড়ে কখনোই স্কুলে যাননি তিনি।

মেয়ের সেবার এসএসসি (তৎকালীন মেট্রিক) পরীক্ষা। পরীক্ষাকেন্দ্র পড়েছে ধানমন্ডি বয়েজ স্কুলে। স্নেহময় বাবা প্রস্তাব করলেন, “আমার অফিস যাওয়ার পথেই তো পরীক্ষাকেন্দ্র, তোকে আমি নামিয়ে দেবো।” কিন্তু আত্মপ্রত্যয়ী মেয়ে নারাজ! বাবার সরকারি গাড়িতে চড়ে তিনি পরীক্ষা দিতে যাবেন না। সে বছর এসএসসি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে মেয়েদের মধ্যে অষ্টম স্থান অধিকার করেছিলেন এই কৃতি কিশোরী।

বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা'র জন্মদিনে প্রাণঢালা অভিনন্দন - সুফি ফারুক
বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা’র জন্মদিনে প্রাণঢালা অভিনন্দন

সবার আশা ছিল, এইচএসসিতে (ইন্টারমিডিয়েট) তিনি আরও ভালো ফলাফল করবেন। প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন সেভাবে। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে তাঁর আর এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া হয়ে ওঠেনি। তার আগেই ঘনিয়ে আসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই নারকীয় কালো রাত। ঘাতকের বুলেটে নিহত হন বাবা-মা-ভাইসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য। বড় বোন শেখ হাসিনার সাথে তখন দেশের বাইরে থাকায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তিনি। এরপর শুরু হয় এক দীর্ঘ নির্বাসিত ও সংগ্রামী জীবন।

পরবর্তীতে একাধিকবার সুযোগ এসেছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার, কিন্তু ক্ষমতার মোহ কোনোদিন তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। বড় বোন চার মেয়াদে দেশের প্রধানমন্ত্রী, নিজের সুযোগ্য কন্যা টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য; অথচ বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে সবসময় সাধারণ মানুষের কাতারেই থাকতে পছন্দ করেন। ক্ষমতার আলো ঝলমলে বলয় থেকে দূরে থেকে তিনি সাধারণ জীবনের এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

লন্ডনের সাধারণ জীবনযাপন, মানুষের জন্য নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর পর্দার আড়ালে থেকে বড় বোনকে শক্তি জোগানো—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন ত্যাগের এক অনন্য প্রতীক।

শুভ জন্মদিন বাঙালির প্রিয় ‘ছোট আপা’ শেখ রেহানা! আপনার নিরহংকার ও সংগ্রামী জীবন আগামী প্রজন্মের জন্য সবসময় অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

Leave a Comment