হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ব্যাকরণ বা শাস্ত্র- সূচি | অসুরের সুরলোকযাত্রা সিরিজ

হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের বিশাল ইমারত মূলত দুটি প্রধান ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে— সুর এবং তাল। সংগীতের এই ব্যাকরণগত কাঠামোকে অনেক সময় অত্যন্ত মরমী এক উপমায় ব্যাখ্যা করা হয়; যেখানে সুরকে তুলনা করা হয় ‘মা’-এর সাথে আর তালকে অভিহিত করা হয় ‘বাবা’ হিসেবে। একটি শিশুর জীবনে যেমন মা ও বাবা উভয়ের উপস্থিতি অপরিহার্য, শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রাণভোমরাও তেমনি এই দুইয়ের নিবিড় মিলনে স্পন্দিত হয়। সুর যেখানে একটি রাগের আবেগ, মাধুর্য এবং আধ্যাত্মিক অবয়ব তৈরি করে, তাল সেখানে সেই আবেগকে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ও শৃঙ্খলায় বেঁধে রাখে। এই সুর ও তালের এমন অঙ্গাঙ্গী ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত সৃষ্টি করে এক অপার্থিব সংগীত, যা শ্রোতাকে পার্থিব জগতের ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়।

 

রাগা মাধব, 'শাংরি রামায়ণ' সিরিজের দ্বিতীয় মাস্টার (চিত্রশিল্পী) দ্বারা অঙ্কিত। সম্ভবত বাহু, সময়কাল আনুমানিক ১৭২০ খ্রিস্টাব্দ। রিটবার্গ মিউজিয়াম।
রাগা মাধব, ‘শাংরি রামায়ণ’ সিরিজের দ্বিতীয় মাস্টার (চিত্রশিল্পী) দ্বারা অঙ্কিত। সম্ভবত বাহু, সময়কাল আনুমানিক ১৭২০ খ্রিস্টাব্দ। রিটবার্গ মিউজিয়াম।

 

যদিও সংগীতের এই যাত্রায় সুর এবং তাল দুটিই সমান গুরুত্বের দাবিদার, তবুও সুরের জগৎটি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বিস্তৃত এবং বৈচিত্র্যময়। একটি রাগের গাম্ভীর্য অনুধাবন করা বা তার স্বরপ্রয়োগের সূক্ষ্ম কারুকাজগুলো চেনার জন্যই একজন শ্রোতাকে সবচেয়ে বেশি সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি যখন এই সংগীতের সমুদ্রে ডুব দিয়েছিলাম, তখন প্রথম দিকে কেবল ভালো লাগার টানেই শুনতাম। কিন্তু শোনার একটি পর্যায়ে এসে যখন এই রাগের ব্যাকরণ ও তাত্ত্বিক বিষয়গুলো পড়ার সুযোগ হলো, তখন আমার উপলব্ধির দিগন্তটি সম্পূর্ণ বদলে গেল। এখন মাঝে মাঝে মনে হয়, শাস্ত্রীয় সংগীত শোনার একদম শুরুর দিনগুলোতেই যদি এই নিয়মগুলো একটু পড়ে নিতাম, তবে হয়তো সুরের এই বিশাল গোলকধাঁধায় পথ খুঁজে পাওয়া আরও সহজ হতো। সেই তত্ত্বজ্ঞান থাকলে আমার এই শোনার জার্নিটা যেমন আরও অনেক বেশি আরামদায়ক হতো।

গান বাজনা মানে শব্দের খেলা। শব্দ দিয়ে ছবি এঁকে যাওয়া। পৃথিবীর যেকোনো শব্দকেই শাস্ত্রে বলে “নাদ“। এই বিষয়টি একটি পর্যায়ে নিতান্তই বুকিশ বিষয়। আপনার শুধুমাত্র জানার আগ্রহ থাকলে নাদ এর লিংকটি ঘুরে আসতে পারেন।

 

SufiFaruq.com Logo 252x68 2 হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ব্যাকরণ বা শাস্ত্র- সূচি | অসুরের সুরলোকযাত্রা সিরিজ

 

সারিতা পাঠক এর টিউটোরিয়াল:

 

SufiFaruq.com Logo 252x68 1 হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ব্যাকরণ বা শাস্ত্র- সূচি | অসুরের সুরলোকযাত্রা সিরিজ

 

সব সুরের ভিত্তি স্বর। একটি স্বরের উপরে সঠিকভাবে দাঁড়ালে বা ঠিক কায়দায় একটি স্বর থেকে অন্য স্বরে গেলেই হয় সুর । সেজন্য সুর জন্য স্বর-কে ঠিকমতো চিনে নেয়া দরকার। যে ৭ টি স্বর দিয়ে সব ধরনের গান বাজনা হয়, সেই ৭ স্বরের সেটকে বলে সপ্তক

স্বরের মধ্যের ছোট ছোট বিভক্তির নাম শ্রুতি। ইম্পেরিয়াল ইঞ্চি মাপার স্কেলে, আমেরিকান কাস্টমারির ছোট মিলি-সেন্টিমিটারের ভাগের মত। স্বরের রূপটা কানে বসার পরে শ্রুতি বোঝার কাজ শুরু করা যায়।

স্বর-সুর বোঝার পাশাপাশি বোঝা দরকার তাল। একই তালের মধ্যে গতির বৈচিত্র্য বোঝার জন্য, বোঝা দরকার লয়। এগুলো সম্পর্কে ধারনার জন্য তাল, ঠেকা, লয়- সূচি যুক্ত করা হল। ওই সূচিতে তাল বিষয়ক আরও আর্টিকেল পাওয়া যাবে।

একটি লাইন মনে রাখলে আগাতে সুবিধা হবে। সেটা হল – নাদ থেকে শ্রুতি, শ্রুতি থেকে স্বর, স্বর থেকে সপ্তক, সপ্তক থেকে রাগ এর সৃষ্টি। আর রাগগুলোর গ্রুপ করা হয়েছে ঠাট সিস্টেম দিয়ে।

 

SufiFaruq.com Logo 252x68 3 হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ব্যাকরণ বা শাস্ত্র- সূচি | অসুরের সুরলোকযাত্রা সিরিজ

 

এ বিষয়ে ব্যবহারিক উদাহরণ সহ জানতে পণ্ডিত ভাতখান্ডের সঙ্গীত শিক্ষা টিউটোরিয়াল (সম্পূর্ণ):

 

হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ব্যাকরণ ছাড়াও অন্যান্য আর্টিকেল পড়ুন:

Leave a Comment