বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (ICT Division) প্রস্তাবিত ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০১৫’-এর ওপর জনগণের মতামত চেয়েছে।
আমরা তথ্যপ্রযুক্তির মহাসড়কে যেভাবে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছি, তাতে সাইবার ঝুঁকি আজ আর কোনো কাল্পনিক বিষয় নয়—এটি এক রূঢ় বাস্তবতা। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের একটি বড় অংশ এখন ইন্টারনেটনির্ভর। তাই এই সাইবার জগৎকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও গতিশীল রাখতে একটি যুগোপযোগী, প্রয়োগযোগ্য এবং ন্যায্য আইন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
রাষ্ট্রের প্রয়োজনে আইন প্রণয়ন কিংবা বিদ্যমান আইন হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া সরকারের রুটিন দায়িত্ব। তাঁরা ভালো কিংবা খারাপ—যেকোনো একটা খসড়া তৈরি করবেই। সরকার আইন বানাচ্ছে দেখে আমরা হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—সরকারকে ঢালাওভাবে গালি দেওয়ার চেয়ে বা খারাপ আইনের দায়ে অভিযুক্ত করার চেয়ে, গঠনমূলক মতামত দিয়ে একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর আইন তৈরিতে সহায়তা করা অনেক বেশি ফলপ্রসূ। একটি সঠিক ও জনবান্ধব আইন তৈরিতে আমরা যদি আজ সামান্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই, তবে দিনশেষে লাভবান হব আমরাই। এটি কেবল নাগরিক অধিকার নয়, পেশাজীবী হিসেবে আমাদের দায়িত্বশীলতারও পরিচয়।
সংশ্লিষ্ট সকল পেশাজীবীর প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ:
আপনার ব্যস্ততার কারণে হয়তো বিস্তারিত মতামত দেওয়ার সময় নেই, কিন্তু তা সত্ত্বেও অন্তত একবার খসড়া আইনটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে দেখুন।
মনে রাখবেন—কাউকে গালি দিতে বা ঢালাও সমালোচনা করতে কোনো জ্ঞান বা পড়াশোনার দরকার হয় না। কিন্তু একটি সমস্যার সঠিক সমাধান জানতে হলে এবং গঠনমূলক বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করতে হলে সমস্যাটির একদম মূলে পৌঁছানো দরকার। সেই গভীরতা অর্জন করতে হলে পড়ার কোনো বিকল্প নেই।
তাই আসুন, সস্তা সমালোচনার বলয় থেকে বেরিয়ে এসে তথ্যপ্রযুক্তির এই ঐতিহাসিক বাঁকবদলে নিজেদের মেধা ও মননশীলতার স্বাক্ষর রাখি। নিচে দেওয়া লিঙ্কে গিয়ে অন্তত একবার খসড়া আইনটি ঘুরে আসুন:
http://www.ictd.gov.bd/…/86176c1b-77d9-4144-b39d-79e2ee8b65…
