সুরে সুরে ওগো তোমায় ছুঁয়ে যাই গানটি রাগাশ্রয়ী বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে খুব প্রিয় একটি গান। এই গানটির কথা লিখেছিলেন ও সুর দিয়েছিলেন সঙ্গীতাচার্য জ্ঞান প্রকাশ ঘোষ। গানটি গেয়েছেন তারই শিষ্য পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী। সুগম সঙ্গীত রচনায় গানের কথা অন্যান্য কবি ও গীতিকার দিয়ে গান রচনা করিয়ে জ্ঞানবাবু নিজে সুর দিয়েছেন। আবার কখনো অন্য গীতিকার ও সুরকারের গান ও সম্প্রচারিত হয়েছে রেডিও মারফৎ। জ্ঞানবাবুকৃত সুরের বাঁধনে সৃষ্ট সুগমসঙ্গীত জ্ঞানবাবু সমসাময়িক বহু গুণী শিল্পী রেডিওতে গেয়েছেন।

সুরে সুরে ওগো তোমায় ছুঁয়ে যাই
সুরে সুরে ওগো তোমায় ছুঁয়ে যাই
আমি সুরে সুরে ওগো তোমায় ছুঁয়ে যাই
নাইবা পেলাম দরশ তোমার তোমার
নাইবা পেলাম দরশ তোমার তোমার
গানে গানে যদি তোমায় পাই
তোমায় ছুঁয়ে যাই
আমি সুরে সুরে ওগো তোমায় ছুঁয়ে যাই
তোমায় চেয়ে সারা বেলা
কাটল নিয়ে সুরের খেলা (২)
এবার আমার গানের ভেলা
তোমার চরণ কুলে ভিড়াই
তোমায় ছুঁয়ে যাই
আমি সুরে সুরে ওগো তোমায় ছুঁয়ে যাই
যুগে যুগে প্লাবন আনি
যে সুর চরাচরে
জানি সে যে তোমারই
প্রেম উপর হতে ঝরে
যে মন্ত্রে আজ তোমায় পুজি
ছন্দে গানে তোমায় খুঁজি
তোমার দেয়া সে দান বুঝি
সেই ভরসায় তোমায় চাই

Line by Line Meaning
সুরে সুরে ওগো তোমায় ছুঁয়ে যাই
I touch you through my music
আমি সুরে সুরে ওগো তোমায় ছুঁয়ে যাই
I touch you through my music
নাইবা পেলাম দরশ তোমার
I am blessed to see you in person
গানে গানে যদি তোমায় পাই
If I find you in every note of my song
তোমায় ছুঁয়ে যাই
I touch you
তোমায় চেয়ে সারা বেলা
Throughout the day, I long for you
কাটলো নিয়ে সুরের খেলা
Passing my time in the game of music
এবার আমার গানের ভেলা
Now, my songs are filled with your essence
তোমার চরণ কূলে ভিড়াই
I touch your feet with reverence
যুগে যুগে প্লাবন আনে যে সুর চরাচরে
From age to age, the melody flows endlessly
জানি সে যে তোমারই প্রেম উপর হতে ঝরে
I know, it is your love that descends on me
যে মন্ত্রে আজ তোমায় পূজি
In the mantra I chant, I worship you today
ছন্দে-গানে তোমায় খুঁজি
In every rhyme and every song, I search for you
তোমার দেওয়া সে দান বুঝি
I understand that everything I have is given by you
সেই ভরসায় তোমায় চাই
I seek and trust you with unwavering faith
নাইবা পেলাম দরশ তোমার তোমার
I am blessed to see you in person

পণ্ডিত জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের প্রধানত রাগাশ্রয়ী গানে অপরিসীম উচ্চমার্গের সৃষ্টিশীলতা ছাড়াও সঙ্গীতের সমস্ত ধারার গানেই তাঁর সাংগীতিক কর্ম লক্ষ্য করা যায়। বহু সঙ্গীতশিল্পী বহুবিধ সঙ্গীত উপস্থাপনার বিশ্লেষণে জ্ঞানবাবু যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যা ভারতবর্ষের সভ্যতা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারণ ও বহণে এক অনন্য সম্পদসম। এছাড়াও জ্ঞানবাবুর আর একটি কীর্ত্তি হল রাগাশ্রয়ী বাংলা গান রচনা ও সুরারোপ, যার ব্যাপ্তি ভারতীয় সাংগীতিক পরিমণ্ডলে একটা স্বাতন্ত্রতাপূর্ণ জায়গা করে নিতে পেরেছিল।
বাংলাগানের সঙ্গে শৈশবকাল থেকেই জ্ঞানবাবুর পরিচিতি। রবীন্দ্রসঙ্গীত যেখানে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছে ভাব, ভাষা, শব্দচয়ন – যা একজন সৃষ্টিশীল মানুষের সৃষ্টির জন্মগত প্রতিভার গোড়াপত্তন তৈরি করতে। পরবর্তীকালে এরই প্রতিফলন ঘটেছে জ্ঞানবাবুর নিজস্ব ধারার সৃষ্টিশীল বাংলা গান রচনার ক্ষেত্রে। নজরুল গীতির সঙ্গেও জ্ঞানবাবুর ঘনিষ্ঠ আত্মিক সম্পর্ক ছিল জীবনকালের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংগীতিক চর্চায় ও মানসিকভাবে।
এম.এ পঠনপাঠনরত সময়ে জ্ঞানবাবু গ্রামোফোন কোম্পানিতে নজরুলগীতি রেকর্ড করার সুযোগ আসার গল্প করেছেন জ্ঞানবাবু নিজেই তাঁর স্মৃতিচারণায়। কিন্তু বিশেষ কিছু কারণে সেই রেকর্ড আর করা হয়নি। এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম সাহেবের গানের সঙ্গে নানা রাগের বাঁধুনির, স্বরের বিন্যাসের একটা চর্চা হয়েছে জ্ঞানবাবুর এবং এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয় যে, অগ্রগণ্য একত্রে দুই সুরকার ও গীতিকার – একাধারে যাঁরা, পরবর্তী প্রজন্ম সেই সৃষ্টির শোনা, শেখা, চর্চা এবং সর্বোপরি নিজস্ব সৃষ্টিশীল প্রতিভার দ্বারা কথা, শব্দচয়ন অথবা রাগভিত্তিক গানে স্বরের বিন্যাস, সুরের মাধ্যমে কথার ভাব বজায় রেখে গানের রাগভিত্তিক মাধুর্যতাকে সঙ্গে নিয়ে শিল্পসত্ত্বাকে ফুটিয়ে তোলার বিষয়গুলিতে পূর্ববর্তী সৃষ্টিশীলতার প্রভাব সাহায্য করেছে জ্ঞানবাবুর ক্ষেত্রে, যার উদাহরণ হিসেবে অনুমান করা যায় জ্ঞানবাবুর বর্ণিত স্মৃতিচারণায়।
জীবনের নানা কালে নানা গানের চর্চার গল্পের মধ্যে দিয়ে। গানে সুর প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি শ্রী কৃষ্ণচন্দ্র দে মহাশয়কে সিদ্ধ পুরুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন। আবার তুলসী লাহিড়ী মহাশয়ের রাগপ্রধান অঙ্গের বাংলা গান সৃষ্টি, অর্থাৎ কথা ও সুর দুই–এর সৃষ্টির চর্চাও জ্ঞানবাবু তাঁর পূর্ববর্তী সুরকার ও গীতিকার হিসেবে।
