“অসুরের সুরলোকযাত্রা” সিরিজের এই পর্বে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রচলিত ও অপ্রচলিত রাগগুলোর একটি তালিকা তৈরি করা শুরু হলো।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন—ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রধান দুটি ধারা রয়েছে: উত্তর ভারতীয় বা ‘হিন্দুস্তানি’ এবং দক্ষিণ ভারতীয় বা ‘কর্ণাটকি’। এই দুই ধারার রাগপদ্ধতি ও চলন ভিন্ন। এই তালিকায় শুধুমাত্র হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের রাগগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কর্ণাটকি রাগগুলো এখানে রাখা হয়নি। তবে দক্ষিণ ভারতের যে কয়েকটি রাগ উত্তর ভারতীয় সংগীতে সম্পূর্ণভাবে গৃহীত হয়েছে এবং হিন্দুস্তানি নিয়মেই গাওয়া হয়, কেবল সেগুলোই এই তালিকায় এসেছে।
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে রাগের মোট সংখ্যা কত, তার কোনো সুনির্দিষ্ট বা চূড়ান্ত পরিসংখ্যান নেই। পুনেতে আয়োজিত সওয়াই গন্ধর্ব ভীমসেন উৎসবে পারফর্ম করার আগে ওস্তাদ বিলায়েত খাঁ সাহেব উল্লেখ করেছিলেন, “হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রায় চার লাখ রাগের রূপ বা সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে অনেক রাগের স্বরবিন্যাস কাছাকাছি হলেও সেগুলো ভিন্ন নামে পরিচিত।”
বর্তমানে সংগৃহীত এই তালিকায় মোট ১১৬৪টি রাগের নাম যুক্ত করা হয়েছে। তালিকাটি দীর্ঘ হওয়ায় কোনো নাম বাদ পড়ে যাওয়া অসম্ভব নয়। আপনারা যদি দেখেন কোনো প্রামাণ্য রাগের নাম এখানে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, তবে কমেন্টে জানালে তা তালিকায় যোগ করে নেওয়া হবে।
সকল প্রচলিত-অপ্রচলিত রাগের তালিকা
অ – আ
- অগ্নি-ললিত (Agni-Lalit): মারওয়া বা তোড়ি অঙ্গের একটি দুর্লভ অপ্রচলিত রাগ।
- অচোব / আছোব (Achob): একটি অতি প্রাচীন ও দুর্লভ ওস্তাদি রাগ।
- অচ্যুত-বিলাবল (Achyut-Bilaval): বিলাবল ঠাটের একটি অপ্রচলিত জোড় রাগ।
- অজদ / আজাদ (Ajad): বিলাবল বা খামাজ অঙ্গের একটি দুর্লভ মিশ্র রাগ।
- অজয় (Ajay): বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত একটি আধুনিক অপ্রচলিত রাগ।
- অজয় ধন্যশ্রী (Ajay Dhanyashri): ধন্যশ্রী রাগের একটি বিশেষ প্রকারভেদ।
- অজয় রঞ্জনী (Ajay Ranjani): রঞ্জনী অঙ্গের একটি অপ্রচলিত রূপ।
- অজয় ললিত (Ajay Lalit): ললিত রাগের একটি ওস্তাদি জোড় প্রকার।
- অজয়-কৌঁষ (Ajay-Kauns): মালকৌঁস বা চন্দ্রকৌঁস অঙ্গের একটি দুর্লভ মিশ্রণ।
- অঞ্জনী (Anjani): কাফি বা খামাজ ঠাটের একটি অপ্রচলিত রাগ।
- অঞ্জনী কল্যাণ (Anjani Kalyan): কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত একটি সুন্দর অপ্রচলিত রাগ।
- অঞ্জনী টোড়ি (Anjani Todi): তোড়ি ঠাটের একটি দুর্লভ ও প্রাচীন প্রকারভেদ।
- অঞ্জনী-বিলাবল (Anjani-Bilaval): বিলাবল ঠাটের একটি ওস্তাদি অপ্রচলিত রূপ।
- অটল (Atal): বিলাবল অঙ্গের একটি শান্ত ও স্থির প্রকৃতির দুর্লভ রাগ।
- অতুল (Atul): খামাজ বা বিলাবল থাটের অন্তর্গত একটি অপ্রচলিত রূপ।
- অতুল রঞ্জনী (Atul Ranjani): রঞ্জনী পরিবারের একটি দুর্লভ রাগ।
- অতুল-টোড়ি (Atul-Todi): তোড়ি ঠাটের অন্তর্গত একটি ওস্তাদি প্রকার।
- অদিতি (Aditi): বিলাবল অঙ্গের একটি আধুনিক অপ্রচলিত রাগ।
- অদ্ভুত কল্যাণ (Adbhut Kalyan): মধ্যম ও নিষাদ বর্জিত কল্যাণ অঙ্গের অত্যন্ত বিখ্যাত এক অপ্রচলিত রাগ।
- অদ্ভুত রঞ্জনী (Adbhut Ranjani): তোড়ি বা ভৈরবীর স্বর বিশিষ্ট একটি আধুনিক দুর্লভ রাগ।
- অপূর্ব কল্যাণ (Apurva Kalyan): কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত ঔডব জাতির একটি চমৎকার রাগ।
- অমর কল্যাণ (Amar Kalyan): কল্যাণ ঠাটের একটি অপ্রচলিত জোড় রাগ।
- অমর কানাড়া (Amar Kanada): কানাড়া অঙ্গের একটি ওস্তাদি মিশ্র রূপ।
- অমল কান্ত (Amal Kanti): বিলাবল ঠাটের একটি অপ্রচলিত রূপ।
- অমৃত কল্যাণ (Amrit Kalyan): কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত একটি সুমধুর অপ্রচলিত রাগ।
- অমৃত ধন্যশ্রী (Amrit Dhanyashri): কাফি ঠাটের অন্তর্গত একটি দুর্লভ প্রকারভেদ।
- অমৃত রঞ্জনী (Amrit Ranjani): মারওয়া বা পূর্বী ঠাটের স্বরবিন্যাস যুক্ত দক্ষিণ ভারতীয় মেলকর্তা থেকে আগত রাগ।
- অমৃত সারং (Amrit Sarang): সারং পরিবারের একটি অপ্রচলিত ও সুমধুর রাগ।
- অমৃতবর্ষিণী (Amritavarshini): কল্যাণ ঠাটের তীব্র মধ্যম ও শুদ্ধ নিষাদ যুক্ত দক্ষিণ ভারতীয় অত্যন্ত জনপ্রিয় ও চমৎকার রাগ।
- অম্বরী (Ambari): খামাজ বা বিলাবল ঠাটের একটি অপ্রচলিত রূপ।
- অম্বরী-বিলাবল (Ambari-Bilaval): বিলাবল ঠাটের একটি ওস্তাদি প্রকার।
- অম্বিকা (Ambika): খামাজ ঠাটের অন্তর্গত একটি দুর্লভ রাগ।
- অম্বিকা ভৈরব (Ambika Bhairav): ভৈরব অঙ্গের একটি অপ্রচলিত রূপ।
- অম্বিকা-টোড়ি (Ambika-Todi): তোড়ি ঠাটের একটি অতি প্রাচীন দুর্লভ প্রকার।
- অরি (Ari): কাফি বা বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত একটি ওস্তাদি অপ্রচলিত রাগ।
- অরুণ কাইসো (Arun Kaiso): মারওয়া বা খামাজ অঙ্গের একটি দুর্লভ মিশ্রণ।
- অরুণ কান্ত (Arun Kanti): কল্যাণ ঠাটের একটি অপ্রচলিত রূপ।
- অরুণ ভৈরব (Arun Bhairav): ভৈরব ঠাটের অন্তর্গত একটি সুন্দর প্রাতঃকালীন রাগ।
- অরুণ মল্লার (Arun Malhar): মল্লার পরিবারের একটি প্রামাণ্য অপ্রচলিত রাগ।
- অরুণ মালকোষ (Arun Malkauns): মালকৌঁস রাগের একটি বিশেষ ওস্তাদি রূপান্তর।
- অরুণ রঞ্জনী (Arun Ranjani): ভৈরব বা পূর্বী অঙ্গের একটি অপ্রচলিত প্রকার।
- অরুণ-কল্যাণ (Arun-Kalyan): কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত একটি দুর্লভ মিশ্র রাগ।
- অলহৈয়া (Alhaiya): বিলাবল অঙ্গের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিপ্রস্তর।
- অলহৈয়া বিলাবল (Alhaiya Bilaval): পণ্ডিত ভাতখণ্ডে বর্ণিত বিলাবল ঠাটের প্রধান ও সর্বাধিক প্রচলিত প্রামাণ্য রাগ।
- অহিভৈরব / অহীর ভৈরব (Ahi Bhairav / Ahir Bhairav): ভৈরব এবং কাফি/ভৈরবীর মিশ্রণে তৈরি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গভীর প্রকৃতির রাগ।
- অহি-ললিত / অহীর ললিত (Ahir Lalit): ললিত ও অহীর ভৈরবের সংমিশ্রণে তৈরি প্রাতঃকালীন ওস্তাদি জোড় রাগ।
- অহীরি টোড়ি (Ahiri Todi): তোড়ি ঠাটের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও ওস্তাদি প্রকারভেদ।
- অহীরি (Ahiri): ভৈরব বা আসাবরী থাটের মধ্যবর্তী অত্যন্ত করুণ রসের একটি প্রাচীন রাগিনী।
- অহীরি কাফি (Ahiri Kafi): কাফি ও অহীরি অঙ্গের মিশ্র রাগ।
- আকাশি (Akashi): বিলাবল বা খamাজ ঠাটের অন্তর্গত একটি আধুনিক অপ্রচলিত রাগ।
- আড়ানা (Adana): আসাবরী ঠাটের অন্তর্গত কানাড়া অঙ্গের একটি অত্যন্ত বীররস প্রধান ও চঞ্চল গতিশীল রাগ।
- আড়ানা বাহার (Adana Bahar): আড়ানা এবং বাহার রাগের একটি সুমধুর ওস্তাদি জোড় রাগ।
- আড়ানা মালকোষ (Adana Malkauns): আড়ানা এবং মালকৌঁস রাগের একটি দুর্লভ মিশ্রণ।
- আড়ানা মালহার (Adana Malhar): আড়ানা এবং মল্লার রাগের বর্ষাকালীন জোড় রাগ।
- আড়ানা-কানাড়া (Adana-Kanada): কানাড়া অঙ্গের একটি অত্যন্ত প্রামাণ্য প্রকারভেদ।
- আড়ানা-সারং (Adana-Sarang): আড়ানা এবং সারং রাগের সংমিশ্রণে সৃষ্ট মধ্যাহ্নের রাগ।
- আদম্বেরী কানাড়া (Adambari Kanada): কানাড়া পরিবারের একটি অত্যন্ত প্রামাণ্য ও ঐতিহ্যবাহী অপ্রচলিত রাগ।
- আদম্বেরী কেদার / আদমবাড়ি কেদার (Adambari Kedar): কেদার রাগের একটি অতি প্রাচীন আলংকারিক রূপ।
- আদিত্য (Aditya): বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত একটি আধুনিক অপ্রচলিত রাগ।
- আদি বসন্ত (Adi Basant): মারওয়া বা পূর্বী ঠাটের অন্তর্গত বসন্ত রাগের একটি অতি প্রাচীন মূল রূপ।
- আনন্দ কৌঁষ (Anand Kauns): মালকৌঁস ও চন্দ্রকৌঁসের মধ্যবর্তী একটি অত্যন্ত মধুর অপ্রচলিত রাগ।
- আনন্দ ভৈরব (Ananda Bhairav): ভৈরব ঠাটের অন্তর্গত একটি প্রাচীন ও প্রামাণ্য ওস্তাদি রাগ।
- আনন্দ মালকোষ (Anand Malkauns): মালকৌঁস রাগের একটি দুর্লভ প্রকারভেদ।
- আনন্দ রঞ্জনী (Anand Ranjani): খামাজ বা বিলাবল অঙ্গের একটি আধুনিক অপ্রচলিত রাগ।
- আনন্দ লীলা (Anand Leela): বিলাবল ঠাটের একটি অত্যন্ত মধুর চঞ্চল প্রকৃতির রাগ।
- আনন্দী / নান্দ (Anandi / Nand): পণ্ডিত ভাতখণ্ডে ও সমস্ত ঘরানায় সমাদৃত অত্যন্ত কল্যাণময় ও পরম সুমধুর একটি প্রধান প্রামাণ্য রাগ।
- আনন্দী বাহার (Anandi Bahar): নান্দ এবং বাহার রাগের একটি সুন্দর জোড় রাগ।
- আনন্দী কেদার (Anandi Kedar): নান্দ এবং কেদার রাগের মিশ্রণ।
- আন্দোলিকা (Andolika): কাফি ঠাটের স্বর বিশিষ্ট দক্ষিণ ভারতীয় মেলকর্তা থেকে আগত অত্যন্ত মিষ্টি একটি রাগ।
- আভেরি / অভিরি (Abheri): কাফি ঠাটের অন্তর্গত সম্পূর্ণ জাতির একটি অত্যন্ত করুণ ও ভক্তিপ্রধান রাগ।
- আভেরি কানাড়া (Abheri Kanada): আভেরি এবং কানাড়া অঙ্গের মিশ্র রাগ।
- আভেরি ভৈরবী (Abheri Bhairavi): ভৈরবী ও আভেরি অঙ্গের সংমিশ্রণ।
- আভোগী / আভোগী কানাড়া (Abhogi / Abhogi-Kanada): কাফি ঠাটের অন্তর্গত আরোহ ও অবরোহে পঞ্চম ও নিষাদ বর্জিত অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বিখ্যাত একটি রাগ।
- আভোগী ডাগর (Abhogi Dagar): ডাগর ঘরানার ধ্রুপদী চলন বিশিষ্ট আভোগী রাগের রূপ।
- আভোগী মালকোষ (Abhogi Malkauns): আভোগী এবং মালকৌঁস রাগের স্বরবিন্যাসের একটি মিশ্রণ।
- আরাভি (Arabi): বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত ঔডব-সম্পূর্ণ জাতির দক্ষিণ ভারতীয় পদ্ধতি থেকে সংগৃহীত অত্যন্ত বীররস প্রধান প্রামাণ্য রাগ।
- আশাভৈরব / আসা ভৈরব (Asa Bhairav): আসা এবং ভৈরব রাগের সংমিশ্রণে তৈরি একটি সুন্দর ওস্তাদি জোড় রাগ।
- আসা (Asa): বিলাবল বা কাফি ঠাটের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাগ (শিখ ধর্মে গুরু গ্রন্থ সাহিবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)।
- আসা কাফি (Asa-Kafi): আসা এবং কাফি রাগের একটি প্রামাণ্য মিশ্র রূপ।
- আসা মানদ / আসা মান্দ (Asa Mand): আসা এবং মাণ্ড রাগের চঞ্চল প্রকৃতির জোড় রাগ।
- আসা টোদি / আসা-আসাবরী-টোড়ি (Asa-Asavari-Todi): আসা, আসাবরী এবং তোড়ি রাগের একটি অত্যন্ত জটিল ত্র্যঙ্গ মিশ্র রাগ।
- আসা-আসারি / আসা-আসাবরী (Asa-Asavari): আসা এবং আসাবরী রাগের প্রামাণ্য জোড় রাগ।
- আসা-গান্ধারী (Asa-Gandhari): আসা এবং গান্ধারী রাগের মিশ্রণ।
- আসা-দেশ (Asa-Desh): আসা এবং দেশ রাগের সংমিশ্রণ।
- আসা-দেশকার (Asa-Deshkar): আসা এবং দেশকার রাগের একটি দুর্লভ প্রকাশ।
- আসা-বিলাবল (Asa-Bilaval): আসা এবং বিলাবল রাগের জোড় রাগ।
- আসা-ভৈরব-বাহার (Asa-Bhairav-Bahar): আসা, ভৈরব এবং বাহার রাগের ত্র্যঙ্গ জটিল মিশ্র রূপ।
- আসা-ভৈরবী (Asa-Bhairavi): আসা এবং ভৈরবী রাগের জোড় রাগ।
- আসাবরী (Asavari): আসাবরী ঠাটের জনক এবং প্রাতঃকালের অন্যতম প্রধান করূণ রসের গম্ভীর প্রামাণ্য রাগ।
- আসাবরী তোড়ি / আসাবরী টোডি (Asavari Todi): কোমল ঋষভ আসাবরী নামে পরিচিত তোড়ি অঙ্গের রাগ।
- আসাবরী মন্ড (Asavari Mand): আসাবরী এবং মাণ্ড রাগের মিশ্রণ।
- আসাবরী সারং / আসাবরী-সারং (Asavari Sarang): আসাবরী এবং সারং রাগের সংমিশ্রণে সৃষ্ট মধ্যাহ্নের রাগ।
- আসাবরী-বাহার (Asavari-Bahar): আসাবরী এবং বাহার রাগের বর্ষা-বসন্তের একটি চমৎকার জোড় রাগ।
- আহীর কানাড়া (Ahir Kanada): কানাড়া পরিবারের অন্তর্গত অহীর ভৈরব বা খামাজ অঙ্গের মিশ্রণ যুক্ত ওস্তাদি রাগ।
- আহীর টোড়ি (Ahir Todi): তোড়ি ঠাটের একটি প্রামাণ্য দুর্লভ প্রকারভেদ।
- আহীরি মালহার (Ahiri Malhar): মল্লার অঙ্গের সাথে অহীরি রাগের মিশ্র রূপ।
ই – উ – এ – ও অংশ
- ইমান / ইয়ামান (Yaman / Iman): কল্যাণ ঠাটের মূল আশ্রয় রাগ। হিন্দুস্তানি সংগীতের অন্যতম প্রধান আদি নৈশ রাগ।
- ইমান কল্যাণ / ইয়ামান কল্যাণ (Yaman Kalyan): যমন রাগের সাথে শুদ্ধ মধ্যমের আলংকারিক প্রয়োগ ঘটিয়ে তৈরি পরম জনপ্রিয় রাগ।
- ইমরাতকাউনস (Imratkauns): ওস্তাদ ইমরত খাঁ প্রবর্তিত মালকৌঁস অঙ্গের একটি আধুনিক প্রামাণ্য রাগ।
- ইনায়েতখানি কানাড়া (Inayatkhani Kanada): ওস্তাদ বিলায়েত খাঁ সাহেব কর্তৃক তাঁর পিতা ওস্তাদ ইনায়াত খাঁর স্মরণে সৃষ্ট কানাড়া অঙ্গের রাগ।
- ইন্দুমতি (Indumati): বিলাবল বা খামাজ ঠাটের অন্তর্গত একটি অপ্রচলিত মধুর রাগ।
- ইন্দ্রাসন (Indrasan): একটি প্রাচীন ও দুর্লভ ওস্তাদি রাগ।
- ওড়ব ভৈরব (Audav Bhairav): ভৈরব রাগের পাঁচ স্বর বিশিষ্ট (ঔডব) প্রামাণ্য রূপ।
- ওড়ব বিলাওয়াল (Audav Bilaval): বিলাবল রাগের পাঁচ স্বর বিশিষ্ট প্রকারভেদ।
- ওড়ব দেবগিরি (Audav Devgiri): দেবগিরি বিলাবলের ঔডব রূপ।
- ওড়ব ধনশ্রী (Audav Dhanyashri): ধন্যশ্রী রাগের অত্যন্ত জনপ্রিয় পাঁচ স্বর বিশিষ্ট রূপ (সাধারণত ধনি রাগের কাছাকাছি)।
- ওড়ব গান্ধার (Audav Gandhar): একটি অপ্রচলিত ওস্তাদি রাগরূপ।
- ওড়ব গিরিজা (Audav Girija): খামাজ বা কল্যাণ ঠাটের একটি আধুনিক দুর্লভ রাগ।
- ওড়ব কাউন্স / ওড়ব মালকোষ (Audav Kauns): মালকৌঁস রাগের একটি বিশেষ ঔডব চলন।
- ওড়ব শুদ্ধ কল্যাণ (Audav Shuddha Kalyan): শুদ্ধ কল্যাণের আরোহাত্মক পাঁচ স্বরের রূপ।
ক – খ অংশ
- কামাই / খামাজ (Khamaj / Kamai): খামাজ ঠাটের জনক রাগ, যা ঠুমরি, হোরি ও নাট্যসংগীতে সর্বাধিক ব্যবহৃত।
- কামকেশ (Kamakesh): খামাজ ঠাটের অন্তর্গত একটি অপ্রচলিত প্রামাণ্য রাগ।
- কবির ভৈরব (Kabir Bhairav): ভৈরব রাগের একটি বিশেষ সুমধুর প্রকারভেদ (ভক্ত কবিরের নামে উৎসর্গীকৃত প্রাচীন সুর)।
- কবিরী গৌরী (Kabiri Gauri): গৌরী রাগের একটি দুর্লভ প্রাচীন ওস্তাদি প্রকার।
- কাফি (Kafi): কাফি ঠাটের মূল আশ্রয় রাগ; চঞ্চল ও গম্ভীর উভয় প্রকৃতির মিশ্র রূপ।
- কাফি বাহার (Kafi Bahar): কাফি এবং বাহার রাগের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় জোড় রাগ।
- কাফি কানাডা / কাফি কানাড়া (Kafi Kanada): কাফি এবং কানাড়া অঙ্গের সংমিশ্রণে তৈরি ওস্তাদি রাগ।
- কাফি মালহার (Kafi Malhar): কাফি এবং মল্লার রাগের বর্ষাকালীন জোড় রাগ।
- কাগনাট (Kagnat): একটি অতি প্রাচীন অপ্রচলিত ওস্তাদি রাগ।
- কৈশিকি / কৌশিকী (Kaushiki): দক্ষিণ ভারতীয় পদ্ধতি থেকে সমাদৃত এবং বর্তমানে হিন্দুস্তানি সংগীতে বহুল প্রচলিত পরম মধুর রাগ।
- কাকুভা (Kakuva): বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত একটি অতি প্রাচীন প্রামাণ্য রাগিনী।
- কালাহাঁস (Kalahans): বিলাবল বা খামাজ ঠাটের অন্তর্গত একটি অপ্রচলিত মিষ্টি রাগ।
- কালরঞ্জনী (Kalaranjani): দক্ষিণ ভারতীয় মেলকর্তা থেকে আগত অত্যন্ত করুণ ও গভীর রসের রাগ।
- কালশ্রী (Kalashree): পণ্ডিত ভীমসেন যোশী দ্বারা ভৈরব ও কল্যাণ অঙ্গের মিশ্রণে সৃষ্ট একটি প্রামাণ্য আধুনিক রাগ।
- কলিঙ্গদা (Kalingada): ভৈরব ঠাটের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রাতঃকালীন চঞ্চল প্রকৃতির রাগ।
- কমলারঞ্জনী (Kamalaranjani): একটি অপ্রচলিত ওস্তাদি রাগরূপ।
- কম্বোজি (Kambhoji): খamাজ ঠাটের স্বর বিশিষ্ট দক্ষিণ ভারতীয় সংগীতের একটি মূল রাগ, যা উত্তর ভারতীয় সংগীতেও প্রযুক্ত হয়।
- কামেশ্বরী (Kameshwari): পণ্ডিত রবিশঙ্কর দ্বারা সৃষ্ট একটি প্রামাণ্য আধুনিক রাগ।
- কামোদ (Kamod): কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী, গম্ভীর ও বীররস প্রধান প্রাচীন রাগ।
- কামোদ নাট (Kamod Nat): কামোদ এবং নাট রাগের জোড় রূপ।
- কন্নড়ী / কর্ণাটি (Kannada / Karnati): কানাড়া অঙ্গের অতি প্রাচীন ভিত্তি রূপ।
- কানাকানাগী (Kanakangi): দক্ষিণ ভারতীয় মেলকর্তার প্রথম রাগের হিন্দুস্তানি সংস্করণ (ভৈরব থাটের স্বরবিন্যাস যুক্ত)।
- কৌসি কানাড়া / কৌশি কানাড়া (Kaussi Kanada): মালকৌঁস এবং কানাড়া রাগের মিশ্রণে তৈরি অত্যন্ত গম্ভীর ও ওস্তাদি জোড় রাগ (নায়কী অঙ্গ বিশিষ্ট)।
- কেদার (Kedar): কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত অত্যন্ত জনপ্রিয়, গম্ভীর, শান্ত ও ভক্তিপ্রধান নৈশ রাগ।
- কেদার বাহার (Kedar Bahar): কেদার এবং বাহার রাগের একটি সুমধুর জোড় রাগ।
- কেদার ভৈরব (Kedar Bhairav): কেদার এবং ভৈরব রাগের সংমিশ্রণ।
- কেদার মন্ড (Kedar Mand): কেদার এবং মাণ্ড রাগের একটি চঞ্চল মিশ্র রূপ।
- কেদার নন্দ (Kedar Nand): কেদার এবং নান্দ (आनंदী) রাগের মিশ্রণে তৈরি জটিল ওস্তাদি রাগ।
- কেশরী কল্যাণ (Keshari Kalyan): কল্যাণ ঠাটের একটি অপ্রচলিত রূপ।
- খাম্বাবতী (Khambavati): খামাজ ঠাটের অন্তর্গত সম্পূর্ণ জাতির একটি অত্যন্ত রঞ্জনপ্রধান মিষ্টি রাগ।
- খাম্মাজি ভাটিয়ার (Khammaji Bhatiyar): খামাজ এবং ভাটিয়ার রাগের মিশ্রণ।
- খাপর গৌরী / খপ্পর গৌরী (Khappar Gauri): ভৈরব বা পূর্বী ঠাটের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত ওস্তাদি ও জটিল অপ্রচলিত রাগ।
- খাত (Khat): আসাবরী ঠাটের অন্তর্গত ছ’টি রাগের স্বরছায়া বিশিষ্ট একটি অতি জটিল ও প্রাচীন ওস্তাদি রাগ।
- খাত ধনশ্রী (Khat Dhanyashri): খাত এবং ধন্যশ্রী রাগের সংমিশ্রণ।
- খাট তোদি / খাত টোডি (Khat Todi): তোড়ি ঠাটের অন্তর্গত একটি দুর্লভ প্রকারভেদ।
- খেম কল্যাণ (Khem Kalyan): কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত একটি অপ্রচলিত প্রামাণ্য রাগ।
- খেমনাত (Khem Nat): নাট এবং কল্যাণ অঙ্গের মিশ্রণে তৈরি অপ্রচলিত রাগ।
- কিরণরঞ্জনী (Kiranranjani): পূর্বী বা তোড়ি ঠাটের স্বর বিশিষ্ট একটি দুর্লভ রাগ।
- কোকভ / কুকুভ (Kukubh): বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ওস্তাদি রাগ।
- কোলাহাল (Kolahal): বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত একটি অপ্রচলিত প্রাচীন রাগ।
- কোমল বাগেশ্রী (Komal Bageshri): বাগেশ্রী রাগের ধৈবত ও নিষাদকে কোমল করে গীত রূপ।
- কোমল ভৈরব (Komal Bhairav): ভৈরব রাগের একটি বিশেষ গম্ভীর প্রকার।
- কোমল দেশী (Komal Deshi): দেশী রাগের একটি সুনির্দিষ্ট প্রকারভেদ।
- কৃষ্ণ কল্যাণ (Krishna Kalyan): কল্যাণ ঠাটের একটি আধুনিক অপ্রচলিত রূপ।
গ – ঘ অংশ
- গান্ধারী (Gandhari): আসাবরী বা কাফি ঠাটের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত ওস্তাদি প্রাচীন রাগ (ভাতখণ্ডে বর্ণিত)।
- গান্ধারী বাহার (Gandhari Bahar): গান্ধারী এবং বাহার রাগের জোড় রূপ।
- গণেশ্বরী (Ganeshwari): পণ্ডিত রবিশঙ্কর দ্বারা সৃষ্ট বিলাসখানি টোডি অঙ্গের একটি প্রামাণ্য আধুনিক রাগ।
- গারা (Gara): খামাজ ঠাটের অন্তর্গত অত্যন্ত চঞ্চল ও মধুর প্রকৃতির মিশ্র রাগ (ঠুমরির জন্য বিখ্যাত)।
- গারা বাগেশ্রী (Gara Bageshri): গারা এবং বাগেশ্রী রাগের সংমিশ্রণ।
- গারা কানাডা (Gara Kanada): গারা এবং কানাড়া রাগের জোড় রূপ।
- গারা মন্ড (Gara Mand): গারা এবং মাণ্ড রাগের মিশ্রণ।
- গৌড় (Gaud): বিলাবল বা কাফি ঠাটের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রণকারী প্রাচীন অঙ্গ।
- গৌড় বাহার (Gaud Bahar): গৌড় এবং বাহার রাগের একটি পরম সুমধুর জোড় রাগ।
- গৌড় বিলাওয়াল (Gaud Bilaval): গৌড় অঙ্গ এবং বিলাবল রাগের সংমিশ্রণে তৈরি প্রামাণ্য রাগ।
- গৌড় মালহার (Gaud Malhar): বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত বর্ষাকালের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রধান ওস্তাদি রাগ।
- গৌড় সারং (Gaud Sarang): কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত বক্র চলনের অত্যন্ত জটিল, গম্ভীর ও সর্বজনীনভাবে সমাদৃত প্রামাণ্য রাগ।
- গৌড়ী ললাট (Gauri Lalat): গৌড়ী এবং ললাট রাগের একটি দুর্লভ ওস্তাদি জোড় রাগ।
- গৌরী (Gauri): পূর্বী এবং ভৈরব উভয় অঙ্গে গীত অত্যন্ত প্রাচীন, গম্ভীর ও ভক্তিপ্রধান প্রামাণ্য রাগ (ভাতখণ্ডে বর্ণিত একাধিক প্রকার রয়েছে)।
- গৌরী বসন্ত (Gauri Basant): গৌরী এবং বসন্ত রাগের মিশ্রণ।
- গৌরী বৈরাগন (Gauri Bairagan): গৌরী রাগের একটি প্রাচীন রূপ।
- গাবতী (Gavati): কাফি বা খামাজ ঠাটের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় মিষ্টি আধুনিক রাগ।
- গিরিজা ভৈরব (Girija Bhairav): ভৈরব রাগের একটি আধুনিক অপ্রচলিত প্রকার।
- গোপিকা বসন্ত (Gopika Basant): দক্ষিণ ভারতীয় পদ্ধতি থেকে আগত বসন্ত ঋতুর একটি সুন্দর অপ্রচলিত রাগ।
- গোরখ কল্যাণ (Gorakh Kalyan): খামাজ ঠাটের অন্তর্গত মধ্যম প্রধান, শান্ত ও পরম সুমধুর একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রামাণ্য রাগ।
- গোবর্ধনী টোডি (Gobardhani Todi): তোড়ি ঠাটের একটি অপ্রচলিত প্রকারভেদ।
- গুজরি / গুর্জরি টোডি (Gujri / Gurjari Todi): তোড়ি ঠাটের অন্তর্গত পঞ্চমত বর্জিত অত্যন্ত করুণ ও গভীর রসের অন্যতম প্রধান রাগ।
- গুণ কল্যাণ (Gun Kalyan): প্রাতঃকালের একটি সুনির্দিষ্ট ওস্তাদি রাগ।
- গুণকালী / গুণক্রী (Gunkali / Gunkri): ভৈরব ঠাটের অন্তর্গত প্রাতঃকালের অত্যন্ত শান্ত ও ভক্তিপ্রধান সর্বজনীন জনপ্রিয় ঔডব রাগ।
- গুণকালী জোগিয়া (Gunkali Jogia): গুণকালী এবং জোগিয়া রাগের মিশ্র রূপ।
- গুণরঞ্জনী (Gunaranjani): একটি অপ্রচলিত মধুর রাগ।
চ – ছ অংশ
- চৈতি (Chaiti): খামাজ ঠাটের অন্তর্গত চৈত্র মাসের লোকসুরের আমেজযুক্ত একটি মিষ্টি অপ্রচলিত রাগ।
- চৈতি বারোয়া (Chaiti Barwa): বারোয়া এবং চৈতি অঙ্গের সংমিশ্রণে সৃষ্ট দুর্লভ রূপ।
- চৈতি ভূপ (Chaiti Bhup): ভূপালী রাগের একটি চঞ্চল চৈতি রূপান্তর।
- চক্রবাক (Chakravak): দক্ষিণ ভারতীয় রাগ, যা হিন্দুস্তানি সংগীতে অহীর ভৈরবের সমান্তরাল রূপ ধারণ করে প্রামাণ্য স্থান পেয়েছে।
- চম্পাকলি (Champakali): খামাজ ও কল্যাণ অঙ্গের মিশ্রণে তৈরি অত্যন্ত সুমধুর ও অপ্রচলিত রাগ।
- চম্পক বিলাওয়াল (Champak Bilaval): বিলাবল ঠাটের একটি অতি প্রাচীন ও প্রামাণ্য ওস্তাদি প্রকারভেদ।
- চঞ্চলসাস মালহার (Chanchalsas Malhar): মল্লার পরিবারের একটি অত্যন্ত দুর্লভ ও জটিল ওস্তাদি রাগ।
- চাঁদনী বিহাগ (Chandni Bihag): বিহাগ রাগের একটি অত্যন্ত সুমধুর অপ্রচলিত আলংকারিক প্রকার।
- চাঁদনী কল্যাণ (Chandni Kalyan): কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত একটি নৈশ অপ্রচলিত রূপ।
- চাঁদনী কেদার (Chandni Kedar): কেদার রাগের একটি চমৎকার ও সুমধুর প্রকারভেদ (ভাতখণ্ডে বর্ণিত)।
- চন্দ্র ভৈরব (Chandra Bhairav): ভৈরব ঠাটের অন্তর্গত একটি আধুনিক অপ্রচলিত প্রকার।
- চন্দ্রকৌঁস (Chandrakauns): মালকৌঁস রাগের কোমল নিষাদের পরিবর্তে শুদ্ধ নিষাদ প্রয়োগ করে তৈরি করা অত্যন্ত জনপ্রিয় নৈশ রাগ।
- চন্দ্রকৌঁস (বাগেশ্রী অঙ্গ): চন্দ্রকৌঁসের একটি বিশেষ রূপ যেখানে বাগেশ্রী রাগের ছায়া দেখা যায়।
- চন্দ্র কল্যাণ (Chandra Kalyan): কল্যাণ অঙ্গের একটি সুন্দর নৈশ রাগরূপ।
- চন্দ্রধ্বনি (Chandradhwani): বিলাবল বা খামাজ ঠাটের অন্তর্গত একটি আধুনিক অপ্রচলিত রাগ।
- চন্দ্রকান্ত (Chandrakant): বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত একটি অতি প্রাচীন প্রামাণ্য রাগ।
- চন্দ্রমৌলি (Chandramouli): দক্ষিণ ভারতীয় পদ্ধতি থেকে আগত পাঁচ স্বরের (ঔডব) একটি প্রামাণ্য রাগ।
- চন্দ্রনন্দন (Chandranandan): ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ কর্তৃক মালকোঁস, চন্দ্রকোঁস, নন্দ ও কাফি রাগের মিশ্রণে সৃষ্ট অত্যন্ত বিখ্যাত ও প্রামাণ্য আধুনিক রাগ।
- চন্দ্রপ্রভা (Chandraprabha): একটি অপ্রচলিত ওস্তাদি রাগরূপ।
- চরজু কি মালহার (Charju Ki Malhar): মল্লার অঙ্গের অন্তর্গত একটি অতি প্রাচীন, ঐতিহাসিক ও ওস্তাদি বর্ষাকালীন রাগ।
- চারুকৌঁস (Charukauns): চারুকেশী এবং চন্দ্রকৌঁস রাগের সংমিশ্রণে তৈরি আধুনিক প্রামাণ্য রাগ।
- চারুকেশী (Charukesi): দক্ষিণ ভারতীয় মেলকর্তা থেকে আগত, বর্তমানে উত্তর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পরম করুণ রসের রাগ।
- ছায়া (Chhaya): বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত একটি অতি প্রাচীন, গম্ভীর ও প্রামাণ্য রাগ (যা অন্য রাগের সাথে মিশ্রণে বেশি ব্যবহৃত হয়)।
- ছায়া বিহাগ (Chhaya Bihag): ছায়া এবং বিহাগ রাগের অত্যন্ত সুমধুর ও ওস্তাদি জোড় রাগ।
- ছায়া গৌড় সারং (Chhaya Gaud Sarang): ছায়া অঙ্গ এবং গৌড় সারং রাগের একটি দুর্লভ মিশ্রণ।
- ছায়া হিন্দোল (Chhaya Hindol): ছায়া এবং হিন্দোল রাগের সংমিশ্রণ।
- ছায়া কল্যাণ (Chhaya Kalyan): কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত ছায়া অঙ্গের একটি প্রামাণ্য রাগ।
- ছায়া মালহার (Chhaya Malhar): ছায়া এবং মল্লার রাগের একটি সুন্দর বর্ষাকালীন জোড় রাগ।
- ছায়ানট (Chhayanat): কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী, বীর ও শৃঙ্গার রস প্রধান একটি সুপ্রসিদ্ধ আদি প্রামাণ্য রাগ।
জ – ঝ অংশ
- জাইজ বিলাওয়াল / জাজ বিলাবল (Jaiz Bilaval): বিলাবল ঠাটের একটি অতি প্রাচীন ও দুর্লভ ওস্তাদি প্রকারভেদ।
- জৈত / জাইত (Jait): মারওয়া ঠাটের অন্তর্গত ঋষভ ও ধৈবত কোমল যুক্ত প্রাতঃকালের একটি বিখ্যাত প্রামাণ্য রাগ।
- জৈতশ্রী / জৈতশ্রী (Jaitashree): পূর্বী ঠাটের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত ওস্তাদি, গম্ভীর ও প্রাচীন প্রামাণ্য রাগ (ভাতখণ্ডে বর্ণিত)।
- জয়ত কল্যাণ / জৈত কল্যাণ (Jait Kalyan): জৈত এবং কল্যাণ রাগের সংমিশ্রণে তৈরি অপ্রচলিত রাগ।
- জয়জয়বন্তী (Jayjaywanti): খামাজ ঠাটের অন্তর্গত পরম সুমধুর, গম্ভীর ও করুণ রসের একটি অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও প্রধান প্রামাণ্য রাগ।
- জয়জয়বন্তী কানাড়া (Jayjaywanti Kanada): জয়জয়বন্তী এবং কানাড়া অঙ্গের সংমিশ্রণে সৃষ্ট ওস্তাদি রাগ।
- জয়জয়বন্তী টোডি (Jayjaywanti Todi): তোড়ি ঠাটের স্বরবিন্যাসে জয়জয়বন্তীর চলন যুক্ত দুর্লভ রাগ।
- জলধর কেদার (Jaladhar Kedar): কেদার রাগের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, চঞ্চল ও প্রামাণ্য প্রকারভেদ।
- জলধর বাসন্তী (Jaladhar Basanti): জলধর এবং বসন্ত রাগের একটি দুর্লভ জোড় রাগ।
- জনসম্মোহিনী (Jansammohini): কল্যাণ ঠাটের স্বর নিয়ে কোমল নিষাদ সহযোগে গীত পরম মধুর ও জনপ্রিয় আধুনিক রাগ।
- জৌনপুরী (Jaunpuri): আসাবরী ঠাটের অন্তর্গত সম্পূর্ণ জাতির অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রামাণ্য প্রাতঃকালীন রাগ।
- জৌনপুরী বাহার (Jaunpuri Bahar): জৌনপুরী এবং বাহার রাগের একটি সুন্দর জোড় রাগ।
- জৌনপুরী টোডি (Jaunpuri Todi): জৌনপুরী এবং তোড়ি অঙ্গের মিশ্রণ।
- জয়ন্ত মালহার (Jayant Malhar): জয়জয়বন্তী এবং মালহার রাগের মিশ্রণে তৈরি একটি সুন্দর বর্ষাকালীন জোড় রাগ।
- জয়ন্ত কানাড়া (Jayant Kanada): জয়জয়বন্তী এবং কানাড়া রাগের সংমিশ্রণে সৃষ্ট ওস্তাদি রাগ।
- ঝাঁঝ মালহার (Jhanj Malhar): মল্লার পরিবারের একটি অপ্রচলিত প্রামাণ্য রাগ।
- ঝিনঝোতি (Jhinjhoti): খামাজ ঠাটের অন্তর্গত অত্যন্ত জনপ্রিয়, সরল ও লোকসংগীতের কাছাকাছি মেজাজের একটি প্রামাণ্য রাগ।
- ঝিল্লা / জিল্লা (Zhilla / Zilla): খামাজ ঠাটের স্বর নিয়ে তৈরি অত্যন্ত চঞ্চল ও গজল-ঠুমরির উপযোগী সুপ্রসিদ্ধ মিশ্র রাগ।
- যোগ / জোগ (Jog): কাফি ও খামাজ ঠাটের মিশ্রণে তৈরি উভয় গান্ধার যুক্ত অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রামাণ্য নৈশ রাগ।
- জোগ বাহার (Jog Bahar): জোগ এবং বাহার রাগের একটি সুমধুর জোড় রাগ।
- জোগ তিলাং (Jog Tilang): জোগ এবং তিলাং রাগের মিশ্রণে সৃষ্ট চঞ্চল প্রকৃতির রাগ।
- যোগেশ্বরী (Jogeshwari): পণ্ডিত রবিশঙ্কর দ্বারা সৃষ্ট খামাজ বা কাফি ঠাটের একটি প্রামাণ্য আধুনিক রাগ।
- যোগী ভৈরবী (Yogi Bhairavi): ভৈরবী রাগের একটি শান্ত ও আত্মনিমগ্ন প্রকারভেদ।
- জোগিয়া (Jogia): ভৈরব ঠাটের অন্তর্গত করুণ ও ভক্তি রসের প্রাতঃকালীন অত্যন্ত জনপ্রিয় আদি রাগ।
- জোগিয়া কলিঙ্গদা (Jogia Kalingada): জোগিয়া এবং কলিঙ্গদা রাগের একটি চঞ্চল মিশ্রণ।
- জোগিয়া আসাবারি (Jogia Asavari): জোগিয়া এবং আসাবরী রাগের প্রামাণ্য জোড় রাগ।
- জোগকাউনস (Jogkauns): পণ্ডিত জগন্নাথবুয়া পুরোহিত সৃষ্ট জোগ এবং মালকৌঁসের একটি অপূর্ব ও সুপ্রসিদ্ধ মিশ্র প্রামাণ্য রাগ।
- জঙ্গলা / জংলা (Jangla): আসাবরী বা ভৈরব ঠাটের অন্তর্গত লোকসুর আশ্রিত একটি প্রাচীন রাগরূপ।
ত – দ – ধ – ন অংশ
- তিলক বিহাগ (Tilak Bihag): তিলক কামোদ এবং বিহাগ রাগের সংমিশ্রণে সৃষ্ট একটি অপ্রচলিত মধুর রাগ।
- তিলক কামোদ (Tilak Kamod): খামাজ ঠাটের অন্তর্গত অত্যন্ত চঞ্চল ও সুমধুর শৃঙ্গার রসের একটি সুপ্রসিদ্ধ প্রামাণ্য রাগ।
- তিলক কেদার (Tilak Kedar): তিলক কামোদ এবং কেদার রাগের জোড় রূপ।
- তিলক মালহার (Tilak Malhar): তিলক কামোদ এবং মালহার রাগের মিশ্রণ।
- তিলক শ্যাম (Tilak Shyam): পণ্ডিত রবিশঙ্কর দ্বারা সৃষ্ট তিলক কামোদ ও শ্যাম কল্যাণের একটি প্রামাণ্য আধুনিক রাগ।
- তিলাং (Tilang): খামাজ ঠাটের অন্তর্গত উভয় নিষাদ যুক্ত অত্যন্ত রঞ্জনপ্রধান ও জনপ্রিয় প্রামাণ্য রাগ।
- তিলাং বাহার (Tilang Bahar): তিলাং এবং বাহার রাগের একটি সুমধুর চঞ্চল জোড় রাগ।
- টোডি / মিঞা কি টোডি (Todi / Miyan Ki Todi): তোড়ি ঠাটের প্রধানতম, আদি এবং পরম গম্ভীর করুণ রসের সুপ্রসিদ্ধ প্রাতঃকালীন রাগ।
- টোডি আহিরী (Todi Ahiri): তোড়ি এবং অহীরি অঙ্গের একটি দুর্লভ ওস্তাদি মিশ্রণ।
- ত্রিবেণী (Triveni): কল্যাণ বা মারওয়া ঠাটের অন্তর্গত একটি অতি প্রাচীন ও অপ্রচলিত প্রামাণ্য রাগ (ভাতখণ্ডে বর্ণিত)।
- দরবারী কানাড়া / দরবারী (Darbari Kanada): আসাবরী ঠাটের অন্তর্গত অতি গম্ভীর, বীর ও রাজকীয় প্রকৃতির মধ্যরাত্রির সর্বপ্রধান প্রামাণ্য রাগ।
- দরবারী টোদি (Darbari Todi): দরবারী অঙ্গের চলন বিশিষ্ট তোড়ি রাগের একটি দুর্লভ রূপ।
- দীপক (Deepak): বিলাবল বা পূর্বী ঠাটের অন্তর্গত অগ্নির উৎপত্তির সাথে জড়িত ঐতিহাসিক কিংবদন্তিসমৃদ্ধ অত্যন্ত প্রাচীন প্রামাণ্য রাগ।
- দেওসাখ / দেবশাখ (Deosakh): বিলাবল বা কাফি ঠাটের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত ওস্তাদি প্রাচীন অপ্রচলিত রাগ।
- দেবগন্ধরা / দেবগান্ধার (Devgandhara): আসাবরী ও জৌনপুরী অঙ্গের সংমিশ্রণে গীত একটি প্রাচীন ও প্রামাণ্য অপ্রচলিত রাগ।
- দেশ (Desh): খামাজ ঠাটের অন্তর্গত অত্যন্ত জনপ্রিয়, চঞ্চল, বর্ষাকালীন ও ভক্তিপ্রধান প্রামাণ্য রাগ।
- দেশ গৌড় (Desh Gaur): দেশ অঙ্গ এবং গৌড় রাগের মিশ্রণ।
- দেশ মালহার (Desh Malhar): দেশ এবং মালহার রাগের একটি সুন্দর বর্ষাকালীন জোড় রাগ।
- দেশী (Deshi): আসাবরী ঠাটের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত প্রাচীন, বক্র চলনের ওস্তাদি প্রামাণ্য রাগ (ভাতখণ্ডে বর্ণিত)।
- দেশকর (Deshkar): বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত ভূপালীর সমস্বর বিশিষ্ট কিন্তু ধৈবত প্রধান প্রাতঃকালীন বীররসাত্মক প্রামাণ্য রাগ।
- দেবগিরি বিলাবল (Devgiri Bilaval): বিলাবল ঠাটের একটি অত্যন্ত প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী ও প্রামাণ্য প্রকারভেদ।
- ধর্মাবতী (Dharmavati): দক্ষিণ ভারতীয় মেলকর্তা থেকে গৃহীত হিন্দুস্তানি সংগীতের একটি প্রামাণ্য রাগ।
- ধনশ্রী / ধন্যশ্রী (Dhanyashri): কাফি বা ভৈরব ঠাটের অন্তর্গত অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী প্রামাণ্য রাগরূপ।
- ধনশ্রী মুলতানি (Dhanyashri Multani): মুলতানি রাগের সাথে ধন্যশ্রীর স্পর্শযুক্ত দুর্লভ রূপ।
- ধনী (Dhani): কাফি ঠাটের অন্তর্গত মধ্যম প্রধান অত্যন্ত চঞ্চল ও মধুর ঔডব প্রামাণ্য রাগ।
- ধুলিয়া মালহার (Dhulia Malhar): মালহার পরিবারের অন্তর্গত বর্ষাকালের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও চঞ্চল প্রকৃতির প্রামাণ্য রাগ।
- ধুলিয়া সারং (Dhulia Sarang): ধুলিয়া অঙ্গ এবং সারং রাগের মিশ্রণ।
- দুর্গা (Durga): বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত অত্যন্ত জনপ্রিয়, বীর ও শান্ত রসের ঋষভ প্রধান ঔডব প্রামাণ্য রাগ।
- দুর্গা কল্যাণ (Durga Kalyan): দুর্গা এবং কল্যাণ রাগের একটি সুন্দর মিশ্রণ।
- দুর্গা কেদার (Durga Kedar): দুর্গা এবং কেদার রাগের জোড় রূপ।
- দ্বিজবন্তী (Dwijawanti): জয়জয়বন্তী রাগের একটি বিশেষ কর্ণাটকি বা ওস্তাদি রূপ যা হিন্দুস্তানি সংগীতে সুপ্রতিষ্ঠিত।
- নাদনামাক্রিয়া (Nadnamakriya): ভৈরব ঠাটের অন্তর্গত দক্ষিণ ভারতীয় সংগীত থেকে সমাদৃত একটি অতি প্রাচীন প্রামাণ্য রাগরূপ।
- নাগাশ্বরাবলী (Nagashwaravali): দক্ষিণ ভারতীয় পদ্ধতি থেকে সংগৃহীত হিন্দুস্তানি সংগীতের একটি সুন্দর ঔডব রাগ।
- নায়কী কানাড়া (Nayaki Kanada): কাফি ঠাটের অন্তর্গত কানাড়া অঙ্গের একটি অত্যন্ত জটিল, প্রামাণ্য ও ওস্তাদি অপ্রচলিত রাগ।
- নন্দ / আনন্দী (Nand): অত্যন্ত কল্যাণময়, বক্র চলনের পরম সুমধুর একটি প্রধান প্রামাণ্য রাগ।
- নন্দ কেদার (Nand Kedar): নন্দ এবং কেদার রাগের ওস্তাদি জোড় রাগ।
- নারায়ণী (Narayani): খামাজ বা কাফি ঠাটের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত মধুর ও প্রামাণ্য অপ্রচলিত রাগ।
- নাট ভৈরব / নট ভৈরব (Nat Bhairav): নাট অঙ্গ এবং ভৈরব রাগের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুমধুর প্রাতঃকালীন প্রামাণ্য জোড় রাগ।
- নাট বিহাগ (Nat Bihag): নাট অঙ্গ এবং বিহাগ রাগের মিশ্রণে তৈরি সুমধুর রাগ।
- নাট বিলাওয়াল (Nat Bilaval): বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত নাট অঙ্গের একটি প্রাচীন প্রামাণ্য রাগ।
- নাট কামোদ (Nat Kamod): নাট এবং কামোদ রাগের জোড় রূপ।
- নাট কেদার (Nat Kedar): নাট এবং কেদার রাগের সংমিশ্রণ।
- নাট মালহার (Nat Malhar): নাট অঙ্গ এবং মালহার রাগের বর্ষাকালীন ওস্তাদি জোড় রাগ।
- নটনারায়ণ (Natnarayan): বিলাবল ঠাটের একটি অতি প্রাচীন, গম্ভীর ও ওস্তাদি প্রামাণ্য রাগ (ভাতখণ্ডে বর্ণিত)।
- নবরঞ্জনী (Navaranjani): দক্ষিণ ভারতীয় সংগীত থেকে আগত একটি অপ্রচলিত প্রামাণ্য রাগ।
- নীলাম্বরী (Nilambari): একটি অতি প্রাচীন শাস্ত্রীয় রাগরূপ।
প – ফ অংশ
- পাহাড়ী (Pahari): বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত হিমালয়ের লোকসুরের আমেজযুক্ত অত্যন্ত জনপ্রিয়, শান্ত ও সুমধুর প্রামাণ্য রাগ (ঠুমরি ও ধুন-এর জন্য বিখ্যাত)।
- পালসী / পলাসী (Palasi): কাফি ঠাটের অন্তর্গত একটি সুমধুর ও প্রাচীন অপ্রচলিত রাগ।
- পঞ্চম (Pancham): মারওয়া বা কাফি ঠাটের অন্তর্গত পঞ্চম স্বরকে কেন্দ্র করে আবর্তিত একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও ওস্তাদি প্রামাণ্য রাগ।
- পঞ্চম সে গারা (Pancham Se Gara): গারা রাগের একটি বিশেষ রূপ যেখানে পঞ্চম স্বরের প্রাধান্য থাকে।
- পরজ / পরজ (Paraj): পূর্বী ঠাটের অন্তর্গত অতি দ্রুত ও চঞ্চল গতির অত্যন্ত জনপ্রিয় গম্ভীর রাত্রিকালীন প্রামাণ্য রাগ।
- পরজ ক্যালিঙ্গা (Paraj Kalingada): পরজ এবং কলিঙ্গদা রাগের একটি মিশ্র রূপ।
- পরজ বসন্ত (Paraj Basant): পরজ এবং বসন্ত রাগের সংমিশ্রণে তৈরি ওস্তাদি জোড় রাগ।
- পরমেস্বরী (Parameshwari): পণ্ডিত রবিশঙ্কর দ্বারা সৃষ্ট আহীর ভৈরব ও বাগীশ্বরী অঙ্গের একটি প্রামাণ্য ও বিখ্যাত আধুনিক রাগ।
- পটদীপ (Patdeep): কাফি ঠাটের অন্তর্গত শুদ্ধ নিষাদ যুক্ত অত্যন্ত জনপ্রিয়, গম্ভীর ও পরম করুণ রসের অপরাহ্নের প্রামাণ্য রাগ।
- পটদীপকী (Patdeepoki): পটদীপ রাগের একটি প্রাচীন রূপান্তর বা প্রকারভেদ।
- পটবিহাগ (Patbihag): বিহাগ রাগের স্বরবিন্যাসের সাথে পট অঙ্গের মিশ্রণে তৈরি অপ্রচলিত সুমধুর রাগ।
- পটমঞ্জরী (Patmanjari): কাফি বা বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত একটি অতি প্রাচীন, বক্র ও জটিল ওস্তাদি প্রামাণ্য রাগ (ভাতখণ্ডে বর্ণিত)।
- পটবিলাওয়াল / পট্টবিলাবল (Patbilaval): বিলাবল ঠাটের একটি অতি প্রাচীন ও দুর্লভ ওস্তাদি প্রকারভেদ।
- পিলু / পীলু (Pilu): কাফি ঠাটের অন্তর্গত বারোটি স্বরই ব্যবহারযোগ্য অত্যন্ত চঞ্চল, মধুর ও লোকসুর আশ্রিত সর্বজনীন জনপ্রিয় প্রামাণ্য রাগ।
- পিলু কাফি (Pilu Kafi): পিলু এবং কাফি রাগের একটি প্রামাণ্য মিশ্র রূপ।
- পূর্বা (Purva): বিলাবল বা খামাজ ঠাটের অন্তর্গত একটি অপ্রচলিত প্রাচীন রাগ।
- পূর্বী (Purvi / Poorvi): পূর্বী ঠাটের জনক রাগ; উভয় মধ্যম যুক্ত অত্যন্ত গম্ভীর, শান্ত ও সান্ধ্যকালীন প্রধান আদি প্রামাণ্য রাগ।
- পূর্ব কল্যাণ (Purva Kalyan): পূর্বী এবং কল্যাণ রাগের সংমিশ্রণে তৈরি একটি সুমধুর নৈশ রাগ।
- পূর্বী গৌরী (Purvi Gauri): পূর্বী এবং গৌরী রাগের প্রামাণ্য জোড় রাগ।
- পূর্বাধনশ্রী / পূর্বী ধন্যশ্রী (Purva Dhanyashri): পূর্বী ঠাটের অন্তর্গত ধন্যশ্রী অঙ্গের একটি ওস্তাদি প্রকারভেদ।
- প্রতাপবরালী (Pratapavarali): দক্ষিণ ভারতীয় পদ্ধতি থেকে আগত বিলাবল ঠাটের স্বর বিশিষ্ট একটি অপ্রচলিত রাগ।
ব – ভ অংশ
- বাগেশ্রী / বাগীশ্বরী (Bageshri): কাফি ঠাটের অন্তর্গত মধ্যরাত্রির পরম সুমধুর, গম্ভীর ও করুণ-শৃঙ্গার রসের অন্যতম প্রধান প্রামাণ্য রাগ।
- বাগেশ্রী বাহার (Bageshri Bahar): বাগেশ্রী এবং বাহার রাগের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় বসন্তকালীন জোড় রাগ।
- বাগেশ্রী কানাড়া (Bageshri Kanada): বাগেশ্রী এবং কানাড়া রাগের ওস্তাদি সংমিশ্রণ।
- বাহার (Bahar): কাফি ঠাটের অন্তর্গত বসন্ত ঋতুর সর্বপ্রধান, অত্যন্ত চঞ্চল, উৎফুল্ল ও সুপ্রসিদ্ধ প্রামাণ্য রাগ।
- বাহার কন্নড় / বাহার কানাড়া (Bahar Kanada): বাহার এবং কানাড়া রাগের একটি সুন্দর ওস্তাদি জোড় রাগ।
- বৈরাগন (Bairagan): ভৈরব বা আসাবরী ঠাটের অন্তর্গত একটি অতি প্রাচীন ও দুর্লভ ওস্তাদি রাগরূপ।
- বৈরাগী / বৈরাগী ভৈরব (Bairagi Bhairav): ভৈরব ঠাটের অন্তর্গত পঞ্চম ও মধ্যম বর্জিত প্রাতঃকালের অত্যন্ত শান্ত, গম্ভীর ও বৈরাগ্য রস প্রধান সুপ্রসিদ্ধ প্রামাণ্য রাগ।
- বকুল ভৈরব (Bakul Bhairav): ভৈরব রাগের একটি সুমধুর ও আধুনিক অপ্রচলিত প্রকারভেদ।
- বারোয়া (Barwa): কাফি ঠাটের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও ওস্তাদি প্রামাণ্য রাগ (ভাতখণ্ডে বর্ণিত)।
- বসন্ত (Basant): পূর্বী ঠাটের অন্তর্গত তীব্র মধ্যম প্রধান বসন্ত ঋতুর অত্যন্ত প্রাচীন, গম্ভীর ও ঐতিহাসিক আদি প্রামাণ্য রাগ।
- বসন্ত বাহার (Basant Bahar): বসন্ত এবং বাহার রাগের যুগলবন্দী সুরের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কালজয়ী জোড় রাগ।
- বসন্ত মুখারী / বসন্তমুখরী (Basant Mukhari): দক্ষিণ ভারতীয় মেলকর্তা থেকে আগত, বর্তমানে উত্তর ভারতীয় সংগীতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ভক্তিপ্রধান প্রাতঃকালের প্রামাণ্য রাগ।
- বিলাখানী তোড়ি / বিলাসখানি টোডি (Bilaskhani Todi): মিয়া তানসেনের পুত্র বিলাস খাঁ কর্তৃক ভৈরবীর স্বরবিন্যাসে তোড়ির চলন যুক্ত করে সৃষ্ট পরম করুণ ও শান্ত রসের সুপ্রসিদ্ধ প্রধান প্রামাণ্য রাগ।
- বিলাওয়াল / আলহৈয়া বিলাবল (Bilaval / Alhaiya Bilaval): বিলাবল ঠাটের মূল আশ্রয় রাগ এবং উত্তর ভারতীয় সংগীতের শুদ্ধ স্বর সপ্তকের প্রামাণ্য ভিত্তি।
- বঙ্গাল ভৈরব (Bangal Bhairav): ভৈরব ঠাটের অন্তর্গত একটি অতি প্রাচীন ও প্রামাণ্য ওস্তাদি প্রকার (ভাতখণ্ডে বর্ণিত)।
- বিহাগ (Bihag): বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত তীব্র মধ্যমের মৃদু স্পর্শযুক্ত মধ্যরাত্রির পরম জনপ্রিয়, গম্ভীর ও শৃঙ্গার রস প্রধান আদি প্রামাণ্য রাগ।
- বিহাগড়া (Bihagda): খামাজ ও বিলাবল ঠাটের মধ্যবর্তী বিহাগ রাগের একটি অত্যন্ত রঞ্জনপ্রধান ও চঞ্চল ওস্তাদি প্রকারভেদ।
- বিহাগ নাট (Bihag Nat): বিহাগ এবং নাট রাগের সংমিশ্রণ।
- ভৈরব (Bhairav): ভৈরব ঠাটের জনক; প্রাতঃকালের সর্বপ্রধান, পরম গম্ভীর, ভক্তি ও শান্ত রসের আদি দেব-রাগ।
- ভৈরব বাহার (Bhairav Bahar): ভৈরব এবং বাহার রাগের একটি সুন্দর প্রাতঃকালীন ওস্তাদি জোড় রাগ।
- ভৈরবী (Bairavi): ভৈরবী ঠাটের জনক; ভারতীয় সংগীতের সবচেয়ে জনপ্রিয়, সর্বজনীন এবং সব ধরনের সংগীত পরিবেশনের শেষে গীত পরম করুণ ও মধুর আদি প্রামাণ্য রাগ।
- ভৈরবী বাহার (Bhairavi Bahar): ভৈরবী এবং বাহার রাগের একটি সুমধুর মিশ্রণ।
- ভানি / বাণী (Bhani): একটি অপ্রচলিত ওস্তাদি রাগরূপ।
- ভটিয়ার / ভাটিয়ার (Bhatiyar): মারওয়া ও ভৈরব ঠাটের মিশ্রণে তৈরি ঊষাকালের অত্যন্ত বীররসাত্মক, গম্ভীর ও সুপ্রসিদ্ধ প্রামাণ্য রাগ।
- ভটিয়ারী ভৈরব (Bhatiyari Bhairav): ভাটিয়ার এবং ভৈরব রাগের সংমিশ্রণে সৃষ্ট দুর্লভ রূপ।
- ভিন্ন ষড়জ / কৌশিকধ্বনি (Bhinna Shadja / Kaushikdhwani): বিলাবল ঠাটের ঋষভ ও পঞ্চম বর্জিত অত্যন্ত শান্ত, মধুর ও গম্ভীর নৈশ প্রামাণ্য রাগ।
- ভূপাল তোড়ি / ভূপাল টোডি (Bhupal Todi): তোড়ি ঠাটের স্বর বিশিষ্ট পাঁচ স্বরের (ঔডব) অত্যন্ত শান্ত ও ভক্তিপ্রধান প্রাতঃকালের প্রামাণ্য রাগ।
- ভূপালী / ভূপ (Bhupali / Bhup): কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত পাঁচ স্বরের (ঔডব) অত্যন্ত জনপ্রিয়, গম্ভীর, শান্ত ও সর্বজনীনভাবে সমাদৃত আদি প্রামাণ্য রাগ।
- ভূপালী তোড়ি (Bhupali Todi): ভূপাল তোড়ির একটি চলনগত প্রকারভেদ।
- ভূপ কল্যাণ / শুদ্ধ কল্যাণ (Bhup Kalyan / Shuddha Kalyan): ভূপালী এবং কল্যাণ রাগের মিশ্রণে তৈরি পরম গম্ভীর ও ওস্তাদি প্রামাণ্য রাগ।
- ভূপেশ্রী (Bhupeshri): ভূপালী রাগের কোমল ধৈবত প্রয়োগ করে তৈরি একটি সুমধুর আধুনিক প্রামাণ্য রাগ।
- ভ্রমরধ্বনি (Bhramardhwani): বিলাবল বা খামাজ ঠাটের অন্তর্গত একটি আধুনিক অপ্রচলিত রাগ।
ম অংশ
- মাণ্ড / মাণ্ড (Mand): রাজস্থানের লোকসংগীত (মাণ্ড গায়কী) থেকে শাস্ত্রীয় সংগীতে সমাদৃত অত্যন্ত চঞ্চল, মধুর ও শৃঙ্গার রস প্রধান প্রামাণ্য রাগ।
- মধুমাদ সারং (Madhumad Sarang): কাফি ঠাটের অন্তর্গত ধৈবত ও নিষাদ বর্জিত মধ্যাহ্নের অত্যন্ত চঞ্চল ও পরম জনপ্রিয় প্রামাণ্য রাগ।
- মধুবন্তী (Madhuvanti): তোড়ি ঠাটের স্বরবিন্যাসে তীব্র মধ্যম ও শুদ্ধ ধৈবত যুক্ত অপরাহ্নের অত্যন্ত জনপ্রিয়, মধুর ও শৃঙ্গার-করুণ রসের প্রামাণ্য রাগ।
- মধু কল্যাণ (Madhu Kalyan): কল্যাণ ঠাটের একটি আধুনিক সুমধুর অপ্রচলিত রাগ।
- মধু রঞ্জনী (Madhu Ranjani): একটি অপ্রচলিত আধুনিক রাগরূপ।
- মধু কৌঁস (Madhu Kauns): মালকৌঁস এবং মধুবন্তী রাগের স্বরবিন্যাসের মিশ্রণে তৈরি ওস্তাদি আধুনিক রাগ।
- মালকৌঁস / মালকোষ (Malkauns): ভৈরবী ঠাটের ঋষভ ও পঞ্চম বর্জিত অতি প্রাচীন, পরম গম্ভীর, বীর ও শান্ত রসের অন্যতম প্রধান রাজকীয় দেব-রাগ।
- মালসাভরি (Malsabhari): একটি অতি প্রাচীন ওস্তাদি অপ্রচলিত রাগ।
- মালশ্রী (Malashri): কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত মাত্র ৩টি বা ৪টি স্বর নিয়ে গঠিত অত্যন্ত প্রাচীন ও প্রামাণ্য ওস্তাদি রাগ (ভাতখণ্ডে বর্ণিত)।
- মালিনী (Malini): খামাজ বা কাফি ঠাটের একটি অপ্রচলিত প্রামাণ্য রাগ।
- মালগঞ্জনী (Malgunji): কাফি ও খামাজ ঠাটের মধ্যবর্তী অত্যন্ত গম্ভীর, বক্র ও ওস্তাদি প্রামাণ্য রাগ (বাগেশ্রী ও রাধেশ্রীর কাছাকাছি)।
- মালহার / মিঞা কি মালহার (Malhar / Miyan Ki Malhar): মিয়া তানসেন কর্তৃক কাফি ঠাটের অন্তর্গত উভয় নিষাদ যুক্ত করে সৃষ্ট বর্ষা ঋতুর সর্বপ্রধান, অতি গম্ভীর ও ঐতিহাসিক প্রামাণ্য রাগ।
- মালুহা কল্যাণ (Maluha Kalyan): কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত বক্র চলনের একটি অত্যন্ত প্রামাণ্য ও ওস্তাদি অপ্রচলিত রাগ (ভাতখণ্ডে বর্ণিত)।
- মাঝ খামাজ (Majh Khamaj): ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ সাহেব কর্তৃক খামাজ রাগের একটি বিশেষ রূপান্তর হিসেবে সৃষ্ট প্রামাণ্য রাগ।
- মঙ্গল ভৈরব (Mangal Bhairav): ভৈরব ঠাটের অন্তর্গত প্রাতঃকালের একটি সুমধুর ও শান্ত প্রকৃতির প্রামাণ্য রাগ।
- মানবি (Manavi): খামাজ ঠাটের একটি আধুনিক অপ্রচলিত রাগ।
- মারওয়া (Marwa): মারওয়া ঠাটের জনক রাগ; কোমল ঋষভ ও তীব্র মধ্যম যুক্ত সূর্যাস্তের সময়কার অত্যন্ত তীব্র ব্যাকুলতা ও বীররসাত্মক প্রধান আদি প্রামাণ্য রাগ।
- মারু বিহাগ (Maru Bihag): কল্যাণ ঠাটের উভয় মধ্যম যুক্ত বিহাগ চলনের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পরম সুমধুর নৈশ প্রামাণ্য রাগ।
- মেঘ / মেঘ মালহার (Megh / Megh Malhar): খামাজ বা কাফি ঠাটের অন্তর্গত ঔডব জাতির বর্ষাকালের অত্যন্ত প্রাচীন, গম্ভীর ও মেঘের গর্জনের মতো বীররসাত্মক আদি দেব-রাগ।
- মুলতানি (Multani): তোড়ি ঠাটের অন্তর্গত তীব্র মধ্যম ও শুদ্ধ ধৈবত বিশিষ্ট অপরাহ্নের অত্যন্ত গম্ভীর ও পরম করুণ রসের সুপ্রসিদ্ধ প্রধান প্রামাণ্য রাগ।
য – র – ল অংশ
- যজ্ঞপ্রিয়া (Yagwapriya): তোড়ি বা ভৈরব ঠাটের স্বরবিন্যাস বিশিষ্ট দক্ষিণ ভারতীয় পদ্ধতি থেকে সংগৃহীত একটি প্রামাণ্য রাগ।
- রামকলি (Ramkali): ভৈরব ঠাটের অন্তর্গত তীব্র মধ্যম ও কোমল নিষাদের অতি সূক্ষ্ম প্রয়োগযুক্ত প্রাতঃকালের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রামাণ্য ওস্তাদি রাগ।
- রামকল্যাণ (Ramkalyan): কল্যাণ ঠাটের একটি অতি প্রাচীন ও দুর্লভ অপ্রচলিত রূপ।
- রামদাসী মালহার (Ramdasi Malhar): মিয়া তানসেনের সমসাময়িক রামদাসী কর্তৃক কাফি ঠাটের স্বর নিয়ে সৃষ্ট বর্ষাকালের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ওস্তাদি প্রামাণ্য রাগ।
- রামপ্রিয়া (Ramapriya): দক্ষিণ ভারতীয় মেলকর্তা পদ্ধতি থেকে আগত তীব্র মধ্যম বিশিষ্ট একটি প্রামাণ্য রাগ।
- রঞ্জनी (Ranjani): দক্ষিণ ভারতীয় রাগ, যা হিন্দুস্তানি সংগীতে এসে মারওয়া বা তোড়ি ঠাটের অধীনে অত্যন্ত করুণ ও গভীর রস সৃষ্টি করে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
- রঞ্জনী কল্যাণ (Ranjani Kalyan): রঞ্জনী এবং কল্যাণ রাগের সংমিশ্রণে তৈরি একটি সুমধুর নৈশ জোড় রাগ।
- রসিকা (Rasika): বিলাবল বা খামাজ ঠাটের অন্তর্গত একটি আধুনিক চঞ্চল প্রকৃতির অপ্রচলিত রাগ।
- রসরঞ্জনী (Rasaranjani): একটি অপ্রচলিত ওস্তাদি রাগরূপ।
- রতিভৈরব (Rati Bhairav): ভৈরব রাগের একটি সুমধুর শান্ত প্রকৃতির প্রকারভেদ।
- রতিপ্রিয়া (Ratipriya): খামাজ ঠাটের অন্তর্গত একটি অপ্রচলিত মধুর রাগ।
- রাধেশ্রী (Radheshri): খামাজ ও কাফি ঠাটের মধ্যবর্তী বাগেশ্রী রাগের সমান্তরাল অত্যন্ত সুমধুর ও প্রামাণ্য আধুনিক রাগ।
- রূপাবতী (Rupavati): একটি অতি প্রাচীন শাস্ত্রীয় রাগরূপ।
- রূপমঞ্জরী (Rupmanjari): কাফি বা বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত ওস্তাদি প্রাচীন অপ্রচলিত রাগ।
- রেবতী (Revati): ভৈরব বা পূর্বী ঠাটের অন্তর্গত ঋষভ ও ধৈবত কোমল যুক্ত পাঁচ স্বরের অত্যন্ত করুণ ও শান্ত রসের জনপ্রিয় প্রামাণ্য রাগ।
- রেবতী ভৈরব (Revati Bhairav): রেবতী এবং ভৈরব রাগের একটি সুন্দর প্রাতঃকালীন জোড় রাগ।
- ললিত (Lalit): মারওয়া ও ভৈরব ঠাটের মধ্যবর্তী উভয় মধ্যম যুক্ত ঊষাকালের অত্যন্ত ব্যাকুলতা ও গভীর করুণ রসের সর্বপ্রধান ঐতিহাসিক আদি প্রামাণ্য রাগ।
- ললিত ভৈরব (Lalit Bhairav): ললিত এবং ভৈরব রাগের প্রাতঃকালীন ওস্তাদি জোড় রাগ।
- ললিত পঞ্চমি (Lalit Panchami): ললিত রাগের একটি বিশেষ ওস্তাদি রূপান্তর যেখানে পঞ্চম স্বরের চলন সুনির্দিষ্ট।
- ললিতা (Lalita): ললিত রাগের একটি প্রাচীন রূপ বা প্রকারভেদ।
- লক্ষণ গীতি (Lakshan Giti): রাগের নিয়ম মনে রাখার জন্য ভাতখণ্ডে রচিত রাগের পরিচয়মূলক গানের সুরের কাঠামো আশ্রিত রাগরূপ।
- লঙ্কাধহন সারং (Lankadahan Sarang): সারং পরিবারের অন্তর্গত উভয় গান্ধার যুক্ত দুপুরের অত্যন্ত জনপ্রিয়, চঞ্চল ও প্রামাণ্য ওস্তাদি রাগ।
- লাচাড়ী তোড়ি (Lachari Todi): তোড়ি ঠাটের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত বক্র ও জটিল চলনের দুর্লভ ওস্তাদি রাগ (ভাতখণ্ডে বর্ণিত)।
- লাচাড়ী বিহাগ (Lachari Bihag): বিহাগ রাগের একটি অপ্রচলিত প্রকারভেদ।
- লাবণ্য (Lavanya): খামাজ বা বিলাবল ঠাটের একটি আধুনিক অপ্রচলিত মিষ্টি রাগ।
শ – স – হ অংশ
- শঙ্করা (Shankara): বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত গান্ধার ও নিষাদ প্রধান অতি উচ্চাঙ্গের বীর ও রৌদ্র রসাত্মক পরম সুপ্রসিদ্ধ নৈশ প্রামাণ্য রাগ।
- শঙ্করাভরণ (Shankarabharan): দক্ষিণ ভারতীয় সংগীতের মূল শুদ্ধ স্বরের রাগ যা হিন্দুস্তানি সংগীতে বিলাবলের সমান্তরাল।
- শরৎ কাফি (Sharat Kafi): শরৎ ঋতুর উপযোগী কাফি রাগের একটি বিশেষ মিষ্টি রূপান্তর।
- শাহানা / শাহানা কানাড়া (Shahana / Shahana Kanada): কাফি ঠাটের অন্তর্গত কানাড়া অঙ্গের অত্যন্ত গম্ভীর, রাজকীয় ও বিবাহ উৎসবে বহুল ব্যবহৃত সুপ্রসিদ্ধ প্রামাণ্য রাগ।
- শিবভৈরব (Shiva Bhairav): ভৈরব রাগের একটি পরম শান্ত ও ধ্যানমগ্ন প্রকারভেদ।
- শিবরঞ্জনী (Shivaranjani): কাফি ঠাটের অন্তর্গত মধ্যম ও নিষাদ বর্জিত কোমল গান্ধার যুক্ত পরম করুণ ও বিরহ রসের সর্বজনীন অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রামাণ্য রাগ।
- শিবকল্যাণ (Shiva Kalyan): কল্যাণ ঠাটের একটি শান্ত প্রকৃতির প্রামাণ্য রাগরূপ।
- শিবমত ভৈরব (Shivamat Bhairav): ভৈরব রাগের একটি বিশেষ অত্যন্ত ওস্তাদি প্রামাণ্য রূপ যা ভাতখণ্ডে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।
- শ্রী (Shree): পূর্বী ঠাটের অন্তর্গত কোমল ঋষভ ও তীব্র মধ্যম প্রধান সূর্যাস্তের সময়কার পরম গম্ভীর, আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক আদি দেব-রাগ।
- শ্রীকল্যাণ (Shree Kalyan): শ্রী রাগ এবং কল্যাণ রাগের একটি জটিল ওস্তাদি জোড় রাগ।
- শ্রীটঙ্ক (Shreetank): শ্রী রাগের একটি অতি প্রাচীন ও প্রামাণ্য প্রকারভেদ।
- শুদ্ধ কল্যাণ (Shuddha Kalyan): কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত আরোহে ভূপালী এবং অবরোহে যমনের স্বরবিন্যাস বিশিষ্ট পরম গম্ভীর ও সুপ্রসিদ্ধ আদি প্রামাণ্য রাগ।
- শুদ্ধ বিলাওয়াল (Shuddha Bilaval): বিলাবল ঠাটের কোনো প্রকারভেদ ছাড়া সম্পূর্ণ শুদ্ধ স্বরের আদি মূল রূপ।
- শুদ্ধ ভৈরব (Shuddha Bhairav): ভৈরব রাগের সম্পূর্ণ ব্যাকরণসম্মত মূল রূপ।
- শুদ্ধ মালহার (Shuddha Malhar): মল্লার পরিবারের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও ওস্তাদি বর্ষাকালীন প্রামাণ্য রাগ (ভাতখণ্ডে বর্ণিত)।
- শুদ্ধ নাট (Shuddha Nat): নাট রাগের আদি ও মূল শুদ্ধ রূপ।
- শুদ্ধ সারং (Shuddha Sarang): কাফি ঠাটের অন্তর্গত তীব্র মধ্যম ও শুদ্ধ মধ্যম যুক্ত মধ্যাহ্নের অন্যতম প্রধান পরম জনপ্রিয় প্রামাণ্য রাগ।
- শুদ্ধ বসন্ত (Shuddha Basant): বসন্ত রাগের আদি তীব্র মধ্যম বর্জিত মূল রূপ।
- শ্যাম কল্যাণ (Shyam Kalyan): কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত উভয় মধ্যম যুক্ত অত্যন্ত গম্ভীর, শান্ত ও ভক্তিপ্রধান পরম জনপ্রিয় নৈশ প্রামাণ্য রাগ।
- সামন্ত সারং (Samanta Sarang): সারং পরিবারের অন্তর্গত কোমল নিষাদের প্রয়োগযুক্ত একটি বিখ্যাত প্রামাণ্য রাগ।
- সরস্বতী (Saraswati): কাফি ঠাটের অন্তর্গত তীব্র মধ্যম ও শুদ্ধ ধৈবত বিশিষ্ট পরম সুমধুর ও ভক্তিপ্রধান অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রামাণ্য রাগ।
- সরস্বতী আকাশ (Saraswati Akash): সরস্বতী রাগের একটি আধুনিক অপ্রচলিত প্রকারভেদ।
- সারং / বৃন্দাবনী সারং (Sarang / Brindabani Sarang): কাফি ঠাটের অন্তর্গত উভয় নিষাদ যুক্ত মধ্যাহ্নের সর্বপ্রধান, অত্যন্ত চঞ্চল, মধুর ও সর্বজনীন জনপ্রিয় প্রামাণ্য রাগ।
- সাজগিরি (Sajgiri): পূর্বী বা মারওয়া ঠাটের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত জটিল বক্র চলনের ওস্তাদি অপ্রচলিত রাগ (ভাতখণ্ডে বর্ণিত)।
- সাভनी / সাভনী মালহার (Savani / Savani Malhar): কাফি বা খামাজ ঠাটের অন্তর্গত শ্রাবণ মাসের অত্যন্ত চঞ্চল ও সুমধুর বর্ষাকালীন প্রামাণ্য রাগ।
- সিন্ধু / সিন্ধু ভৈরবী (Sindhu / Sindhu Bhairavi): ভৈরবী ঠাটের স্বর নিয়ে তৈরি অত্যন্ত চঞ্চল ও মধুর প্রকৃতির মিশ্র রাগ (ঠুমরির জন্য বিখ্যাত)।
- সিন্ধু খামাজ (Sindhu Khamaj): সিন্ধু অঙ্গ এবং খামাজ রাগের একটি সুন্দর সুমধুর মিশ্রণ।
- সিন্ধু কাফি (Sindhu Kafi): সিন্ধু এবং কাফি রাগের জোড় রূপ।
- সিন্ধুড়া (Sindhura): কাফি ঠাটের অন্তর্গত অত্যন্ত চঞ্চল, মধুর ও হোরি-ধামার গায়কীর উপযোগী প্রামাণ্য রাগ।
- সিন্ধুড়া বাহার (Sindhura Bahar): সিন্ধুড়া এবং বাহার রাগের একটি সুন্দর চঞ্চল জোড় রাগ।
- সোহিনী (Sohini): মারওয়া ঠাটের অন্তর্গত অতি উচ্চ স্বরগ্রামের (তার সপ্তকের) অত্যন্ত চঞ্চল, মধুর ও সান্ধ্যকালীন সর্বজনীন জনপ্রিয় প্রামাণ্য রাগ।
- সোহিনী বাহার (Sohini Bahar): সোহিনী এবং বাহার রাগের একটি ওস্তাদি জোড় রাগ।
- সোহিনী পঞ্চমি (Sohini Panchami): সোহিনী রাগের একটি দুর্লভ প্রকারভেদ।
- সোরঠ (Sorath): খামাজ ঠাটের অন্তর্গত দেশ রাগের সমান্তরাল অত্যন্ত চঞ্চল, মধুর ও নৈশ প্রামাণ্য রাগ।
- সুহা / সুহা কানাড়া (Suha / Suha Kanada): কাফি ঠাটের অন্তর্গত কানাড়া অঙ্গের অত্যন্ত গম্ভীর ও ওস্তাদি অপ্রচলিত রাগ (ভাতখণ্ডে বর্ণিত)।
- সুহা সুঘরাই (Suha Sughrai): সুহা এবং সুঘরাই রাগের একটি অত্যন্ত জটিল ওস্তাদি মিশ্র রূপ।
- সুঘরাই / সুঘরাই কানাড়া (Sughrai / Sughrai Kanada): কাফি ঠাটের অন্তর্গত কানাড়া অঙ্গের একটি প্রামাণ্য অপ্রচলিত রাগ।
- সুখিয়া বিলাওয়াল (Sukhia Bilaval): বিলাবল ঠাটের একটি অত্যন্ত সুমধুর ও শান্ত প্রকৃতির অপ্রচলিত প্রকারভেদ।
- সুর মালহার (Sur Malhar): মল্লার পরিবারের অন্তর্গত মিয়া তানসেনের সমসাময়িক সুরদাস কর্তৃক সৃষ্ট বর্ষাকালের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বিখ্যাত প্রামাণ্য রাগ।
- সূর্যকৌঁস (Suryakauns): মালকৌঁস রাগের কোমল গান্ধারের পরিবর্তে শুদ্ধ গান্ধার প্রয়োগ করে সৃষ্ট একটি আধুনিক প্রামাণ্য রাগ।
- হংসধ্বনি (Hamsadhwani): দক্ষিণ ভারতীয় মেলকর্তা থেকে আগত, বর্তমানে উত্তর ভারতীয় সংগীতের প্রতিটি অনুষ্ঠানের শুরুতে গণেশ বন্দনায় ব্যবহৃত পরম জনপ্রিয় ও উৎফুল্ল প্রকৃতির প্রামাণ্য রাগ।
- হংসকল্যাণ (Hamsa Kalyan): হংসধ্বনি এবং কল্যাণ রাগের সংমিশ্রণে তৈরি একটি সুমধুর নৈশ রাগ।
- হংসনারায়ণ (Hamsanarayan): পূর্বী ঠাটের অন্তর্গত একটি অপ্রচলিত ওস্তাদি রাগ।
- হেমন্ত (Hemant): ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ সাহেব কর্তৃক বিলাবল ঠাটের স্বরবিন্যাসে সৃষ্ট হেমন্ত ঋতুর পরম সুমধুর ও প্রামাণ্য আধুনিক রাগ।
- হিন্দোল (Hindol): কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত ঋষভ ও পঞ্চম বর্জিত তীব্র মধ্যম প্রধান অত্যন্ত প্রাচীন, বীর ও উৎফুল্ল প্রকৃতির বসন্তকালীন আদি দেব-রাগ।
- হিন্দোল বাহার (Hindol Bahar): হিন্দোল এবং বাহার রাগের একটি সুন্দর ওস্তাদি জোড় রাগ।
- হিন্দোলিতা (Hindolita): হিন্দোল রাগের একটি প্রাচীন রূপান্তর বা প্রকারভেদ।
- হেম কল্যাণ (Hem Kalyan): কল্যাণ ঠাটের একটি শান্ত ও গম্ভীর প্রকৃতির অপ্রচলিত প্রামাণ্য রাগ (ভাতখণ্ডে বর্ণিত)।
আরও অপ্রচলিত, মিশ্র, জোড় রাগ এবং দক্ষিণ ভারতীয় পদ্ধতি থেকে ধার করা রাগ:
‘অ’ থেকে ‘ঔ’ অংশের বাকি থাকা দুর্লভ রাগ
- অঞ্জনী আসাবরী (Anjani Asavari): আসাবরী রাগের সাথে অঞ্জনী অঙ্গের একটি অত্যন্ত দুর্লভ ওস্তাদি মিশ্রণ।
- অমৃতবিহাগ (Amritbihag): বিহাগ রাগের একটি আধুনিক ও অত্যন্ত মিষ্টি অপ্রচলিত রূপান্তর।
- আহীর ভৈরব বাহার (Ahir Bhairav Bahar): অহীর ভৈরব এবং বসন্তকালীন বাহার রাগের একটি জটিল ত্র্যঙ্গ জোড় রাগ।
- আহীর ললিত ভৈরব (Ahir Lalit Bhairav): অহীরি, ললিত এবং ভৈরব—এই তিনটি রাগের ছায়া বিশিষ্ট একটি অতি জটিল প্রাতঃকালীন রাগ।
- আসাবরী কানাড়া (Asavari Kanada): জৌনপুরী বা দরবারী চলন এড়াতে আসাবরীর নিজস্ব স্বরবিন্যাসে কানাড়া অঙ্গের মিশ্রণ।
- ঔডব জৌনপুরী (Audav Jaunpuri): জৌনপুরী রাগের ৫ স্বর বিশিষ্ট (ঋষভ ও নিযাদ বর্জিত আরোহ যুক্ত) রূপ।
২. ‘ক’ থেকে ‘ঝ’ অংশের বাকি থাকা দুর্লভ রাগ
- কল্যাণ নাট (Kalyan Nat): নাট অঙ্গ এবং যমন/কল্যাণ রাগের সংমিশ্রণে তৈরি একটি ওস্তাদি প্রাচীন রাগ।
- কাফি কন্নড় (Kafi Kannada): কাফি ঠাটের স্বর নিয়ে কানাড়া অঙ্গের বক্র চলন বিশিষ্ট রাগ।
- কাফি গৌড় (Kafi Gaud): কাফি এবং প্রাচীন গৌড় রাগের মিশ্রণ।
- কুঙ্কুম বিহারী (Kumkum Bihari): খামাজ বা কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত একটি আধুনিক অত্যন্ত মিষ্টি অপ্রচলিত রাগ।
- কৌঁষী ভৈরব (Kaunsi Bhairav): মালকৌঁস এবং ভৈরব রাগের স্বরবিন্যাস নিয়ে গঠিত একটি দুর্লভ প্রাতঃকালীন জোড় রাগ।
- খামাজ বাহার (Khamaj Bahar): খামাজ এবং বাহার রাগের চঞ্চল প্রকৃতির জোড় রাগ (ঠুমরি অঙ্গে বহুল ব্যবহৃত)।
- গৌড় কানাড়া (Gaud Kanada): কানাড়া পরিবারের অন্তর্গত একটি অতি প্রাচীন ও জটিল ওস্তাদি রাগ।
- গোপী খামাজ (Gopi Khamaj): খামাজ রাগের একটি বিশেষ ওস্তাদি রূপান্তর।
- চন্দ্রকৌঁস-বাহার (Chandrakauns-Bahar): চন্দ্রকৌঁস এবং বাহার রাগের একটি সুমধুর নৈশ মিশ্র রাগ।
- ছায়া তোড়ি (Chhaya Todi): তোড়ি ঠাটের অন্তর্গত ছায়া অঙ্গের একটি অত্যন্ত দুর্লভ রূপ।
- জগমোহিনী (Jagmohini): কাফি বা খামাজ ঠাটের অন্তর্গত একটি আধুনিক অপ্রচলিত রাগ।
- জয়রাজ (Jayraj): বিলাবল ঠাটের অন্তর্গত একটি আধুনিক রাগরূপ।
- জোগ ভৈরব (Jog Bhairav): নৈশ রাগ জোগ এবং প্রাতঃকালীন ভৈরব রাগের সংমিশ্রণে সৃষ্ট একটি ওস্তাদি জোড় রাগ।
৩. ‘ত’ থেকে ‘ম’ অংশের বাকি থাকা দুর্লভ রাগ
- তিলক বিলাবল (Tilak Bilaval): তিলক কামোদের চলন বিশিষ্ট বিলাবল রাগের একটি প্রামাণ্য রূপ (ভাতখণ্ডে বর্ণিত)।
- তোড়ি বাহার (Todi Bahar): প্রাতঃকালীন তোড়ি এবং বসন্তের বাহার রাগের একটি অত্যন্ত কঠিন ও ওস্তাদি জোড় রাগ।
- দীপক ভৈরব (Deepak Bhairav): ঐতিহাসিক দীপক রাগের সাথে ভৈরব রাগের সংমিশ্রণ।
- দেশকর ভৈরব (Deshkar Bhairav): দেশকার এবং ভৈরব রাগের স্বরবিন্যাসের একটি ওস্তাদি জোড় প্রকাশ।
- ধনশ্রী বিহাগ (Dhanyashri Bihag): ধন্যশ্রী এবং বিহাগ রাগের সংমিশ্রণে তৈরি একটি নৈশ রাগ।
- নাট বাগেশ্রী (Nat Bageshri): নাট অঙ্গ এবং বাগেশ্রী রাগের একটি দুর্লভ জোড় রাগ।
- পরজ বাহার (Paraj Bahar): পরজ এবং বাহার রাগের দ্রুত লয়ের একটি চমৎকার মিশ্রণ।
- পূর্বী বাহার (Purvi Bahar): সান্ধ্যকালীন পূর্বী এবং বসন্তের বাহার রাগের একটি জটিল জোড় রাগ।
- বাগেশ্রী কাফি (Bageshri Kafi): বাগেশ্রী এবং কাফি রাগের একটি রঞ্জনপ্রধান মিশ্র রূপ।
- বিহাগ বাহার (Bihag Bahar): মধ্যরাত্রির বিহাগ এবং বাহার রাগের একটি সুমধুর ও ওস্তাদি জোড় রাগ।
- ভৈরব কলিঙ্গদা (Bhairav Kalingada): ভৈরব এবং কলিঙ্গদা রাগের চলনগত একটি মিশ্র রূপ।
- ভৈরবী কানাড়া (Bhairavi Kanada): ভৈরবী রাগের স্বর নিয়ে কানাড়া অঙ্গের চলনে গীত দুর্লভ রাগ।
- মধুমাধবী (Madhumadhavi): মধুমাদ সারং রাগের একটি অতি প্রাচীন আদি রূপান্তর।
- মালুহা সারং (Maluha Sarang): মালুহা অঙ্গ এবং সারং রাগের একটি ওস্তাদি দুপুরের রাগ।
৪. ‘য’ থেকে ‘হ’ অংশের বাকি থাকা দুর্লভ রাগ
- যমনী বিলাবল (Yamani Bilaval): যমন এবং বিলাবল রাগের সংমিশ্রণে তৈরি পণ্ডিত ভাতখণ্ডে বর্ণিত একটি বিখ্যাত প্রামাণ্য রাগ।
- রামদাসী মালহার (বিলাবল অঙ্গ): রামদাসী মালহারের একটি প্রকারভেদ যেখানে বিলাবল রাগের ছায়া স্পষ্ট।
- ললিত কাফি (Lalit Kafi): ললিত এবং কাফি রাগের একটি অত্যন্ত দুর্লভ ওস্তাদি জোড় রাগ।
- শঙ্করা বিহারী (Shankara Bihari): শঙ্করা এবং বিহাগ রাগের উচ্চাঙ্গের একটি সংমিশ্রণ।
- শুদ্ধ কল্যাণ বাহার (Shuddha Kalyan Bahar): শুদ্ধ কল্যাণ এবং বাহার রাগের জটিল ত্র্যঙ্গ রূপ।
- শ্যাম কাফি (Shyam Kafi): শ্যাম অঙ্গ এবং কাফি রাগের সংমিশ্রণ।
- সরস্বতী কল্যাণ (Saraswati Kalyan): সরস্বতী এবং কল্যাণ রাগের একটি আধুনিক সুমধুর জোড় রাগ।
- সিন্ধু ভৈরব (Sindhu Bhairav): সিন্ধুড়া ও ভৈরবীর সংমিশ্রণে তৈরি চঞ্চল প্রকৃতির রাগ।
- সোহিনী কাফি (Sohini Kafi): সোহিনী এবং কাফি রাগের একটি দুর্লভ প্রকাশ।
- হংসলাঞ্ছন (Hamsalanchan): বিলাবল বা খামাজ ঠাটের অন্তর্গত একটি অতি প্রাচীন অপ্রচলিত রাগ।
হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের সংগৃহীত রাগগুলোর তালিকা এখানেই শেষ হলো। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংগীত গ্রন্থ, উইকিপিডিয়া এবং প্রামাণ্য ডিজিটাল আর্কাইভের তথ্য মিলিয়ে এই তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
যেহেতু শাস্ত্রীয় সংগীত একটি পরিবর্তনশীল মাধ্যম, তাই সময়ের সাথে সাথে অনেক নতুন রাগের সৃষ্টি হয় এবং কিছু অপ্রচলিত রাগ হারিয়ে যায়। এই সংকলনটিকে আরও নিখুঁত করতে আপনাদের সহযোগিতা কাম্য। তালিকায় কোনো ভুলত্রুটি থাকলে বা কোনো রাগের নাম যুক্ত করার প্রয়োজন হলে কমেন্ট বক্সে জানানোর অনুরোধ রইল। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে তালিকাটি নিয়মিত আপডেট করা হবে।
আরও দেখুন:
