১৯৪৭: পাকিস্তান আন্দোলন ও মওদুদী-জামাতের আসল চেহারা । ইতিহাস ও রাজনীতি সিরিজ

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের (Government of India Act 1935) অধীনে ১৯৩৬-৩৭ সালে ব্রিটিশ রাজ ভারতের প্রাদেশিক সরকার পরিচালনার বেশ কিছু ক্ষমতা ভারতীয়দের হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ১৯৩৭ সালের গোড়ার দিকে ভারতের সবকটি প্রদেশে ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস অধিকাংশ প্রদেশে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করে। অন্যদিকে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোতে মুসলিম লীগ যেখানে সরকার গঠন করে, সেখানে কংগ্রেস শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা গ্রহণ করে।

১৯৪৭: পাকিস্তান আন্দোলন ও মওদুদী-জামাতের আসল চেহারা

এই নির্বাচনের ধাক্কায় উপমহাদেশীয় মুসলমানরা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দূরদর্শী নেতৃত্বে এক অভিনব রাজনৈতিক জাগরণে সংহত হতে শুরু করে। জিন্নাহর একক ক্যারিশমায় মুসলিম লীগ রাতারাতি একটি অসংগঠিত দল থেকে ভারতের মুসলমানদের একমাত্র শক্তিশালী ও প্রধানতম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

কিন্তু এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা গেল মওলানা সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদীর ক্ষেত্রে। তিনি ভারতীয় কংগ্রেসের ঘোর বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও জিন্নাহর মুসলিম লীগে যোগদান করলেন না। উল্টো, মওলানা মওদুদী কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ—উভয় রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেই একযোগে জিহাদ ঘোষণা করলেন। তিনি এই দুই দলকেই ‘ইসলামবিরোধী’, ‘জাহেলিয়াত’ এবং ‘মুসলমানদের চরম শত্রু’ হিসেবে আখ্যায়িত করতে লাগলেন। তৎকালীন প্রগতিশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মওদুদীর এই দ্বিমুখী নীতির পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য কার্যকর ছিল; আর তা হলো—ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রভু এবং তাদের এদেশীয় স্বার্থান্বেষী মহলের পরোক্ষ সন্তুষ্টি বিধান করা।

নতুবা, সেই চরম ক্রান্তিকালে অন্তত মুসলিম লীগের বিরোধিতার আর কী যৌক্তিকতা থাকতে পারত? তিনি যদি সত্যি আন্তরিকভাবে উপমহাদেশীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাতন্ত্র্যে অনুপ্রাণিত হতেন, তবে মুসলিম লীগে যোগদান করে একে সংস্কার করার চেষ্টা করতেন। কারণ, ১৯৪১ সালের আগস্ট মাসে ‘জামায়াতে ইসলামী’ প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত তিনি নিজেও কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করেননি, কেবল তাত্ত্বিক লেখালেখিই করতেন।

মওদুদীর তাত্ত্বিক স্ববিরোধিতা ও ইতিহাসের বিকৃতি

১৯৩৭ সালের নির্বাচনে জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলমানদের এই অভাবনীয় জাগরণকে বাধাগ্রস্ত করতে মওলানা মওদুদী তাঁর বিখ্যাত মাসিক পত্রিকা ‘তরজুমানুল কুরআন’-এ একটি পরিষ্কার ঘোষণা দেন, যা পরবর্তীতে তাঁর ‘সিয়াসী কাশমকাশ’ (রাজনৈতিক টানাপোড়েন) গ্রন্থে সংকলিত হয়। তিনি লেখেন:

“এই জাতি (উপমহাদেশের মুসলমান) প্রথম থেকেই একটি ‘জমিয়ত’ বা সংঘ। এ সংঘের ভেতর কোনো পৃথক সংঘ পৃথক নামে গঠন করা, মুসলমানদের পরস্পরের মধ্যে পরোক্ষ কিংবা প্রত্যক্ষ নিদর্শন কিংবা বিশেষ কোনো নাম বা নীতি দ্বারা প্রভেদ সৃষ্টি করা এবং মুসলমানদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে তাদের মধ্যে দল-উপদলগত কোন্দল সৃষ্টি করা মূলত মুসলমানদের সুদৃঢ় করা নয়, এতে তাদের আরো দুর্বল করে দেওয়া।”

মওলানার এই মন্তব্যটির দিকে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করলে ঐতিহাসিকদের কেবল হাস্যরসেরই উদ্রেক হয়। হাসি পায় এজন্য যে, পাকিস্তান আন্দোলনের তীব্র বিরোধিতা করতে গিয়ে তিনি দিবালোকের মতো স্পষ্ট ইতিহাসকে সম্পূর্ণ বিকৃত করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলেন। সে আমল তো দূরের কথা, আজকের একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রও জানে যে, ১৯৩৭ সালে জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ পুনর্গঠিত হওয়ার পূর্বে ভারতের মুসলমানরা রাজনৈতিকভাবে মোটেও সুসংহত ছিল না। তারা ছিল শতধাবিচ্ছিন্ন, আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও উপদলীয় কোন্দলে জর্জরিত। যার ফলে রাজনীতি, অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি চাকরি এবং আধুনিক শিক্ষা—সব ক্ষেত্রেই তারা নিজেদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। মূলত জিন্নাহর নেতৃত্বে লাহোর প্রস্তাবের (১৯৪০) দিকে ধাবিত হওয়ার পরেই তারা নিজেদের দাবি আদায়ে সক্ষম হয়েছিল। অথচ মওলানা মওদুদী দাবি করলেন, উপমহাদেশের মুসলমানরা নাকি এমনিতেই একতাবদ্ধ সংঘ, আর ‘মুসলিম লীগ’ নাম দিয়ে দল গঠন করার অর্থ হলো মুসলমানদের দুর্বল করে দেওয়া!

স্বয়ং মওলানার পরবর্তীকালের একটি নিজস্ব উদ্ধৃতির প্রতি তাকালেই তাঁর এই দাবির অবাস্তবতা ও স্ববিরোধিতা প্রমাণিত হয়। মুসলমানদের তীব্র সমালোচনা করে তিনি নিজেই অন্য এক স্থানে লিখেছিলেন:

“সারকথা, এই নামগড়া মুসলিম সমাজে অনুসন্ধান করলে রঙ-বেরঙের মুসলমান আপনার নজরে পড়বে। এত ধরনের মুসলমান দেখতে পাবেন যা আপনি গুনে শেষ করতে পারবেন না। এটা একটা চিড়িয়াখানা—যাতে চিল, শকুন, তিতির, ভারুই এবং আরো অনেক প্রকার প্রাণী রয়েছে। এরা সবাই পাখি, কেননা এরা চিড়িয়াখানায় রয়েছে।” (সিয়াসী কাশমকাশ, ৩য় খণ্ড)

মওলানা তাঁর এই নিজস্ব তত্ত্বে পরিষ্কার স্বীকার করে নিলেন যে, সে আমলের মুসলিম সমাজ আসলে মুসলিম নামের এক বিচিত্র ‘চিড়িয়াখানা’ মাত্র, তারা মোটেও কোনো আদর্শিক সংঘ ছিল না। মূলত তিনি যখন প্রথম বিবৃতিটি দিয়েছিলেন, তখন বেশ ভালো করেই জানতেন যে মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কোনো একতা নেই। একমাত্র মুসলিম লীগের পতাকাতলেই তারা একটি সুসংহত জাতিতে পরিণত হতে চলেছিল। কিন্তু মুসলিম লীগের অন্ধ বিরোধিতার নেশায় মওলানা মওদুদী এখানে স্পষ্ট সত্যের অপলাপ করেছিলেন।

লীগ নেতৃত্বের প্রতি মওদুদীর তীব্র বিষোদ্গার (১৯৩৯)

১৯৩৯ সালের দিকে যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে উঠছে এবং ভারতের ভবিষ্যৎ রাজনীতি এক চূড়ান্ত বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তখনই মওলানা মওদুদী মুসলিম লীগ নেতৃত্বের ওপর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণ তীব্রতর করেন। তিনি মুসলিম লীগের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে সাধারণ মুসলমানদের চোখে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অত্যন্ত কড়া ভাষায় লেখেন:

“মুসলমান নিরেট অজ্ঞ হবে যদি এখনো তারা পরিস্থিতির নাজুকতা যথাযথ উপলব্ধি করতে না পারে। তারা এখনো এই ধোঁকায় পড়ে রয়েছে যে, বাহাড়ম্বর সভাসমিতি এবং ফাঁপা শোভাযাত্রা তাদের জাতীয় ধ্বংস থেকে রক্ষা করবে। তারা এমন লোকদের নেতৃত্বে আস্থা জ্ঞাপন করছে যাদের সামনে মন্ত্রিত্ব এবং ঐশ্বর্য ছাড়া আর কোনো জিনিস নেই। যারা জাতির জন্য এতটুকু ক্ষতি স্বীকার করতে পারবে না, যারা কেবলমাত্র মন্ত্রিসভায় নিজেদের দখল টিকিয়ে রাখার জন্য মুসলমানদের নাম উচ্চস্বরে নিচ্ছে, তাদের ভীরুতা সম্পর্কে শত্রুদের পুরােপুরি বিশ্বাস রয়েছে।” (সিয়াসী কাশমকাশ, ২য় খণ্ড)

মওদুদী সাহেব সে সময় একপ্রকার নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলেন যে, পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত মুসলিম লীগ নেতাদের দ্বারা আলটিমেটলি কিছুই অর্জিত হবে না; বরং এই নেতৃত্বের হাত ধরে মুসলিমদের রাজনৈতিক তরী মাঝ দরিয়ায় ডুবে যাবে। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করেছে তাঁর এই রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ কতটা ভুল ও অদূরদর্শী ছিল।

লাহোর প্রস্তাব (১৯৪০) এবং মওদুদীর ‘খাঁটি ইসলাম’ বনাম ‘ভেজাল ইসলাম’ তত্ত্ব

১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ লাহোর প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলমানদের জন্য আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্রের (পাকিস্তান) দাবি উত্থাপন করা হলো, তখন সারা ভারতের মুসলমানদের মনে এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু এই জাগরণও মওলানা মওদুদীর মনে বিন্দুমাত্র ইতিবাচক রেখাপাত করতে পারেনি।

মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ যখন জনসভায় মুসলিম জাতীয়তাবাদ, মুসলিম সংস্কৃতি ও মুসলিম রাষ্ট্রের ধারণার পক্ষে জনমত গঠন করতে লাগলেন, মওলানা মওদুদী তখন ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে এগুলোকে ‘অনৈসলামিক’ ও ‘ইসলামের পরিপন্থী’ বলে ফতোয়া দিতে শুরু করলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রচলিত মুসলিম লীগের রাজনীতি হলো ‘ভেজাল ইসলাম’, আর তিনি যে তত্ত্ব প্রচার করছেন, সেটাই একমাত্র ‘খাঁটি ও নির্ভেজাল ইসলাম’। এই খাঁটি আর ভেজালের বিতর্ককে তিনি এক চরম উগ্র পর্যায়ে নিয়ে যান, যার প্রমাণ মেলে তাঁর নিজের লেখা থেকেই। তিনি তাঁর বিখ্যাত রাজনৈতিক পুস্তক ‘সিয়াসী কাশমকাশ’-এর তৃতীয় খণ্ডের ভূমিকায় অত্যন্ত কঠোর ভাষায় লেখেন:

“…আমার নিকট এই পরিস্থিতি ভয়াবহতার দিক থেকে দেশীয় (কংগ্রেসের) জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের চাইতে কম নয়। ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ লোকদের নেতৃত্বে ভারতের মুসলমানরা যদি একটি বিধর্মী জাতির মতো নিজেদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে (যেমন তুর্কী ও ইরানীরা রেখেছে), তবে তাদের এরূপ জীবিত থাকা এবং কোনো অমুসলিম জাতীয়তায় মিশে যাওয়াতে কী পার্থক্য আছে? হীরা যদি তার বৈশিষ্ট্য হারিয়ে বসে তবে হতভাগা পাথর হয়ে পড়ে থাকুক কিংবা বিক্ষিপ্ত হয়ে মাটিতে মিশে যাক, জহুরীর তাতে কী আকর্ষণ থাকতে পারে?”

মওদুদী সাহেবের এই তত্ত্বের মূল কথা ছিল—ইসলামী হুকুমত বা খেলাফত ছাড়া স্রেফ মুসলমানদের জন্য একটি ভৌগোলিক রাষ্ট্র (পাকিস্তান) প্রতিষ্ঠা করা আর হিন্দুদের সাথে একীভূত হয়ে যাওয়া একই কথা! তিনি জিন্নাহর প্রস্তাবিত পাকিস্তানকে ‘কাফের রাষ্ট্র’ বা ‘না-পাকিস্তান’ হিসেবে অভিহিত করতেও দ্বিধা করেননি। অন্য এক স্থানে তিনি সরাসরি মুসলিম লীগের জাতীয়তাবাদের মূল স্তম্ভে আঘাত করে লেখেন:

“…এই জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের জন্য আপনাদের ইসলামের নাম ব্যবহার করার অধিকার নেই। কেননা, ইসলাম সকল প্রকার জাতীয়তাবাদের শত্রু। সেটা ভারতীয় জাতীয়তাবাদই হোক কিংবা নামগড়া মুসলিম জাতীয়তাবাদই হোক।”

একথা বলাই বাহুল্য, ১৯৪০ সালের পর জিন্নাহর নেতৃত্বে পরিচালিত পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করার স্পষ্ট অর্থ ছিল ব্রিটিশ-ভারত বিভক্তির বিরোধিতা করা এবং প্রকারান্তরে অখণ্ড ভারতের (যা কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য ছিল) পক্ষাবলম্বন করা। মওলানা মওদুদী এবং তাঁর নবগঠিত দল ‘জামায়াতে ইসলামী’ (প্রতিষ্ঠা: আগস্ট ১৯৪১) ইসলামের পবিত্র নাম ও ধর্মীয় অনুভূতির ঢাল ব্যবহার করে পাকিস্তান আন্দোলনের বিরুদ্ধে লেখনী চালাতে বিন্দুমাত্র কসুর করেননি।

মুসলিম লীগকে তীব্র কটাক্ষ এবং ‘মসজিদে জেরার’-এর সাথে তুলনা

মওলানা মওদুদী পাকিস্তান আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি মুসলিম লীগকে কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক দল হিসেবেই আক্রমণ করেননি, বরং একে ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত কপটতার প্রতীক ‘মসজিদে জেরার’ (কাফের ও মুনাফিকদের নির্মিত ক্ষতিকর মসজিদ, যা ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল)-এর সাথে তুলনা করেছিলেন। মুসলিম লীগের কোটি কোটি সাধারণ সমর্থককে লক্ষ্য করে তিনি অত্যন্ত অবমাননাকর ভাষায় লেখেন:

“কেবলমাত্র ‘মুসলমান’ শব্দ দ্বারা প্রতারিত হয়ে যারা অজ্ঞতার পূজারীদের সংস্থাকে একটি (ইসলামী) সংস্থা মনে করে এবং একথা ভাবে যে, এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান ইসলামের দৃষ্টিতে কল্যাণকর হবে, তাদের স্থূলবুদ্ধি অত্যন্ত শোকজ্ঞাপনযোগ্য।” (সিয়াসী কাশমকাশ, ৩য় খণ্ড)

তিনি আরও যোগ করেন:

“…যে মসজিদের বুনিয়াদ ন্যায়নিষ্ঠা ও তাকওয়ার উপর নয়, কুরআন সেখানে দাঁড়ানোর অনুমতি দেয় না। এখানে (মুসলিম লীগে) তো ন্যায়নিষ্ঠাকে মস্তিষ্কের বিকৃতি মনে করা হয়।”

মুসলিম লীগের প্রস্তাবিত রাষ্ট্র যে ইসলামের বিশ্বজনীন রূপকে ক্ষুণ্ণ করছে, এমন দাবি তুলে তিনি আবেগঘন নাটকের অবতারণা করেন। তিনি লিখেছিলেন, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুসলিম লীগের এই ‘মুসলমান’ নাম ধারণের নীতি ভারতের মুসলমানদের জন্য কল্যাণকর নাকি ক্ষতিকর, তা তাঁর কাছে বড় প্রশ্ন নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ববাসীর সামনে ইসলামকে কীভাবে বিকৃত করে পেশ করছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে মুসলিম লীগের প্রস্তাবের প্রতি তাকালে তাঁর ‘অন্তর কাঁদতে আরম্ভ করে’।

কোরআনের অপব্যাখ্যা এবং স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার

মওলানা মওদুদী যখন মুসলিম লীগ সম্পর্কে এসব ফতোয়া দিচ্ছিলেন, তখন উপমহাদেশের ৯০ শতাংশেরও বেশি মুসলমান মুসলিম লীগের পতাকাতলে সমবেত হয়ে স্বাধিকার আন্দোলনের চূড়ান্ত লড়াই লড়ছিলেন। সে সময় অনেক মুসলিম নেতা কংগ্রেসের সমর্থক ছিলেন (যেমন মওলানা আবুল কালাম আজাদ বা জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দের নেতৃবৃন্দ)। তাঁরা ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী হলেও তাঁদের দেশপ্রেম ও ব্রিটিশ-বিরোধী সংগ্রাম নিয়ে কোনো সংশয় ছিল না। তাঁরা জেল খেটেছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

কিন্তু মওলানা মওদুদী এবং তাঁর জামায়াতে ইসলামী কোনো ধরনের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ না নিয়ে, ইসলামের ছদ্মাবরণে কেবল তাত্ত্বিক বিভ্রান্তি ছড়িয়ে মুসলমানদের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। সবচাইতে বিস্ময়কর ও দুঃখের বিষয় হলো, মওদুদী দাবি করেছিলেন—পবিত্র কোরআন নাকি তাঁকে মুসলিম লীগে যোগদান করার অনুমতি দেয় না! ইসলামের রাজনৈতিক ইতিহাসের গবেষকদের মতে, পবিত্র কোরআনের আয়াত ও ইসলামিক পরিভাষাগুলোকে নিজের রাজনৈতিক দল গোছানো এবং ব্যক্তিস্বার্থের অনুকূলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে মওলানা মওদুদী তৎকালীন উপমহাদেশে এক চরম ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

জিন্নাহর নেতৃত্বকে ‘পেছনের বগি’র সাথে তুলনা

পাকিস্তান আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা, কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের যোগ্যতা ও নিয়ত নিয়ে চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন মওদুদী। তাঁর দৃষ্টিতে জিন্নাহর মতো পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত দূরদর্শী রাজনীতিবিদরা ইসলামী আন্দোলনের তো দূরের কথা, সাধারণ মুসলিমদের নেতৃত্ব দেওয়ারও যোগ্য ছিলেন না। জিন্নাহর নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন:

“এই সংস্থায় (মুসলিম লীগে) যাদের প্রথম সারিতে দেখা যাচ্ছে, ইসলামী জামাতে তাদের সঠিক স্থান সবচেয়ে পেছনের সারিতে। এমনকি কেউ কেউ তো সেখানেও কেবল অনুগ্রহেরই স্থান পেতে পারে। এ ধরনের লোকদের নেতা বানানো রেলগাড়ির সবচেয়ে পেছনের বগিকে ইঞ্জিনের স্থানে লাগিয়ে দেওয়ার সমতুল্য। যে উঁচু স্থানে (ইসলামী হুকুমত) আপনারা যাওয়ার ইচ্ছে করছেন, এ নামসর্বস্ব ইঞ্জিন আপনাদের গাড়িকে এক ইঞ্চিও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না। অবশ্য গাড়ি তার আপন গতিতে নিচের দিকে চলে আসবে। আপনারা কিছুকাল পর্যন্ত এ ভুল ধারণায় পড়ে থাকবেন যে, মাশাআল্লাহ! আমাদের ‘ইঞ্জিন’ গাড়িকে খুব উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ বাস্তব যত তাড়াতাড়ি অনুধাবন করতে পারবেন ততই মঙ্গল। কেননা প্রতিটি মুহূর্ত চলে যাচ্ছে এবং সে আপনাদের উপরের পরিবর্তে নিচের দিকে নিয়ে যাচ্ছে…।” (সিয়াসী কাশমকাশ, ৩য় খণ্ড)

মওদুদী সাহেবের এই অহংকারী ভবিষ্যদ্বাণী দাবি করেছিল যে, জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম জাতি কেবল ধ্বংস আর পতনের দিকেই ধাবিত হবে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তৎকালীন ১০ কোটি মুসলমানের মধ্যে মওলানা মওদুদী এবং তাঁর গুটি কয়েক অনুসারী ছাড়া আর কেউই এই তথাকথিত ‘সত্য’ উপলব্ধি করতে পারেনি। বাংলার ও ভারতের কোটি কোটি মুসলমান মওদুদীর এই ফতোয়া ও সতর্কবাণীকে ছুড়ে ফেলে জিন্নাহর ওপর আস্থা রেখেছিলেন। পরিণামে মুসলমানরা ধ্বংস হয়েছিল নাকি স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জনের মাধ্যমে সফল (কামিয়াব) হয়েছিল—তার অকাট্য উত্তর ইতিহাসই মওদুদীকে দিয়ে দিয়েছে।

পাকিস্তানপন্থী আলেম-ওলামাদের প্রতি অশালীন আক্রমণ

মওলানা মওদুদী কেবল পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত মুসলিম লীগ নেতাদের গালিগালাজ করেই ক্ষান্ত হননি; সে আমলে উপমহাদেশের যে সমস্ত প্রখ্যাত, সর্বজনশ্রদ্ধেয় এবং প্রাজ্ঞ আলেম-ওলামা পাকিস্তান আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরাও মওদুদীর অশালীন ও কড়া সমালোচনা থেকে রেহাই পাননি। (উল্লেখ্য, মওলানা শাব্বির আহমদ উসমানী, মওলানা জাফর আহমদ উসমানীর মতো বিশ্ববরেণ্য আলেমরা জিন্নাহর আন্দোলনের প্রকাশ্য সমর্থক ছিলেন এবং নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সমান্তরালে ‘জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম’ গঠন করে পাকিস্তানের পক্ষে ফতোয়া দিয়েছিলেন)।

এই প্রাজ্ঞ আলেমদের অবমাননা করে মওলানা মওদুদী অত্যন্ত অহংকারী ভাষায় লিখেছিলেন:

“পাশ্চাত্য ধরনের নেতাদের সম্পর্কে তো তেমন আশ্চর্যবোধ হওয়ার নয়; কারণ বেচারাদের কুরআনের আলো-বাতাসও লাগেনি। কিন্তু আশ্চর্য লাগে এবং হাজার বার লাগে সেসব আলেমের ব্যাপারে—যাদের দিবারাতের কাজই হলো ‘আল্লাহ বলেছেন’ ও ‘রাসূল বলেছেন’ (কুরআন-হাদিস) পড়ানো। বুঝে আসে না তাদের কী হয়ে গেছে!” (সিয়াসী কাশমকাশ, ৩য় খণ্ড)

মওদুদীর এই খোঁটা দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল এটি প্রমাণ করা যে—যেহেতু জিন্নাহর আন্দোলন তাঁর মনগড়া থিওরির সাথে মিলছে না, তাই এই কোটি কোটি মুসলমান এবং শত শত প্রখ্যাত আলেম সবাই মূলত ‘জাহেল’ বা ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ! তাঁরা জেনেশুনে একটি ‘অনৈসলামিক’ আন্দোলনে নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছেন।

সাধারণ মুসলমানদের ‘মুসলমানিত্ব’ নিয়ে কটাক্ষ

পাকিস্তান আন্দোলনের পক্ষে গণজোয়ার দেখে মওলানা মওদুদী একপর্যায়ে সাধারণ মুসলমানদের ঈমান ও মুসলমানিত্বের ওপরও সরাসরি আঘাত হানেন। বংশগত মুসলমানদের দ্বারা কোনো ভালো কাজ হতে পারে না—এমন চরমপন্থী তত্ত্ব দিয়ে তিনি লেখেন:

“একটি জাতির প্রতিটি ব্যক্তিকে শুধুমাত্র এজন্য যে তারা বংশগত মুসলমান, সত্যিকার অর্থে মুসলমান গণ্য করা এবং এরূপ আশা পোষণ করা যে, তাদের সমবেত প্রচেষ্টায় যে কাজই হবে তা ইসলামী নীতি মোতাবেক হবে—প্রথম এবং মৌলিক ভুল। এই বিরাট দল, যাদের মুসলিম জাতি বা সম্প্রদায় বলা হয়, তাদের অবস্থা এরূপ যে, প্রতি হাজারে নয় শ’ নিরানব্বই জনই ইসলাম সম্পর্কে কোনো জ্ঞান রাখে না, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য করতে জানে না। তাদের নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানসিক ধ্যান-ধারণাও ইসলাম মোতাবেক পরিবর্তিত হয়নি…।” (সিয়াসী কাশমকাশ, ৩য় খণ্ড)

মওদুদীর এই ‘হাজারে ৯৯৯ জনই ইসলাম জানে না’ তত্ত্বটি ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে পাকিস্তান দাবির পক্ষে রায় দেওয়া কোটি কোটি সাধারণ মুসলমানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকারকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করতে চেয়েছিলেন। তৎকালীন প্রগতিশীল চিন্তাবিদদের মতে, যে অদৃশ্য সুতোর টানে মওদুদী সাহেব কংগ্রেসের বিরোধিতা করেছিলেন, ঠিক একই অদৃশ্য সুতোর টানে তিনি মুসলিম লীগেরও বিরোধিতা করেছিলেন; যার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের কোনো অবস্থাতেই যেন একটি নিজস্ব স্বাধীন ভূখণ্ড তৈরি হতে না দেওয়া।

দেশভাগ-পরবর্তী ভোল বদল: জামাতের আসল চেহারা

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নাটকটি মঞ্চস্থ হয় ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্টের পর। যে পাকিস্তানকে মওলানা মওদুদী ও তাঁর জামায়াতে ইসলামী ‘না-পাকিস্তান’, ‘খোঁড়া পাকিস্তান’ ও ‘কাফের রাষ্ট্র’ বলে আজীবন গালিগালাজ করেছিলেন, দেশভাগের পর মওদুদী সাহেব তাঁর সেই সমস্ত তাত্ত্বিক বই ও উগ্র ফতোয়া রাতারাতি বেমালুম ভুলে যান।

ভারতে থাকা তাঁর কোটি কোটি মুসলিম ভক্ত ও অনুসারীদের চরম অনিশ্চয়তা ও দাঙ্গার মুখে ফেলে রেখে মওলানা মওদুদী নিজে সপরিবারে হিজরত করে সেই ‘না-পাকিস্তানেই’ (লাহোরে) এসে আস্তানা গাড়েন। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানে পা রেখেই তিনি তাঁর আগের অবস্থান সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এক চতুর রাজনৈতিক ঘোষণা দেন:

“আমি কখনো পাকিস্তানের বিরোধিতা করিনি, আমি কেবল মুসলিম লীগের পশ্চিমা খাসলতের বিরোধিতা করেছি!”

এই চতুর ভোল বদলের মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানে এসে রাতারাতি ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ ও ‘কোরআনী শাসন’ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের নামে নতুন করে রাজনীতি শুরু করেন এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চক্রান্তে মেতে ওঠেন।

শেষ কথা:

মওলানা মওদুদীর এই ঐতিহাসিক দ্বিমুখী নীতি ও সুবিধাবাদী চরিত্রের উত্তরাধিকার আজকের জামায়াতে ইসলামীও বহন করে চলেছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই জামায়াতে ইসলামীই আবার ‘পাকিস্তান ভাঙা ও ইসলাম রক্ষা’র নামে আল-বদর, আল-শামস ও রাজাকার বাহিনী গঠন করে বাঙালি নিধনে মেতে উঠেছিল। অথচ ১৯৭৫ এবং ১৯৯০ পরবর্তী সময়ে তারা ঠিক মওদুদীর মতোই ভোল পাল্টে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভেতর ঢুকে পড়ে ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার অপচেষ্টা চালায়। ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান আন্দোলনের সময় মওদুদীর এই চরমপন্থী ও সুবিধাবাদী অবস্থান প্রমাণ করে যে, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি কখনো সাধারণ মানুষের মুক্তি বা ইসলামের প্রকৃত কল্যাণের জন্য ছিল না; বরং তা ছিল ধর্মের নামে কেবলই ক্ষমতার দাবার ঘুঁটি চালার এক নির্মম কৌশল।

মূল সহায়ক সূত্রসমূহ:

  • সিয়াসী কাশমকাশ (উর্দু: سیاسی کشمکش / বাংলা অনুবাদ: রাজনৈতিক টানাপোড়েন) – ১ম, ২য় ও ৩য় খণ্ড।
    • মুসলমানরা প্রথম থেকেই একটি জমিয়ত…: সিয়াসী কাশমকাশ, ১ম খণ্ড (১৯৩৭-৩৮ সালের তরজুমানুল কুরআন পত্রিকার নিবন্ধের সংকলন)।
    • মুসলিম সমাজ একটি চিড়িয়াখানা…: সিয়াসী কাশমকাশ, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩৮।
    • নেতৃত্বের সামনে মন্ত্রিত্ব আর ঐশ্বর্য ছাড়া কিছু নেই…: সিয়াসী কাশমকাশ, ২য় খণ্ড (১৯৩৯ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর লেখা)।
    • তুর্কী ও ইরানীদের মতো স্বতন্ত্র অস্তিত্ব এবং হীরা-পাথরের রূপক: সিয়াসী কাশমকাশ, ৩য় খণ্ডের ভূমিকা (১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া)।
    • ইসলাম সকল প্রকার জাতীয়তাবাদের শত্রু…: সিয়াসী কাশমকাশ, ৩য় খণ্ড (জাতীয়তাবাদ বনাম ইসলাম অধ্যায়)।
    • মুসলিম লীগ ‘মসজিদে জেরার’-এর মতো… এবং অন্তর কাঁদতে আরম্ভ করে: সিয়াসী কাশমকাশ, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৫ ও ৪৬।
    • জিন্নাহর নেতৃত্বকে ‘রেলগাড়ির পেছনের বগি’র সাথে তুলনা: সিয়াসী কাশমকাশ, ৩য় খণ্ড (নেতৃত্বের যোগ্যতা ও নিয়ত সংক্রান্ত অধ্যায়)।
    • পাকিস্তানপন্থী আলেমদের সমালোচনা (আল্লাহ ও রাসূল বলেছেন পড়ান…): সিয়াসী কাশমকাশ, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭২।
    • সাধারণ মুসলমানদের মুসলমানিত্ব নিয়ে কটাক্ষ (হাজারে ৯৯৯ জনই ইসলাম জানে না…): সিয়াসী কাশমকাশ, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৯১।
  • India Wins Freedom (ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম)
    • ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং মুসলিম লীগের সাথে কোয়ালিশন না করার ঐতিহাসিক ভুলের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
  • The Sole Spokesman: Jinnah, the Muslim League and the Demand for Pakistan * লেখক: ড. আয়েশা জালাল (Ayesha Jalal)।
    • ১৯৩৭-এর পর জিন্নাহর একক ক্যারিশমায় মুসলিম লীগের পুনর্গঠন এবং মুসলমানদের রাজনৈতিক জাগরণের নিখুঁত বিবরণ।
  • Foundations of Pakistan: All-India Muslim League Documents (1906–1947)
    • ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের মূল আইনি ও রাজনৈতিক পাঠ।
  • The Maududi Myth (মওদুদী মিথ)
    • মওদুদীর তত্ত্বের স্ববিরোধিতা এবং ভারতভাগের আগের ফতোয়া বনাম পরের রাজনীতির চুলচেরা বিশ্লেষণ।
  • The Vanguard of the Islamic Revolution: The Jama’at-i Islami of Pakistan. লেখক: সেয়দ ভালি রেজা নাসর (Seyyed Vali Reza Nasr)।
    • জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠা (১৯৪১) এবং পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বে ও পরে দলটির রাজনৈতিক কৌশলের রূপান্তরের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য একাডেমিক দলিল।
  • উপমহাদেশের রাজনীতিতে মওদুদী ফ্যাক্টরজামায়াতে ইসলামীর অতীত ও বর্তমান। লেখক/সংকলক: অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং ঐতিহাসিক আর্কাইভাল রেকর্ডস (বাংলাদেশ)।
    • দেশভাগের সময় মুসলমানদের ফেলে মওদুদীর লাহোর যাত্রা এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের নেতিবাচক ভূমিকার ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা।

আরও দেখুন: