রাজনীতি নিয়ে আমার মাথাব্যথা । রাজনীতির পাঠ

আমার দৃঢ় বিশ্বাস—রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা যে তন্ত্রেরই হোক না কেন, প্রতিটি নাগরিকের রাজনীতি সচেতন থাকা আবশ্যক এবং রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশ নেওয়া একটি নাগরিক কর্তব্য। আপনি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আদর্শে বিশ্বাসী হবেন কি হবেন না, কিংবা দলীয় লেজুড়বৃত্তি করবেন কি না—তা সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার নীতি নির্ধারণ থেকে নিজেকে দূরে রাখা কোনো সমাধান নয়।

আমরা প্রতিনিয়ত সমাজ পরিবর্তন, শিক্ষা, উন্নয়ন বা মানবিক যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি, সেগুলোর চূড়ান্ত ও টেকসই বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্র এবং রাজনীতির নীতি-নির্ধারণী কাঠামোর সাথে যৌথভাবে কাজ করা অপরিহার্য। কারণ দিনশেষে প্রতিটি ভালো উদ্যোগের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ন ঘটে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই।

‘আই হেট পলিটিক্স’ ও আমার শঙ্কা

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের প্রোফাইলে যখন দেখি “I Hate Politics” (আমি রাজনীতি ঘৃণা করি) কথাটি লেখা, তখন সেটি আমাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে এবং আতঙ্কিত করে। রাজনীতিবিমুখতা কখনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। আপনি রাজনীতিকে ঘৃণা করে মাঠ খালি করে দিলে, সেই শূন্যস্থানটি এমন সব মানুষের দ্বারা দখল হবে—যাঁরা আপনার ভবিষ্যৎ ধ্বংস করতে দ্বিধা করবেন না। প্লেটোর সেই বিখ্যাত উক্তিটি এখানে প্রণিধানযোগ্য:

“রাজনীতিতে অংশ না নেওয়ার অন্যতম শাস্তি হলো, আপনার চেয়ে নিকৃষ্ট ও অযোগ্য ব্যক্তিদের দ্বারা শাসিত হওয়া।”

এই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থা থেকে বের হতেই আমাদের রাজনৈতিক ক্ষত, পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, সোনালী আশা এবং আগামীর আকাঙ্ক্ষাগুলো নিয়ে আমাদের খোলামেলা কথা বলা দরকার।

প্যাসিভ রিসিপিয়েন্ট থেকে অ্যাক্টিভ পার্টিসিপ্যান্ট

আমার মূল উদ্দেশ্য হলো তরুণদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ বাড়ানো। আমি চাই আমাদের যুবসমাজ কেবল অন্যের তৈরি করা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ‘প্যাসিভ রিসিপিয়েন্ট’ (নিষ্ক্রিয় গ্রহীতা) হয়ে থাকবে না; বরং তারা নিজেরা মেধা, যুক্তি ও সুস্থ চিন্তার প্রয়োগ ঘটিয়ে পরিবর্তনের ‘অ্যাক্টিভ পার্টিসিপ্যান্ট’ (সক্রিয় অংশীদার) হয়ে উঠবে। তরুণেরা যখন রাষ্ট্র ও সমাজ সংস্কারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেবে, তখনই কেবল একটি সুন্দর, শোষণমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

দেখুন:

Leave a Comment