Breaking News :

একুশে ফেব্রুয়ারী – আবদুল গাফফার চৌধুরী

এই গানটিকে প্রথমে কবিতা হিসেবে লিখেছিলেন আব্দুল গফফার চৌধুরী। পরে প্রখ্যাত সঙ্গীতকার আবদুল লতিফ সুরারোপ করে গান হিসেবে দাড় করান। এরপর সুরটিকে আরও সুন্দর করে তোলেন শহীদ সুরকার আলতাফ মাহমুদ। এই গানটি যখন তিনি লিখেছিলেন তখন তার বয়স মাত্র ১৭ বছর, ঢাকা কলেজ এর আইএ ক্লাসের ছাত্র। ২২ শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের লাঠিচার্জে আহত অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কবিতাটি লিখে শেষ করেন।

.

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি

আমি কি ভুলিতে পারি

ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু-গড়া এ ফেব্রুয়ারি

আমি কি ভুলিতে পারি

আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি

আমি কি ভুলিতে পারি।

জাগো নাগিনীরা জাগো নাগিনীরা জাগো কালবোশেখীরা

শিশুহত্যার বিক্ষোভে আজ কাঁপুক বসুন্ধরা,

দেশের সোনার ছেলে খুন করে রোখে মানুষের দাবী

দিন বদলের ক্রান্তি লগনে তবু তোরা পার পারি ?

না, না, না, না খুন রাঙা ইতিহাসে শেষ রায় দেওয়া তারই

একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।

সেদিনো এমনি নীল গগনের বসনে শীতের শেষে

রাত জাগা চাঁদ চুমো খেয়েছিলো হেসে;

পথে পথে ফোটে রজনীগন্ধা অলকানন্দা যেনো,

এমন সময ঝড় এলো এক, ঝড় এলো ক্ষ্যাপা বুনো।

সেই আঁধারে পশুদের মুখ চেনা

তাহাদের তরে মায়ের, বোনের, ভায়ের চরম ঘৃণা

ওরা গুলি ছোঁড়ে এদেশের প্রাণে দেশের দাবীকে রোখে

ওদের ঘৃণ্য পদাঘাত এই বাংলার বুকে।

ওরা এদেশের নয়,

দেশের ভাগ্য ওরা করে বিক্রয়-

ওরা মানুষের অন্ন, বস্ত্র, শান্তি নিয়েছে কাড়ি-

একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।

তুমি আজ জাগো তুমি আজ জাগো একুশে ফেব্রুয়ারি

আজো জালিমের কারাগারে মরে বীর ছেলে বীর নারী

আমার শহীদ ভাইয়ের আত্মা ডাকে

জাগে মানুষের সুপ্ত শক্তি হাটে মাঠে ঘাটে বাঁকে

দারুণ ক্রোধের আগুনে জ্বালবো ফেব্রুয়ারি

একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।

https://www.youtube.com/watch?v=yOAyYLEJcYI

Read Previous

পার্টিশনের মুখে দিল্লির জামে মসজিদের বক্তৃতা – মওলানা আবুল কালাম আজাদ (১৮৮৮ -১৯৫৮)

Read Next

যুক্তফ্রন্টের ২১-দফা -১৯৫৫ সালের ৫ জুন