সাহির লুধিয়ানভি তার মা কে নিয়ে লিখেছিলেন।
“তু মেরে সাথ র্যাহেগা মুন্নে
ম্যায় তুঝে র্যাহেম কে সায়ে মে পলনে না দুঙ্গি
জিন্দগি কি কাড়ি ধুপ মে জালনে দুঙ্গি
তাকি তাপ তাপ কে তু ফওলাদ বানে
মা কি আওলাদ বানে”
ফওলাদ = ইস্পাত

এই লাইনগুলো যখন প্রথম দেখেছিলাম, মনে হয়েছিল আমার মায়ের কথাই যেন বলেছেন। আমার বাবার হত্যাকাণ্ডের পরে মা আমার আর সব ভাইবোনকে এলাকার বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। আমি একাই থাকতাম মায়ের সাথে। আমাদের স্ট্রাগলের সেই সময়গুলো চোখের সামনে আসে, মায়ের কথাগুলো সৃতিতে ভাসে।
সাহির ভারতের ফিল্ম জগতের তারকা গীতিকার ছিলেন। আজকের গীতিকার হিসেবে যে গুরুত্ব বা সম্মান, তার অনেকখানি তার দর কষাকষির কারণেই হয়েছে। তিনিই প্রথম দাবী করেছিলেন গান হিট হবার পেছনে গীতিকারের বড় ভূমিকা আছে। এজন্য সুরকার বা কণ্ঠশিল্পীর চেয়ে ১ টাকা হলেও বেশি দিতে হবে। সম্মানীর পরিমাণ যাই হোক, ১ টাকা যেন বেশি হয়।

দারুণ সব প্রেমের গান লিখে গেছেন অথচ তিনি নাকি প্রেমের গান লিখতে সবচেয়ে অপছন্দ করতেন। তার প্রেম ছিল মূলত প্রকৃতিতে। পাশাপাশি মানুষ, রাজনীতি এসব ছিল তার আগ্রহের বিষয়। সঙ্গত কারণেই তার প্রেমের গান হলেও সেই ক্যানভাস অনেক বড় হতো। প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তিনি প্রেমের সঙ্গীত বিনির্মাণ করতেন।
সাহিরের আমার আরও দুটি প্রিয় লাইন, ওয়ান ইলেভেনে যে লাইনদুটো বারবার মনে হতো :
“সিতাম কি দউর মে হাম আহল-এ-দিল হি কাম আয়ে
জুবান পে নাজ থা যিনকো উয়ো বেজুবান নিকলে।”
সাহির সবসময় অন্যরকম চিন্তার মানুষ ছিলেন। ভারত পাকিস্তানের পার্টিশন ঘোষণার সময় সাহির পাকিস্তান অংশেই ছিলেন। ঘোষণার পরে মুসলিমরা পাকিস্তান যাচ্ছিল, হিন্দুরা ভারত আসছিলেন। তিনি মুসলিম হয়েও পাকিস্তান ছেড়ে ভারত চলে আসেন।
সাহিরের শৈশব বেশ কঠিন এবং ঘটনাবহুল ছিল, যা সম্ভবত তাঁর পরবর্তী জীবনের কবিতা এবং চিন্তাভাবনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর জন্ম ১৯২১ সালের ৮ই মার্চ পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় (তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত) একটি ধনী মুসলিম পরিবারে হয়েছিল। তাঁর আসল নাম ছিল আবদুল হাই। “সাহির” ছিল তাঁর কলমি নাম, যার অর্থ “জাদুকর” বা “কবি”।
সাহিরের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বেদনাদায়ক ঘটনা ছিল তাঁর পিতা চৌধুরী ফজল মুহাম্মদ এবং মাতা সরদার বেগমের বিবাহবিচ্ছেদ। সাহিরের যখন ১১ বছর বয়স, তখন তাঁদের বিবাহ ভেঙে যায়। এই বিচ্ছেদ সাহিরের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল এবং এর প্রভাব তাঁর কবিতায় বহুবার প্রতিফলিত হয়েছে।
বিবাহবিচ্ছেদের পর সাহির তাঁর মায়ের সাথে লুধিয়ানায় থেকে যান। তাঁর পিতা ধনী এবং প্রভাবশালী হলেও, সাহির এবং তাঁর মায়ের ভরণপোষণের জন্য খুব কমই সাহায্য করতেন। ফলে তাঁদের দুজনকে আর্থিক কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। মায়ের প্রতি সাহিরের গভীর ভালোবাসা এবং তাঁর কষ্টের প্রতি সহানুভূতি তাঁর কবিতায় বারবার ফুটে উঠেছে।
সাহিরের প্রাথমিক শিক্ষা লুধিয়ানার একটি স্থানীয় স্কুলে শুরু হয়। তবে পারিবারিক অস্থিরতা এবং আর্থিক কষ্টের কারণে তাঁর পড়াশোনায় নিয়মিত ব্যাঘাত ঘটত। তবে ছোটবেলা থেকেই সাহিরের সাহিত্য ও সঙ্গীতের প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। তিনি উর্দু সাহিত্যের ক্লাসিক কবিদের রচনা মনোযোগ দিয়ে পড়তেন এবং সঙ্গীতের প্রতিও তাঁর একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল।
তবে শৈশব থেকেই সাহিরের মধ্যে একটি বিদ্রোহী মনোভাব দেখা যায়। সম্ভবত পারিবারিক কষ্টের কারণে তিনি সমাজের অন্যায় ও বৈষম্যের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছিলেন। এই বিদ্রোহী চেতনা তাঁরুণ্যে প্রগতিবাদী আন্দোলনে যোগ দিতে এবং বিপ্লবী কবিতা লিখতে তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল। পরবর্তীকালে উচ্চশিক্ষার জন্য সাহির লাহোরে চলে যান। সেখানে তিনি সরকারি কলেজে ভর্তি হন, কিন্তু তাঁর বিপ্লবী কার্যকলাপের জন্য কলেজ থেকে বহিষ্কৃত হন। লাহোরেই তিনি প্রগতিবাদী সাহিত্য আন্দোলনের সাথে গভীরভাবে যুক্ত হন এবং তাঁর কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে শুরু করেন।
সাহিরের শৈশবের এই কঠিন অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে তাঁর পিতা-মাতার বিচ্ছেদ এবং মায়ের সাথে আর্থিক কষ্টের জীবন, তাঁর কবিতায় গভীর সহানুভূতি, সামাজিক সচেতনতা এবং নারীদের প্রতি সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দিয়েছিল। তাঁর শৈশবের বেদনা এবং সংগ্রাম তাঁকে সমাজের দুর্বল ও নিপীড়িত মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে শিখিয়েছিল, যা তাঁর সাহিত্যকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হয়ে গিয়েছিল।
১৯৪৫ সালে লাহোরে থাকাকালীন তাঁর প্রথম কাব্য সংকলন “Talkhiyan” (তিক্ততা) প্রকাশিত হয়। এই বইটি প্রকাশের সাথে সাথেই উর্দু সাহিত্য জগতে সাহিরের একটি স্বতন্ত্র স্থান তৈরি হয়। তাঁর কবিতার বলিষ্ঠ ভাষা, সামাজিক বার্তা এবং আবেগময় উপস্থাপনা পাঠকদের মন জয় করে নেয়। “Talkhiyan” তাঁকে একজন প্রতিশ্রুতিশীল এবং ভিন্নধর্মী কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। সাহির প্রগতিবাদী লেখক সংঘের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এই সংঘের মাধ্যমে তিনি সমাজের বিভিন্ন অসংগতি ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর লেখনীকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। তাঁর কবিতাগুলিতে শ্রমিক, কৃষক এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবন ও সংগ্রামের চিত্র উঠে আসে।
লাহোরে থাকাকালীন সাহির বেশ কয়েকটি উর্দু সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন, যেমন “আদব-এ-লতিফ” (Adab-e-Latif), “শাহকার” (Shahkaar) এবং “সাবের” (Savera)। এই পত্রিকাগুলির মাধ্যমেও তাঁর সাহিত্যিক পরিচিতি আরও বিস্তার লাভ করে। “সাবের”-এ তাঁর কিছু বিস্ফোরক লেখার জন্য পাকিস্তান সরকার তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে তিনি ১৯৪৯ সালে লাহোর ছেড়ে দিল্লি চলে আসেন।
দিল্লিতে কিছুদিন থাকার পর সাহির বোম্বাই (বর্তমানে মুম্বাই) চলে আসেন। এখানে তাঁর এক পুরোনো বন্ধু, যিনি চলচ্চিত্র জগতে কাজ করতেন, তাঁকে গীতিকার হিসেবে চেষ্টা করার পরামর্শ দেন। ১৯৪৯ সালে “আজাদি কি রাহ পার” (Azadi Ki Raah Par) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সাহিরের গীতিকার হিসেবে অভিষেক ঘটে। যদিও ছবিটি তেমন সাফল্য পায়নি, তবে সাহিরের কাজ নজর কাড়ে।
১৯৫১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত “নৌজাওয়ান” (Naujawan) ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক এস ডি বর্মণের সাথে তাঁর কাজ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। এই ছবির “ঠান্ডি হাওয়ায়েঁ” (Thandi Hawayein) গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং সাহিরকে একজন প্রতিভাবান গীতিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। এরপর সাহির প্রখ্যাত পরিচালক গুরু দত্তের দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন। গুরু দত্তের “বাজি” (Baazi, ১৯৫১) ছবির গানগুলি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং সাহির-এস ডি বর্মণ জুটি বহু কালজয়ী গান উপহার দেন, যেমন “পিয়াসা” (Pyaasa, ১৯৫৭) চলচ্চিত্রের গানগুলি। সাহির লুধিয়ানভী খুব দ্রুতই একজন প্রভাবশালী গীতিকার হিসেবে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে নিজের জায়গা করে নেন। তাঁর কবিতার গভীরতা, ভাষার লালিত্য এবং সামাজিক বার্তা চলচ্চিত্রের গানগুলিতেও এক নতুন মাত্রা যোগ করে। ফিল্মের গানের প্রথা ভেঙে তিনিই প্রথম গীতিকার হিসেবে আগে গানের কথা লিখে এবং সুরকারদের সেই অনুযায়ী সুর করতে বলার সাহস করেছিলেন।
কবি হিসেবে সাহির অনন্য।তার কবিতার বেশ কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা তাঁকে অন্যান্য উর্দু কবিদের থেকে আলাদা করে তুলেছে এবং উর্দু সাহিত্যে একটি বিশেষ স্থান দিয়েছে। যেমন:
প্রগতিবাদী ভাবধারা (Progressive Ideology):
সাহির ছিলেন প্রগতিবাদী সাহিত্য আন্দোলনের একজন সক্রিয় সদস্য। তাঁর কবিতায় সমাজের নিপীড়িত, বঞ্চিত ও শ্রমিক শ্রেণির মানুষের প্রতি গভীর সহানুভূতি এবং তাদের অধিকারের কথা জোরালোভাবে উঠে এসেছে। তিনি সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তাঁর বিখ্যাত কবিতা “পরছাঁইয়্যাঁ” (পরছায়া) এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ, যেখানে তিনি যুদ্ধের ধ্বংসলীলা এবং এর শিকার হওয়া সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র এঁকেছেন।
নারীর প্রতি সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি (Sensitive Perspective Towards Women):
সাহিরের কবিতায় নারীর প্রতি এক বিশেষ সংবেদনশীলতা লক্ষ্য করা যায়। তিনি নারীকে কেবল প্রেম বা সৌন্দর্যের বস্তু হিসেবে দেখেননি, বরং সমাজের একজন সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। নারীর বেদনা, সংগ্রাম এবং তাদের আকাঙ্ক্ষাকে তিনি অত্যন্ত দরদের সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন। “আও কে কোয়ি খোয়াব বুনেন” (এসো কিছু স্বপ্ন বোনা যাক) এর মতো কবিতায় নারীর মর্যাদা ও অধিকারের কথা বলা হয়েছে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা (Social and Political Awareness):
সাহিরের কবিতা সমকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রতি অত্যন্ত সচেতন ছিল। তিনি সমাজের কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর কবিতায় দেশভাগ এবং এর ফলে সৃষ্ট বেদনা ও বিভাজনও গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
সহজ ও সাবলীল ভাষা (Simple and Lucid Language):
সাহির তাঁর ভাবনার গভীরতা প্রকাশ করার জন্য জটিল বা দুর্বোধ্য ভাষার ব্যবহার করেননি। তাঁর কবিতার ভাষা ছিল সহজ, সরল এবং সাধারণ মানুষের বোধগম্য। এই কারণে তাঁর কবিতা দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে যায়।
গীতিময়তা ও সুরময়তা (Lyricality and Melodiousness):
সাহিরের কবিতায় একটি সহজাত গীতিময়তা ও সুরময়তা বিদ্যমান। তাঁর শব্দচয়ন এবং বাক্যগঠন এমন যে তা সহজেই গানের সুরে বাঁধা যায়। সম্ভবত এই কারণেই তাঁর বহু কবিতা হিন্দি চলচ্চিত্রের গানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং আজও জনপ্রিয়।
ব্যক্তিগত আবেগ ও অনুভূতির প্রকাশ (Expression of Personal Emotions and Feelings):
যদিও তাঁর কবিতায় সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় মুখ্য ছিল, তবে ব্যক্তিগত আবেগ, প্রেম, বিরহ এবং হতাশার অনুভূতিও অত্যন্ত আন্তরিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর প্রেমের কবিতাগুলোতেও একটি স্বতন্ত্র বিষণ্ণতা এবং গভীরতা লক্ষ্য করা যায়।
নতুন আঙ্গিক ও উপস্থাপনা (New Style and Presentation):
সাহির তাঁর সময়ে প্রচলিত উর্দু কবিতার গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন আঙ্গিক ও উপস্থাপনারExperiment করেছিলেন। তাঁর কবিতায় বক্তব্যের স্পষ্টতা এবং সরাসরি অভিব্যক্তির প্রবণতা দেখা যায়।
সাহির লুধিয়ানভির লেখা আমার সব প্রিয় গান:
১. যো ওয়াদা কিয়া উয়ো নিভানা পাড়েগা (ফিল্ম: তাজমহল)
পারছায়িয়া:
পারছায়িয়া লিখেছিলেন সাহির যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে। একটি বিশ্বযুদ্ধ, অন্য কারো যুদ্ধে ভারতীয় সৈন্যদের যোগদান, যুদ্ধের উপর বিদেশী শক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি। এই কবিতাটি লেখা হয়েছিল 1944 বা 1945 সালের দিকে, যখন সাহির লাহোরে থাকতেন। শোনা যায় এই কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ছাতান নামক একটি উর্দু ম্যাগাজিনে, যেটা সম্পাদনা করতেন সাহিরের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে একজন “শোরিশ কাশ্মীরি”।
কবিতাটিতে সামগ্রিকভাবে সমাজের উপর যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক প্রভাব তুলে ধরেছে সাহির। কবিতায় প্রথম দুজন মানুষের মধ্যে একটি রোমান্টিক সম্পর্কের বর্ণনা করা হয়েছে। এরপরে সেই সম্পর্কের পটভূমিতেই দেখা হয়েছে যুদ্ধ। যুদ্ধ কীভাবে আশে পাশের জীবনগুলোকে প্রভাবিত করছিলো সেগুলোও উঠে এসেছে।
জাভান রাত কে সিনে পে দুধিয়া আঁচল
মাচল রাহা হ্যায় কিসি হ্ওয়াব-ই-মারমারিন কি তারাহ
হাসিন ফুল হাসিন পতিয়ন হাসিন শাহেণ
লাচাক রাহি হ্যায় কিসি জিসম-এ-নাজনী কি তারাহ
ফাজা মে ঘুল সে গাএ হ্যায় উফুক কে নরম হুতুত
জমিন হাসিন হ্যায় খাওয়াবো কি সরজামিন কি তারাহ
তাসাব্বুরাত কি পারছায়িয়ান উবারতি হ্যায়ন
কাভি গুমান কি সুরত কাভি ইয়াকিন কি তারাহ
উয়ো পেড় জিন কে তালে হাম পানাহ লেতে থে
খাড়ি হ্যায় আজ ভি সাকিত কিসি আমিন কি তারাহ
উঁনহি কে সায়ে মে ফির আজ দো ধাড়াকতে দিল
হামোশ হোঁটো সে কুছ কাহনে সুননে আয়ে হ্যায়
না জানে কিতনি কাশাকাশ সে কিতনি কভিস সে
ইয়ে সোতে জাগতে লামহে চুরা কে লায়ে হ্যায়
ইয়াহি ফাজা থি ইয়াহি রুত ইয়াহি জামানা থা
ইয়াহিন সে হাম নে মহব্বত কি ইবতিদা কি থি
ধাধাকতে দিল সে লারাজতি হুই নিগাহোন সে
হুজুর-ই-গাইব মে নান্নি সি ইলতিজা কি থি
কি আরজু কে কানাভাল খিল কে ফুল হো যায়ে
দিল-ও-নজার কি দুয়ায়ে কুবুল হো যায়ে
তাসাব্বুরাত কি পারছায়িয়ান উবারতি হ্যায়ন
তুম আ রাহি হো জামানে কি আঁখ সে বাচ কার
নাজার ঝুকে হুয়ে অউর বদন চুরায়ে হুয়ে
খুদ আপনে কাদমো কি আহাত সে ঝেঁপতি ডারতি
খুদ আপনে সায়েকি জুম্বিশ সে খাউফ খায়ে হুয়ে
তাসাব্বুরাত কি পারছায়িয়ান উবারতি হ্যায়ন
রাওয়া হ্যায় ছোটি সি কশতি হাওয়ায়ো কে রুখ পার
নদী কে সাজ পে মাল্লা গীত গাতা হ্যায়
তুমহারা জিসম হার ইক লহর কে ঝাকোল সে
মিরি খুলি হুই বাহোঁ মে ঝুল জাতা হ্যায়
তাসাব্বুরাত কি পারছায়িয়ান উবারতি হ্যায়ন
ম্যায় ফুল তাঁক রাহা হুঁ তুমারে জোড়ে মে
তুমহারী আঁখ মাসাররাত সে ঝুকতি জাতী হ্যায়
না জানে আজ ম্যায় কি বাত কাহনে ভালা হুঁ
জাবান খুশক হ্যায় আওয়াজ রুখতি জাতী হ্যায়
তাসাব্বুরাত কি পারছায়িয়ান উবারতি হ্যায়ন
[ এখানের কিছু লাইন বাদ রাখা হলো পরে যুক্ত করা হবে ]
তাসাব্বুরাত কি পারছায়িয়ান উবারতি হ্যায়ন
তুমহারে ঘর মে কেয়ামত কা শোর বরপা হ্যায়
মহাজ-ই-জঙ্গ সে হরকরা তার লায়া হ্যায়
কি জিস কা জিকর তুমেন জিন্দেগি সে প্যারা থা
উয়ো ভাই নারগা-এ-দুশমান মেয় কাম আয়া হ্যায়
তাসাব্বুরাত কি পারছায়িয়ান উবারতি হ্যায়ন
হার এক গাম পে বাদ নামিওঁ কা জামঘট হ্যায়
হার এক মোড় পে রুসওয়ায়িয়ো কে মেলে হ্যায়
না দোস্তি না তাকাল্লুফ না দিলবারি না খুলুস
কিসি কা কোই নেহি আজ সব একলে হ্যায়
তাসাব্বুরাত কি পারছায়িয়ান উবারতি হ্যায়ন
ওয়ো রাহগুজার জো মিরে দিল কি তারাহ সুনি হ্যায়
না জানে তুম কো কাহাঁ লে কে জানেওয়ালি হ্যায়
তুমেহ খারিদ রাহে হ্যায় জমির কে কাতিল
উফুক পে খুন-এ-তামান্না-এ-দিল কি লালি হ্যায়
তাসাব্বুরাত কি পারছায়িয়ান উবারতি হ্যায়ন
তুম আজ হাজারো মিল ইয়াহাঁ সে দুউর কাহিন তানহা মে
ইয়া বাজম-ই-তারব-আরি মে
মেরে সাপনে বুনতি হোঙ্গী, বেয়ঠি আঘোষ পারাই মে
অউর ম্যায় সিনে মে গাম লে কার দিন-রাত মাশাককাত করতা হুঁ
জিনে কি খাতির মারতা হু
আপনে ফ্যান কো রুসয়া কর কে অগিয়ার কা দামান ভারত হুঁ
মজবুর হুঁ ম্যায় মজবুর হো তুম মজবুর ইয়ে দুনিয়া সারি হ্যায়
তান কা দুঃখ মান পার ভরি হ্যায়
মহাজ-ই-জঙ্গ = যুদ্ধক্ষেত্র
নারগা-এ-দুশমান = শত্রু দল
জামঘট = ভিড়
রুসওয়ায়িয়ো = অপমান
তাকাল্লুফ = চেনা পরিচয়
দিলবারি – সহানুভূতি
খুলুস = পবিত্রতা
জামির = বিবেক, হৃদয়
উফুক = দিগন্ত
খুন-এ-তামান্না-এ-দিল = আকাঙ্ক্ষা খুনের রক্ত
বাজম-ই-তারব-আরি = নাচ গানের অনুষ্টানে
আঘোষ = জড়িয়ে ধারা, কোলে বসা, ঘনিষ্ট হয়ে বসা
মাশাককাত = অমানুষিক শ্রম
রুসয়া = অপমান
আগিয়ার = আগন্তুক

ঘোষানা:
শিল্পীদের নাম উল্লেখের ক্ষেত্রে আগে জ্যৈষ্ঠ-কনিষ্ঠ বা অন্য কোন ধরনের ক্রম অনুসরণ করা হয়নি। শিল্পীদের সেরা রেকর্ডটি নয়, বরং ইউটিউবে যেটি খুঁজে পাওয়া গেছে সেই ট্রাকটি যুক্ত করা হল। লেখায় উল্লেখিত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত যেসব সোর্স থেকে সংগৃহীত সেগুলোর রেফারেন্স ব্লগের বিভিন্ন যায়গায় দেয়া আছে। শোনার/পড়ার সোর্সের কারণে তথ্যের কিছু ভিন্নতা থাকতে পারে। আর টাইপ করার ভুল হয়ত কিছু আছে। পাঠক এসব বিষয়ে উল্লেখে করে সাহায্য করলে কৃতজ্ঞ থাকবো।
*** এই আর্টিকেলটির উন্নয়ন কাজ চলমান ……। আবারো আসার আমন্ত্রণ রইলো।
