রক্তাক্ত ১৫ই মার্চ: সারের দাবিতে কৃষক হত্যার কলঙ্কিত ইতিহাস

বাঙালি জাতির অন্নদাতা কৃষকদের ওপর বিএনপি-জামাত জোট সরকারের বর্বরতার এক কালো অধ্যায় ১৫ই মার্চ। ১৯৯৫ সালের এই দিনে যখন বাংলার কৃষকরা তাদের ফসল বাঁচাতে এক বস্তা সারের জন্য রাজপথে নেমেছিলেন, তখন উপহার হিসেবে তাদের বুকে বিঁধিয়ে দেওয়া হয়েছিল রাষ্ট্রীয় বাহিনীর তপ্ত বুলেট।

আপনি কি ভুলে গেছেন ১৯৯৫ সালের সেই বীভৎস স্মৃতি?

কেন এই আন্দোলন ছিল?

সে সময় বিএনপি-জামাত জোট সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে দেশজুড়ে সারের চরম সংকট তৈরি হয়েছিল। সারের দাম সাধারণ কৃষকের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল এবং কালোবাজারি ডিলারদের সিন্ডিকেটে বন্দি হয়ে পড়েছিল কৃষি উপকরণ।

  • চরম সংকট: সারের দাবিতে উত্তরবঙ্গসহ সারা দেশ যখন উত্তাল।

  • বর্বর দমনপীড়ন: ১৯৯৫ সালের ১৫ই মার্চ কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ন্যায্য দাবিতে মিছিলে অংশ নেওয়া নিরপরাধ কৃষকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়।

  • ১৮ জন কৃষকের আত্মত্যাগ: সেই আন্দোলনে সারের পরিবর্তে জীবন দিতে হয়েছিল ১৮ জন কৃষককে। তাদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল বাংলার মাটি।

দুঃশাসনের চিত্র বনাম সমৃদ্ধির আলো

বিএনপি-জামাত জোট আমলের সেই দুঃশাসনে কৃষক ছিল অবহেলিত, আর আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে।

  • রক্ত বনাম সেবা: তখন সারের জন্য কৃষককে রক্ত দিতে হতো, আর এখন কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে ভর্তুকি দেওয়া সার ও বীজ।

  • কৃষি কার্ড ও সহায়তা: বর্তমানে কৃষকদের ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা এবং সরাসরি কৃষি প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে।

  • খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা: সেই আমলের খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

“সারের বদলে যারা বুলেট দিয়েছিল, তারা দেশের উন্নয়ন চায় না।”

প্রত্যাখ্যান করুন অপশক্তিকে

বিএনপি-জামাত জোটচক্রের সেই লুটেরা ও কৃষক হত্যাকারী রাজনীতিকে চিরতরে প্রত্যাখ্যান করার সময় এসেছে। তারা ক্ষমতায় থাকা মানেই সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ এবং রক্তের হোলি খেলা।

আসুন, সেই দুঃশাসনে আর ফিরে না যাই। সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়তে উন্নয়নের অভিযাত্রায় সামিল হই।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

Leave a Comment