আজ ১৪ ডিসেম্বর, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের শাহাদতবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দার তীরে রেহাইচর নামক স্থানে হানাদার বাহিনীর গুলিতে সম্মুখযুদ্ধে তিনি শহীদ হন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীর শ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয় তিনি তাদের একজন।
মহিউদ্দীন ৭ মার্চ ১৯৪৯ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মামার বাড়ি মুলাদি উপজেলার পাতারচর গ্রামে থেকে লেখাপড়া করেন। তিনি মুলাদি মাহমুদ জান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান শাখায় ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন ১৯৬৪ সালে। বরিশাল বি.এম (ব্রজমোহন) কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন ১৯৬৬ সালে।
উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেই তিনি বিমানবাহিনীতে যোগদানের উদ্যোগ নেন কিন্তু চোখের সমস্যার কারণে তা হয়নি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে পড়ার সময় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি সেনাবাহিনীতে কমিশনড হন ১৯৮৬ সালে ইঞ্জিনিয়ার্স কোরে।
তিনি মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় পাকিস্তানে ছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হবার পরে দেশে এসে পালিয়ে ভারত গিয়ে যুদ্ধ যোগ দেন। স্বাধীনতার ঊষালগ্নে বিজয় সুনিশ্চিত করেই তিনি শহীদ হয়েছিলেন।

যেভাবে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর শাহাদত বরণ করেন:
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানিদের কাছ থেকে চাঁপাই নবাবগঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরকে একটি দলের অধিনায়ক করা হয়। ১০ ডিসেম্বর নবাবগঞ্জের পশ্চিমে বারঘোরিয়া নামক স্থানে তিনি ক্যাম্প স্থাপন করেন। ১৩ ডিসেম্বর মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর চাঁপাই নবাবগঞ্জ ও রাজশাহীতে শত্রু শিবির আক্রমণ করার জন্য তার বাহিনীকে তিনটি দলে বিভক্ত করেন। লেফটেন্যান্ট রফিকের নেতৃত্বে একটি দল মোহনন্দা অতিক্রম করে রোহনপুর-নাচোল-অনুপুরা ও নবাবগঞ্জের দিকে অগ্রসর হয়। দ্বিতীয় দল মহানন্দা নদী পার হয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হয়।
এই মুহুর্তে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর শত্রুর উপর কোন সুবিধা প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হন, তাই তিনি তার দলবল নিয়ে মহানন্দা পেরিয়ে ভোরের আগেই রেহাইচরে ক্যাম্প করেন। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি লাইট মেশিনগান বাঙ্কার ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন এবং এটির দিকে হামাগুড়ি দিয়েছিলেন। তিনি বাঙ্কারের কাছাকাছি যেতে সক্ষম হন এবং একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন, কিন্তু অন্য বাড়ির ছাদ থেকে একটি বুলেট তার কপালে লেগে গুলিবিদ্ধ হন। তাকে স্নাইপার রাইফেল থেকে গুলি করা হয়। তিনি একটি সবুজ লুঙ্গি এবং একটি ধূসর গেঞ্জি এবং তার কব্জিতে একটি গামছা পরেছিলেন।
পাকিস্তানি সৈন্যরা তাকে একজন অফিসার হিসেবে চিনতে পারেনি কারণ সে দেখতে একজন সাধারণ সৈনিকের মতো ছিল। তার কোড নাম ছিল “টাইগার”। তার সহকর্মী কমরেডরা রেডিওতে প্রতিক্রিয়া জানায় “বাঘ মারা গেছে”। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের রেহাইচর মহল্লায় যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাকে মেহেদীপুরের ছোট সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয় যেখানে যুদ্ধের সময় তার বেশিরভাগ কর্মকাণ্ড হয়েছিল। পরে তাকে বীরশ্রেষ্ঠ ঘোষণা করা হয়।




![আজ ৩ নভেম্বর – জেল হত্যা দিবস Jail Killing Day আজ ৩ নভেম্বর - জেল হত্যা দিবস [ Jail Killing Day ] । ইতিহাস ও রাজনীতি সিরিজ 5 আজ ৩ নভেম্বর – জেল হত্যা দিবস [ Jail Killing Day ] । ইতিহাস ও রাজনীতি সিরিজ](https://sufifaruq.com/wp-content/uploads/2021/11/আজ-৩-নভেম্বর-–-জেল-হত্যা-দিবস-Jail-Killing-Day-.jpg)
