শিক্ষা হলো একটি জাতির মেরুদণ্ড এবং সার্বিক উন্নয়নের চাবিকাঠি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি শিক্ষিত ও মেধাবী জাতি গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে ৩৬,১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের মাধ্যমে যে মহতী যাত্রার সূচনা করেছিলেন, সেই পথ ধরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের শিক্ষা খাতকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত গত দশ বছরে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষায় এসেছে বৈপ্লবিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন।
গত এক দশকে বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন হলো বছরের প্রথম দিনে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া। ২০১০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম আজ বিশ্বের বৃহত্তম বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উৎসবে পরিণত হয়েছে। ২০১৩ সালে ২৬,১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একযোগে জাতীয়করণ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার ৯৭.৯৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে এবং উপবৃত্তি ও স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মাধ্যমে ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
কেবল সাধারণ শিক্ষাই নয়, বরং একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ল্যাপটপ এবং আইসিটি ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর স্বপ্নকে শ্রেণীকক্ষে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষার প্রসারে জেলায় জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও কওমী মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তরকে মাস্টার্সের মর্যাদা প্রদান সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নীতিরই প্রতিফলন।
বর্তমান প্রতিবেদনটিতে গত ১০ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতে অর্জিত ঈর্ষণীয় সাফল্য ও অগ্রগতির পরিসংখ্যানগত চিত্র বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হলো।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে “বাংলাদেশের শিক্ষা” খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শিক্ষা জাতির সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। এ উপলব্ধি থেকে প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন ও বাধ্যতামূলক করে দক্ষ ও মেধাবী মানবসম্পদ গঠন এবং নিরক্ষরমুক্ত সোনারবাংলা দেশ বির্নিমাণে দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ লক্ষ্যে জাতির পিতা মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অববহিত পরেই ১৯৭৩ সালে ৩৬,১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণসহ

- ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেন যা জাতির কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন।
- প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের অর্জিত ঈর্ষণীয় সাফল্য সর্বমহলে ব্যাপকভাবে আদৃত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানাবিধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে সম্পাদিত/চলমান গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড উদ্যোগ গুলো নিম্নে হল:
প্রস (Gross) নীট (Net) ভর্তির হার

- প্রাথমিক শিক্ষার কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ২০১৫ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় নীট ভর্তির হার ৯৭.৯৪% এ উন্নীত হয়েছে।
- ভর্তির ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যের পাশপাশি ঝরেপড়ার কারণসমূহ চিহ্নিত করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় অসহায় দরিদ্র পরিবারের শিশুদের উপবৃত্তি প্রদান, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ গ্রহণ, উন্নতমানের বিস্কুট সরবরাহ, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্তকরণসহ মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার ফলে ঝরে পড়ার হারও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা-চক্র সমাপ্তির হারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঝরে পড়ার ও শিক্ষাচক্র সমাপনীর শতকরা হার

বই বিতরণ
- প্রতি বছরের প্রথম দিন বই বিতরণ বর্তমান সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ২০১০ সাল থেকে বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ২.২৩ কোটি ছাত্র/ছাত্রীদের মধ্যে চার বহু বিশিষ্ট ১০.৮৭,১৯,৯৯৭টি পাঠ্যপুস্তক বিনামূলো বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির শিশুদের নিজস্ব বর্ণমালায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন এবং সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, সরবরাহ এবং ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য

প্রায় প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, সরবরাহ এবং ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি
- বৈষম্যহীন সমাজ সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার না করে সকলের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে সরকার অভিন্ন শিক্ষাক্রম, পাঠ্যসূচি ও পাঠ্যবই এর পাশাপাশি বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
উপবৃত্তি প্রকল্প
- দারিদ্র ম্যাপ অনুযায়ী যে সকল উপজেলায় দারিদ্র্যের হার ৬০% এর বেশি এমন ৬৭টি উপজেলায় ৯০% শিক্ষার্থীকে, দারিদ্রের হার (৪৮-১-৬০) % পর্যন্ত এমন ১২২টি উপজেলার ৭৫% শিক্ষার্থীকে, দারিদ্র্যের হার (৩৬.১-৪৮) % পর্যন্ত এমন ১৪০টি উপজেলার ৫০% শিক্ষার্থীকে ও দারিদ্র্যের হার ৩৬% পর্যন্ত এমন ১৫৪টি উপজেলায় ৪৫% শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। এ জন্য ২০১০ সালে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৪৮,১৫,৬৩৬ জন হতে বাড়িয়ে ৭৮.১৭,৯৭৭ জনে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে দেশের ১০০% শিশুকে উপবৃত্তির আওতাভুক্ত করার সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখে এ উন্নীত হবে।
বৃত্তি
- ঝরে পড়া রোধ, শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে উপজেলাভিত্তিক বৃত্তি প্রদান করা হয়। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৫৫ হাজার শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধার ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়া হত। ২০১৬ সাল থেকে বৃত্তির সংখ্যা বাড়িয়ে ৮২ হাজার ৫ শত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
স্কুল ফিডিং প্রকল্প
- বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরেপড়া রোধ সহ পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ১৩টি দারিদ্রপীড়িত উপজেলায় ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে উচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন বিস্কুট বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও স্থানীয় কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে ১৩৬টি বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। মায়েদের উদ্বুদ্ধ করে সারাদেশে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থীদের মাঝে দুপুরে রান্না করা খাবার সরাবরাহ করা হচ্ছে।
শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ
- ‘ভিশন ২০২১’ বাস্তবায়নসহ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ের দপ্তরসমূহে ইন্টারনেট সংযোগসহ ৫৫টি পিটিআইতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ৫০৩টি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৫৫০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, ইন্টারনেট মডেম ও সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহ করা হয়েছে।
ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন
- প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৩ এর আওতায় জুন ২০১৫ পর্যন্ত ২০১৪টি বিদ্যালয় পুনঃনির্মাণ, ১৯.৮১৯টি অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, ১৫.০৫৪টি শ্রেণিকক্ষ মেরামত, ২৫.৬২১টি টিউবওয়েল স্থাপন, ১২,২৫৫টি শক নির্মাণ ও ১৯২২৬টি ট্যালেট মেরামত, ৩৬টি পিটিআই সম্প্রসারণ ও মেরামত, ১১৮টি উপজেলা শিক্ষা অফি সম্প্রসারণ ও মেরামত, ১০০টি রিসোর্স সেন্টার সম্প্রসারণ ও মেরামত করা হয়েছে।
- বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে ১,১২৩টি বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুনঃনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ৫.১২৮টি বিদ্যালয় নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পিটিআইবিহীন ১২টি জেলায় পিটিআই স্থাপন করা হয়েছে।
সরকারিকরণ ও নিয়োগ
- ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি ২৬,১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণার পর ইতোমধ্যে ২৫,৮৩১টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। ৯১,০০০ জন শিক্ষকের চাকুরী জাতীয়করণ করা হয়েছে এবং ১১,৪৮০ জনের চাকুরী জাতীয়করণের লক্ষ্যে কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ জন করে মোট ৩৭,৬৭২ টি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষকের পদ সৃজন করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে নবসৃষ্ট পদসহ বিভিন্ন শূন্যপদের বিপরীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৩,৯০১ জন, সহকারী শিক্ষক রাজস্ব পদে ৬৯,৪০৪ জন, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য সৃষ্ট পদে ৩৪,৮৯৫ জনসহ মোট ১,০৮,২০০ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
মৌলিক শিক্ষা
- বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ২৫০টি উপজেলার মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পে ৪৫ লক্ষ শিক্ষার্থীকে মৌলিক শিক্ষাসহ দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা প্রদানের বিষয়টি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
মানব উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-২ এর মাধ্যমে ১১,০৩,১৬৫ জন শিক্ষার্থীকে মৌলিক সাক্ষরতা প্রদান এবং ৪,৩৫.৬২২ জন শিক্ষার্থীকে আয় গৃঞ্জনী কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
- শিশুর মানসিক, শারীরিক ও নান্দনিক বিকাশের জন্য জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত এইড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু রয়েছে।
- ২০১০ সাল থেকে সারাদেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং ২০১১ সাল থেকে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ
- মানসম্মত শিক্ষার জন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। তাই শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সি-ইন-এড প্রশিক্ষণসহ শিক্ষকদের বিদেশ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ১৮ মাসব্যাপী ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন কোর্স চালু করা হয়েছে।
নেতৃত্ব বিকাশ
- শিশুদের গণতান্ত্রিক চর্চা ও অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সুষ্ঠু নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জনের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১০ সাল থেকে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন চালু রয়েছে।
- রুপকল্প-২০২১ রূপায়নের স্বার্থে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল কন্টেইন প্রণয়ন ও শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া সংযোজনের উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ
- আগামী প্রজন্মকে দক্ষ, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে উদ্ভাসিত ও আলোকিত নাগরিক এবং সুশিক্ষিত ও আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়ন। বর্তমানে ধাপে ধাপে এর বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
- ৯ বছরে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, ইবতেদায়ী, দাখিল, দাখিল (ভোকেশনাল) ও এস.এস.সি (ভোকেশনাল) স্তরের সর্বমোট ২৬০ কোটি ৮৫ লাখ ৯১ হাজার ২৯০টি বই বিতরণ করা হয়েছে।
- ২০১৮ এর জানুয়ারির প্রথম দিন ৪ কোটি ৪২ লাখ ৪ হাজার ১৯৭ শিক্ষার্থী ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২ কপি নতুন বই বিতরণ।
- ২০১৭ সালে সরকার ৫টি নৃগোষ্ঠীর ভাষায় ৭৭ লাখ ২৮২টি বই ছাপিয়ে বিতরণ। ২০১৮ সালে পার্বত্য ৩ জেলায় আদিবাসীদের মধ্যে পাঠ্যবই বিতরণ। ২০১৮ সালে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাক্-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির ১ লাখ ৪৯ হাজার ২৭৬টি পাঠ্যপুস্তক ও পঠন-পাঠন সামগ্রী মুদ্রণ করা হয়।
- ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে দৃষ্টি প্রতিবন্ধিদের জন্য প্রথমবারের মত ৯৭০০ কপি ব্রেইল পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ।
- ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায় পর্যন্ত মোট প্রায় ২ কোটি ৫৫ লক্ষ ৩৪ হাজার ১৫১ জন শিক্ষার্থীর (ছাত্র-৬৯৯৪০১২, ছাত্রী – ১৮৫৪০০৫৯) মধ্যে ৪৬১৫.৫৪ (৪ হাজার ৬ শত ১৫ দশমিক ৫৪ কোটি) টাকা উপবৃত্তিসহ আর্থিক সহায়তা হিসাবে প্রদান করা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মেধাবৃত্তির আওতায় ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ১২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৪২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯৮৪ কোটি ৪১ লক্ষ ১১ হাজার ৮০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। - স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদানের লক্ষে ‘প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট’ নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে এবং এ ট্রাস্ট ফান্ডে সরকার ১০০০ কোটি টাকা সীড মানি প্রদান করেছে।
- ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে এ ফান্ডে হতে স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৮১০ জন ছাত্রীকে ৭২ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা উপবৃত্তি হিসেবে প্রদান।
- মোবাইল ব্যাংকি-এর মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে।
- প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট (সংশোধন) আইন, ২০১৬ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকে এম.ফিল ও পিএইচ.ডি কোর্সে ফেলোশিপ ও বৃত্তি প্রদান নীতিমালা, ২০১৭ প্রণয়ন করা হয়েছে।
- শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য আধুনিক ও সময়োপযোগী কারিকুলাম অনুসারে পাঠ্যপুস্তক তৈরি করা হচ্ছে। ১৯৯৫ সালে প্রণীত কারিকুলামকে যুগোপযোগী করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার লক্ষে নতুন কারিকুলামে ১১১টি নতুন বই লেখা হয়েছে।
- পাঠদান পদ্ধতিতেও বৈচিত্র্য আনা হয়েছে এবং পরীক্ষা বা মূল্যায়ন পদ্ধতির আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এখন সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকল পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- কর্ম ও জীবনমুখি শিক্ষা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্তিসহ নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে ষষ্ঠ-দশম শ্রেণির ৪১টি বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন এবং ২০১৩ শিক্ষাবর্ষে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম-১০ম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা (Life skill based education) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর আলোকে ২০১২ সালে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সময়োপযোগী ও মানসম্পন্ন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন। এই শিক্ষাক্রমের ভিত্তিতে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন এবং প্রাক-প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক সহায়িকা ও শিখন-শেখানো সামগ্রী প্রণয়।
- ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ৩টি পাঠ্যপুস্তক সময়োপযোগী করে পরিমার্জনের কাজ সম্পন্ন।
- ২০১৪ শিক্ষাবর্ষ হতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জে.এস.সি.) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জে.ডি.সি.) পরীক্ষায় পঞ্চাশ নম্বরের চারু ও কারুকলা বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে সাধারণ শিক্ষা ধারার ন্যায় মাদ্রাসা ধারার শিক্ষার্থীদেরও সুকুমার বৃত্তির বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
- ২০১৩ সালে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির সকল ধর্ম বই এর নাম পরিবর্তন করে ‘ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ নামকরণ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী বিষয়বস্তু লেখা হয়েছে। বাস্তবতার নিরিখে পাঠ্যপুস্তক যুগোপযোগী করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিয়া ক্লাস মনিটরিং করার লক্ষ্যে On-line এ Dash Board চালু এছাড়াও অনলাইনের মাধ্যমে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভর্তির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
- এস.এস.সি., এইচ.এস.সি. ও সমমানের পরীক্ষার ফলসহ শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন পরীক্ষার ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করছে। মোবাইল ফোনের এস.এম.এস. এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলের মাধ্যমেও এ ফল অতিদ্রুত প্রকাশ করা হচ্ছে।
- ২০১০ সাল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের রেজিষ্টেশন ও পরীক্ষার ফরম ফিল-আপ অন-লাইনে সম্পন্ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া মোবাইল ফোনের এস.এম.এস’র মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
- ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষ হতে একাদশ শ্রেণিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন ভার্সন প্রবর্তন করা হয়েছে।
- সারাদেশে মোট ৬৪০টি বিদ্যালয়ে LCT. Lab (৫১২টি বিদ্যালয় ও ১২৮টি মাদ্রাসা) স্থাপনের মধ্যে ৫৮৮টির অবকাঠামো সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।
- ২৯টি জেলায় মোট ২৯টি পোস্ট গ্রাজুয়েট সরকারি কলেজ, সরকারি মাদ্রাসা-ই আলিয়া, ঢাকা এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ডিজিটাল ল্যাংগুয়েজ ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।
- ৩১২টি বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন এবং প্রতিটি ল্যাবে ১০ সেট কম্পিউটার, সার্ভার ও নেটওয়ার্ক সামগ্রী ১ সেট, কম্পিউটার চেয়ার ও টেবিল ১০ সেট, ইউপিএস ১০ সেট, প্রিন্টার ০৩ সেট, স্ক্যানার ১টি, ফটোকপিয়ার ১টি সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়াও ৩১২টি বিদ্যালয়ে (প্রতি বিদ্যালয়ে ৭টি করে) মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন হয়েছে;
- ২৩ হাজার ৩৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আই.সি.টি. সামগ্রী (ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, স্পিকার, ইন্টারনেট সংযোগসহ মডেম সরবরাহ। ২৪ হাজার ১২২ জন শিক্ষককে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুমের জন্য ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে যা ছাত্র-ছাত্রীদের তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
- জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে ডাইনামিক ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে সকল রকমের শিখন-শেখানো সামগ্রী ও পাঠ্যপুস্তক আপলোড করা হয়েছে। এ ওয়েবসাইটে (www.nctb.gov.bd) মাধ্যমিক স্তরের ৬২টি বাংলা ভার্সন, ৫০টি ইংরেজি ভার্সন এবং প্রাথমিক স্তরের ৩৩টি বাংলা ভার্সন ও ২৩টি ইংরেজি ভার্সন আপলোড করা হয়েছে।
- দেশের প্রাথমিক স্তরের ৩৩টি, মাধ্যমিক স্তরের ৪৯টি, মাদ্রাসা শিক্ষার ৭৫টি এবং কারিগরি শিক্ষার ৩২টি পাঠ্যপুস্তক আকর্ষণীয় ও সহজে ব্যবহার যোগ্য ‘ই-বুক” এ কনভার্ট করে (www.ebook.gov.bd) ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।
- ইতোমধ্যে প্রায় ১৬ লক্ষ ৯৮ হাজার ১৩৬ জন শিক্ষককে কম্পিউটার, ইংরেজি, গণিতসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান ।
উচ্চশিক্ষার প্রসার ও গুণগত মান বৃদ্ধি
- দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মাধ্যমে সরকার উল্লেখযোগ্য অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
- বাংলাদেশের পুরাতন প্রায় সবগুলো জেলাতেই সরকার কর্তৃক একটি করে পাবলিক
বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। - দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪২টিতে উন্নীত হয়েছে ।
- পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষা প্রসারের লক্ষে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহীতে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সিরাজগঞ্জে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।
- খুলনায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন জাতীয় সংসদ কর্তৃক পাশ হয়েছে।
- বরিশালে একটি মেরিন বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
- এছাড়া দেশে মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
- উচ্চ শিক্ষার প্রসারের লক্ষে বর্তমান সরকারের বিগত মেয়াদের ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশে ১৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে এবং ৫০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
- এ ছাড়া, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’ এবং ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’ স্থাপনের আইন গত ১৭ জুলাই, ২০১৬ তারিখ মহান জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয়েছে,
- পাবলিক ৮টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো: বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (বি. ইউ. পি.), মিরপুর সেনানিবাস, ঢাকা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর: বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, তেজগাঁও, ঢাকা: ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ; খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা: রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ, সিরাজগঞ্জ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ: বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
- শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (১৫ খণ্ড) ৩৪, ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়েছে।
- সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। এর ফলে তাঁদের আর্থিক সুবিধা সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ বেতন পাচ্ছে ১০০%।
- বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরও জুলাই, ২০১৫ থেকে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ অনুসারে বেতন দেওয়ার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীগণ ১ জুলাই, ২০১৬ থেকে চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকার স্থলে ১০০০/টাকা বাড়ী ভাড়া ৩০০ টাকার স্থলে ৫০০/- টাকা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও সকল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিধি অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারি গ্রন্থাগারিকদের এম.পি.ও ভুক্ত করা হয়েছে।
- এ পর্যন্ত বেসরকারি বিদ্যালয় ১০১৯, বেসরকারি কলেজ ১৬৫ এবং বেসরকারি মাদ্রাসা ৩১০টি অর্থাৎ ১ হাজার ৪৯৪টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এম.পি.ও ভুক্ত করা হয়েছে।
এ পর্যন্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭৯০৬১ জন এবং বেসরকারি মাদ্রাসার ৩৯,৩২৪ জন অর্থাৎ সর্বমোট ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫৫৪ জন শিক্ষক কর্মচারীকে এম.পি.ও.ভূক্ত করা হয়েছে। - সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহে সহকারী শিক্ষকের পদ ২য় শ্রেণিতে উন্নিতকরণের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে ২ হাজার ৯৮৮ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
- মাউশির মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য মাঠ পর্যায়ে ১,৪৮৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ১০ হাজার বিদ্যালয়ে Teaching Aid সরবরাহ।
- সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ২য় শ্রেণির গেজেটেড পদ মর্যাদা প্রদান। এবং চাকরি ৮ বছর পূর্তিতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে (মোট পদের ৫০%) ৩৮৮২টি পদ ১ম শ্রেণির গেজেটেড পদ মর্যাদায় উন্নীত।
- উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি কলেজ, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জেলা শিক্ষা অফিস এবং আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অনলাইন বদলি ১ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে কার্যকর করা হয়।
- সরকারি কলেজে আইসিটি শিক্ষকের ২৫৫টি পদ সৃষ্টি। ৩৫-তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ (নন-ক্যাডার) ১৫১৮ জনকে সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকার শূন্যপদে জনবল নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে উদ্যোগ গ্রহণ।
- যে সকল উপজেলায় কোন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ নেই সে সকল উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ সরকারিকরণের কাজ চলছে।
- বিভিন্ন উপজেলায় ২৮৫টি কলেজ সরকারিকরণের জন্য অর্থ বিভাগের সম্মতি পাওয়া গিয়েছে। ২৮৩টি কলেজের deed of gifts সাক্ষর করা হয়েছে। ৩৯টি বেসরকারি কলেজ
সরকারিকরণ করা হয়েছে। ৩১৬টি বেসরকারি কলেজ সরকারি করা হয়েছে। আরো ১৯টি প্রক্রিয়াধীন আছে। - যে সকল উপজেলায় কোন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কলেজ নেই সে সকল উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ সরকারিকরণের কার্যক্রম চলছে।
- এ পর্যন্ত দেশে বিভিন্ন উপজেলায় ৩৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১২টি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। বেসরকারি বিদ্যালয় সরকারিকরণের কাজ চলমান রয়েছে।
- ঢাকা মহানগরীতে ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬টি মহাবিদ্যালয় (সরকারি) স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের (৪টি কলেজ এবং ১০টি স্কুল) শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়েছে।
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এস.ই.এস.ডি.পি. প্রকল্পের মাধ্যমে আন্ডার সার্ভড এলাকায় ৬২টি বিদ্যালয় স্থাপন এবং ৩৩টি মডেল মাদ্রাসায় ৩ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন স্থাপন করা হয়েছে।
- অটিস্টিক শিশুদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাভাবিক শিশুদের ন্যায় জীবনযাপনে উপযোগী করে গড়ে তুলতে ঢাকায় একটি অটিস্টিক একাডেমি স্থাপনের জন্য পূর্বাচলে ৮নং সেক্টরে ৩ একর ৩০ শতক জমি পাওয়া দিয়েছে।
- জমির নামজারির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভূমি সমতলকরণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অটিস্টিক শিশুদের মূল ধারার শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করার লক্ষে এ পর্যন্ত ৩০০ জন শিক্ষক-অভিভাবককে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
- এ পর্যন্ত ২৫৮৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ২১৩১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ১৫০০ বেসরকারি কলেজের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ ১০০টি কলেজ, ৩য় ও ৪র্থ তলার কাজ চলছে ৮৫১টি কলেজ, ১ম ও ২য় তলার কাজ চলছে ২৪৮টি কলেজ, টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন ২৮৫টি কলেজ, কাজ শুরু করা যায়নি ১৬টি কলেজের।
- ৩১০টি বিদ্যালয়ে ৪তলা ভিত বিশিষ্ট ৩তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ৯টি একাডেমিক ভবন, ২৫টি আবাসিক ভবন, ১০টি ছাত্র-ছাত্রী হল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২৯টি আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ।
- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে ১টি একাডেমিক ভবন নির্মাণ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২টি একাডেমিক ভবন, ১টি ছাত্রী হল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২টি আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ।
- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২টি একাডেমিক ভবন, ১টি ছাত্রী হল এবং কর্মকর্তা- কর্মচারীদের জন্য ৩টি আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ।
- শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৩০ আসনবিশিষ্ট ১টি ছাত্রী হল ও ১টি আবাসিক ভবন নির্মাণ। একটি ইন্স্টটিউট ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন।
- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১টি একাডেমিক ভবন, ১টি ছাত্রী হল এবং কেন্দ্রীয় মসজিদসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ।
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২টি একাডেমিক ভবন, ১টি ছাত্রী হল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২টি আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন ।
- কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২টি একাডেমিক ভবন, ২টি প্রশাসনিক ভবন, ৪টি ছাত্র-ছাত্রী হল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৩টি আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন।
- যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩টি একাডেমিক ভবন, ২টি প্রশাসনিক ভবন, ৪টি ছাত্র-ছাত্রী হল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২টি আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন। আরও ২টি একাডেমিক ভবন, ১টি ছাত্র হল ও ২টি আবাসিক ভবন নির্মাণ সম্পন্ন ।
- সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি একাডেমিক ভবন, ২টি প্রশাসনিক ভবন, ৪টি ছাত্র-ছাত্রী হল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৪টি আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ২টি একাডেমিক ভবন এবং ১টি অডিটোরিয়াম নির্মাণ।
- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যায়ে ৩টি একাডেমিক ভবন, ৩টি প্রশাসনিক ভবন, ০৪টি ছাত্র-ছাত্রী হল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৩টি আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের সম্পন্ন। ড. ওয়াজেদ ইনস্টিটিউট ও রিসার্চ সেন্টার নির্মিত।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১টি একাডেমিক ভবন, ১টি ছাত্রী হল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১টি আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন।
- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩টি একাডেমিক ভবন, ৩টি প্রশাসনিক ভবন, ৪টি ছাত্র-ছাত্রী হল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৩টি আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন।
- পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩টি একাডেমিক ভবন, ৩টি প্রশাসনিক ভবন, ৪টি ছাত্র-ছাত্রী হল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৩টি আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২টি একাডেমিক ভবন, ১টি প্রশাসনিক ২টি ছাত্র-ছাত্রী হল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ০৪টি আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন।
- পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫টি একাডেমিক ভবন, ২টি প্রশাসনিক ভবন, ৪টি ছাত্র-ছাত্রী হল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৩টি আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১টি একাডেমিক ভবন, ১টি ছাত্রী হল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২টি আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
- দেশের ১৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭টি একাডেমিক ভবন, ৬টি প্রশাসনিক ভবন, ১০টি ছাত্র-ছাত্রী হল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৮টি আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে:
- ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজে ১০০০ আসন বিশিষ্ট একটি মহিলা হোস্টেল নির্মাণ করা হয়েছে।
- ২০১৮ সালের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।
- বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড হতে ৬১,২৯৪টি আবেদনের বিপরীতে ২৩৯৩,২০,৬৩,৮৮৮ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
- বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট হতে জানুয়ারি, ২০০৯ জুন, ২০১৭ পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থায় ১২,৮৭২ জন মুক্তিযোদ্ধা, অসুস্থ, কন্যাদায়গ্রস্থ এবং হজ্বযাত্রী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীদের আবেদন নিষ্পত্তি ও প্রদত্ত টাকার বিপরীতে ২৫২ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।
- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আইন, ২০১০ প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক মার্তভাষা ইনস্টিটিউট’ স্থাপন।
- শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তৈরি ও চর্চা এবং সৃজনশীল নেতত্বের বিকাশের লক্ষ্যে ২০১৫ সাল থেকে দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে।
ভৌত অবকাঠামো
- শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং ২ হাজার ১১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ কাজ চলমান র য়েছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ১১ হাজার ৪৯৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ ভবন নির্মান কাজ শুরু হয়েছে, যা ২০২০ সালের মধ্যে সমাপ্ত হবে।
ঢাকা মহানগরীতে ১১টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬টি সরকারি কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। - সিলেট, বরিশাল ও খুলনা শহরে ৭টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।
- শিক্ষকদের আইসিটি প্রশিক্ষণ প্রদান এবং তৃণমূলে ই-সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যানবেইসের আওতাধীন উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং এন্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন প্রকল্পের মাধ্যমে ১২৫টি উপজেলায় ইউআইটিআরসিই নির্মাণ করা হয়েছে। ১৬০টি উপজেলায় প্রক্রিয়াধীন আছে।
- সকল উপজেলায় একটি করে কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ (টিএসসি) স্থাপন করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ১০০টির কাজ শুরু হয়েছে। অবশিষ্ট ৩৮৯টি উপজেলার টিএসসি স্থাপনের জন্য প্রি-একনেক সম্পন্ন হয়েছে।
- ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগীয় সদরে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে। অবশিষ্ট বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সদরে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৮টি বিভাগীয় শহরে ৮টি মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা
কারিগরি
- কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রমকে ডিজিটাইজড করা হয়েছে।
- ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট/সমমানের প্রতিষ্ঠানে নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে ও গ্রুপ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
- ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়েছে। ফলে ২৬,২২০ জন অতিরিক্ত ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
- ২০২০ সাল নাগাদ কারিগরি শিক্ষায় ২০% এনরোলমেন্ট এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ডিপ্লোমা কোর্সে আসন সংখ্যা ২৫,০০০ হতে ৫৭, ৭৮০ এ উন্নীত করা হয়েছে। ২০৩০ সাল নাগাদ কারিগরি শিক্ষায় ৩০% এনরোলমেন্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ডিপ্লোমা কোর্সে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।
- ফরিদপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহে ৩টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন। বরিশালে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নির্মাণ দ্রুত শেষ হবে। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে একটি করে মোট ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হবে।
- সকল উপজেলায় ১টি করে কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ (টিএসসি) স্থাপন করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ১০০টির কাজ শুরু হয়েছে। অবশিষ্ট ৩৮৯টি উপজেলায় টিএসসি স্থাপনের জন্য প্রি-একনেক সম্পন্ন হয়েছে।
- মহিলাদের জন্য কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য সরকারিভাবে স্থাপিত ৪টি মহিলা পলিটেকনিকে শুধু নারী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।
- মহিলা শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষা পরিচালনাকারী সকল প্রতিষ্ঠানে আলাদা টয়লেট, হোস্টেল, কমনরুম তৈরিসহ নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ।
- শিক্ষার্থীদের জন্য নারীবান্ধব ইমার্জিং টেকনোলজি প্রবর্তন। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ডিপ্লোমা পর্যায়ে শিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে নারীদের জন্য ২০% কোটা সংরক্ষণ।
৪টি বিভাগীয় সদর- বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একটি করে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ চলছে। ৮টি বিভাগীয় শহরে ৮টি মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহে ইতোমধ্যে ৪৫০টি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর স্থাপন করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন সরকারি ও বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ২০১৮ সালে ১৫,৩৯০৫৮ জন, ২০১৯ সালে ১৭৫৪৫২৬ জন এবং ২০২০ সালে ২০,০০১৫৯ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- STEP (Skills and Training Enhancement Project) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যয়নরত আর্থ-সামাজিকভাবে সুবিধাবঞ্চিতদের বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।
- উক্ত প্রকল্পের আওতায় ডিপ্লোমা পর্যায়ে ২.৮০৯৫১ জন শিক্ষার্থীকে (সকল মহিলা শিক্ষার্থীসহ) মাসিক ৮০০ টাকা হারে এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণ বাবদ ৭৭,৬৬৪ জনকে মাসিক ৭০০ টাকা হারে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।
- STEP (Skills and Training Enhancement Project) প্রকল্পের আওতায় ৬৪টি (৪৭টি সরকারি এবং ১৭টি বেসরকারি) সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৮৫,৮৮৬ জন শিক্ষার্থীকে ৩২টি ট্রেডে ৬ মাস / ৩৬০ ঘণ্টাব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
- জাতীয় উন্নয়ন পরিষদ (এন. এস. ডি. সি) গঠন করা হয়েছে। এ পরিষদ দেশে ও বিদেশের শ্রম বাজারের চাহিদা নিরূপনসহ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রশিক্ষণে নিয়োজিত সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে শীর্ষ পরিষদ হিসেবে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। • বেসরকারি পর্যায়ে ৪৫৭টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ প্রায় ৭,৭৭৩টি কারিগরি স্তরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমতি প্রদান।
- বেসরকারি পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত ১,৬১৩টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ১৮,১০৯ জন শিক্ষক- কর্মচারীকে এমপিওভূক্তির মাধ্যমে এ বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠি তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে বেকারত্ব হ্রাস করা হয়েছে।
- কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকায় একটি টেকনিক্যাল রিচার্স ট্রেনিং কলেজ এবং বগুড়ায় একটি ভোকেশনাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ভিটিটিআই), চালু আছে। ইতোমধ্যে উক্ত ইনস্টিটিউটসমূহে একাডেমিক কাম ওয়ার্কসপ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে কারিগরি বিষয়ে ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি ও মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।
- কারিগরি শিক্ষায় এনরোলমেন্ট ৯ বছর পূর্বে ১% এর কম ছিল। তা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১৫.১২% এ উন্নীত হয়েছে।
- ২০৩০ সাল নাগাদ কারিগরি শিক্ষায় ৩০% এনরোলমেন্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ডিপ্লোমা কোর্সে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
- জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতিমালা ২০১১ প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।
- ভোকেশনাল ও প্রি-ভোকেশনাল কোর্স প্রবর্তনের জন্য সেসিপ প্রকল্পের আওতায় ৬৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে।
- ২৩টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে।
- ২০১৯ সালের মধ্যে ৫৮১ জন কারিগরি শিক্ষককে চীন ও ৪২০ জনকে সিঙ্গাপুরে প্রশিক্ষণে পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মাদরাসা শিক্ষা
- মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বিএমটিটিআই) স্থাপন করা হয়েছে এবং কার্যক্রম চলমান।
- ৩৩টি মডেল মাদরাসার আধুনিক ভবনসহ ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।
- মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে ৩৫টি মডেল মাদরাসা স্থাপন, ৫২টি মাদরাসা অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। ৬৫৩টি মাদরাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- মাদরাসা শিক্ষা স্তরে উচ্চ শিক্ষার পথ সুগম করার লক্ষ্যে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মডেল মাদরাসায় অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে।
- মাদরাসা শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বিরাজমান প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের লক্ষ্যে মাদরাসা শিক্ষা পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর নির্দেশনার আলোকে মাদরাসা ও সাধারণ শিক্ষার আবশ্যিক বিষয়সমূহে (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) সমান নম্বর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
- মুখস্থ বিদ্যাকে নিরুৎসাহিত করে নিজেদের মধ্যে স্বকীয়তা অনুশীলনের মাধ্যমে সৃষ্টিশীলতা অর্জনের প্রয়াসে সাধারণ শিক্ষা ধারার সঙ্গে প্রশ্ন পদ্ধতির সাদৃশ্য বজায় রেখে জে.ডি.সি., দাখিল এবং আলিম পর্যায়ে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে পরীক্ষা গৃহীত হচ্ছে।
- সাধারাণ শিক্ষা ধারার শিক্ষার্থীদের ন্যায় মাদরাসা শিক্ষা ধারার শিক্ষার্থীদের মধ্যে কতগুলো মৌলিক বিষয়ে সমগুণাবলী অর্জন এবং অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার লক্ষ্যে আবশ্যিক বিষয়সমূহে অভিন্ন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচির আলোকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
- কওমী মাদরাসাকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। দাওরা হাদিস পর্যায়কে মাস্টার্স মান দেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এই এক দশক ছিল বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও উৎকর্ষের স্বর্ণযুগ। বছরের প্রথম দিনে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন বই তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে ২৬ হাজারেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ—প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল একটি জ্ঞাননির্ভর জাতি গঠনের একেকটি মাইলফলক। উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিং এবং আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে ঝরে পড়ার হার হ্রাস ও ভর্তির হার শতভাগে উন্নীত হওয়া আমাদের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের পথকে সুগম করেছে।
একই সাথে উচ্চশিক্ষার ব্যাপক প্রসার, কারিগরি শিক্ষায় এনরোলমেন্ট ১% থেকে ১৫%-এ উন্নীতকরণ এবং মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন প্রমাণ করে যে, সরকার শিক্ষার প্রতিটি স্তরে জেন্ডার ও অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে সফল হয়েছে। সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মাধ্যমে ডিজিটাল শিক্ষার যে ভিত্তি গত দশ বছরে স্থাপিত হয়েছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যোগ্য করে তুলছে। গত এক দশকের এই অভাবনীয় সমৃদ্ধি কেবল একটি খাতের উন্নয়ন নয়, বরং এটি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণের সবচেয়ে শক্তিশালী ও স্থায়ী বিনিয়োগ। এই সুদৃঢ় শিক্ষানীতির ওপর দাঁড়িয়েই বাংলাদেশ আজ একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও মেধাবী জাতি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।
