শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম। এই জনপদকে মূলধারার উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত করে একটি শান্তিময় ও সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি’র ধারাবাহিকতায় ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এক দশকে এই পাহাড়ী অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব সাধিত হয়েছে।

গত ১০ বছরে শেখ হাসিনার সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ে উন্নয়নের আলো পৌঁছে দিতে নানামুখী সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে ইউনিসেফ-এর সহায়তায় স্থাপিত ৪,০০০ পাড়াকেন্দ্র প্রত্যন্ত এলাকার প্রায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজার পরিবারকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির মতো মৌলিক সেবা প্রদান করছে। শিক্ষার প্রসারে ৩-৫ বছর বয়সী শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ ও আবাসন সুবিধা প্রদান করা হয়েছে, যা পশ্চাদপদ নৃগোষ্ঠীর শিশুদের মূলধারায় নিয়ে এসেছে।

দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিড পৌঁছানো চ্যালেঞ্জিং হওয়ায় সরকার সৌরবিদ্যুতের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। হাজার হাজার পরিবারের ঘরে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে পাহাড়ের অন্ধকার দূর করে আধুনিক জীবনের ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে শত শত কিলোমিটার রাস্তা, কালভার্ট, সিঁড়ি ও পানি সেচ ব্যবস্থা নির্মাণের ফলে কৃষি ও যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। জুম চাষের বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং মিশ্র ফল চাষের মাধ্যমে পাহাড়ী কৃষকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

[Image showing a paved road winding through the hills or a vibrant orange and pineapple orchard in the Chittagong Hill Tracts]

বর্তমান নিবন্ধে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি রক্ষা, স্থানীয় প্রশাসনকে শক্তিশালীকরণ (সার্কেল চিফ, হেডম্যান ও কারবারীদের ভাতা প্রদান), স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এই জনপদকে দেশের উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলার সাফল্যের চিত্র বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে “পার্বত্য চট্টগ্রাম” খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "পার্বত্য চট্টগ্রাম" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় সমন্বিত সমাজ উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফ এর আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পের ৩য় পর্যায়ে ৩২০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে। এ
প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ নিম্নরুপ:

  • ৪০০০ পাড়াকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত পার্বত্য এলাকার ১.৬৫,৩৪৩ পরিবারকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানি, পয়ঃব্যবস্থা ইত্যাদি মৌলিক সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
  • প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩টি প্রশিক্ষণকেন্দ্র মেরামতসহ ৫,১০৯ জন পাড়াকর্মীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ, ৪৩৪২ জন পাড়াকর্মীদের সঞ্জিবনী প্রশিক্ষণ, ৪০৩ জন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, ৩২,৮৪০ জনকে চাকুরীকালীন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
  •  শিক্ষা প্রকল্পভুক্ত ৩-৫ বছর বয়সী ১,৭৩,১৬৫ জন শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রস্তুতকরণের লক্ষ্যে পাড়াকেন্দ্রে শিশু বিকাশ ও প্রাক-শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৪০০০ পাড়া কেন্দ্রে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে।
  • বর্তমানে ৪০০০ পাড়া কেন্দ্রে ৫৪,০০০ শিশু প্রি-স্কুলে অধ্যয়নরত। পাড়াকেন্দ্র থেকে ২ লক্ষের বেশি শিশু প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে।
  • এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ক্ষুদ্র ও পশ্চাদপদ নৃগোষ্ঠির মধ্যে প্রতি বছর ১০০০ জন শিক্ষার্থীর খাদ্য, আবাসন, পোশাক, পরিচ্ছদ, শিক্ষা উপকরণ বিনামূল্যে প্রাপ্তিসহ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষা লাভ করছে। বিদ্যালয়সমূহ থেকে এ পর্যন্ত ১১০০ শিক্ষার্থী এস. এস. সি পাশ করেছে।
  • স্বাস্থ্য প্রতিরোধযোগ্য রোগের সংক্রমণ হ্রাস এবং এনিমিয়া প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রকল্প এলাকার সকল শিশু, মহিলা ও গর্ভবর্তী মহিলাকে টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
  • এছাড়াও পাড়াকেন্দ্রে ৬-২৩ মাস বয়সী ৯৪, ৭২৪ জন শিশুদের জন্য ভিটামিন-মিনারেল পাউডার, কিশোরী ও গর্ভবর্তীদের আয়রন ট্যাবলেট, ১,২২,৪৩৫ জন প্রসুতি মায়েদের জন্য ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ, ৮১,৭১০ জন কিশোরীদের জন্য কৃমিনাশক বড়ি বিতরণ, ৫৩৪ জনকে DNI প্রশিক্ষণ ও ২০৪৫ জনকে MNHI প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
  •  পানি ও পয় ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প এলাকায় ১২০টি নলকূপ স্থাপন ও সংস্কার, ৫,৪২৩টি স্বল্পব্যয়ী স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা সরবরাহ, ১,৩৫০ জন কেয়ার টেকার প্রশিক্ষণ ও টুলবক্স বিতরণ এবং ১.২০৫টি হ্যান্ড ওয়ার্সিং ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে।
  • উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য ৪১৭.০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৮ হতে ২০২১ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
    • পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার জন্যে মোট ৭৬০৬.৩১ (১ম সংশোধিত) লক্ষ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই, ২০১৫-২০১৯ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত প্রকল্পের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ অর্জনসমূহ নিম্নরূপ।
  • ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ২০০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বান্দরবান জেলায় ২৩৬টি, রাঙামাটি জেলায় ১২০টি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১২০টি ৬৫ওয়াট পিক ক্ষমতার সোলার হোম সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়। ৪৪০ জন উপকারভোগীকে সোলার সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহারবিধি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
  • ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ২৪৪৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বান্দরবান জেলায় ২১২৪টি, রাঙামাটি জেলায় ১৭৫৩টি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১৫৩৭টি ৬৫ ওয়াট পিক ক্ষমতার সোলার হোম সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়। ৩৪০০ জন উপকারভোগীকে সোলার সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণের ও ব্যবহারবিধি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
  • সাজেক রুইলুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ শ্রেণিকক্ষের লক্ষ্যে ২৪টি ২৫০ ওয়াট পিক ক্ষমতার সোলার কমিউনিটি সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়।
  • প্রকেল্পের আরডিপিপিতে আরও ৫০০০টি সোলার হোম সিস্টেম ৫৮৯০টি মোবাইল চার্জার এবং ১২ ওয়াট পিকের পরিবর্তে ৩২ ওয়াট পিকের ২৩১৫টি সোলার কমিউনিটি সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স উদ্বোধন।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "পার্বত্য চট্টগ্রাম" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় মিশ্র ফলচাষ প্রকল্প

  • এ প্রকল্পের আওতায় জুলাই ২০১৫ হতে জুন ২০১৮ পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলার এ পর্যন্ত মোট ২৪৬০ পরিবারকে বিভিন্ন মিশ্রফলের চারা, প্রয়োজন মত সার এবং প্রতিজনকে কৃষি উপকরণ (১টি সিকেচার, ১টি হাসুয়াও ১টি স্প্রেয়ার মেশিন) প্রদান করা হয়েছে।
  • নির্বাচিত প্রত্যেক কৃষকদের বিভিন্ন জাতের সবজি বীজ এবং উদ্যান উন্নয়নের উপর একদিনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
  • ৫. পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প- ২য় শীর্ষক পর্যায় প্রকল্প: বাংলাদেশ সরকার ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় জুলাই ২০১১ হতে জুন ২০১৯ মেয়াদে ৫১৫.১৮৪৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প হয় পর্যায় শীর্ষক প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের অর্জনসমূহ নিম্নরুপ:
  • উক্ত প্রকল্পের পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ অংশের মাধ্যমে বিগত ৫ বছরে ৮৪.৬২৮ কিলোমিটার এইচবিবি রাস্তা নির্মাণ, ১,৫০৭টি নলকূপ স্থাপন, ১১৮টি রিংওয়েল স্থাপন, ১২,২৪০ মিটার সিড়ি নির্মাণ, ১৭৮১টি পাওয়ার টিলার ও পাওয়ার পাম্প সরবরাহ, ১৯টি পানি সংরক্ষণকারী ট্যাংক নির্মাণ, ৩৯,৮৮৮ মিটার সেচ নালা নির্মাণ, ২০৭ মিটার বাঁধ নির্মাণ, ১৯টি জিএফএস/আইএফজি নির্মাণ, ৬টি সাইট ওয়াটারশেড নির্মাণ, ৩০১:১৫ মিটার ফুটব্রিজ নির্মাণ, ৫৭৪.৫০ মিটার কালভার্ট নির্মাণ, ৪,০৩২ ৯৫ মিটার ইউ-ড্রেইন নির্মাণ, ১০টি পুকুর খনন এবং ৯টি মার্কেট শেড নির্মাণ করা হয়েছে।
  •  তাছাড়া, তিন পার্বত্য জেলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গুলোকে যথোপযুক্ত শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১৫৮টি প্রশিক্ষণ কর্মশালা, উপকারভোগীদের সহায়তায় ৬০০টি ভিলেজ ম্যাপিং ট্রেনিং এবং মূল্যবান শস্যাদি ফলাদি/উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানের নিমিত্তে MAD Componet এর আওতায় ২,৪৫৪টি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এবং
  • ওয়াটার শেড ম্যানেজম্যান্ট এর আওতায় ফিলিপাইন, নেপাল এবং চীন-এ স্টাডিট্যুর পরিচালিত হয়েছে।

ইউএনডিপি কর্তৃক প্রমোশন অফ ডেভেলপমেন্ট এন্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং ইন দ্যা চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস (ইউএনডিপি সিএইচটিডিএফ)

প্রকল্পটি ১০৯৭.৬৩ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে অক্টোবর ২০০৩ হতে সেপ্টেম্বর ২০১৬ বাস্তবায়িত হয়েছে। এই প্রতিবেদনকালে এ প্রকল্পের আওতায়-

  •  খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ৪১টি বিদ্যালয় সংস্কার, ৪০টি নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, ৬১টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সমপন্ন ও ১০৫টি বিদ্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
  •  ৬,২৮০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান, কৃষক মাঠ স্কুল নির্বাচন, কৃষক মাঠ স্কুলের প্রদর্শনী প্লটের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
  • এছাড়াও জুমচাষের উপর গবেষণামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
  •  খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৪টি উপজেলায় সরকারি স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায় ২৭০ জন প্রশিক্ষিত মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী ও মোবাইল মেডিকেল টিমের মাধ্যমে ১৪,০০০ জনকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে।
  •  রাঙামাটি পার্বত্য জেলার ১০টি উপজেলার ৩৫৪টি পাড়ার সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনার ৭,৫৯৬ জন প্রকৃত কৃষক নির্বাচন করে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ১ বৎসর মেয়াদী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
  • ৮টি উপজেলার দুর্গম এলাকায় যেখানে বিদ্যুৎ নাই সেখানে প্রাণী সম্পদের ভ্যাকসিন রাখার জন্য ১১টি সোলার ফ্রিজ স্থাপন করা হয়েছে।
  • কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা কর্মী এবং মোবাইল মেডিকেল টিম কর্তৃক মোট ৫,৭৯,০৩৪ জন রোগীকে সাধারণ চিকিৎসা, ১৭,৪৫২ জন রোগীকে ম্যালেরিয়া রোগের চিকিৎসা এবং ৯৪,২৯৬ জন রোগীকে ডায়রিয়া রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
  •  কৃষক মাঠ স্কুল পরিচালনার জন্য প্রতি কৃষক মাঠ স্কুলের জন্য ২০১৩ সাল থেকে ২৪০০০ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।
  •  বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনডিপির’র আর্থিক সহায়তায় ২৪৯.৮৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ‘স্ট্রেনদেনিং ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ইন সিএইচটি (এসআইডি-সিএইচটি)’ শীর্ষক প্রকল্পটি ফেব্রুয়ারি ২০১৭ হতে সেপ্টেম্বর ২০২১ মেয়াদের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ১৫.৯৫৬ জন কৃষককে ইন্টিগ্রেটেড ফার্ম ম্যানেজমেন্ট এর আওতায় কৃষক मार्क স্কুল এর মাধ্যম বিভিন্ন উন্নত কৃষি কৌশলগুলিতে (এফএফএস-আই এফ এম) প্রশিক্ষণ প্রদান।
  •  রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ৩০টি এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ২৮টি সরকারি অফিস / সংস্থা জেলা পরিষদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
  •  প্রথাগত নেতৃত্ব সার্কেল চিফ এর জন্য ১০ হাজার টাকা, হেডম্যানের জন্য ১ হাজার টাকা ও কারবারীর জন্য ৫০০ টাকা মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
  • ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স এর মাধ্যমে ১২,২২৩টি উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনবার্সন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স এর মাধ্যমে ১২,২২৩টি উপজাতীয় শরণার্থী পরিবারকে পুনবাসিত করা হয়েছে।
  •  গ্লোবাল ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) এর আওতায় পার্বত্য এলাকায় বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায় কর্মসূচি গ্রহণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "পার্বত্য চট্টগ্রাম" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

 

সরকারের নিম্নবর্ণিত কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে

  •  ২০২১ সালের মধ্যে পার্বত্য এলাকার প্রতিটি বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাকরণ।
  •  পার্বত্য এলাকায় পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য কাপ্তাই লেক ও বড় নদীগুলো
  •  পার্বত্য এলাকায় উৎপাদিত পচনশীল খাবার সংরক্ষণের জন্য তিন পার্বত্য জেলায় কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ।
  •  জেলার সাথে প্রতিটি ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ।
  •  দেশি বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করার জন্য পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ।
  • দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।

 

পরিশেষে বলা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এই ১০ বছর ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য একটি রূপান্তরের দশক। দীর্ঘদিনের সংঘাতময় পরিবেশ কাটিয়ে এই জনপদে শান্তি ও স্থিতি বজায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। ৪০০০ পাড়াকেন্দ্রের মাধ্যমে পাহাড়ের দুর্গম প্রান্তের শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং হাজার হাজার সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে পাহাড়ের অন্ধকার দূর করা সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নেরই বহিঃপ্রকাশ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে যাতায়াত ও সেচ ব্যবস্থার যে আধুনিকায়ন করা হয়েছে, তা স্থানীয় কৃষকদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নেতৃত্বকে (রাজা, হেডম্যান ও কারবারী) রাষ্ট্রীয় সম্মানী প্রদানের মাধ্যমে তাদের মর্যাদা ও প্রশাসনকে শক্তিশালী করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের এই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপসমূহ কেবল পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রার মানই উন্নত করেনি, বরং পাহাড় ও সমতলের মধ্যে উন্নয়নের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। ২০৪১ সালের উন্নত ও ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার যে স্বপ্ন, পার্বত্য চট্টগ্রামের এই স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি সেই লক্ষ্য অর্জনে এক গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।