কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এক জনপদ— পান্টি ইউনিয়ন। ভৌগোলিক অবস্থান, সমৃদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থা এবং কয়েক শতাব্দীর পুরনো লোকজ ইতিহাসের কারণে এই ইউনিয়নটি জেলাজুড়ে সুপরিচিত। কুমারখালী উপজেলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পান্টি আজ একটি অগ্রগামী প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
১০ নং পান্টি ইউনিয়ন, কুমারখালী, কুষ্টিয়া
নামকরণ ও লোকগাথা
পান্টি ইউনিয়নের নামকরণের পেছনে লুকিয়ে আছে এক চমৎকার জনশ্রুতি। স্থানীয় লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, সুদূর অতীতে এই অঞ্চলে এক প্রভাবশালী মনীষী বা সাধক আগমন করেছিলেন। তিনি এই এলাকার ‘পাঞ্চি’ নাম্নী এক বিদুষী মহিলার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কালক্রমে সেই ‘পাঞ্চি’ নাম থেকেই এই অঞ্চলের নাম রূপান্তরিত হয়ে ‘পান্টি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। এই নামকরণটি আজও ইউনিয়নের আদি ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্থানীয়দের মাঝে বেঁচে আছে।
ভৌগোলিক ও জনমিতি চিত্র
- আয়তন: ২৫.৯০ বর্গ কিমি (প্রায় ১০.০০ বর্গমাইল)।
- জনসংখ্যা (২০০১ আদমশুমারি): ১৫,৪৪৯ জন। (উল্লেখ্য যে, বর্তমানে এই জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২৫,০০০ অতিক্রম করেছে)।
- প্রশাসনিক কাঠামো: ইউনিয়নটি ২১টি গ্রাম এবং ১৯টি মৌজার সমন্বয়ে গঠিত।
ইউনিয়ন পরিষদের বিবর্তন ও প্রশাসনিক ইতিহাস
পান্টি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামোর গোড়াপত্তন ব্রিটিশ আমলে হলেও এর আধুনিক যাত্রা শুরু হয় ষাটের দশকে।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: গ্রাম চৌকিদার আইন ১৮৭০-এর মাধ্যমে যে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন শুরু হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে।
- প্রাথমিক কার্যালয়: ১৯৬০ সালে বিশিষ্ট সমাজসেবী ও দানবীর মরহুম মৌলভী তোফাজ্জেল হোসেন প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নিজ বাসভবনে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম শুরু করেন। তৎকালীন সময়ে এটিই ছিল এলাকার বিচার ও সালিশের প্রধান কেন্দ্র।
- আধুনিক ভবন: বর্তমানে পান্টি বাজারে আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের মাধ্যমে ডিজিটাল সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

অবকাঠামো
কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার অন্তর্গত ১০ নং পান্টি ইউনিয়ন বর্তমানে যোগাযোগ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে এক উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইউনিয়নটি যাতায়াত ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেছে। বর্তমানে এই ইউনিয়নে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাকা রাস্তা রয়েছে, যা ইউনিয়ন সদর ও প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র পান্টি বাজারের সাথে কুষ্টিয়া-কুমারখালী মূল সড়কের সংযোগ স্থাপন করেছে। এছাড়া কৃষি বিপণন ও অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের জন্য ইউনিয়নে আরও ৬০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা বিদ্যমান, যা গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল রাখছে।
জনস্বাস্থ্য ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও এই ইউনিয়নের অবকাঠামো বেশ সুসংগঠিত। ইউনিয়নের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা দিতে স্থাপিত হয়েছে ২৫৪টি অগভীর নলকূপ। কৃষিকাজ ও শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে ৬টি গভীর নলকূপ। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তির ১৩৫টি তারা পাম্প স্থাপনের মাধ্যমে দুর্গম বা নিচু এলাকাগুলোতেও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। উন্নত রাস্তাঘাট এবং পরিকল্পিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থার এই সমন্বয় পান্টি ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও টেকসই জনপদ হিসেবে গড়ে তুলেছে।
কৃষি
১০ নং পান্টি ইউনিয়ন মূলত একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল, যার মোট আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ১,৭৬০ হেক্টর। এই বিশাল উর্বর ভূমি ইউনিয়নের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। কৃষি পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, এখানকার কৃষকরা আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির মাধ্যমে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করছেন।
ইউনিয়নটির শস্য নিবিড়তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বর্তমানে মোট জমির মধ্যে ৩৩২ হেক্টর জমি এক-ফসলী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে মূলত প্রথাগত পদ্ধতিতে চাষাবাদ হয়। তবে কৃষি প্রযুক্তির প্রসারে কৃষকরা এখন বহু-ফসলী চাষে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ফলশ্রুতিতে, প্রায় ৫৯১ হেক্টর জমি এখন দো-ফসলী চাষের আওতায় এসেছে। ইউনিয়নের কৃষি খাতের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক হলো এর বিশাল একটি অংশ তিন-ফসলী জমির অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে প্রায় ৮৩৭ হেক্টর জমিতে বছরে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন শস্য উৎপাদিত হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে এবং জাতীয় উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
এই ইউনিয়নে প্রধানত ধান, পাট, গম এবং আখের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে পেঁয়াজ, রসুন ও পানের ব্যাপক ফলন হয়। বিশেষ করে তিন-ফসলী জমিগুলোতে উন্নত সেচ ব্যবস্থা এবং আধুনিক কৃষি উপকরণের ব্যবহারের ফলে পান্টি ইউনিয়ন এখন উপজেলার অন্যতম ‘সবজি ভাণ্ডার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। পরিকল্পিত চাষাবাদ ও উর্বর ভূমির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে পান্টি ইউনিয়নের কৃষি খাত অত্র অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করছে।
ধর্মীয় স্থাপনা:
১০ নং পান্টি ইউনিয়ন তার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের জন্য সুপরিচিত। এই জনপদে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের সাথে বসবাস করে আসছে, যার প্রতিফলন দেখা যায় এখানকার সুশৃঙ্খল ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে। বর্তমানে এই ইউনিয়নে মোট ৩৭টি মসজিদ রয়েছে। এই মসজিদগুলো কেবল ইবাদতের স্থানই নয়, বরং প্রতিটি গ্রাম ও পাড়ার মানুষের মিলনস্থল এবং আধ্যাত্মিক শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে খোদ্দ ভালুকা কাচারি বাড়ির হাসনাতিয়া জামে মসজিদ এবং মাওলানা শামছুদ্দিন (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন মসজিদটি অত্র অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ।
পাশাপাশি, এই ইউনিয়নে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনার জন্য ১০টি মন্দির রয়েছে। এই মন্দিরগুলো ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে নগরকয়া ঘোষ বাড়ির ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরসহ অন্যান্য প্রাচীন মন্দিরগুলো শারদীয় দুর্গোৎসব এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মুখরিত হয়ে ওঠে। ৩৭টি মসজিদ ও ১০টি মন্দিরের এই অবস্থান প্রমাণ করে যে, পান্টি ইউনিয়ন একটি সুসংহত এবং শান্তিপূর্ণ জনপদ, যেখানে প্রতিটি ধর্মের মানুষ স্ব-স্ব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা ও সুন্দর পরিবেশ ভোগ করে থাকে।
স্বাস্থ্যসেবা
একটি সুস্থ ও সবল জনপদ গঠনের লক্ষ্যে ১০ নং পান্টি ইউনিয়ন তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। ইউনিয়নের বিশাল জনসংখ্যার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই কেন্দ্রগুলো মূলত গ্রামীণ জনপদে ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মেরুদণ্ড’ হিসেবে পরিচিত।
এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকাদান কর্মসূচি (EPI) এবং সাধারণ রোগব্যাধির প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত এই কেন্দ্রগুলো পান্টি ইউনিয়নের প্রান্তিক মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে বা বিনামূল্যে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করছে। উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার সুবাদে ইউনিয়নের যে কোনো প্রান্ত থেকে রোগীরা দ্রুত এই কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছাতে পারেন। ৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এই সমন্বিত উপস্থিতি পান্টি ইউনিয়নকে একটি স্বাস্থ্য-সচেতন ও সুরক্ষিত জনপদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
দর্শনীয় স্থান

১০ নং পান্টি ইউনিয়নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান:
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা:
- কলেজ: ১টি
- মাধ্যমিক বিদ্যালয়:
- বালক: ২টি
- বালিকা: ৩টি
- মাদ্রাসা: ৪টি
- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ১০টি
- বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৩টি
- এতিমখানা: ১টি
- সাক্ষরতার হার:
- মোট: ৪৬%
- পুরুষ: ৪৬.৫৭%
- মহিলা: ৩৭.৩১%
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
১। পান্টি ডিগ্রী কলেজ
পান্টি ডিগ্রী কলেজ একটি স্বনামধন্য উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই কলেজে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাঠদান করা হয়। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২। পান্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়
পান্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুল। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এখানে অধ্যয়ন করে। বিদ্যালয়টি নৈতিক শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
৩। পান্টি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়
পান্টি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় বিশেষভাবে মেয়েদের জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি মাধ্যমিক স্কুল। এটি নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশে শিক্ষাদান করে।
৪। ডাঁশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়
ডাঁশা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পান্টি ইউনিয়নের একটি পরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে স্থানীয় ও আশেপাশের গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়টি একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বেশ সক্রিয়।
মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
১। পান্টি দাখিল মাদ্রাসা
পান্টি দাখিল মাদ্রাসা একটি ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে দাখিল স্তর পর্যন্ত ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা দেওয়া হয়। এটি নৈতিকতা, ধর্মীয় জ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধে শিক্ষার্থীদের আলোকিত করে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
১। পান্টি বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
এটি পান্টি ইউনিয়নের অন্যতম প্রাচীন ও স্বনামধন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়, যেখানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছেলে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করা হয়। বিদ্যালয়টি শিশুদের ভিত্তি মজবুত করতে ভূমিকা রাখে।
২। পান্টি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
মেয়েদের জন্য বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা রাখছে। শিক্ষক-শিক্ষিকারা যত্নসহকারে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন এবং নিয়মিত সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
বেসরকারি ও ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
১। সানরাইজ প্রি ক্যাডেট স্কুল
সানরাইজ প্রি ক্যাডেট স্কুল একটি আধুনিক ও শিশু-কেন্দ্রিক প্রি-স্কুল, যেখানে শিশুরা প্লে, নার্সারি ও কেজি শ্রেণিতে শিক্ষা লাভ করে। ইংরেজি মাধ্যমে পাঠদান এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শেখানো হয়, যা শিশুদের প্রাথমিক বিকাশে সহায়ক।
১০ নং পান্টি ইউনিয়নের হাট ও বাজারসমূহ:
পান্টি ইউনিয়নে মোট ৪টি হাট ও বাজার রয়েছে, যেগুলো স্থানীয় অর্থনীতি ও পণ্য বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১. পান্টি সাপ্তাহিক হাট ও দৈনিক বাজার
সাপ্তাহিক হাটের দিন: প্রতি শুক্রবার
বৈশিষ্ট্য: এই হাটটি ইউনিয়নের প্রধান বাজার হিসেবে পরিচিত। এখানে কৃষিপণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, পোশাক ও খাদ্যদ্রব্যসহ বিভিন্ন পণ্য কেনাবেচা হয়।
২. সান্দিয়ারা সাপ্তাহিক হাট ও দৈনিক বাজার
সাপ্তাহিক হাটের দিন: প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার
বৈশিষ্ট্য: সান্দিয়ারা হাট স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এছাড়া, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য বাজার।
৩. কাচারীবাজার সাপ্তাহিক হাট ও দৈনিক বাজার
সাপ্তাহিক হাটের দিন: প্রতি সোমবার
বৈশিষ্ট্য: এই হাটটি পশু বিক্রয়ের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন গৃহপালিত পশু কেনাবেচা হয়।
৪. কৃষ্ণপুর বাজার
প্রকৃতি: দৈনিক বাজার
বৈশিষ্ট্য: কৃষ্ণপুর বাজার স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করে থাকে।
পান্টি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা:
- কুমারখালী হতে নদী পার হয়ে পান্টি ইউনিয়ন পরিষদ ১০ কি. মি.
- কুষ্টিয়া হতে পান্টি ইউনিয়ন পরিষদ ২১ কি. মি.
- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেখপাড়া ও হরিনারায়নপুর হয়ে পান্টি ইউনিয়ন ১৫ কি. মি.
পান্টি ইউনিয়নের গ্রাম ও গ্রাম ভিত্তিক জনসংখ্যা:
- বাগবাড়ীয়া গ্রামের মোট জনসংখ্যা ১,৫২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৪৪ এবং মহিলা ৭৭৭ জন।
- ভালুকা গ্রামের মোট জনসংখ্যা ৪,৩৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২,১৮০ এবং মহিলা ২,২১৫ জন।
- বিরিকয়া গ্রামের মোট জনসংখ্যা ৮৯৫। এর মধ্যে পুরুষ ৪২৬ এবং মহিলা ৪৬৯ জন।
- দক্ষিন মূলগ্রাম গ্রামের মোট জনসংখ্যা ১,৭৫১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮৬৫ জন ও মহিলা ৮৮৬ জন।
- দক্ষিন রামনগর গ্রামের মোট জনসংখ্যা ১,৩০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬৩৮ জন ও মহিলা ৬৭০ জন।
- ডাশা গ্রামের মোট জনসংখ্যা ১,৫৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৬২ জন ও মহিলা ৮১৭ জন।
- দাসবশী গ্রামের মোট জনসংখ্যা ৮২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৯৮ জন ও মহিলা ৪২৬ জন।
- জনবসী গ্রামের মোট জনসংখ্যা ৩৩৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৮১ জন ও মহিলা ১৫৬ জন।
- খাগরবাড়ীয়া গ্রামের মোট জনসংখ্যা ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৩২ জন ও মহিলা ৪৬৩ জন।
- খোর্দ্দভালুকা গ্রামের মোট জনসংখ্যা ১,৫৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৫৮ জন ও মহিলা ৭৮১ জন।
- কৃষ্ণপুর গ্রামের মোট জনসংখ্যা ১,৭৪৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮৫৪ জন ও মহিলা ৮৯১ জন।
- নগরকয়া গ্রামের মোট জনসংখ্যা ১,২৫১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬২০ জন ও মহিলা ৬৩১ জন।
- পান্টি গ্রামের মোট জনসংখ্যা ৭,৪৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩,৭৪৮ জন ও মহিলা ৩,৭৩০ জন।
- পিতাম্বরবসী গ্রামের মোট জনসংখ্যা ১,৫৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৬১ জন ও মহিলা ৭৮৩ জন।
- রাজ নারায়নপুর গ্রামের মোট জনসংখ্যা ১,৩০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬৭০ জন ও মহিলা ৬৩৬ জন।
- রামদিয়া গ্রামের মোট জনসংখ্যা ৮১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪০৯ জন ও মহিলা ৪০৪ জন।
- সান্দিয়ারা গ্রামের মোট জনসংখ্যা ৫৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৭৯ জন ও মহিলা ২৯৯ জন।
- তুশারমালিয়াট গ্রামের মোট জনসংখ্যা ২১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১৮ জন ও মহিলা ৯৬ জন।
- ওয়াশী গ্রামের মোট জনসংখ্যা ১,২১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬০৬ জন ও মহিলা ৬১১ জন।
আরও দেখুন:
