বিশেষ পরামর্শ সভা [ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এর কর্মসূচি]

তৃণমূলের সাধারণ মা-বোনদের সচেতনতা এবং পারিবারিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে চলছে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন—‘বিশেষ পরামর্শ সভা’। আইসিটি বিশেষজ্ঞ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকরের পরিকল্পনায় ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচিটি আজ এই অঞ্চলের নারীদের আত্মবিশ্বাস ও সচেতনতার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ পরামর্শ সভা

 

 

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বানিয়া পাড়া গ্রামে সুফি ফারুকের "মা-বোনদের বিশেষ পরামর্শ সভা" অনুষ্ঠিত
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বানিয়া পাড়া গ্রামে সুফি ফারুকের “মা-বোনদের বিশেষ পরামর্শ সভা” অনুষ্ঠিত

 

কর্মসূচির প্রেক্ষাপট ও দর্শন

একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার আসল ভিত্তি হলো একটি সুশিক্ষিত ও মানবিক প্রজন্ম। সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর বিশ্বাস করেন, একটি পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু হলেন মা। মা যদি সচেতন, দক্ষ এবং মানসিকভাবে শক্তিশালী হন, তবে সেই পরিবার থেকে মাদকযুক্ত, অপরাধমুক্ত এবং কর্মঠ নাগরিক বেরিয়ে আসা সম্ভব। জননেত্রী শেখ হাসিনার ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে তৃণমূলের মায়েদের প্রস্তুত করতেই এই ‘বিশেষ পরামর্শ সভা’র জন্ম।

পরামর্শ সভার চারটি মৌলিক স্তম্ভ

প্রতিটি সভায় মা-বোনদের সাথে অত্যন্ত সহজ ভাষায় চারটি প্রধান বিষয়ে নিবিড় আলোচনা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়:

১. শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য: গ্রামীণ নারীরা প্রায়ই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা করেন। এই সভায় প্রসূতি মায়ের যত্ন, পুষ্টি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

২. পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধ: দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে কীভাবে পুরো পরিবারকে রোগমুক্ত রাখা যায়, সেই কৌশলগুলো শেখানো হয়।

৩. আদর্শ সন্তান গঠন: সন্তানকে কেবল শিক্ষিত নয়, বরং একজন রুচিশীল, পরোপকারী এবং দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মায়ের ভূমিকা কী হওয়া উচিত, তা এই সভার অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়।

৪. নারীর আর্থিক স্বাবলম্বিতা: প্রতিটি নারীর নিজস্ব আয় বা অর্থনৈতিক নিরাপত্তার গুরুত্ব এবং ক্ষুদ্র পরিসরে ঘরে বসে আয়ের উপায়গুলো নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা হয়।

ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন

সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে মায়েদের বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয় এই সভাগুলোতে। বিশেষ করে:

  • সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা যাতে তারা কোনো সমস্যা লুকিয়ে না রাখে।
  • মাদকের নীল ছোবল থেকে সন্তানকে রক্ষা করতে মায়ের সতর্ক দৃষ্টি এবং প্রতিরোধের কৌশল।
  • একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীল শিক্ষা ও খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা।
  • সন্তানের লক্ষ্য ও ক্যারিয়ারের উদ্দেশ্য বুঝতে তাকে মানসিক সমর্থন দেওয়া।

সুফি ফারুক ইবনে আবুবকরের মিশন

এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি বলেন:

“আমার লক্ষ্য কুমারখালী-খোকসায় একটি সুশিক্ষিত ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলা। আমাদের বিশাল নারী শক্তিকে গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও দক্ষ করে তুলতে হবে। আমরা যেমন তরুণদের ফ্রিতে কম্পিউটার বা সেলাই প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, তেমনি মায়েদের প্রস্তুত করছি যাতে তাঁরা পরিবারের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নেতৃত্ব দিতে পারেন। এটাই আমার রাজনীতির মূল ‘জয় বাংলা’।”

নিবিড় পদ্ধতি ও বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি

এই পরামর্শ সভাগুলো কোনো বড় জনসভা নয়, বরং অত্যন্ত নিবিড় ও কার্যকর ক্ষুদ্র সমাবেশ। প্রতিটি পাড়ায় একটি বাড়ির আঙিনায় বা বৈঠকখানায় ৩০ থেকে ৩৫ জন মাকে নিয়ে এটি আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের বিশেষত্ব হলো—এখানে কেবল আলোচনা হয় না, বরং উপস্থিত মা-বোনদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সরাসরি চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়ার জন্য একজন পেশাদার নার্স ও বিশেষজ্ঞ উপস্থিত থাকেন।

একটি সামাজিক বিপ্লবের পথে

কুমারখালী মহিলা পরিষদের কর্মী আলেফা খাতুন এবং বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে এই প্রকল্পটি এখন কুমারখালী ও খোকসার প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। এটি কেবল একটি সভা নয়, বরং একটি শিক্ষিত, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমৃদ্ধ সমাজ গড়ার পথে এক শক্তিশালী পদক্ষেপ। স্থানীয়দের মতে, সুফি ফারুকের এই নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফলে গ্রামীণ নারীদের মাঝে যে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে, তার প্রতিফলন দেখা যাবে আগামী দিনের উন্নত কুমারখালী-খোকসা গঠনে।

এক নজরে বিশেষ পরামর্শ সভা:

  • উদ্যোক্তা: সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর।

  • মূল লক্ষ্য: মায়েদের সচেতনতা ও দক্ষ প্রজন্ম গঠন।

  • প্রধান গুরুত্ব: স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মাদক প্রতিরোধ ও নারীর আর্থিক স্বাবলম্বিতা।

  • অঞ্চল: কুমারখালী ও খোকসা, কুষ্টিয়া।

 

আরও দেখুন: