পশুপালন বা অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি ক্যারিয়ার। পেশা পরিচিতি | পেশা পরামর্শ সভা

বাংলাদেশ একটি উর্বর কৃষিপ্রধান দেশ, যার সামগ্রিক অর্থনীতি, গ্রামীণ জীবনযাত্রা এবং খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তিটি গভীরভাবে গ্রোথিত রয়েছে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের ওপর। দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পুষ্টি ও আমিষের মৌলিক চাহিদা মেটাতে দিনরাত নিরলস ও অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এ দেশের কৃষিবিদ ও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা। আমাদের প্রতিদিনের সুষম খাদ্য তালিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ—দুধ, ডিম এবং মাংসের মতো অতিপ্রয়োজনীয় প্রাণিজ আমিষের নিরাপদ ও পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করার পেছনে সবচেয়ে বড় ও নেপথ্য ভূমিকা পালন করে চলেছেন পশুপালন অনুষদের সুযোগ্য শিক্ষার্থীরা। অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি বা পশুপালন গ্র্যাজুয়েটদের এই নীরব অথচ অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে জনসমক্ষে তুলে ধরতে এবং তরুণ প্রজন্মের ক্যারিয়ার গাইডলাইন দিতে এই বিশেষ আয়োজন। সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর-এর কালজয়ী ‘পেশা পরামর্শ সভা’-র ধারাবাহিকতায় এবং শামস্ বিশ্বাসের লেখনীতে পশুপালন পেশার আদ্যোপান্ত এখানে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

সুনিশ্চিত ক্যারিয়ার গড়তে চাই একটি নির্ভুল পরিকল্পনা - সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর
সুনিশ্চিত ক্যারিয়ার গড়তে চাই একটি নির্ভুল পরিকল্পনা – সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর

Table of Contents

পশুপালন বা অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি পেশার পটভূমি ও গুরুত্ব

অনেকের মনেই প্রচলিত একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে কৃষিশিক্ষা মানে কেবল ধান, পাট কিংবা শাকসবজি চাষের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা। অথচ আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে পশুপালন বা অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি একটি অত্যন্ত লাভজনক, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং হাই-টেক শিল্প হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে তাকালে দেখা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগ শিল্প হলো ‘পোলট্রি শিল্প’, যা সরাসরি এই পশুপালন অনুষদের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তির সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।

একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিমাপ করা হয় সে দেশের জনগণের অপুষ্টি দূরীকরণ এবং খাদ্য নিরাপত্তার মানদণ্ড দিয়ে। পশুপালন অনুষদের মূল লক্ষ্য হলো বৈজ্ঞানিক উপায়ে গবাদিপশু ও পোলট্রি পাখির বংশবৃদ্ধি, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, রোগ প্রতিরোধ এবং মানসম্মত প্রাণিজ পণ্য উৎপাদন করা। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্য সংকটের এই যুগে প্রাণিসম্পদ খাতের সঠিক ব্যবস্থাপনা মানবজাতির টিকে থাকার অন্যতম বড় হাতিয়ার। ফলস্বরূপ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষ অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি পেশাজীবীদের কদর ও চাহিদা দিন দিন আকাশচুম্বী হচ্ছে।

পশুপালন অনুষদের মূল পাঠ্যসূচি ও বিভাগভিত্তিক পঠনপাঠন

পশুপালন অনুষদের উচ্চশিক্ষার পাঠ্যক্রম অত্যন্ত সুবিন্যস্ত এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণানির্ভর। গবাদিপশু ও পোলট্রি উৎপাদন ব্যবস্থাপনাকে নিখুঁত ও আধুনিক করতে শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত বিভাগের অধীনে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হয়। প্রধান বিভাগগুলোর পঠনপাঠন নিচে আলোচনা করা হলো:

ডেইরি বিজ্ঞান (Dairy Science)

এই বিভাগে শিক্ষার্থীদের মূলত দুধ উৎপাদন, দুধের রাসায়নিক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ (Milk Processing) এবং বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য যেমন—ঘি, মাখন, চিজ, পনির ও আইসক্রিম তৈরির বাস্তবসম্মত কৌশল শেখানো হয়। ডেইরি ফার্মের হাইজিন রক্ষা এবং দুধের গুণগত মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ওপর এখানে বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

পশুবিজ্ঞান (Animal Science)

গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন, সঠিক আবাসন পরিকল্পনা, প্রজনন ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক খামার ব্যবস্থাপনার খুঁটিনাটি বিষয় এই বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। কীভাবে একটি খামারকে বাণিজ্যিক ও লাভজনক ব্যবসায়ে রূপান্তর করা যায়, তার তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা এখান থেকে প্রদান করা হয়।

পশুপুষ্টি (Animal Nutrition)

পশুপাখির শারীরিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং দুধ বা ডিম উৎপাদনের জন্য সুষম খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। এই বিভাগে পশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, খাদ্য উপাদান নির্বাচন, ফিড ফর্মুলেশন (Feed Formulation) এবং খরচে সাশ্রয়ী উপায়ে উচ্চমানের খাদ্য প্রস্তুত করার আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করা হয়।

পশু প্রজনন ও কৌলিতত্ত্ব (Animal Breeding & Genetics)

উন্নত জাতের গবাদিপশু ও পোলট্রি উদ্ভাবনের মূল চাবিকাঠি হলো জেনিটিক্স। এই বিভাগে জিনগত উন্নতিসাধন, কৃত্রিম প্রজনন (Artificial Insemination), ভ্রূণ স্থানান্তর প্রযুক্তি (Embryo Transfer) এবং বংশগতিসংক্রান্ত গবেষণার মাধ্যমে অধিক উৎপাদনশীল জাত উদ্ভাবনের কৌশল শিক্ষা দেওয়া হয়।

এই বহুমাত্রিক ও আধুনিক শিক্ষার কারণে পশুপালন অনুষদের গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতা সাধারণ গণ্ডি পেরিয়ে বহুমুখী রূপ লাভ করে, যা তাদের দেশ ও বিদেশের শ্রমবাজারে অত্যন্ত চাহিদা সম্পন্ন করে তোলে।

কোথায় পড়বেন? পশুপালন শিক্ষার প্রধান বিদ্যাপীঠসমূহ

বাংলাদেশে পশুপালন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ সীমিত হলেও এর মান অত্যন্ত উচ্চ এবং বিশ্বমানের সমকক্ষ। দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই বিষয়ে ডিগ্রি প্রদান করা হয়:

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BAU)

ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের কৃষি ও পশুপালন শিক্ষার সর্বপ্রাচীন, বৃহত্তম ও প্রধান কেন্দ্র। এ দেশের পশুপালন শিক্ষার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং গবেষণার প্রসারে এই প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অতুলনীয়।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (PSTU)

দক্ষিণাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং আধুনিক কৃষি ও প্রাণিসম্পদ শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পশুপালন অনুষদ অত্যন্ত সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

কারিগরি ও বিশেষায়িত শিক্ষা

উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (BTEB) অধীনে বিভিন্ন মেয়াদে পশুপালনের ওপর বিশেষায়িত ডিপ্লোমা ও কারিগরি কোর্স সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ক্যারিয়ারের দিগন্ত: সরকারি ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্র

পশুপালন গ্র্যাজুয়েটদের কর্মক্ষেত্রের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রতিবছর এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে যে পরিমাণ পশুপালন গ্র্যাজুয়েট বের হন, তা দেশের বিশাল প্রাণিসম্পদ খাতের চাহিদার তুলনায় অনেকটাই কম। ফলে পাস করার পর বেকার বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে। কাজের ক্ষেত্রগুলোকে প্রধানত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:

১. সরকারি সেক্টর ও বিসিএস ক্যারিয়ার

  • বিশেষায়িত ও সাধারণ বিসিএস: বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের (BPSC) মাধ্যমে টেকনিক্যাল ক্যাডারে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কর্মকর্তা বা হাঁস-মুরগি উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হওয়া যায়। পাশাপাশি সাধারণ ক্যাডার পদেও পরীক্ষা দিয়ে সফল হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
  • গবেষণা প্রতিষ্ঠান (BLRI): বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (BLRI)-এ সরাসরি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।
  • চিড়িয়াখানা ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা: সরকারি চিড়িয়াখানায় ক্যাডার সার্ভিসে ‘কিউরেটর’ এবং নন-ক্যাডারে ‘জু অফিসার’ হিসেবে পশুপাখির সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার অত্যন্ত রোমাঞ্চকর পেশাগত জীবন গড়া সম্ভব।
  • ব্যাংকিং ও উন্নয়ন খাত: বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বাণিজ্যিক ব্যাংকে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ ঋণ ব্যবস্থাপনায় এবং বিভিন্ন দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থায় (NGO) এই গ্র্যাজুয়েটদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার রয়েছে।

২. কর্পোরেট ও বেসরকারি সেক্টর

বাংলাদেশের ডেইরি, পোলট্রি এবং ফিড মিল শিল্প আজ বহুজাতিক কর্পোরেটের রূপ নিয়েছে। দেশের নামী-দামী শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট কোম্পানিগুলো পশুপালন গ্র্যাজুয়েটদের অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও লোভনীয় বেতনে নিয়োগ দিয়ে থাকে। যে সমস্ত স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ রয়েছে:

  • মিল্ক ভিটা ও আড়ং ডেইরি: দুগ্ধ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মান নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপক হিসেবে।
  • প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও কাজী ফার্মস: পোলট্রি প্রজনন, ফিড উৎপাদন ও খামার ব্যবস্থাপনায় লিডারশিপ রোল।
  • আফতাব বহুমুখী ফার্ম ও ড্যানিশ: মাংস ও ডিমের বৃহৎ উৎপাদনে টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট হিসেবে।
  • আমেরিকান ডেইরি ও অন্যান্য ফিড ইন্ডাস্ট্রি: অ্যানিমেল নিউট্রিশনিস্ট ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার হিসেবে।

৩. সফল উদ্যোক্তা হওয়ার অফুরন্ত সুযোগ

চাকরির প্রচলিত গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অনেকেই তাদের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও গবেষণলব্ধ শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে নিজে আধুনিক বাণিজ্যিক খামার গড়ে তুলছেন। পোলট্রি ফার্ম, ব্রয়লার ও লেয়ার খামার, আধুনিক ডেইরি ফার্ম কিংবা কমার্শিয়াল ফিড মিল স্থাপন করে তারা কেবল নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছেন না, বরং শত শত বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাচ্ছেন।

আয়-রোজগার ও সুযোগ-সুবিধার রূপরেখা

পশুপালন পেশায় দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ জনবলের তুলনামূলক ঘাটতি থাকায় চাকরির বাজারে এর অবস্থান বেশ শক্ত। পড়াশোনা শেষ করার পরপরই চমৎকার বেতন কাঠামো দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা সম্ভব। একজন ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটের শিক্ষানবিশ বা প্রোবেশনরি (Intern/Probationary) সময়ে সাধারণত ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা মাসিক বেতনের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু হয়। কর্পোরেট সেক্টর কিংবা বহুজাতিক কোম্পানিতে সামান্য অভিজ্ঞতা অর্জন করার পর বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। সঠিক পরিকল্পনা ও কর্মদক্ষতা থাকলে এই পেশায় আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা উভয়ই নিশ্চিত করা যায়।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও আধুনিক প্রযুক্তির সংযুক্তি

দিন বদলের সাথে সাথে পশুপালন খাতেও যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) এবং আধুনিক জিনোমিক্স প্রযুক্তি। প্রিসিশন ফার্মিংয়ের মাধ্যমে এখন সেন্সর ব্যবহার করে পশুপাখির স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বয়ংক্রিয় খাদ্য সরবরাহ এবং খোদ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য এই প্রযুক্তিগুলোর সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খামারে যে তাপপ্রবাহজনিত চাপ (Heat Stress) তৈরি হয়, তা মোকাবিলায় জিনগত সহনশীল জাত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রটিতে গবেষণার অপার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়েছে।

পেশা পরামর্শকের সুনির্দিষ্ট বার্তা

“সুনিশ্চিত ও গোছানো ক্যারিয়ার গড়তে হলে শুরুতেই চাই একটি নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা।” — সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর

পশুপালন পেশাকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের উচিত নিজেদের আগ্রহ, ল্যাবরেটরি কাজের দক্ষতা এবং ফিল্ড ওয়ার্কের মানসিকতাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা। অন্ধভাবে কোনো পেশায় না গিয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে এগোলে সফলতা অবশ্যম্ভাবী।

মূল বিষয়গুলো একনজরে

  • পশুপালন বা অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি হলো দেশের প্রাণিসম্পদ, আমিষের জোগান এবং খাদ্য নিরাপত্তার মূল চালিকাশক্তি।
  • এই পেশার শিক্ষাক্রম ডেইরি সায়েন্স, অ্যানিমেল সায়েন্স, পুষ্টিবিজ্ঞান এবং ব্রিডিং ও জেনিটিক্সের মতো আধুনিক বিজ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
  • সরকারি বিসিএস ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের বৃহৎ পোলট্রি ও ডেইরি কর্পোরেট খাতে এই পেশার গ্র্যাজুয়েটদের চাহিদা ব্যাপক।
  • চাকরির পাশাপাশি নিজস্ব আধুনিক বাণিজ্যিক খামার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্রশ্ন ১: পশুপালন অনুষদে পড়ার জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কী প্রয়োজন?

উত্তর: এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে অবশ্যই জীববিজ্ঞান (Biology) বিষয়টি পঠিত বিষয় হিসেবে থাকতে হবে।

প্রশ্ন ২: পশুপালন গ্র্যাজুয়েটরা কি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন?

উত্তর: হ্যাঁ, তারা বিসিএস পরীক্ষায় বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (লাইভস্টক) ক্যাডার বা টেকনিক্যাল পদে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ ক্যাডার পদগুলোতেও সফলভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারেন।

প্রশ্ন ৩: পড়াশোনা শেষ করার পর সরকারি চাকরির বাইরে সবচেয়ে বড় কর্মক্ষেত্র কোনটি?

উত্তর: দেশের পোলট্রি শিল্প, ফিড মিল ইন্ডাস্ট্রি এবং ডেইরি খাতের কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোই বর্তমানে সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র।

প্রশ্ন ৪: পশুপালন (Animal Husbandry) এবং ভেটেরিনারি সায়েন্স (Veterinary Science) কি একই বিষয়?

উত্তর: দুটি ক্ষেত্র ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হলেও ভিন্ন। ভেটেরিনারি সায়েন্স মূলত পশুপাখির রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও সার্জারি সংক্রান্ত, পক্ষান্তরে পশুপালন বা অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি মূলত পশুপাখির পুষ্টি, বংশবৃদ্ধি, জাত উন্নয়ন, উৎপাদন এবং সার্বিক খামার ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেয়।

প্রশ্ন ৫: এই পেশায় উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে স্কলারশিপের সুযোগ কেমন?

উত্তর: উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানিমেল সায়েন্স, বায়োটেকনোলজি ও এগ্রিকালচারাল সাইন্সের ওপর উচ্চশিক্ষার জন্য ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে।

প্রশ্ন ৬: নিজস্ব খামার দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকের ঋণ সুবিধা কেমন পাওয়া যায়?

উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংক পশুপালন ও ডেইরি খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ও কম সুদে বিশেষ কৃষি ঋণ প্রদান করে থাকে।

প্রশ্ন ৭: পশুপালন খাতে কৃত্রিম প্রজননের ভূমিকা কী?

উত্তর: কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় সাধারণ জাতের গবাদিপশুকে উন্নত জাতের মাংসম ও দুগ্ধদায়ী জাতের সাথে সংকরায়ন করে অল্প সময়ে অধিক উৎপাদনশীল বংশধর তৈরি করা সম্ভব হয়।

 

আরও দেখুন: