রাজনৈতিক দিনপঞ্জি

বাংলাদেশের ইতিহাস জানতে গুরুত্বপুর্ন রাজনৈতিক দিনপঞ্জি তৈরি করে রাখলাম। সময় পেলে আরও তারিখ ও বিস্তারিত যোগ করবো। লাহোর প্রস্তাব থেকেই পর্টিশনের সুচনা বলে সেখান থেকেই শুরু করলাম।

২৩/০৩/১৯৪০ – নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন, যা ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা নিয়ে ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ গঠনের কথা বলে।

১৯/০১/১৯৪১ – ব্রিটিশদের চোখে ধুলো দিয়ে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু কলকাতা থেকে অন্তর্ধারীন হন, যা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে সশস্ত্র বিপ্লবের নতুন প্রেরণা জোগায়।

০৭/০৮/১৯৪১ – বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ ঘটে, যা বাংলার সাংস্কৃতিক ও জাতীয়তাবাদী চেতনাকে গভীরভাবে শোকাহত করে।

০৮/০৩/১৯৪২ – জাপানি বাহিনী রেঙ্গুন দখল করে নেয়, যার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আঁচ সরাসরি বাংলায় এসে পড়ে।

০৮/০৮/১৯৪২ – মহাত্মা গান্ধী বোম্বেতে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের ডাক দেন এবং “করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে” মন্ত্রে দীক্ষিত করেন।

১০/০৮/১৯৪২ – ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় শেখ মুজিবুর রহমানসহ বাংলার ছাত্রনেতারা স্বাধিকার আন্দোলনে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

জানুয়ারি-নভেম্বর ১৯৪৩ – বাংলায় ‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ বা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়; ব্রিটিশ সরকারের অব্যবস্থাপনায় প্রায় ৩০ থেকে ৫০ লক্ষ মানুষ না খেয়ে মারা যায়।

১০/০৭/১৯৪৩ – দুর্ভিক্ষ চলাকালীন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বাংলার সিভিল সাপ্লাই মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং লঙ্গরখানা খোলার উদ্যোগ নেন।

১৯/০৯/১৯৪৪ – বোম্বেতে গান্ধী ও জিন্নাহর মধ্যে টানা ১৮ দিন ধরে চলা আলোচনা ব্যর্থ হয়, ফলে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

২৫/০৬/১৯৪৫ – ভারতের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে লর্ড ওয়াভেল শিমলা সম্মেলনের ডাক দেন, যেখানে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে মতভেদ প্রকট হয়।

ডিসেম্বর ১৯৪৫ – ভারতের কেন্দ্রীয় আইনসভার নির্বাচনে মুসলিম লীগ মুসলিম আসনগুলোর সিংহভাগ জয়লাভ করে নিজেদের একক প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করে।

জানুয়ারি ১৯৪৬ – প্রাদেশিক নির্বাচনে বাংলায় মুসলিম লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

১৬/০৮/১৯৪৬ – জিন্নাহর আহ্বানে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ বা প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস পালিত হয়। কলকাতাজুড়ে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয় যা ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ নামে পরিচিত।

১০/১০/১৯৪৬ – লক্ষ্মীপূজার দিন থেকে নোয়াখালীতে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে, যা বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়।

০৭/১১/১৯৪৬ – দাঙ্গা কবলিত নোয়াখালীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহাত্মা গান্ধী চার মাসব্যাপী পদযাত্রা শুরু করেন।

২০/০২/১৯৪৭ – ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাটলি ঘোষণা করেন যে, ১৯৪৮ সালের জুন মাসের মধ্যে ব্রিটিশরা ভারত ত্যাগ করবে।

২৭/০৪/১৯৪৭ – হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শরৎ চন্দ্র বসু একটি ‘স্বাধীন ও অখণ্ড বাংলা’ (United Independent Bengal) রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব পেশ করেন, যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

০৩/০৬/১৯৪৭ – লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভাজনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা বা ‘মাউন্টব্যাটেন প্ল্যান’ ঘোষণা করেন।

২০/০৬/১৯৪৭ – বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্যরা ভোটাভুটির মাধ্যমে বাংলাকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

০৮/০৭/১৯৪৭ – সিরিল র‍্যাডক্লিফ সীমানা নির্ধারণ কমিশনের প্রধান হিসেবে ভারতে আসেন এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মানচিত্র তৈরি করেন।

১৪/০৮/১৯৪৭ – রাত ১২টায় পাকিস্তান একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যার অংশ হিসেবে ‘পূর্ব বাংলা’ (পূর্ব পাকিস্তান) পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৫/০৮/১৯৪৭ – ভারত স্বাধীনতা লাভ করে এবং পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যায়; বাঙালি জাতি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

০৪/০১/১৯৪৮ – শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে ‘পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’ (বর্তমান বাংলাদেশ ছাত্রলীগ) প্রতিষ্ঠিত হয়।

২৫/০২/১৯৪৮ – পাকিস্তান গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার ঐতিহাসিক দাবি উত্থাপন করেন।

০২/০৩/১৯৪৮ – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে কামরুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।

১১/০৩/১৯৪৮ – রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক ছাত্রনেতা সচিবালয়ের সামনে থেকে গ্রেপ্তার হন।

১৫/০৩/১৯৪৮ – মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের সাথে সংগ্রাম পরিষদের ৮ দফা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং শেখ মুজিবসহ বন্দিরা মুক্তি পান।

২১/০৩/১৯৪৮ – ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন, “উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা”।

২৪/০৩/১৯৪৮ – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জিন্নাহ পুনরায় উর্দুর কথা বললে ছাত্ররা ‘নো নো’ বলে প্রতিবাদ জানায়।

১৯/০৪/১৯৪৮ – পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা প্রতিরোধের চেষ্টায় শান্তি কমিটি গঠন করা হয়।

১১/০৯/১৯৪৮ – কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যু হয়, যা পাকিস্তানের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা ও অস্থিরতার সৃষ্টি করে।

০৩/০৩/১৯৪৯ – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ধর্মঘটে সমর্থন দেওয়ার কারণে শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।

২৩/০৬/১৯৪৯ – ঢাকার টিকাটুলির রোজ গার্ডেনে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠিত হয়, মওলানা ভাসানী সভাপতি এবং শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২৩/০৬/১৯৪৯ – কারাবন্দি অবস্থায় তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে নবগঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

২৬/০৪/১৯৫০ – রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে রাজবন্দিদের ওপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করে, যাতে ৭ জন কমিউনিস্ট নেতা শহীদ হন।

২৮/০৯/১৯৫০ – লিয়াকত আলী খান গণপরিষদে ‘মূলনীতি কমিটির’ (BPC) রিপোর্ট পেশ করেন, যাতে বাংলার কোনো স্বীকৃতি ছিল না; পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়।

১৬/১০/১৯৫১ – পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান রাওয়ালপিন্ডিতে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।

২৬/০১/১৯৫২ – ঢাকার পল্টন ময়দানে খাজা নাজিমুদ্দিন পুনরায় ঘোষণা করেন যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।

৩০/০১/১৯৫২ – নাজিমুদ্দিনের বক্তব্যের প্রতিবাদে ছাত্ররা ধর্মঘট পালন করে এবং ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।

০৪/০২/১৯৫২ – রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা শহরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সফল ধর্মঘট পালিত হয়।

২০/০২/১৯৫২ – সরকার পরদিন (২১ ফেব্রুয়ারি) থেকে ঢাকা শহরে এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি ও সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে।

২১/০২/১৯৫২ – ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরে ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বার শহীদ হন।

২২/০২/১৯৫২ – শহীদদের স্মরণে শোক মিছিলে পুলিশের গুলিতে শফিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন শহীদ হন।

২৩/০২/১৯৫২ – ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা রাতারাতি প্রথম ‘শহীদ মিনার’ নির্মাণ করেন, যা পরে পুলিশ গুঁড়িয়ে দেয়।

০৯/০৭/১৯৫৩ – আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় কাউন্সিলে শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৬/১১/১৯৫৩ – যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়, যেখানে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল ঐক্যবদ্ধ হয়।

০৪/১২/১৯৫৩ – যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ বরাদ্দ করা হয়।

০৮/০৩/১৯৫৪ – পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা ‘ব্যালট বিপ্লব’ হিসেবে পরিচিত।

১৫/০৩/১৯৫৪ – নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হয়; ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়লাভ করে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটায়।

০৩/০৪/১৯৫৪ – শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।

১৪/০৫/১৯৫৪ – শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার কৃষি, ঋণ, সমবায় ও পল্লী পুনর্গঠন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

৩০/০৫/১৯৫৪ – পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে ৯২-ক ধারা জারি করেন এবং ইস্কান্দার মির্জাকে গভর্নর নিয়োগ করেন।

২১/১০/১৯৫৫ – কাউন্সিল অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’ নামকরণ করা হয়, যা দলটিকে একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক রূপ দেয়।

২২/১০/১৯৫৫ – আওয়ামী লীগের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিতে মওলানা ভাসানী সভাপতি এবং শেখ মুজিবুর রহমান পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২৩/১০/১৯৫৫ – আওয়ামী লীগের অসাম্প্রদায়িক রূপান্তরের মাধ্যমে অমুসলিমদের জন্য দলের দরজা উন্মুক্ত হয়, যা বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের ভিত্তি মজবুত করে।

১৬/০১/১৯৫৬ – পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘শহীদ দিবস’ ও সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

২৯/০২/১৯৫৬ – দীর্ঘ সংগ্রামের পর পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

৩০/০৮/১৯৫৬ – খাদ্য সংকটের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের মিছিলে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন, যা আবু হোসেন সরকার সরকারের পতন ত্বরান্বিত করে।

০৬/০৯/১৯৫৬ – আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠন করে।

১২/০৯/১৯৫৬ – পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

১৬/০৯/১৯৫৬ – শেখ মুজিবুর রহমান আতাউর রহমান খানের মন্ত্রিসভায় শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রী হিসেবে যোগদান করেন।

০৭/০২/১৯৫৭ – টাঙ্গাইলের সন্তোষে ঐতিহাসিক ‘কাগমারী সম্মেলন’ শুরু হয়, যেখানে মওলানা ভাসানী পশ্চিম পাকিস্তানকে উদ্দেশ্য করে তার বিখ্যাত ‘আসসালামু আলাইকুম’ (বিদায় জানানো) ধ্বনি উচ্চারণ করেন।

৩০/০৫/১৯৫৭ – দলীয় কাজে পূর্ণ সময় দেওয়ার লক্ষ্যে শেখ মুজিবুর রহমান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন, যা ত্যাগী রাজনীতির এক বিরল উদাহরণ।

১৩/০৬/১৯৫৭ – পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে মতভেদের কারণে মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেন।

২৬/০৭/১৯৫৭ – মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি’ (ন্যাপ) গঠিত হয়।

০৭/১০/১৯৫৮ – প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন এবং সংবিধান বাতিল করেন।

১২/১০/১৯৫৮ – সামরিক সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে এবং তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া শুরু হয়।

২৭/১০/১৯৫৮ – জেনারেল আইয়ুব খান এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারিত করে পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করেন।

১০/০৮/১৯৫৯ – আইয়ুব খান ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ (Basic Democracy) আদেশ জারি করেন, যা জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়।

০৮/০৫/১৯৬১ – আইয়ুব খানের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী বিপুল উৎসাহে উদযাপিত হয়, যা ছিল বাঙালির সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের অংশ।

৩০/০১/১৯৬২ – পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে করাচিতে গ্রেপ্তার করা হয়।

০১/০২/১৯৬২ – সোহরাওয়ার্দীর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘট শুরু হয়, যা আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নতুন মাত্রা যোগ করে।

১৭/০৯/১৯৬২ – শরীফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে বাবুল, গোলাম মোস্তফা ও ওয়াজিউল্লাহ শহীদ হন; দিনটি ‘শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

০৫/১২/১৯৬৩ – বৈরুতের একটি হোটেলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়, যা বাঙালি রাজনীতিতে গভীর শোকের ছায়া ফেলে।

২৫/০১/১৯৬৪ – শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির বাসভবনে এক সভার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনরায় পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

০৫/০৩/১৯৬৪ – শেখ মুজিবুর রহমানকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কাৰবাগীশকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

০৬/০৯/১৯৬৫ – ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়; এই যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় থাকায় বাঙালির মনে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়।

১০/০১/১৯৬৬ – ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘তাসখন্দ চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়, যা শেখ মুজিবকে স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে উদ্বুদ্ধ করে।

০৫/০২/১৯৬৬ – লাহোরে বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ‘৬-দফা কর্মসূচি’ পেশ করেন।

২১/০২/১৯৬৬ – আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটিতে ৬-দফা প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং এটি জনগণের সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২০/০৩/১৯৬৬ – আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবার দলের ‘সভাপতি’ এবং তাজউদ্দীন আহমদ ‘সাধারণ সম্পাদক’ নির্বাচিত হন।

০৮/০৫/১৯৬৬ – নারায়ণগঞ্জে পাটকল শ্রমিকদের সভায় ভাষণ দিয়ে ফেরার পথে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘ডিফেন্স অফ পাকিস্তান রুলস’ এর আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়।

০৭/০৬/১৯৬৬ – ৬-দফার সমর্থনে সারাদেশে সফল হরতাল পালিত হয়; পুলিশের গুলিতে মনু মিয়া ও শফিকসহ ১১ জন শহীদ হন। দিনটি ‘৬-দফা দিবস’ হিসেবে চিরস্মরণীয়।

০৩/০১/১৯৬৮ – পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য) দায়ের করে।

১৭/০১/১৯৬৮ – শেখ মুজিবুর রহমানকে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে জেলগেটেই পুনরায় গ্রেপ্তার করে ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়।

১৯/০৬/১৯৬৮ – ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

০৪/০১/১৯৬৯ – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতারা ঐতিহাসিক ‘১১-দফা কর্মসূচি’ ঘোষণা করেন, যা ৬-দফার সাথে যুক্ত হয়ে আন্দোলনকে গণবিস্ফোরণে রূপ দেয়।

০৫/০১/১৯৬৯ – সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, যারা আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়।

২০/০১/১৯৬৯ – ঢাকার রাজপথে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান (আসাদ) শহীদ হন; তার রক্তভেজা শার্ট আন্দোলনের পতাকায় পরিণত হয়।

২৪/০১/১৯৬৯ – ঐতিহাসিক ‘গণঅভ্যুত্থান দিবস’; সচিবালয়ের সামনে মিছিলে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান এবং রুস্তম শহীদ হন।

১৫/০২/১৯৬৯ – আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।

১৮/০২/১৯৬৯ – রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে পাকিস্তানি সেনারা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে, যা বুদ্ধিজীবী মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

২১/০২/১৯৬৯ – গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব খান ঘোষণা করেন যে তিনি পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।

২২/০২/১৯৬৯ – তীব্র গণআন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দি বিনাশর্তে মুক্তি পান।

২৩/০২/১৯৬৯ – রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ১০ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

২৫/০৩/১৯৬৯ – প্রবল জনরোষের মুখে আইয়ুব খান পদত্যাগ করেন এবং জেনারেল ইয়াহিয়া খান সামরিক আইন জারি করে পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করেন।

০৫/১২/১৯৬৯ – হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, “আজ হতে এই দেশের নাম হবে শুধুই বাংলাদেশ।”

০১/০১/১৯৭০ – দীর্ঘ বিরতির পর পাকিস্তানে পুনরায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

২৮/০৩/১৯৭০ – ইয়াহিয়া খান ‘লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার’ (LFO) জারি করেন, যা নির্বাচনের কাঠামো নির্ধারণ করে দেয়।

০৪/০৬/১৯৭০ – আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ৬-দফার ভিত্তিতে সংবিধান প্রণয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

১২/১১/১৯৭০ – উপকূলীয় অঞ্চলে ইতিহাসের ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড় ‘গোর্কি’ আঘাত হানে; প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান কিন্তু পাকিস্তান সরকারের চরম অবহেলা বাঙালিদের মনে ক্ষোভ বাড়িয়ে দেয়।

০৭/১২/১৯৭০ – পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়; আওয়ামী লীগ ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

১৭/১২/১৯৭০ – প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসনে জয়লাভ করে অভাবনীয় বিজয় অর্জন করে।

১৯/১২/১৯৭০ – নির্বাচনের ফলাফলের পর বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট করে দেন যে, ৬-দফা প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না, কারণ এটি এখন জনগণের ম্যান্ডেট।

০৩/০১/১৯৭১ – রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের নির্বাচিত জনপ্রতিধিদের ৬-দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রণয়নের শপথ করান।

১২/০১/১৯৭১ – প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাকে পাকিস্তানের হবু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করেন।

২৭/০১/১৯৭১ – জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকা সফরে আসেন এবং বঙ্গবন্ধুর সাথে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করেন, যা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়।

১৫/০২/১৯৭১ – বঙ্গবন্ধু সাফ জানিয়ে দেন যে, শাসনতন্ত্র অবশ্যই ৬-দফার ভিত্তিতে হতে হবে, কোনো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত বাঙালি মানবে না।

০১/০৩/১৯৭১ – রেডিওতে এক ঘোষণায় ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন; প্রতিবাদে পুরো বাংলা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

০২/০৩/১৯৭১ – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র সমাবেশে প্রথমবার বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

০৩/০৩/১৯৭১ – পল্টন ময়দানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার’ পাঠ করে এবং বঙ্গবন্ধুকে ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয়।

০৭/০৩/১৯৭১ – রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেন এবং ঘোষণা করেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

১৫/০৩/১৯৭১ – ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন এবং আলোচনার নাটক শুরু করেন, অন্যদিকে গোপনে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও অস্ত্র আনা অব্যাহত রাখেন।

২৩/০৩/১৯৭১ – পাকিস্তান দিবসে সারা বাংলাদেশে পাকিস্তানি পতাকার বদলে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়।

২৫/০৩/১৯৭১ – মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ও রাজারবাগে ভয়াবহ গণহত্যা চালায়।

২৬/০৩/১৯৭১ – রাত ১২টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং এর পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২৭/০৩/১৯৭১ – চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।

১০/০৪/১৯৭১ – নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় ‘মুজিবনগর সরকার’ এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ (Proclamation of Independence) গৃহীত হয়।

১৭/০৪/১৯৭১ – মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে (মুজিবনগর) স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে; বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী হন।

১১/০৭/১৯৭১ – মুজিবনগর সরকারের অধীনে পুরো বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে সুশৃঙ্খলভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

০১/০৮/১৯৭১ – নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে পন্ডিত রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনের উদ্যোগে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয়, যা বিশ্ববিবেককে জাগ্রত করে।

০৩/১২/১৯৭১ – পাকিস্তান বিমানবাহিনী ভারতের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে আক্রমণ করলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরু হয়।

০৬/১২/১৯৭১ – ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে, যা কূটনৈতিক যুদ্ধের এক বিশাল বিজয় ছিল।

১০/১২/১৯৭১ – মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ কমান্ডের চাপে পাকিস্তানি সেনারা পলায়ন শুরু করে এবং একে একে জেলাগুলো শত্রুমুক্ত হতে থাকে।

১৪/১২/১৯৭১ – পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি বাহিনী আল-বদর ও আল-শামসের সহায়তায় বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের (বুদ্ধিজীবী) পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।

১৬/১২/১৯৭১ – বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ৯৩ হাজার সৈন্যসহ পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজি আত্মসমর্পণ করেন; জন্ম নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ

০৮/০১/১৯৭২ – পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

১০/০১/১৯৭২ – ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানে করে বঙ্গবন্ধু ভারতের দিল্লি হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন; দিনটি ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

১২/০১/১৯৭২ – বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন করেন।

২৪/০১/১৯৭২ – টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী স্কুল মাঠে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী তার ১৮ হাজার কাদেরিয়া বাহিনীর অস্ত্র বঙ্গবন্ধুর চরণে সমর্পণ করেন।

৩১/০১/১৯৭২ – ঢাকার এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, “সরকারি কর্মচারীরা জনগণের সেবক, তারা যেন প্রভুর মতো আচরণ না করে।”

০৬/০২/১৯৭২ – কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধু ইন্দিরা গান্ধীর উপস্থিতিতে বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন এবং মিত্রবাহিনী প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।

১২/০৩/১৯৭২ – বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে মাত্র তিন মাসের মাথায় ভারতীয় মিত্রবাহিনী বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে ফিরে যায়।

১৭/০৩/১৯৭২ – ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ঢাকা সফরে আসেন এবং বাংলাদেশের সাথে ২৫ বছর মেয়াদী মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

২৬/০৩/১৯৭২ – স্বাধীনতার প্রথম বার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতির আদেশে ব্যাংক, বিমা ও বড় শিল্প কলকারখানা জাতীয়করণের ঘোষণা দেন।

১০/০৪/১৯৭২ – বাংলাদেশের প্রথম গণপরিষদের (Constituent Assembly) অধিবেশন শুরু হয় এবং সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।

০৩/০৭/১৯৭২ – ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান পেশ করে।

০৪/১১/১৯৭২ – গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়, যা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লিখিত সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত।

১৬/১২/১৯৭২ – বিজয় দিবসের প্রথম বর্ষপূর্তিতে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়; এদিনই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

০৭/০৩/১৯৭৩ – স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়; আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনে জয়লাভ করে।

০৬/০৯/১৯৭৩ – বঙ্গবন্ধু আলজেরিয়ায় অনুষ্ঠিত চতুর্থ জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে (NAM) যোগ দেন এবং বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

১৫/১২/১৯৭৩ – বঙ্গবন্ধু সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ‘দালাল আইন’ (Collaboration Act) বাতিল করে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন, তবে সুনির্দিষ্ট অপরাধীদের বিচার জারি রাখেন।

২২/০২/১৯৭৪ – পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং বঙ্গবন্ধু লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসি (OIC) সম্মেলনে যোগ দেন।

১৭/০৯/১৯৭৪ – বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।

২৫/০৯/১৯৭৪ – বঙ্গবন্ধু প্রথম বিশ্বনেতা হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলা ভাষায় ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন।

২৫/০১/১৯৭৫ – সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা এবং ‘একদলীয়’ শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়।

২৪/০২/১৯৫ – বঙ্গবন্ধু সকল দল বিলুপ্ত করে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ (বাকশাল) গঠন করেন, যা ছিল তাঁর দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি।

১৪/০৬/১৯৭৫ – রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র (Satellite Station) উদ্বোধন করেন।

১৫/০৮/১৯৭৫ – ভোরে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে সপরিবারে শহীদ হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; শুরু হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায়।

০৩/১১/১৯৭৫ – ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় চার জাতীয় নেতা (সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামান) নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

০৭/১১/১৯৭৫ – সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন এবং রাজনীতিতে দৃশ্যপট দ্রুত বদলে যায়।

০৩/০৫/১৯৭৬ – রাজনৈতিক দল বিধি (PPR) জারির মাধ্যমে সীমিত পরিসরে রাজনীতি উন্মুক্ত করা হয়, যেখানে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়।

০৪/১১/১৯৭৬ – মহিউদ্দিন আহমদকে সভাপতি এবং সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করে আওয়ামী লীগ পুনর্জীবিত হয়।

২১/০৪/১৯৭৭ – জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক থেকে রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করেন এবং সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন করেন।

০৩/০৪/১৯৭৮ – আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে আবদুল মালেক উকিল সভাপতি এবং আবদুর রাজ্জাক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৮/০২/১৯৭৯ – দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়; প্রতিকূল পরিবেশেও আওয়ামী লীগ ৩৯টি আসনে জয়লাভ করে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

০৯/০৪/১৯৭৯ – সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান সংবিধানে পঞ্চম সংশোধনী এনে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকে বৈধতা দেন, যা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়।

১৬/০২/১৯৮১ – আওয়ামী লীগের ত্রয়োদশ কাউন্সিলে প্রবাসে থাকা শেখ হাসিনাকে সর্বসম্মতিক্রমে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

১৭/০৫/১৯৮১ – দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসন শেষে শেখ হাসিনা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন; ঢাকার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর ও মানিক মিয়া এভিনিউতে লাখো মানুষের ঢল নামে।

৩০/০৫/১৯৮১ – চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন।

২৪/০৩/১৯৮২ – জেনারেল এইচ এম এরশাদ রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিচারপতি সাত্তারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন এবং সামরিক শাসন জারি করেন।

১৫/০২/১৯৮৩ – এরশাদ সরকারের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে জাফর, জয়নাল, মোজাম্মেলসহ অনেকে শহীদ হন; এটিই ছিল এরশাদ বিরোধী প্রথম বড় আন্দোলন।

৩০/০৯/১৯৮৩ – শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৫ দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয় এবং সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ৫-দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

২৮/১১/১৯৮৩ – সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রনেতারা হতাহত হন; শেখ হাসিনাকে গৃহবন্দি করা হয়।

০১/০১/১৯৮৬ – এরশাদ তার রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় পার্টি’ গঠন করেন।

০৭/০৫/১৯৮৬ – তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়; প্রতিকূলতার মাঝেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ৭৬টি আসনে জয়লাভ করে।

১০/১১/১৯৮৭ – স্বৈরাচার বিরোধী মিছিলে অংশ নিয়ে যুবলীগ কর্মী নূর হোসেন বুকে-পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লিখে শহীদ হন।

২৪/০১/১৯৮৮ – চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার জনসভায় পুলিশ নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে, যাতে ২৪ জন নেতাকর্মী শহীদ হন (চট্টগ্রাম গণহত্যা)।

১৫/০২/১৯৮৮ – বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মুখে এরশাদ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন, যা ছিল ভোটারবিহীন একটি প্রহসন।

০৭/০৬/১৯৮৮ – সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়, যার বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগসহ ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো।

১০/১০/১৯৯০ – সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে জেহাদ নামে এক ছাত্র শহীদ হন, যা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য গঠনে ভূমিকা রাখে।

২৭/১১/১৯৯০ – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ডা. শামসুল আলম মিলনকে গুলি করে হত্যা করা হলে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

০৪/১২/১৯৯০ – তিন জোটের রূপরেখা ও প্রবল জনরোষের মুখে এরশাদ পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

০৬/১২/১৯৯০ – এরশাদ আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন; গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়।

২৭/০২/১৯৯১ – স্বৈরাচার পতন পরবর্তী পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়; আওয়ামী লীগ ৮৮টি আসনে জয়লাভ করে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

২০/০৩/১৯৯১ – বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী মনোনীত হন।

০৬/০৮/১৯৯১ – জাতীয় সংসদে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে পুনরায় সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।

১৯/০১/১৯৯২ – শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ‘ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ গঠিত হয়, যার মাধ্যমে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন তীব্র হয়।

২৬/০৩/১৯৯২ – সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ‘গণআদালত’ বসিয়ে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের প্রতীকী বিচার সম্পন্ন করা হয়।

১৫/০২/১৯৯৬ – বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মুখে বিএনপি ‘একতরফা’ ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে, যা দেশে তীব্র রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করে।

২৫/০৩/১৯৯৬ – নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয় ঘেরাও করে ‘জনতার মঞ্চ’ গঠিত হয়।

২৬/০৩/১৯৯৬ – আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল (ত্রয়োদশ সংশোধনী) পাস করা হয়।

৩০/০৩/১৯৯৬ – তীব্র আন্দোলনের মুখে খালেদা জিয়া পদত্যাগ করেন এবং বিচারপতি হাবিবুর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

১২/০৬/১৯৯৬ – সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হয়।

২৩/০৬/১৯৯৬ – বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন; দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরা নিশ্চিত করে।

১২/১১/১৯৯৬ – আওয়ামী লীগ সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে, যার ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথে দীর্ঘদিনের আইনি বাধা দূর হয়।

১২/১২/১৯৯৬ – ভারতের সাথে ঐতিহাসিক ‘৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়, যা বাংলাদেশের কৃষি ও পরিবেশের জন্য এক বিশাল মাইলফলক।

০২/১২/১৯৯৭ – পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ দুই দশকের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক ‘পার্বত্য শান্তি চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়।

০৮/১১/১৯৯৮ – বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষিত হয়; আদালত ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

১৮/০৬/১৯৯৯ – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনেস্কো কর্তৃক ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন।

১৭/১১/১৯৯৯ – ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে, যা বাঙালি জাতির এক বিশ্বজয়ী সম্মান।

২৩/০৬/২০০০ – ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রথম টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচ শুরু হয়; বাংলাদেশ টেস্ট খেলুড়ে দেশের মর্যাদা পায়।

০৪/০৭/২০০০ – গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার জনসভাস্থলে ৭৬ কেজি ওজনের শক্তিশালী বোমা পুঁতে রেখে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

১৫/০৭/২০০১ – বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা তার পূর্ণ ৫ বছর মেয়াদ শেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

০১/১০/২০০১ – অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়; গভীর ষড়যন্ত্র ও কারচুপির অভিযোগে ওঠে। আওয়ামী লীগ পরাজিত হয় এবং বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসে।

১১/০৩/২০০২ – বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার অপারেশন ক্লিন হার্ট শুরু করে, যাতে হেফাজতে থাকা অবস্থায় অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়।

৩০/০৮/২০০২ – সাতক্ষীরার কলারোয়ায় শেখ হাসিনার সফরবহরে হামলা চালানো হয়; অল্পের জন্য তিনি রক্ষা পান।

২১/০৬/২০০৩ – বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৭তম কাউন্সিলে শেখ হাসিনা পুনরায় সভাপতি এবং আব্দুল জলিল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

০৪/০৪/২০০৪ – চট্টগ্রামের সিইউএফএল ঘাটে ১০ ট্রাক অস্ত্রের বিশাল চালান ধরা পড়ে, যা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করে।

২১/০৮/২০০৪ – ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়; আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী শহীদ হন, শেখ হাসিনা অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।

২৭/০১/২০০৫ – হবিগঞ্জে এক জনসভা শেষে গ্রেনেড হামলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়া নিহত হন।

১৭/০৮/২০০৫ – জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়ে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটায়।

৩০/০৩/২০০৬ – সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার প্রস্তুতি নিলেও প্রধান বিচারপতি কে. এম. হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান করা নিয়ে সংকট তৈরি হয়।

২৮/১০/২০০৬ – পল্টন মোড়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ (লগি-বৈঠা আন্দোলন) হয়; দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়।

২৯/১০/২০০৬ – রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ সংবিধান লঙ্ঘন করে নিজেই প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা সংকট আরও ঘনীভূত করে।

১১/০১/২০০৭ – দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয় (ওয়ান-ইলেভেন); সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়।

০৭/০৩/২০০৭ – যৌথ বাহিনী ধানমন্ডির সুধা সদন থেকে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে প্রথমবার অভিযান চালায় কিন্তু ব্যর্থ হয়।

০৯/০৪/২০০৭ – সরকার শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে (মাইনাস টু ফর্মুলা); পরে প্রবল আন্তর্জাতিক চাপে তা তুলে নেওয়া হয়।

০৭/০৫/২০০৭ – সকল বাধা উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা বীরের বেশে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

১৬/০৭/২০০৭ – মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত ‘সাব-জেল’-এ বন্দি করা হয়।

১১/০৬/২০০৮ – দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর দেশি-বিদেশি চাপের মুখে শেখ হাসিনাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে।

০৬/১১/২০০৮ – চিকিৎসা শেষে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির ডাক দেন।

১২/১২/২০০৮ – আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ‘দিনবদলের সনদ’ ঘোষণা করে, যেখানে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়।

২৯/১২/২০০৮ – নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়; আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ২৬৪টি আসন (আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৩০টি) পেয়ে বিশাল জয় লাভ করে।

Leave a Comment