ভারত-বাংলাদেশ ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট: অপপ্রচার বনাম বাস্তবতা । ইতিহাস ও রাজনীতি সিরিজ

বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি এবং অর্থনীতিতে যে কয়েকটি বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা, বিতর্ক এবং রাজনৈতিক কাদা-ছোড়াছুড়ি হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম …

Read more

বাঙালির বাতিঘর ও আমাদের দুঃসময়ের অবিচল অভিভাবক আবদুল গাফফার চৌধুরীর জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি

আবদুল গাফফার চৌধুরী

আজ ১২ ডিসেম্বর। বাঙালির ইতিহাসের এক ধ্রুবতারা, কিংবদন্তি সাংবাদিক, সাহিত্যিক এবং আমাদের চেতনার বাতিঘর আবদুল গাফফার চৌধুরীর জন্মদিন। একজন আওয়ামী …

Read more

মাকামাতে হারিরী (আল-হারিরির মাকামাত) পরিচিতি | ইসলাম ও মুসলিম সিরিজ

মাকামাতে হারিরী (আল-হারিরির মাকামাত)

সম্প্রতি আল-হারিরির মাকামাত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। আমার কিছু বন্ধু এই বিষয়ে আরও জানতে চেয়েছেন। তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে …

Read more

রেখাবের রূপ, কবীর সুমনের গানে কোমল রেখাব উদযাপন | অসুরের সুরলোকযাত্রা সিরিজ

রেখাবের রূপ, কবীর সুমনের গানে কোমল রেখাব উদযাপন

রেখাবের রূপ – গানটি ছিল কবীর সুমনের “বসে আঁকো” এলবামে। গানটা অনেকেই খুব ভালোবাসেন। কিন্তু কিছু শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রূপক ব্যবহারের …

Read more

বাংলাদেশে আর বড় শিল্পী, উন্নত গান-বাজনা হবে না ! | অসুরের সুরলোকযাত্রা সিরিজ

আমরা কি আসলেই চাই আমাদের দেশের গান বাজনা উন্নত হোক? | অসুরের সুরলোকযাত্রা সিরিজ

আমার কথাটির বিপরীতে কিছু বলার আগে উত্তর দিন তো—কোন বাংলাদেশে বড় শিল্পী হবে বা উন্নত গান-বাজনা হবে? আমরা কি আসলেই …

Read more

স্বপ্নের উত্তরাধিকার: বঙ্গবন্ধুর দর্শন থেকে শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে

বঙ্গবন্ধুর দর্শন থেকে শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে

বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেননি, তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত এক সমৃদ্ধ …

Read more

বিএনপি-জামাত যুগের স্মৃতিচারণ: যখন বিদ্যুৎ বিভ্রাটই ছিল স্বাভাবিক

২০০৫ সালে বাংলাদেশের এক শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল, কিভাবে বিএনপি-জামায়াত-এ-ইসলামী জোট সরকার দেশের বিদ্যুৎ খাতকে …

Read more

পেশা, ধর্ম ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক গালি: বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও আমাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার । ইতিহাস ও রাজনীতি সিরিজ

Bangabandhu 7th March Speech [ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ]

রাজনীতিতে মতভেদ থাকবে, আদর্শিক লড়াই থাকবে, এমনকি তীব্র শত্রুতাও থাকতে পারে; কিন্তু তাই বলে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে গিয়ে কারও পেশা, দারিদ্র্য, ধর্ম কিংবা লিঙ্গকে খাটো করে গালি দেওয়া কি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সাথে যায়? এটি কি একজন প্রকৃত আত্মমর্যাদাশীল রাজনৈতিক কর্মীর কাজ হতে পারে?

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সারাটি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এই বাংলার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য। অধিকারবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তাঁর রাজনীতির মূল দর্শন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনোই কোনো পেশা, ধর্ম বা লিঙ্গকে ছোট করে কাউকে তাচ্ছিল্য করেননি।

“ড্রাইভারের বাচ্চা”, “হেল্পারের জাত” কিংবা “ফকিন্নির বাচ্চা”—এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দচয়ন বঙ্গবন্ধুর অভিধানে ছিল না। বরং তিনি রিকশাচালক থেকে শুরু করে সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত মেহনতি মানুষটিকেও পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে ধরেছেন, তাঁদের ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেছেন। আজ যাঁরা নিজেদের বঙ্গবন্ধুর সৈনিক বা অনুসারী বলে দাবি করেন, তাঁদের মুখে কি এই ধরনের সামন্তবাদী ও বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা মানায়?

আমাদের মনে রাখতে হবে, অশালীন ও দম্ভপূর্ণ ভাষা কেবল তাঁদেরই মানায়, যাঁরা নিজেদের ‘এলিট’ বা শাসক মনে করে—যাঁদের রাজনীতি ছিল সাধারণ মানুষকে প্রজা ভাবার। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখবেন, এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষা ছিল ফকা চৌধুরী (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাবা) বা তাঁদের মতো স্বৈরাচারী ও সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতার উত্তরসূরিদের; এটি কখনোই আওয়ামী লীগের আদর্শিক ভাষা হতে পারে না।

পরিস্থিতি যতই উত্তপ্ত হোক বা প্রতিপক্ষ যত বড়ই শত্রু হোক—কারও পেশা, জাত-পাত, ধর্ম বা জেন্ডারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে গালি দেওয়া চরম রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের লক্ষণ।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্মই হয়েছিল কৃষক, শ্রমিক, মজুর এবং প্রান্তিক মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই থেকে। তথাকথিত ড্রইংরুমের ‘ভদ্রলোক’ বা সুবিধাবাদী সুশীল সমাজ নয়, বরং রোদ-বৃষ্টিতে পোড়া খেটে খাওয়া এই মানুষগুলোই দলটির মূল ভিত্তি এবং প্রধান চালিকাশক্তি। আজ হয়তো আধুনিকতার বাহ্যিক চাকচিক্যে সেটা সবসময় দৃশ্যমান হয় না, কিন্তু এই শ্রেণী-পেশার মানুষগুলোকে অপমান করা মানে দলের আত্মাকেই অপমান করা।

তাই আসুন, মুখে বঙ্গবন্ধুর নাম নেওয়ার আগে তাঁর জীবনাচরণ ও শিষ্টাচারকে হৃদয়ে ধারণ করি। রাজনৈতিক বিরোধ থাকবে, কিন্তু শালীনতা যেন হারিয়ে না যায়। ঘৃণা বা বিদ্বেষ ছড়ানো নয়, বরং মানুষের মানবিক মর্যাদাই হোক আমাদের রাজনীতির মূল ভাষা।

আরও দেখুন: