আমি একজন সাধারণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে এই কথাগুলো লিখছি—দলের বিরোধী কোনো জায়গা থেকে নয়, বরং একদম ভেতরের মানুষ হিসেবে। তাই কথাগুলো খুব সরাসরি বলছি, কোনো রূপক বা ঢাকঢাক-গুড়গুড় না করে। এবং এই লেখাটি মূলত আওয়ামী লীগের আত্মত্যাগী নেতা-কর্মীদের আত্মমূল্যায়নের জন্য—অন্য কারও জন্য নয়।
আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিকভাবেই গরিব, খেটে খাওয়া ও মধ্যবিত্ত মানুষের দল। এ দেশের নিঃস্ব সর্বহারা মানুষের আত্মিক ভালোবাসা আর মধ্যবিত্তের মননশীল সংস্কৃতি—এই দুই শক্তিই ছিল আমাদের সংগঠনের মূল প্রাণ। মধ্যবিত্তের আদর্শ, মূল্যবোধ ও চেতনার রাজনীতি ছিল আওয়ামী লীগের শক্ত শেকড়, আর প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষ ছিল দলের কাণ্ড ও বাহু। এই দুই সামাজিক শক্তির নিখুঁত মেলবন্ধনেই আওয়ামী লীগ যুগে যুগে রাজপথে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল।
২০০৮ সালের ঐতিহাসিক জনরায়ে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের মূল লক্ষ্যই ছিল সাধারণ মানুষের সেই অর্থনৈতিক মুক্তি। গত দেড় দশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে কোটি কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে আনা হয়েছে। গ্রামীণ জনপদে শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছেছে, গৃহহীন মানুষ মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বিস্তৃত হয়েছে বহুগুণ। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি বলব—এটি আমাদের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও যুগান্তকারী সাফল্য।
৫ কোটি মানুষকে কিভাবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন করে শেখ হাসিনা?
অনেকে হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন—‘প্রায় ৫ কোটি মানুষ’ কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলো? এটি কোনো অনুমাননির্ভর দাবি নয়, বরং বিশ্বব্যাংক (World Bank) ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরিসংখ্যান দ্বারা গাণিতিকভাবে সমর্থিত:
২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০.৪% এবং বিশ্বব্যাংকের চরম দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী অতি-দারিদ্র্যের হার ছিল ৩৪.৩%। তৎকালীন ১৪ কোটি জনসংখ্যার হিসাবে চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) Household Income and Expenditure Survey (HIES) ও জাতিসংঘের বহুমুখী দারিদ্র্য সূচক (MPI) অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অতি-দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫.৬%-এ (প্রায় ৯৪ লাখ মানুষ)।
অর্থাৎ, গত দেড় দশকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (আশ্রয়ণ প্রকল্প, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা), তৈরি পোশাক খাত, রেমিট্যান্স ও শতভাগ বিদ্যুতায়নের সুবাদে সরাসরি ৩ কোটি ৮৬ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্য থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়েছে। এর সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত ১ কোটি ১৫ লাখ মানুষ অতি-দরিদ্র অবস্থা থেকে উঠে এসে নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের Bangladesh Poverty Assessment রিপোর্ট অনুযায়ী, সব মিলিয়ে প্রামাণ্য গাণিতিক হিসাবেই প্রায় ৫ কোটি মানুষ বাস্তব অর্থেই অর্থনৈতিকভাবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছে।
মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর: মৌলিক চাহিদা থেকে ‘সম্মানের ক্ষুধা’
কিন্তু কটু হলেও সত্যি—এই ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক সাফল্যের গভীরে লুকিয়ে ছিল আমাদের এক মস্ত বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যর্থতার বীজ। মাথা গরম না করে একটু গভীর মনোযোগ দিয়ে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করুন। আমি এই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্যবিমোচনের বিরোধী নই; বরং এর সুফল দেখে যে মানুষেরা সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হন, আমি তাদের একজন। আমার নেত্রীর জন্য প্রতি মুহূর্তে অন্তরের গভীর থেকে দোয়া আসে এই অসামান্য কাজের জন্য। কিন্তু আমি এখানে যে সামাজিক সংকটটির কথা বলছি, সেটিতে একটু খেয়াল দিন।
খেয়াল করে দেখবেন—যখন একজন চরম দরিদ্র, দিনআনা দিনখাওয়া মানুষকে প্রতিদিনের এক মুঠো খাবারের চিন্তায় ব্যাকুল থাকতে হয়, তখন সে সমাজ বা প্রাতিষ্ঠানিক রসম-রেওয়াজভিত্তিক রাজনীতি কিংবা ধর্মকর্মে সেভাবে সক্রিয় হতে পারে না (মনে ধর্মে বিশ্বাস থাকলেও)। তার কাছে রাজনীতি, সমাজ বা সংস্কৃতির একমাত্র অর্থ হলো: “একটু ক্ষুধা নিবারণ, চাল-ডালের ব্যবস্থা, ছোট একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই আর ছেলে-মেয়েদের গায়ে দু-খণ্ড কাপড়।”
যে দল তাদের এই মৌলিক অধিকারের কথা বলত, তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াত—সেটিই হতো তাদের আপন দল। ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগ এ দেশের প্রচ্ছন্ন খেটে খাওয়া মানুষের সেই রাজনৈতিক ‘এজেন্সি’ বা ভরসা অর্জন করেছিল। আর আওয়ামী লীগ বারবার নিজের রক্তের বিনিময়ে কথা রাখার কারণে সাধারণ মানুষের সেই বিশ্বাস আরও পোক্ত হয়েছিল। সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ তাই কেবল ভোটই দেয়নি, দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমে এসেছে।
এ পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল—অত্যন্ত সুবিন্যস্ত ও স্বাভাবিক ছিল।
কিন্তু সেই অভাবী মানুষের ঘরে যখন তিন বেলার খাবারের নিশ্চয়তা তৈরি হয়, মাস শেষে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার একটি প্রাথমিক ভিত তৈরি হয়—তখন কি আর সেই ‘শুধু ক্ষুধা নিবারণ’ তার কাছে একমাত্র বিবেচ্য বিষয় থাকে? একবারও কি আমরা ভেবে দেখার চেষ্টা করেছি যে, দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হওয়া একজন মানুষের মনোজগতে ঠিক কী কী মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আসে?
বাস্তবতা হলো—যখন মানুষের প্রাথমিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, তখন তার ভেতরে এক নতুন ‘সামাজিক ক্ষুধা’ তৈরি হয়। এটি হলো সম্মানের ক্ষুধা, সামাজিক পরিচয়ের ক্ষুধা, এবং রাজনীতি ও সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের ক্ষুধা।
সে তখন চায় কোথাও গিয়ে বসতে, সমাজে চারজনের সাথে পরিচিত হতে, কেউ তার খোঁজ নিক, কেউ তাকে মান্য করুক, কোথাও তার মতামত শুনুক। সে চায় একটি “নিজের সামাজিক বলয়”, যেখানে তার মানুষ হিসেবে অংশগ্রহণের সুনির্দিষ্ট স্বীকৃতি থাকবে।
আমাদের ঐতিহাসিক ভুল ও ভ্যাকুয়াম (Blank Space)
ঠিক এই জায়গাটিতেই আওয়ামী লীগ—বা সামগ্রিকভাবে স্বাধীনতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক দলগুলো—ভয়াবহ রাজনৈতিক ও সামাজিক ভুলের পরিচয় দিয়েছে।
আমরা মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়েছি, কিন্তু তার অর্জিত অর্থনৈতিক সামর্থ্যের পর যে নতুন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষুধা তৈরি হলো, তা নিবারণের জন্য কোনো নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা কর্মসূচি তৈরি করিনি। আমরা এই নতুন মনস্তাত্ত্বিক ক্ষুধাকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করিনি! তাদের নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় নিয়মিত সামাজিক কার্যক্রম, ক্লাব, সাংস্কৃতিক সংগঠন কিংবা কোনো ইন্টেলেকচুয়াল স্পেস তৈরি করতে পারিনি।
কার্যক্রম তো আমরা তখনই নেব, যখন সমস্যাটিকে সমস্যা বলে বিশ্বাস করব! সত্যি করে বলুন তো—সারাদেশে আমাদের কতজন নেতা বা কর্মী এই সূক্ষ্ম সামাজিক সংকটটি অনুধাবন করতে পেরেছি? আমি যখনই বিভিন্ন ফোরামে বা বৈঠকে এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি, প্রায় সব জায়গা থেকেই উত্তর পেয়েছি হয় গভীর বিরক্তি, না হয় আমাকে “আঁতেল” বা “থিওরিস্ট” বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
আমাদের এই উদাসীনতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবহেলা আমাদেরই শতবছরের লয়াল সমর্থক ও স্বজনদের সাথে সম্পর্কের বাঁধন শিথিল করে দিয়েছে। আমরা যখন তাদের অর্জিত সামাজিক মর্যাদাকে এনগেজ করিনি, তাদের বুকে জড়িয়ে ধরে কোনো সাংস্কৃতিক সার্কেলের ভেতর আনিনি—তখন সেই শূন্যতায় থার্ড পার্টি বা অন্য শক্তির অনুপ্রবেশ ঘটে যাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল।
ধর্মভিত্তিক ও চরমপন্থী সংগঠনগুলো ঠিক এই শূন্য জায়গাটিই অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে দখল করেছে। তারা প্রতিদিন সেই মানুষগুলোর কাছে গেছে, তাদের একটি নিয়মিত সামাজিক ও ধর্মীয় সার্কেল দিয়েছে, তাদের নিয়ে আড্ডা দিয়েছে, আলোচনা করেছে এবং তাদেরকে একটি সুনির্দিষ্ট ‘কমিউনিটি’ বা দলের অংশ হওয়ার মর্যাদা দিয়েছে।
ফলে মানুষ শূন্যতায় থাকতে পারে না বলে স্বাভাবিকভাবেই সেই নতুন সামাজিক পরিচয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। আমরা যাদের বছরের পর বছর অর্থনৈতিকভাবে তুলে এনেছি, তারা দূরে সরে গেছে। আমাদের অবস্থা হয়েছে ঠিক সেই প্রচলিত লোককাহিনীর ‘কাঞ্চনমালা’র মতো—আমরা বছরের পর বছর রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে রাজপ্রাসাদ বানালাম, অথচ শেষে চতুর ‘কাঁকনমালা’ এসে সামান্য মিষ্টি কথায় জনগণের সামনে আসল উদ্ধারকর্তা সেজে বসল!
‘হঠাৎ জমিদার’ নেতাদের ঔদ্ধত্য ও বিচ্ছিন্নতা
এই আগুনে ঘি ঢেলেছে আমাদের দলেরই কিছু “হঠাৎ জমিদার হয়ে ওঠা” নেতাদের উদ্ধত আচরণ।
মাঠপর্যায়ের বহু নতুন নেতাকে এমন আচরণ করতে দেখা গেছে, যেন তারা জনগণের সেবক বা প্রতিনিধি নন; তারা যেন এলাকার একেকজন আধুনিক জমিদার! সাধারণ মানুষের কথা তো ছেড়েই দিন, রাতদিন ঘাম ঝরানো দলের ত্যাগী কর্মীদের সালামের উত্তরটুকুও তারা ঠিকমতো দেওয়ার প্রয়োজন মনে করতেন না।
তাদের এই অহংকারী আচরণ সাধারণ মানুষকে সংগঠনের কাছে টানার বদলে বহুগুণ দূরে ঠেলে দিয়েছে। যে নতুন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী মানুষগুলোর আমাদের নতুন রাজনৈতিক শক্তি হওয়ার কথা ছিল, তাদের এক বিশাল অংশ আমাদের নেতাদের অসংবেদনশীল আচরণের কারণেই দল থেকে মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাদের মনে হতে শুরু করেছে—আওয়ামী লীগ তাদের অর্জিত নতুন মর্যাদাকে সেই সম্মান দেয় না, যা তাদের প্রাপ্য।
আর এই নির্মম বাস্তবতা আমরা নিজেরাই নিজেদের অজান্তে তৈরি করেছি। আমরা মেগা প্রজেক্ট করেছি, জীবনমানের উন্নয়ন করেছি—কিন্তু সেই উন্নয়নের রাজনৈতিক ভিত্তি ধরে রাখার মতো শক্ত সামাজিক কাঠামো তৈরি করিনি। যারা রাতারাতি পদ-পদবি কিনে বা নানা উপায়ে প্রভাব বাড়িয়ে রাজনীতিতে এসেছে, তারা মানুষের সাথে আত্মার সম্পর্ক তৈরির বদলে নিজেদের চারপাশে ক্ষমতার বলয় বা ছোট ছোট ‘কোটারি গ্রুপ’ বানিয়েছে। ফলে দল হিসেবে সংগঠন শক্তিশালী হয়নি; বরং অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষের বিরক্তির কারণ হয়েছে।
উত্তরণের পথ: সম্মান ও আত্মিক যোগাযোগের রাজনীতি
আমাদের আজ খুব স্পষ্টভাবে এবং নির্মোহভাবে বুঝতে হবে—কেবল উন্নয়ন দিয়ে শেষ পর্যন্ত রাজনীতি টিকে থাকে না।
উন্নয়নের সাথে মানুষকে আত্মিক সম্মান দিতে হয়, মানুষের পাশে গিয়ে বসতে হয়, তাদের সুখ-দুঃখের কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনতে হয়, তাদেরকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে “আমাদের লোক” বানিয়ে নিতে হয়। যে নেতা মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে পারে না, মানুষের পাশে বসে চায়ের কাপে কথা বলতে পারে না, সাধারণ মানুষের নীরব কান্না বুঝতে চায় না—তার আর যাই হোক, আওয়ামী লীগের মতো জনবান্ধব ঐতিহ্যবাহী দলের রাজনীতি না করাই ভালো।
অর্থনৈতিক মুক্তি আমরা দিয়েছি—এটি আমাদের ঐতিহাসিক সত্য ও গৌরব। কিন্তু সেই অর্থনৈতিকভাবে মুক্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের নতুন সমাজ, তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং তাদের মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণের জায়গা তৈরি করতে না পারলে—সেই সাময়িক কৃতজ্ঞতা ভোটে রূপান্তরিত হয় না, স্থায়ী সাংগঠনিক শক্তিতে পরিণত হয় না।
এই কঠিন ও নির্মম সত্যটি আমাদের এখনই, এই মুহূর্তেই অনুধাবন করতে হবে। নিজেদের শুধরে নিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় মানবিক ভালোবাসা ও সম্মান নিয়ে ফিরে যাওয়া ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো এবং শিকড়ের রাজনীতি টিকিয়ে রাখার আর কোনো দ্বিতীয় পথ খোলা নেই।




