আমার নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী | অসুরের সুরলোকযাত্রা সিরিজ

উস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী একজন বাংলাদেশি আধুনিক ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী, যাঁর কণ্ঠের জাদুতে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত আর আধুনিক বাংলা গান এক অদ্ভুত মোহনীয়তায় মিলেমিশে গেছে। ১৯৫২ সালের ২৫শে অক্টোবর (সার্টিফিকেট অনুসারে ১৩ই জানুয়ারি) নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার খৈনকুট গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

 

ওস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী

আমার নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী

 

নিয়াজ ১৯৬৭ সালে নবকুমার ইনস্টিটিউশন থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। শৈশবে উস্তাদ আয়াতুল্লাহ খানের কাছ থেকে সঙ্গীতের প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করার পর তিনি পাতিয়ালা ঘরানার কিংবদন্তি উস্তাদ ফাতেহ আলী খান এবং উস্তাদ আমানত আলী খানের সান্নিধ্যে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের দীক্ষা গ্রহণ করেন।

সঙ্গীত সাধনা ও কণ্ঠের অনন্যতা

উস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী কেবল একজন শাস্ত্রীয় শিল্পীই নন, বরং শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে সাধারণ বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে তিনি এক অন্যতম পথিকৃৎ।

  • পাতিয়ালা ঘরানার ধারক: উপমহাদেশের বিখ্যাত পাতিয়ালা ঘরানার রাগ-প্রধান গায়কী এবং সূক্ষ্ম তানের কাজ তাঁর কণ্ঠে খুব সাবলীলভাবে ধরা দেয়।

  • গজল ও আধুনিক গানের মেলবন্ধন: তিনি বাংলা গজল ও আধুনিক গানে শাস্ত্রীয় মেজাজ প্রয়োগ করে এক নতুন ধারার সৃষ্টি করেছেন। তাঁর ভরাট ও জলদগম্ভীর কণ্ঠস্বর এবং নিখুঁত স্বরক্ষেপণ শ্রোতাকে মুহূর্তেই মুগ্ধ করে।

  • কালজয়ী কিছু সৃষ্টি: তাঁর কণ্ঠে গাওয়া কিছু গান যুগ যুগ ধরে সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে দোলা দিয়ে যাচ্ছে। যেমন:

    • “আজ কেন মনে হয় সব কিছু পুরনো”

    • “জীবনানন্দ হয়ে আমি যদি আসি”

    • “সুন্দরী লো সুন্দরী”

যাঁরা বাংলা গান ভালোবাসেন, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আভিজাত্য এবং আধুনিক গানের মেলবন্ধন খুঁজতে চান—উস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর গান তাঁদের জন্য এক পরম প্রশান্তি। শুদ্ধ সঙ্গীতের এই সাধক যুগ যুগ ধরে আমাদের সঙ্গীতজগৎকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন।

আজ এই গুণী শিল্পীর জন্মদিনে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

 

আজ তার জন্মদিন শ্রদ্ধা জানাই।

 

 

 

আরও দেখুন: