৯ নং চাঁদপুর ইউনিয়ন, কুমারখালী, কুষ্টিয়া

চাঁদপুর ইউনিয়ন কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। এটি মূলত একটি পলি-সমৃদ্ধ অঞ্চল, যার উত্তর ও পশ্চিমাংশ দিয়ে বয়ে গেছে গড়াই নদীর শাখা। ইউনিয়নের মোট আয়তন ৪৪.০৩ বর্গ কিলোমিটার (বা প্রায় ১৮৩৩.৯০ একর)। এই বিশাল ভূখণ্ডের সিংহভাগই কৃষি কাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ইউনিয়নের সীমানা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর এক প্রান্তে বাটিকামারা ইউনিয়ন এবং অন্য প্রান্তে পান্টি ও যদুবয়রা ইউনিয়নের সীমানা রয়েছে। নদী বিধৌত হওয়ার কারণে এখানকার আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ এবং মাটি অত্যন্ত উর্বর।

৯ নং চাঁদপুর ইউনিয়ন

প্রশাসনিক কাঠামো ও ইতিহাস

চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদ একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত। ইউনিয়নটি বর্তমানে ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত এবং এর প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু হলো চাঁদপুর গ্রাম।

  • প্রতিষ্ঠাকাল: ১ জানুয়ারি ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দ।
  • মৌজা ও গ্রাম: ইউনিয়নে মোট ১৪টি মৌজা এবং ১৩টি গ্রাম রয়েছে।
  • ঠিকানা: চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, ডাকঘর: চাঁদপুর, উপজেলা: কুমারখালী, জেলা: কুষ্টিয়া।

 

জনমিতি ও জনসংখ্যা বিশ্লেষণ

২০১৩ সালের সর্বশেষ তথ্য ও স্থানীয় ডাটাবেইস অনুযায়ী, চাঁদপুর ইউনিয়নের জনসংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, এই ইউনিয়নে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি, যা সামাজিক উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার ইতিবাচক নির্দেশক।

  • মোট জনসংখ্যা: ২৮,৩১১ জন।
    • পুরুষ: ১৪,০৫৭ জন।
    • নারী: ১৪,২৫৪ জন।
  • ভোটার সংখ্যা: ১৯,৩৪৯ জন।

 

গ্রামভিত্তিক জনসংখ্যা বিভাজন:

ইউনিয়নের ১৩টি গ্রামের জনসংখ্যা বিন্যাস নিচে দেওয়া হলো:

১. ধলনগর: ৪,৪২৬ জন (ইউনিয়নের বৃহত্তম গ্রাম)।

২. নাভদিয়া: ৪৭৫ জন (ইউনিয়নের ক্ষুদ্রতম গ্রাম)।

৩. চাঁদপুর: ২,২০৬ জন।

৪. কুশলীবাসা: ৩,৯৮৩ জন।

৫. কাঞ্চনপুর: ১,৩০২ জন।

৬. গোবরা: ৩,৬৫০ জন।

৭. মিরপুর: ২,৫২৪ জন।

৮. মোহননগর: ২,২৭৯ জন।

৯. বরইচারা: ১,৩৮০ জন।

১০. জুঙ্গলী: ২,০৪৭ জন।

১১. নিয়ামতবাড়ী: ২,০৯৪ জন।

১২. রামচন্দ্রপুর: ৯৬১ জন।

১৩. শ্রীপুর: ৯৮৪ জন।

কৃষি ও অর্থনীতি

চাঁদপুর ইউনিয়ন মূলত কৃষিপ্রধান অঞ্চল। এখানকার অধিকাংশ মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি। ইউনিয়নের মোট আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ২,১০০ হেক্টর। গড়াই নদীর পলি মিশ্রিত উর্বর মাটিতে প্রচুর পরিমাণে ধান, পাট, গম, পিঁয়াজ এবং তামাক উৎপাদিত হয়। বিশেষ করে আখের ফলন এই অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়। কৃষির পাশাপাশি ব্যবসা ও পশুপালন এখানকার অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোতে অনেক মানুষ মৎস্য আহরণের সাথেও যুক্ত।

শিক্ষা ও ধর্মীয় অবকাঠামো

শিক্ষার প্রসারে চাঁদপুর ইউনিয়ন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইউনিয়নে বর্তমানে শিক্ষার হার প্রায় ৬০%-এর উপরে।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: মোট ১৬টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ২টি মাদ্রাসা রয়েছে।

  • ধর্মীয় অবকাঠামো: ইউনিয়নে ১২টি সুসজ্জিত মসজিদ এবং ১টি কেন্দ্রীয় মন্দির রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ১২টি ঈদগাহ ময়দান এবং ১২টি স্থায়ী কবরস্থান। এই অবকাঠামোগুলো প্রমাণ করে যে, এখানকার মানুষ অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী।

 

দর্শনীয় স্থান ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য

চাঁদপুর ইউনিয়ন আধ্যাত্মিক সাধকদের চারণভূমি হিসেবে পরিচিত। এখানকার মাজার শরিফগুলো জেলাজুড়ে বিখ্যাত।

১. হজরত নিয়ামতুল্লার মাজার: এটি নিয়ামতবাড়ী গ্রামে অবস্থিত। প্রতি বছর এখানে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটে।

২. শাহ সুফি আউলিয়া সৈয়দ চাঁদ দেওয়ান সাহেবের মাজার শরীফ: এটি ইউনিয়ন অফিস সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। কুষ্টিয়া-পান্তি সড়ক দিয়ে এই তীর্থস্থানে যাতায়াত করা যায়। মানুষের বিশ্বাস, এই সাধক পুরুষদের আশীর্বাদে এই অঞ্চলে শান্তি বিরাজ করে।

প্রশাসনিক নেতৃত্ব: চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের তালিকা

চাঁদপুর ইউনিয়নের বর্তমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মূল কারিগর হলেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ। যোগাযোগের সুবিধার্থে নিচে তাঁদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও মোবাইল নম্বর দেওয়া হলো:

চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ:

নামপদবীই-মেইল / যোগাযোগমোবাইল নম্বর
মোঃ রাশিদুজ্জামান (তুষার)ইউপি চেয়ারম্যানuisc.chandpur@gmail.com০১৭৮৮০৫৫০০০
মোঃ লিটন আলীইউপি সদস্য০১৭৭৪৪২০৯৯
মোঃ আবুল কালামইউপি সদস্য০১৯১১৫৫৬৮০২
মোছাঃ ফুলমতি খাতুনসংরক্ষিত নারী সদস্যmizanali700@gmail.com০১৭১০০৩৪২২৮
মোছাঃ মীরা খাতুনসংরক্ষিত নারী সদস্যuisc.chadpur@gmail.com০১৭৪৬৫২৯৯৮০
মোছাঃ হালিমা খাতুনসংরক্ষিত নারী সদস্যuisc.chadpur@gmail.com০১৯১৬৬৭৯৬৯৮
মোঃ আনছার আলীইউপি সদস্যmizanali700@gmail.com০১৭৩৯২২৫১৯৭
মোঃ তরিকুল ইসলামইউপি সদস্যmizanali700@gmail.com০১৭৮৮৯০০৭১০
মোঃ আশরাফুল আলমইউপি সদস্যuisc.chadpur@gmail.com০১৬২৯০৪৫৫৯৬
মোঃ ডাবলুজ্জামানইউপি সদস্যuisc.chadpur@gmail.com০১৭৪৫৫৭২৫২৯
মোঃ আলমগীর হোসেনইউপি সদস্যmizanali700@gmail.com০১৯১৯৮৬৬৩৪২
মোঃ হাসান আলীইউপি সদস্য০১৭৬১৭৪৬২২৫
মোঃ সেলিম উদ্দিন মোল্লাইউপি সদস্যmizanali700@gmail.com০১৭১৯০৩০৭৭৮

জননিরাপত্তা ও গ্রামপুলিশ: জরুরি যোগাযোগ

তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনের বার্তাবাহক হিসেবে গ্রামপুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বা তথ্য প্রদানে সরাসরি তাঁদের সাথে যোগাযোগ করা যাবে:

নামপদবীওয়ার্ডগ্রামমোবাইল নম্বর
মীর আব্দুল মালেকদফাদার০৯মোহননগর০১৭২৪৯৭৯৭০১
মোঃ আতিয়ার রহমানগ্রাম পুলিশ০৮চাঁদপুর০১৭৩৫৮৩২০১৩
মোঃ বাবলুগ্রাম পুলিশ০৮চাঁদপুর০১৭৩৫৮৩২০১৩
শ্রী অনিল কুমারগ্রাম পুলিশ০৫নিয়ামতবাড়ী০১৭৪২৯১৮০৪৪
শ্রী নন্দলালগ্রাম পুলিশ০২কুশলীবাসা০১৭৪৯০৯৫৯৯৫
মোঃ শহিদুল ইসলামগ্রাম পুলিশ০৩ধলনগর০১৭৩৪৪০৮৩৭৯
শ্রী গোবিন্দ কুমারগ্রাম পুলিশ০২কুশলীবাসা০১৭৪৯০৯৫৯৯৫
শ্রী নবকুমার অধিকারীগ্রাম পুলিশ০৬মিরপুর০১৭৪৫০৬১৯৪৮
মোঃ আমিরুল ইসলামগ্রাম পুলিশ০৬মিরপুর০১৭২৪৮৮৭২১০
শ্রী কুমারেশগ্রাম পুলিশ০৩ধলনগর০১৭৩৫৫৮৬৭১৮

পূর্ববর্তী ও বর্তমান নেতৃত্ব

চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন সময়ে যোগ্য ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের তালিকা ইউনিয়নের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার সাক্ষী:

১. ললিত মোহন সরকার | ২. শাহ্ মাহতাব উদ্দিন ওয়ালী | ৩. আফতাব উদ্দিন আহমেদ | ৪. গোলাম ছরোয়ার মিয়া | ৫. আমিনুর রশিদ | ৬. শাহ্ রফিকুল ইসলাম | ৭. এস,এম লিয়াকত হোসেন | ৮. সোহরাব হোসেন মিয়া | ৯. শাহ্ রফিকুল ইসলাম | ১০. মোঃ রাশিদুজ্জামান (তুষার) (বর্তমান)।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাজার

চাঁদপুর ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ উন্নত। ইউনিয়নের ওপর দিয়ে যাওয়া প্রধান সড়কটি কুষ্টিয়া জেলা শহরের সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে। কুষ্টিয়া শহর থেকে বাস, অটো রিকশা বা নসিমন যোগে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ইউনিয়নে পৌঁছানো যায়। ইউনিয়নের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র হলো চাঁদপুর বাজার। এছাড়াও ধলনগর এবং কুশলীবাসা এলাকায় স্থানীয় ছোট হাট ও বাজার রয়েছে যেখানে প্রতিদিন টাটকা কৃষি পণ্য লেনদেন হয়।

উন্নয়ন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ সরকারের ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ রাস্তাঘাট পাকা করা, সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে। এছাড়াও ডিজিটাল সেন্টার (UISC)-এর মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষের দোড়গোড়ায় সরকারি ই-সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যুবকদের কর্মসংস্থানে কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং নারীদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে।