বাড়াদী গ্রাম, ১ নং কয়া ইউনিয়ন, কুমারখালী, কুষ্টিয়া

বাড়াদী গ্রাম – ১ নং কয়া ইউনিয়ন, কুমারখালী, কুষ্টিয়া

বাড়াদী গ্রাম - ১ নং কয়া ইউনিয়ন, কুমারখালী, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ১ নং কয়া ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী গ্রাম হলো বাড়াদী। এটি মূলত কৃষিপ্রধান এলাকা হলেও শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতায় অত্র অঞ্চলে গ্রামটির বিশেষ সুনাম রয়েছে। গড়াই নদীর অববাহিকা এবং জেলা শহরের নিকটবর্তী হওয়ায় গ্রামটির ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।

ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা

বাড়াদী গ্রামটি কয়া ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। কুষ্টিয়া জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব মাত্র কয়েক কিলোমিটার। গুগল ম্যাপ ও স্থানীয় মানচিত্র অনুযায়ী, গ্রামের উত্তর দিকে কয়া ও রাধাগ্রাম, দক্ষিণ দিকে সুলতানপুর ও যদুবয়রা ইউনিয়নের অংশ, পূর্ব দিকে কয়া এবং পশ্চিম দিকে কুষ্টিয়া পৌরসভার সীমান্ত এলাকা অবস্থিত। গ্রামের মধ্য দিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় মেঠো পথ এবং বাঁশঝাড়ের ছায়াঘেরা পরিবেশ এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

জনসংখ্যা ও জনমিতি

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, বাড়াদী গ্রামের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪,১০০ জন। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা প্রায় ২,১০০ জন এবং নারীর সংখ্যা ২,০০০ জন। নারী-পুরুষের অনুপাত প্রায় ১০০:৯৫। গ্রামে মোট পরিবার বা খানার সংখ্যা প্রায় ৯৫০টি। ধর্মীয় গঠনের দিক থেকে গ্রামটি মুসলিম অধ্যুষিত হলেও এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলোর সাথে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিদ্যমান।

শিক্ষা ও সংস্কৃতি

শিক্ষার হারে বাড়াদী গ্রামটি কয়া ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রামের তুলনায় বেশ অগ্রসর। গ্রামের গড় শিক্ষার হার প্রায় ৬৪%। প্রাথমিক শিক্ষার জন্য এখানে বাড়াদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা পার্শ্ববর্তী কয়া মহাবিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভরশীল। যশোর শিক্ষা বোর্ড ও BANBEIS-এর তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রাম থেকে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় সফলতার পরিচয় দিচ্ছে। গ্রামীণ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এ গ্রামের যুবকদের বিশেষ উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।

ভূমি ব্যবহার ও কৃষি ব্যবস্থা

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ল্যান্ড জোনিং ডাটাবেজ অনুযায়ী, বাড়াদী গ্রামের মোট ভূমির প্রায় ৭৫% আবাদি জমি। এখানকার মাটি মূলত দোআঁশ ও পলি-দোআঁশ প্রকৃতির। প্রধান ফসলের মধ্যে ধান, পাট, গম ও পেঁয়াজ উল্লেখযোগ্য। জেলা শহরের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে বাণিজ্যিকভিত্তিতে শাক-সবজি চাষের ব্যাপকতা রয়েছে। প্রায় ৭০% পরিবার প্রত্যক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তবে অনেক জমিতে বর্তমানে বসতবাড়ি ও আমের বাগান গড়ে উঠছে।

অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা

LGED এবং উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বাড়াদী গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত চমৎকার। কুষ্টিয়া জেলা শহরের সাথে সরাসরি সংযোগ থাকায় গ্রামের অধিকাংশ প্রধান রাস্তা পাকা (বিটুমিনাস)। গ্রামের অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের জন্য এইচবিবি (HBB) ও সিসি রাস্তা রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা বিদ্যমান। গ্রামটি শতভাগ বিদ্যুতায়িত এবং অধিকাংশ বাড়িতে আধুনিক স্যানিটেশন সুবিধা রয়েছে।

ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান

ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বাড়াদী গ্রামে ৩টি জামে মসজিদ ও ১টি প্রাচীন মন্দির রয়েছে। মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক জমায়েতের জন্য একটি প্রশস্ত ঈদগাহ ময়দান রয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলো স্থানীয় পূজা মণ্ডপে পালন করেন। গ্রামের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কবরস্থান ও শ্মশান ঘাট সংরক্ষিত আছে। স্থানীয়ভাবে ‘বাড়াদী বাজার’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে, যা গ্রামবাসীর প্রাত্যহিক চাহিদা মেটায়।

প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃত্ব

বাড়াদী গ্রামটি ১ নং কয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। ইউনিয়ন পরিষদের ডাটাবেজ অনুযায়ী, গ্রামের মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ২,৭০০ জন। স্থানীয় নেতৃত্ব হিসেবে নির্বাচিত ইউপি সদস্য (মেম্বার) এবং গ্রাম পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। গ্রামের মুরুব্বিদের সমন্বয়ে বিচার-শালিস ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর। সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প যেমন—রাস্তা সংস্কার, স্যানিটেশন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ও বিধবা ভাতা কার্যক্রম এখানে চলমান রয়েছে।

পেশা ও অর্থনীতি

গ্রামের অর্থনীতি মূলত কৃষি ও ব্যবসা নির্ভর। কুষ্টিয়া শহরের কাছাকাছি হওয়ায় একটি বড় অংশ প্রতিদিন শহরে গিয়ে ব্যবসা বা চাকরি করেন। এছাড়া গ্রামে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি ও কারিগরি পেশাজীবী রয়েছেন। অনেক যুবক প্রবাসে কর্মরত থেকে দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে অবদান রাখছেন। গ্রামীণ নারীরা বিশেষ করে হাঁস-মুরগি পালন ও সেলাই কাজের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছেন।

 

আরও দেখুন:

শেয়ার করুন: Facebook X WhatsApp LinkedIn

প্রেস ডেস্ক, সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এর অফিস

সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এর নিজের সকল লেখা, শুভেচ্ছা, স্মরণ ইত্যাদি এই ডেস্ক থেকে প্রকাশিত হয়।

সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ। ইতিহাস, রাজনীতি, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন নিয়ে লেখালেখি।

যোগাযোগ

কুমারখালী বাস স্ট্যান্ড, দুর্গাপুর, কুমারখালী।
+৮৮০ (১৭) ৬৩০৩৮,৬৩০৩৯।contact@sufifaruq.com

© ২০২৬ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।